Diagnosis বা দুর্বলতা নির্ণয় হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়, দক্ষতা বা ধারণায় দুর্বলতা রয়েছে এবং সেই দুর্বলতার সম্ভাব্য কারণ কী, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়।
শ্রেণিকক্ষে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে দুর্বল হলেও অন্য বিষয়ে ভালো করতে পারে। যেমন, একজন শিক্ষার্থী যোগ ও বিয়োগ করতে পারলেও ভাগ করতে অসুবিধা করতে পারে। আবার কোনো শিক্ষার্থী গণিতে ভালো হলেও ভাষা শেখার ক্ষেত্রে দুর্বল হতে পারে। তাই শুধুমাত্র সামগ্রিক পরীক্ষার ফল দেখে শিক্ষার্থীর প্রকৃত দুর্বলতা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। Diagnosis-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শক্তি ও দুর্বলতার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয় এবং পরবর্তীকালে সেই অনুযায়ী সংশোধনমূলক বা Remedial Teaching দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
Diagnosis কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ Diagnoskein থেকে। এই শব্দটির Dia যার অর্থ between বা মধ্যে এবং gnoskein যার অর্থ know বা জানা।
Diagnostic Test বা দুর্বলতা নির্ণায়ক অভীক্ষা হল এমন একটি বিশেষ ধরনের অভীক্ষা, যার সাহায্যে শিক্ষার্থীর শেখার নির্দিষ্ট দুর্বলতা, ভুল ধারণা, দক্ষতার ঘাটতি এবং শেখার সমস্যার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা হয়।
কোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে বিশেষ দক্ষতাগুলির প্রয়োজন, সেগুলি বিশ্লেষণ করে এবং শিক্ষার্থীরা কোন কোন ক্ষেত্রে সাধারণত ভুল করে তা চিহ্নিত করে যে অভীক্ষা প্রস্তুত করা হয়, তাকে নির্ণায়ক অভীক্ষা বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যোগ করতে পারছে না। এখানে শুধু “যোগ পারে না” বললে যথেষ্ট নয়। তাকে নির্ণয়ের জন্য দেখতে হবে:
- সে যোগের চিহ্ন চিনতে পারে কি না।
- কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ করতে হয় তা বোঝে কি না।
- নামতা জানে কি না।
- শূন্যের সঙ্গে যোগ করতে পারে কি না।
- একক, দশক ও শতকের স্থানমূল্য বোঝে কি না।
- বহনসহ যোগের নিয়ম জানে কি না।
এইভাবে একটি দক্ষতাকে ছোট ছোট উপাদানে বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীর প্রকৃত দুর্বলতা নির্ণয় করা হয়।
দুর্বলতা নির্ণায়ক অভীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য
নির্ণায়ক অভীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীর সামগ্রিক নম্বর নির্ধারণ করা নয়, বরং শিক্ষার্থীর শেখার সমস্যা কোথায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা।
- ১. শেখার দুর্বলতা চিহ্নিত করা: শিক্ষার্থী কোন বিষয় বা দক্ষতায় দুর্বল তা নির্দিষ্টভাবে জানা।
- ২. ভুল ধারণা শনাক্ত করা: শিক্ষার্থীর কোনো ধারণা ভুলভাবে গঠিত হয়েছে কি না তা চিহ্নিত করা।
- ৩. দুর্বলতার কারণ নির্ণয় করা: শিক্ষার্থী কেন ভুল করছে বা শিখতে পারছে না, তার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করা।
- ৪. সংশোধনমূলক শিক্ষার পরিকল্পনা করা: নির্ণয়ের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত Remedial Teaching-এর ব্যবস্থা করা।
- ৫. ব্যক্তিগত পার্থক্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া: একই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার সমস্যা এক নয়। Diagnostic Test এই পার্থক্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
- ৬. শিক্ষণকে কার্যকর করা: শিক্ষক কোন বিষয় পুনরায় শেখাবেন এবং কোন শিক্ষার্থীর জন্য কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করবেন তা নির্ধারণ করতে পারেন।
দুর্বলতা নির্ণায়ক অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য
নির্ণায়ক অভীক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রদত্ত পাঠ্যাংশের মূল বক্তব্যের ভিত্তিতে এগুলিকে গুরুত্ব অনুযায়ী সাজানো যায়।
- ১. শেখার দুর্বলতার নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে: Diagnostic Test-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শিক্ষার্থীর কোথায় এবং কী ধরনের দুর্বলতা রয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা। এটি শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ভালো না খারাপ তা বলে না।
- ২. অভীক্ষার পদগুলি সাধারণত কম থাকে: নির্ণায়ক অভীক্ষা সাধারণত দীর্ঘ হয় না। নির্দিষ্ট দক্ষতা বা বিষয়ের নির্দিষ্ট সমস্যাকে কেন্দ্র করে অল্প সংখ্যক প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
- ৩. নির্দিষ্ট দক্ষতা বা উপাদান পরিমাপ করে: যে দক্ষতাটি পরিমাপ করা হচ্ছে তার বিভিন্ন উপাদানকে প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীর ভুলের নির্দিষ্ট দিক চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
- ৪. সামগ্রিক স্কোরের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না: Diagnostic Test-এর উদ্দেশ্য সাধারণ পরীক্ষার মতো বেশি নম্বর পাওয়া বা কম নম্বর পাওয়া নির্ধারণ করা নয়। শিক্ষার্থীর কোন অংশে সমস্যা রয়েছে সেটিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- ৫. সংশোধনমূলক শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে: শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করার পর সেই দুর্বলতা দূর করার জন্য উপযুক্ত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- ৬. শিক্ষার্থীর ভুল বিশ্লেষণ করা হয়: শুধু উত্তর ভুল হয়েছে কি না তা দেখা হয় না। কেন ভুল হয়েছে এবং কোন ধারণা বা দক্ষতার ঘাটতির কারণে ভুল হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়।
- ৭. নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত করা হয়: একটি Diagnostic Test সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বিষয়, ধারণা বা দক্ষতার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
- ৮. শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পার্থক্য বিবেচনা করা হয়: একই ভুলের কারণ সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এক নাও হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অবস্থা ও পূর্বজ্ঞান বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গণিতে নির্ণায়ক অভীক্ষা
গণিতের নির্ণায়ক অভীক্ষায় সাধারণভাবে গণিতের পারদর্শিতার বিভিন্ন দিকগুলি বিশ্লেষণ করে মৌলিক প্রক্রিয়াগুলির উপর প্রশ্ন দেওয়া হয়। উদাহরণ: যোগ করার প্রক্রিয়া (Class – I)
যোগ করতে গেলে শিক্ষার্থীকে জানতে হয়:
(1) যোগের চিহ্ন +
(2) কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ হয়
(3) নামতা
(4) শূন্যের সঙ্গে অন্য সংখ্যার যোগ প্রক্রিয়া।
এনিভাবে বিশ্লেষণ করে প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্য পরিমাপের জন্য সমস্যা নির্বাচন করতে হয়।
নির্ণায়ক অভীক্ষার যোগ সংক্রান্ত অভীক্ষাংশের একটি নমুনা দেওয়া হল।
(1) নিচের কোনটি যোগ চিহ্ন?
(ক) ‘+’ (খ) − (গ) × (ঘ) ÷
(2) নিচের কোন ক্ষেত্রে যোগ হয়?
(ক) সবকিছু এক সঙ্গে করলে
(খ) সবকিছু আলাদা করলে
(গ) ফেলে দিলে
(ঘ) পড়ে গেলে, চলে গেলে, দিয়ে দিল।
(3) যোগ কর
1 + 1 = ______
2 + 2 = ______
1 + 0 = ______
2 + 0 = ______
0 + 0 = ______
3 + 1 = ______
4 + 0 = ______
3 + 2 = ______
2 + 2 = ______
3 + 3 = ______
4 + 4 = ______
5 + 5 = ______
(4) নিচের কোন সংখ্যাটি খোপের মধ্যে বসালে সঠিক উত্তরটি পাওয়া যাবে?
5 + 5 + 5 + □ = 4 + 4 + 4 + 4 + 4
উত্তর:
□ 20 □ 15 □ 5
(5) একটি গাছে 3টি পাখি আছে। আরও 2টি পাখি এসে বসল। গাছে মোট পাখির সংখ্যা কত হবে?
□ 6 □ 1 □ 5
এই নির্ণায়ক অভীক্ষার দ্বারা যে সকল শিক্ষার্থীদের পাওয়া যাবে যারা যোগের ওই চারটি পর্যায় সম্পর্কে জানে না অর্থাৎ দুর্বল তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং তারা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসাথে যাতে পাঠগ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
মূল্যায়ন পত্র
প্রশ্নের সংখ্যায়ন
| রোল নং | নাম | প্রশ্ন নং-১ | প্রশ্ন নং-২ | প্রশ্ন নং-৩ | প্রশ্ন নং-৪ | প্রশ্ন নং-৫ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | |||||||
| 2 | |||||||
| 3 | |||||||
| 4 | |||||||
| 5 | |||||||
| …… |