CC-02 Unit-I: Philosophical understanding of Education

Education শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ

Education শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উদ্ভূত। Education শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ ব্যাখ্যা করতে সাধারণত Educare, Educere, Educatio এবং Educatum এই ল্যাটিন শব্দগুলির উল্লেখ করা হয়। প্রতিটি শব্দ শিক্ষার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা প্রদান করে।

  • ১. Educare: Educare শব্দের অর্থ হলো লালন-পালন করা, পরিচর্যা করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া বা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  • ২. Educere: Educere শব্দের অর্থ হলো ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে আসা বা বের করে আনা। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির মধ্যে থাকা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা, প্রতিভা, সম্ভাবনা ও দক্ষতাকে প্রকাশ ও বিকশিত করাই এর মূল ধারণা।
  • ৩. Educatio: Educatio শব্দের অর্থ হলো লালন-পালন, শিক্ষা প্রদান, প্রশিক্ষণ বা বিকাশের প্রক্রিয়া। এটি ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের ক্রমাগত বিকাশের ধারণাকে নির্দেশ করে।
  • ৪. Educatum: Educatum শব্দের অর্থ হলো শিক্ষাদান বা প্রশিক্ষণের কাজ। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ ও মূল্যবোধ অর্জনে সাহায্য করার প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়।

বুৎপত্তিগত অর্থে Education শুধুমাত্র বই পড়া বা তথ্য অর্জনের প্রক্রিয়া নয়। এটি ব্যক্তির অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করা, উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা এবং তাকে একজন দায়িত্বশীল ও পরিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

মানব প্রকৃতি সম্পর্কে মৌলিক ধারণাগুলি বোঝা

মানব প্রকৃতি সম্পর্কে মৌলিক ধারণা মনোবিজ্ঞান, শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ কেন আচরণ করে, কীভাবে শেখে, কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরিবেশের প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, এসব বোঝার জন্য মানব প্রকৃতি সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণা জানা প্রয়োজন।

১. প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র: প্রত্যেক মানুষের ক্ষমতা, আগ্রহ, ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা, আবেগ, চাহিদা ও চিন্তাভাবনা আলাদা। তাই একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

২. মানুষের আচরণের নির্দিষ্ট কারণ থাকে: মানুষের আচরণ সাধারণত হঠাৎ বা কারণহীনভাবে ঘটে না। জৈবিক বৈশিষ্ট্য, আবেগ, পূর্ব অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক, প্রেরণা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।

৩. মানুষ শেখার ক্ষমতাসম্পন্ন: মানুষ শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ, অনুশীলন এবং অন্যদের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব ও আচরণ শিখতে পারে।

৪. মানুষের বিভিন্ন ধরনের চাহিদা রয়েছে: মানুষের শারীরিক, মানসিক, আবেগীয় এবং সামাজিক চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদাগুলি পূরণ হওয়া বা অপূর্ণ থাকা তার আচরণ, মানসিক অবস্থা ও বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।

৫. পরিবেশ মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে: পরিবার, বিদ্যালয়, বন্ধু, সমাজ, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং আর্থিক পরিস্থিতি মানুষের চিন্তাভাবনা ও আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে মানুষও তার পরিবেশকে প্রভাবিত করে।

৬. মানুষ পরিবর্তন ও বিকাশ করতে পারে: মানুষ সারাজীবন নতুন কিছু শিখতে এবং নিজের দক্ষতা ও আচরণ পরিবর্তন করতে সক্ষম। সঠিক শিক্ষা, সুযোগ, উৎসাহ এবং সহায়তা পেলে একজন ব্যক্তি নিজের সম্ভাবনাকে আরও উন্নত করতে পারে।

৭. মানুষের আবেগ রয়েছে: আনন্দ, দুঃখ, রাগ, ভয়, ভালোবাসা, উদ্বেগ ইত্যাদি আবেগ মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক ও শেখার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই মানুষের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

৮. মানুষ সামাজিক জীব: মানুষ সাধারণত অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ, সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং সামাজিক স্বীকৃতি চায়। পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক দক্ষতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৯. মানুষের আচরণের পেছনে প্রেরণা থাকে: মানুষ সাধারণত কোনো লক্ষ্য অর্জন বা কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য কাজ করে। প্রেরণা অভ্যন্তরীণ হতে পারে, যেমন শেখার আগ্রহ; আবার বাহ্যিকও হতে পারে—যেমন পুরস্কার, ভালো নম্বর বা প্রশংসা।

১০. মানুষের স্বাধীনতা ও সীমাবদ্ধতা উভয়ই রয়েছে: মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু ক্ষমতা রাখে। তবে তার সিদ্ধান্ত ও আচরণ জৈবিক বৈশিষ্ট্য, পূর্ব অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিস্থিতি এবং পরিবেশ দ্বারা সীমিত বা প্রভাবিত হতে পারে।

১১. মানুষের আচরণ অত্যন্ত জটিল: মানুষের আচরণকে কোনো একটি কারণ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। জৈবিক, মানসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ একে অপরের সঙ্গে মিলিতভাবে মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে।

১২. মানুষ জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য খোঁজে: মানুষ নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অর্থ খুঁজতে চায়। ব্যক্তিগত লক্ষ্য, মূল্যবোধ, আদর্শ এবং জীবনের উদ্দেশ্য তার সিদ্ধান্ত ও আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব:

একজন শিক্ষকের জন্য মানব প্রকৃতি সম্পর্কে এই ধারণাগুলি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব শিক্ষার্থী একইভাবে শেখে না বা একইভাবে আচরণ করে না। কোনো শিক্ষার্থীর আচরণের পেছনে তার প্রেরণা, আবেগ, পূর্ব অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধুদের প্রভাব বা শেখার সমস্যা থাকতে পারে। তাই শিক্ষকের উচিত শুধু শিক্ষার্থীর আচরণ বিচার না করে আচরণের কারণ বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা।

সমাজ সম্পর্কে মৌলিক ধারণাগুলি বোঝা

সমাজ হলো এমন একটি সংগঠিত ব্যবস্থা যেখানে মানুষ পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা, নিয়ম, মূল্যবোধ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কৃতির মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে। শিক্ষা, পরিবার, অর্থনীতি, ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতি, সবকিছুই সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সমাজ সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণা নিচে আলোচনা করা হলো।

১. মানুষ সামাজিক জীব: মানুষ একা বসবাস করতে পারে না। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী, বিদ্যালয় ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে মানুষ তার জীবন পরিচালনা করে।

২. সমাজ পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে: সমাজের সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতা, যোগাযোগ, নির্ভরতা ও পারস্পরিক আদান-প্রদান থাকে। এই সম্পর্কগুলিই সামাজিক জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

৩. সমাজের নিজস্ব নিয়ম ও মূল্যবোধ রয়েছে: প্রতিটি সমাজে কিছু নিয়ম, রীতি, প্রথা, মূল্যবোধ ও নৈতিক আদর্শ থাকে। এগুলি মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে সাহায্য করে।

৪. সমাজ পরিবর্তনশীল: সমাজ কখনও স্থির থাকে না। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনীতি, রাজনৈতিক পরিবর্তন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তনের ফলে সমাজও পরিবর্তিত হয়।

৫. সমাজ সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে: ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, উৎসব, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, রীতিনীতি ও জীবনযাত্রার ধরন সমাজ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।

৬. সমাজ ব্যক্তির বিকাশকে প্রভাবিত করে: একজন ব্যক্তির চিন্তা, আচরণ, মূল্যবোধ, ভাষা, ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার, বিদ্যালয়, বন্ধু ও বৃহত্তর সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭. ব্যক্তিও সমাজকে প্রভাবিত করে: শুধু সমাজই ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে না; ব্যক্তির চিন্তা, কাজ, আবিষ্কার, নেতৃত্ব এবং সামাজিক উদ্যোগও সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে।

৮. সমাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে: পরিবার, বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ভূমিকা ও দায়িত্ব রয়েছে।

৯. সমাজে সহযোগিতা ও পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে: সমাজের মানুষ বিভিন্ন কাজের জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

১০. সমাজে বৈচিত্র্য রয়েছে: একটি সমাজে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা ও মতামতের মানুষ থাকতে পারে। এই বৈচিত্র্য সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

১১. সমাজে অসমতাও থাকতে পারে: সমাজে সব মানুষের সুযোগ, সম্পদ, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা সবসময় সমান হয় না। লিঙ্গ, অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা, সামাজিক অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে বৈষম্য দেখা দিতে পারে। শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা এই বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

১২. সমাজে অধিকার ও দায়িত্ব উভয়ই রয়েছে: সমাজের সদস্যদের যেমন বিভিন্ন অধিকার রয়েছে, তেমনই তাদের কিছু দায়িত্বও রয়েছে। অন্যের অধিকারকে সম্মান করা, আইন মেনে চলা, পরিবেশ রক্ষা করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

১৩. শিক্ষা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ: শিক্ষা শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করে না; এটি মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ব, নৈতিকতা, সহযোগিতা ও নাগরিক সচেতনতা গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। তাই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।

১৪. সমাজে সহযোগিতা ও সংঘাত দুটোই থাকতে পারে: সমাজে মানুষ একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে, আবার মতামত, স্বার্থ, সম্পদ বা মূল্যবোধের পার্থক্যের কারণে সংঘাতও সৃষ্টি হতে পারে। আলোচনা, সমঝোতা ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা সংঘাত সমাধানে সাহায্য করে।

১৫. সমাজের উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া: সমাজের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমতা, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতিও একটি উন্নত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব:

শিক্ষকদের জন্য সমাজ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষার্থীরা শুধু বিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না; পরিবার, বন্ধু, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং বৃহত্তর সমাজও তাদের চিন্তা ও আচরণকে প্রভাবিত করে। একজন শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমি বুঝতে পারেন, তাহলে তিনি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

শেখা বা Learning সম্পর্কে মৌলিক ধারণাগুলি বোঝা

শেখা বা Learning হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অভিজ্ঞতা, অনুশীলন, শিক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ, মনোভাব ও মূল্যবোধ অর্জন করে। শিক্ষাবিজ্ঞানে শেখা সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীর শেখার প্রক্রিয়া বুঝতে শিক্ষককে সাহায্য করে।

১. শেখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া: শেখা কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে নতুন কিছু শিখতে থাকে।

২. অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা হয়: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কোনো কাজ করা, ভুল করা, পর্যবেক্ষণ করা এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরি হয়।

৩. শেখার ফলে আচরণে পরিবর্তন আসে: শেখার ফলে মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব বা আচরণে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে প্রতিটি আচরণগত পরিবর্তন শেখার ফল নয়। যেমন, সাময়িক ক্লান্তি বা অসুস্থতার কারণে আচরণের পরিবর্তনকে শেখা বলা যায় না।

৪. শেখা সক্রিয় প্রক্রিয়া: শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষকের কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করে না। প্রশ্ন করা, চিন্তা করা, আলোচনা করা, অনুশীলন করা, সমস্যা সমাধান করা এবং নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন জ্ঞান যুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে শেখে।

৫. প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও গতি আলাদা: সব শিক্ষার্থী একই সময়ে বা একই পদ্ধতিতে শেখে না। কারও কোনো বিষয় দ্রুত বুঝতে পারে, আবার অন্য শিক্ষার্থীর বেশি সময় ও অনুশীলনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়া।

৬. প্রেরণা শেখাকে প্রভাবিত করে: শেখার ক্ষেত্রে আগ্রহ, উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো বিষয় শেখার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং নিজের অগ্রগতি অনুভব করে, তখন তার শেখার আগ্রহ বাড়তে পারে।

৭. পূর্বজ্ঞান নতুন শেখাকে প্রভাবিত করে: শিক্ষার্থী নতুন কোনো বিষয় শেখার সময় তার পূর্বের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন তথ্যকে যুক্ত করে। তাই নতুন বিষয় শেখানোর আগে শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা থাকা শিক্ষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৮. পরিবেশ শেখার ওপর প্রভাব ফেলে: শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, পরিবার, সহপাঠী, বিদ্যালয়ের সংস্কৃতি এবং শিক্ষার সুযোগ শেখার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। একটি নিরাপদ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ শিক্ষার্থীর শেখাকে সহজ করে।

৯. শেখার ক্ষেত্রে ভুল গুরুত্বপূর্ণ: ভুল করা শেখার স্বাভাবিক অংশ। ভুল থেকে কারণ খুঁজে বের করা, সংশোধন করা এবং পুনরায় চেষ্টা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থী আরও ভালোভাবে শিখতে পারে। তাই শিক্ষার্থীর ভুলকে শুধুমাত্র ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

১০. শেখা সামাজিক প্রক্রিয়াও হতে পারে: আলোচনা, সহযোগিতামূলক কাজ, দলগত কার্যক্রম এবং অন্যের কাছ থেকে শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। সহপাঠী এবং শিক্ষকের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১১. শেখা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘটে: শেখা শুধু বই বা শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ জ্ঞানীয় ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জন করে, আবেগীয় ক্ষেত্রে মনোভাব ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে এবং দক্ষতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করে।

১২. অনুশীলন শেখাকে শক্তিশালী করে: নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা আরও দৃঢ় হয়। বিশেষ করে গণিত, ভাষা, বিজ্ঞান, সংগীত, খেলাধুলা এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে অনুশীলনের গুরুত্ব অনেক।

১৩. শেখার জন্য প্রতিক্রিয়া বা Feedback গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষার্থী তার কাজ সম্পর্কে সঠিক ও গঠনমূলক Feedback পেলে নিজের ভুল বুঝতে এবং উন্নতি করতে পারে। তাই শিক্ষকের Feedback হওয়া উচিত স্পষ্ট, সময়োপযোগী এবং উন্নতির দিকে নির্দেশনামূলক।

১৪. শেখা অর্থপূর্ণ হলে তা বেশি কার্যকর হয়: শিক্ষার্থী যখন নতুন জ্ঞানকে বাস্তব জীবন, পূর্ব অভিজ্ঞতা বা পরিচিত পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, তখন শেখা আরও অর্থপূর্ণ হয়। বাস্তব উদাহরণ ও কার্যভিত্তিক শিক্ষা এই ক্ষেত্রে সহায়ক।

১৫. শেখার ফলে নতুন পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগ করা যায়: শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে নতুন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করতে পারা। শুধু তথ্য মনে রাখা নয়, বরং সেই জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারাও শেখার গুরুত্বপূর্ণ ফল।

শিক্ষাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব

শেখা সম্পর্কে এই মৌলিক ধারণাগুলি একজন শিক্ষককে আরও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে সাহায্য করে। শিক্ষক বুঝতে পারেন যে শিক্ষার্থীরা একইভাবে শেখে না এবং শুধুমাত্র তথ্য প্রদান করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান, আগ্রহ, প্রেরণা, অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত পার্থক্য বিবেচনা করে শিক্ষাদান করলে শেখার ফলাফল আরও ভালো হতে পারে।

সংক্ষেপে, শেখা একটি ধারাবাহিক, সক্রিয় ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রক্রিয়া। এটি জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব ও আচরণের বিকাশ ঘটায়। উপযুক্ত পরিবেশ, প্রেরণা, অনুশীলন, Feedback এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীর শেখাকে আরও কার্যকর করে তোলে।

শিক্ষার উদ্দেশ্য বা Aims of Education

শিক্ষার উদ্দেশ্য বলতে শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজের যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো হয়, তাকে বোঝায়। শিক্ষা শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, আবেগীয় ও সৃজনশীল বিকাশ ঘটানোও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

১. সর্বাঙ্গীণ ব্যক্তিত্বের বিকাশ: শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, আবেগীয়, নৈতিক ও সৃজনশীল দিকের সুষম বিকাশ ঘটানো।

২. জ্ঞান অর্জন: শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করে। এই জ্ঞান তাকে বাস্তব জীবন বুঝতে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

৩. বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ: শিক্ষা শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, স্মৃতি, কল্পনাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকশিত করে।

৪. দক্ষতার বিকাশ: শিক্ষার মাধ্যমে ভাষা, যোগাযোগ, গণনা, প্রযুক্তি, সমস্যা সমাধান এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করা যায়। এই দক্ষতাগুলি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. নৈতিক চরিত্র গঠন: শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়বোধ, সহানুভূতি, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা।

৬. সামাজিক বিকাশ: শিক্ষা ব্যক্তিকে সমাজের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। সহযোগিতা, পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

৭. শারীরিক বিকাশ: শিক্ষা শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৮. আবেগীয় বিকাশ: নিজের আবেগকে বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের অনুভূতিকে সম্মান করা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। আবেগীয়ভাবে পরিণত ব্যক্তি চাপ ও কঠিন পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে।

৯. সৃজনশীলতার বিকাশ: শিক্ষা শিক্ষার্থীর কল্পনা, নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সৃজনশীল প্রকাশকে উৎসাহিত করে। শুধু মুখস্থ জ্ঞান নয়, নতুনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফল।

১০. স্বাধীন চিন্তার বিকাশ: শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে, তথ্য যাচাই করতে এবং যুক্তির ভিত্তিতে মতামত গঠন করতে শেখে।

১১. আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন: শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিকে নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা মোকাবিলা এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার মতো আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।

১২. কর্মজীবনের প্রস্তুতি: শিক্ষা ব্যক্তিকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং পেশাগত মনোভাব অর্জনে সাহায্য করে।

১৩. গণতান্ত্রিক নাগরিক তৈরি: শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়। স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা এবং অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান গড়ে ওঠে।

১৪. সাংস্কৃতিক বিকাশ: শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজের ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সাহায্য করে।

১৫. সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন: শিক্ষা কুসংস্কার, বৈষম্য ও সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে পারে। শিক্ষিত মানুষ নতুন ধারণা গ্রহণ করে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

১৬. জাতীয় উন্নয়ন: শিক্ষা দক্ষ, জ্ঞানসম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও উৎপাদনশীল নাগরিক তৈরি করে। তাই দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

১৭. পরিবেশ সচেতনতা: শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতন হয়।

১৮. শান্তি ও সহনশীলতা গড়ে তোলা: শিক্ষা বিভিন্ন মত, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা, সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মনোভাব তৈরি করতে সাহায্য করে।

সংক্ষেপে

শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়। শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো জ্ঞানী, দক্ষ, নৈতিক, সৃজনশীল, আত্মনির্ভরশীল, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল এবং মানবিক ব্যক্তি তৈরি করা। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সমাজকেন্দ্রিক লক্ষ্য

ভূমিকা
শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে। শিক্ষা একদিকে ব্যক্তির অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটায়, অন্যদিকে তাকে সমাজের উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষার **ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য** এবং **সমাজকেন্দ্রিক বা সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য** গড়ে উঠেছে।

১. শিক্ষার ব্যক্তিকেন্দ্রিক লক্ষ্য

অর্থ
যে শিক্ষালক্ষ্যে ব্যক্তির নিজস্ব চাহিদা, আগ্রহ, সামর্থ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটানোর কথা বলা হয়, তাকে **শিক্ষার ব্যক্তিকেন্দ্রিক লক্ষ্য** বলে।

এই মত অনুসারে, প্রতিটি শিশু স্বতন্ত্র। তাই শিক্ষার প্রধান কাজ হলো শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনাগুলির সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সহায়তা করা। রুশোর শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষাচিন্তায় এই লক্ষ্যের বিশেষ প্রভাব দেখা যায়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য
১. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের স্বীকৃতি: প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ক্ষমতা, আগ্রহ ও শেখার গতির পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২. সর্বাঙ্গীণ বিকাশ: শিক্ষার্থীর দৈহিক, মানসিক, বৌদ্ধিক, আবেগিক ও নৈতিক বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়।
৩. স্বাধীনতার গুরুত্ব: শিশুকে স্বাধীনভাবে চিন্তা, অনুসন্ধান ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়।
৪. শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা: শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী পাঠক্রম এবং শিক্ষণপদ্ধতি নির্ধারিত হয়।
৫. সৃজনশীলতার বিকাশ: নিজস্ব চিন্তা, কল্পনা ও প্রতিভার বিকাশকে উৎসাহিত করা হয়।

গুণ বা গুরুত্ব

  • ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি করে।
  • ব্যক্তিগত প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
  • শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করে।
  • স্বাধীন বিচারবুদ্ধি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা গড়ে তোলে।

সীমাবদ্ধতা

  • ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে স্বার্থপরতা তৈরি হতে পারে।
  • সামাজিক দায়িত্ব ও সমষ্টিগত কল্যাণ অবহেলিত হতে পারে।
  • সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তির পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।

২. শিক্ষার সমাজকেন্দ্রিক লক্ষ্য

অর্থ
যে শিক্ষালক্ষ্যে সমাজের কল্যাণ, সামাজিক সংহতি এবং সমাজের উপযোগী দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাকে **শিক্ষার সমাজকেন্দ্রিক লক্ষ্য** বলে।

এই মত অনুসারে, মানুষ সামাজিক জীব। তাই শিক্ষা ব্যক্তিকে এমনভাবে গড়ে তুলবে, যাতে সে সমাজের উন্নতি ও কল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। ডুর্খেইমের শিক্ষাচিন্তায় শিক্ষার সামাজিক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিভাষাগত কথা: এখানে ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলতে শিক্ষার সামাজিক বা সমাজকেন্দ্রিক লক্ষ্য বোঝানো হচ্ছে; কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতবাদ নয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য
১. সমাজকল্যাণকে গুরুত্ব: ব্যক্তিগত স্বার্থের পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
২. সামাজিকীকরণ: সমাজের মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীর পরিচয় ঘটানো হয়।
৩. সুনাগরিক গঠন: অধিকার, কর্তব্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা হয়।
৪. সহযোগিতার বিকাশ: পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও দলবদ্ধভাবে কাজ করার অভ্যাস তৈরি করা হয়।
৫. সামাজিক উন্নয়ন: শিক্ষার্থীকে সমাজের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হয়।

গুণ বা গুরুত্ব

  • সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নাগরিক চেতনা গড়ে তোলে।
  • সাম্য, সহযোগিতা ও সহনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
  • সামাজিক ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় সহায়তা করে।
  • সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সঞ্চালনের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।

সীমাবদ্ধতা

  • সমাজের চাহিদাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে ব্যক্তির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
  • ব্যক্তিগত আগ্রহ, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা উপেক্ষিত হতে পারে।
  • অন্ধ আনুগত্যের ওপর জোর দিলে স্বাধীন চিন্তা ও সমাজসংস্কারের মানসিকতা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

শিক্ষার সমাজকেন্দ্রিক লক্ষ্যের সমর্থক প্রধান চিন্তাবিদরা হলেন:

১. এমিল ডুর্খেইম (Émile Durkheim): শিক্ষাকে শিশুর সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন।
২. পল ন্যাটর্প (Paul Natorp): শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মনে করতেন।
৩. প্লেটো (Plato): আদর্শ রাষ্ট্রের উপযোগী নাগরিক গঠনকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
৪. জন ডিউই (John Dewey): শিক্ষাকে সামাজিক প্রক্রিয়া এবং বিদ্যালয়কে সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলেছেন। তবে তিনি ব্যক্তি ও সমাজের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

দুই লক্ষ্যের সমন্বয়
ব্যক্তি ও সমাজ পরস্পর নির্ভরশীল। ব্যক্তিকে নিয়ে সমাজ গঠিত হয়, আবার সমাজের সাহায্যেই ব্যক্তির বিকাশ ঘটে। তাই শিক্ষার এই দুই লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পর পরিপূরক। প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যক্তিগত কাজ, ছবি আঁকা ও সৃজনশীল লেখার মাধ্যমে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ ঘটানো যায়। আবার দলগত কাজ, সমবায়ভিত্তিক শিখন ও বিদ্যালয় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা যায়।

উপসংহার
শিক্ষার আদর্শ লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ বিকাশের সঙ্গে সমাজকল্যাণের সমন্বয়। অর্থাৎ শিক্ষা এমন মানুষ তৈরি করবে, যে স্বাধীন ও সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি সহযোগী, মানবিক এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হবে।

বিদ্যালয় শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক

Schooling বলতে মূলত বিদ্যালয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অন্যদিকে, Education বা শিক্ষা একটি বৃহত্তর ধারণা, যা বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, পরিবেশ, অভিজ্ঞতা এবং জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও আচরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

১. Schooling হলো শিক্ষার একটি অংশ: বিদ্যালয় শিক্ষা বা Schooling হলো Education-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, সময়সূচি এবং শিক্ষকের নির্দেশনার মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে।

২. শিক্ষা বিদ্যালয়ের বাইরে থেকেও হয়: শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, বন্ধু, সমাজ, সংস্কৃতি, কর্মক্ষেত্র, গণমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও মানুষ শিক্ষা লাভ করে।

৩. Schooling শিক্ষাকে সংগঠিত করে: বিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। এখানে নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, বিষয়, শিক্ষণ পদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষাগত লক্ষ্য থাকে।

৪. Education-এর পরিধি Schooling-এর চেয়ে বেশি: Schooling সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বয়স ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু Education মানুষের সারা জীবনের একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই Schooling শেষ হলেও Education চলতে থাকে।

৫. Schooling জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে: বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা সম্পর্কে শেখে। এই জ্ঞান পরবর্তী শিক্ষা ও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

৬. Education ব্যক্তিত্বের সামগ্রিক বিকাশ ঘটায়: শিক্ষা শুধু একাডেমিক জ্ঞান প্রদান করে না। এটি ব্যক্তির নৈতিকতা, সামাজিক আচরণ, আবেগীয় বিকাশ, সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও সাহায্য করে।

৭. Schooling সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সহযোগিতা, নিয়ম মেনে চলা, দলগত কাজ এবং অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শেখে। এর মাধ্যমে সামাজিক দক্ষতা বিকশিত হয়।

৮. Education Schooling-এর উদ্দেশ্যকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে: বিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান যখন শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে ব্যবহার করতে শেখে, তখন Schooling আরও অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষা অর্জিত জ্ঞানকে জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে।

৯. শিক্ষক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ: Schooling-এর ক্ষেত্রে শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। বৃহত্তর অর্থে Education-এর ক্ষেত্রে শিক্ষক ছাড়াও বাবা-মা, সমাজের সদস্য, বন্ধু এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতা শিক্ষকের মতো ভূমিকা পালন করতে পারে।

১০. Schooling শিক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: Schooling হলো Education-এর একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশ, নিয়ম, পাঠ্যক্রম এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রদান করে।

Schooling এবং Education-এর সম্পর্ক সংক্ষেপে

বিষয়SchoolingEducation
প্রকৃতিপ্রাতিষ্ঠানিকআনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয়ই
পরিধিতুলনামূলকভাবে সীমিতব্যাপক
স্থানপ্রধানত বিদ্যালয়বিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ ও জীবন
সময়কালনির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে যুক্তজীবনব্যাপী
উদ্দেশ্যনির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনসামগ্রিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ
মাধ্যমশিক্ষক, পাঠ্যক্রম ও বিদ্যালয়অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, সমাজ, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান
মূল্যায়নসাধারণত পরীক্ষা ও নির্ধারিত মূল্যায়নআনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মূল্যায়ন
ফলাফলএকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাজ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, আচরণ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ

Schooling এবং Education একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও তারা একই বিষয় নয়। Schooling হলো Education-এর একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও সংগঠিত অংশ, আর Education হলো ব্যক্তির সারাজীবনের বৃহত্তর শেখার প্রক্রিয়া। বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যক্তিকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়, আর বৃহত্তর শিক্ষা সেই জ্ঞানকে বাস্তব জীবন, মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করে।

1.2 Exploring Various Educative Processes in Human Societies

মানব সমাজে শিক্ষা একটি বহুমাত্রিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শিক্ষা কেবল বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সংঘটিত হয় না। পরিবার, সমাজ, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও মানুষ জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, আচরণ ও সামাজিক নিয়ম শিখে থাকে। শিক্ষার প্রকৃতি ও সংগঠনের ভিত্তিতে শিক্ষাকে প্রধানত Informal Education, Formal Education এবং Non Formal Education এই তিন ভাগে আলোচনা করা যায়।

1.2.1 Informal Education

Informal Education বা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা হলো এমন শিক্ষা যা কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, বিদ্যালয়, সময়সূচি বা পরীক্ষার কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ দৈনন্দিন জীবন, পরিবার, সমাজ, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে এই শিক্ষা অর্জন করে।

সংজ্ঞা:

Coombs এবং Ahmed-এর ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায়, Informal Education হলো পরিবার, বন্ধু, কর্মক্ষেত্র, গণমাধ্যম, সামাজিক পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সংগঠিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও আচরণ অর্জনের প্রক্রিয়া।

Informal Education-এর বৈশিষ্ট্য

  • ১. প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে: অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা সাধারণত বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। পরিবার, সমাজ, বন্ধু, কর্মক্ষেত্র এবং গণমাধ্যম এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
  • ২. নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম নেই:  এই শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট বা পূর্বনির্ধারিত syllabus থাকে না। ব্যক্তি তার প্রয়োজন, অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারে।
  • ৩. নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই: অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা নির্দিষ্ট class period বা timetable অনুসরণ করে না। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সময়ে স্বাভাবিকভাবে এই শিক্ষা সংঘটিত হয়।
  • ৪. স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া: মানুষ অনেক সময় বুঝতে না পেরেই informal education অর্জন করে। পর্যবেক্ষণ, অনুকরণ, আলোচনা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে শেখা ঘটে।
  • ৫. জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া: অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা শৈশব থেকে শুরু হয়ে সারাজীবন চলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে।
  • ৬. অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা informal education-এর অন্যতম প্রধান উৎস। নিজের কাজ, ভুল, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া থেকে মানুষ শিক্ষা লাভ করে।
  • ৭. কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষক প্রয়োজন হয় না: এই শিক্ষায় শিক্ষক হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি থাকা আবশ্যক নয়। বাবা-মা, বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সমাজের সদস্য বা গণমাধ্যম শিক্ষার উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
  • ৮. মূল্যায়ন ব্যবস্থা অনুপস্থিত: Formal education-এর মতো এখানে নিয়মিত পরীক্ষা, grading বা certificate সাধারণত থাকে না। শেখার ফল বাস্তব আচরণ ও জীবনের কার্যকলাপে প্রকাশ পায়।
  • ৯. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে: পরিবার ও সমাজের মাধ্যমে ব্যক্তি ভাষা, আচরণ, সংস্কৃতি, রীতি, প্রথা, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ শেখে।
  • ১০. ব্যক্তিভেদে ভিন্ন: একই পরিবেশে থেকেও প্রত্যেক ব্যক্তি একইভাবে informal education গ্রহণ করে না। ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, আগ্রহ, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ শেখার ধরনকে প্রভাবিত করে।
  • ১১. ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দৈনন্দিন কাজ, অর্থ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন দক্ষতা এর মাধ্যমে শেখা যায়।
  • ১২. সহজলভ্য ও ব্যাপক: Informal education-এর জন্য বিশেষ অবকাঠামো বা অর্থের প্রয়োজন হয় না। জীবনের প্রায় প্রতিটি পরিবেশ থেকেই মানুষ এই শিক্ষা অর্জন করতে পারে।

Informal Education-এর সীমাবদ্ধতা

Informal education-এর অনেক সুবিধা থাকলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

  • প্রথমত, এর কোনো নির্দিষ্ট curriculum বা পরিকল্পিত শিক্ষণ কাঠামো থাকে না। ফলে শিক্ষার বিষয়বস্তু অনেক সময় অসম্পূর্ণ বা অসংগঠিত হতে পারে।
  • দ্বিতীয়ত, শিক্ষার মান সবসময় নির্ভরযোগ্য হয় না। পরিবার, বন্ধু বা গণমাধ্যম থেকে ভুল তথ্যও শেখা সম্ভব।
  • তৃতীয়ত, এখানে সাধারণত কোনো systematic assessment থাকে না, ফলে ব্যক্তি কতটা শিখেছে তা নির্ধারণ করা কঠিন।
  • চতুর্থত, সামাজিক কুসংস্কার, ভুল বিশ্বাস ও নেতিবাচক আচরণও informal education-এর মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • পঞ্চমত, প্রত্যেক ব্যক্তি সমান শিক্ষার সুযোগ পায় না। পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের পার্থক্যের কারণে শিক্ষার অভিজ্ঞতাতেও বৈষম্য দেখা যায়। 

তাই informal education গুরুত্বপূর্ণ হলেও একে formal ও non formal education-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

Informal Education-এর মাধ্যম

Informal education বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। এর মধ্যে পরিবার, সংবাদপত্র, সিনেমা, রেডিও, টেলিভিশন, সামাজিক সংগঠন, বন্ধু, প্রতিবেশী, কর্মক্ষেত্র, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন উল্লেখযোগ্য।

  1. Family বা পরিবার

পরিবার হলো informal education-এর সবচেয়ে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষা সাধারণত পরিবার থেকেই শুরু হয়। ভাষা, আচরণ, মূল্যবোধ, সামাজিক নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে শিশুর প্রথম ধারণা পরিবারে গড়ে ওঠে।

পরিবারের ভূমিকা

  • ১. শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ ঘটায়।
  • ২. ভালো-মন্দ এবং সঠিক-ভুল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়।
  • ৩. নৈতিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনে সাহায্য করে।
  • ৪. সামাজিক আচরণ ও শিষ্টাচার শেখায়।
  • ৫. ভালো অভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধি গড়ে তোলে।
  • ৬. দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে।
  • ৭. পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহানুভূতি শেখায়।
  • ৮. সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক রীতিনীতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
  • ৯. আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।
  • ১০. সমস্যার মোকাবিলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাথমিক দক্ষতা গড়ে তোলে।
  • ১১. শ্রমের মর্যাদা ও কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা শেখায়।
  • ১২. সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

পরিবারের সীমাবদ্ধতা

পরিবার informal education-এর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

  • সব পরিবারের শিক্ষাগত পরিবেশ একরকম নয়।
  • অভিভাবকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক পরিবেশ এবং মূল্যবোধের পার্থক্য শিশুর শিক্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • অনেক ক্ষেত্রে কুসংস্কার, ভুল ধারণা বা অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাবও শিশুর চিন্তাভাবনাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে।
  • কিছু পরিবারে শাসনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।
  • আবার পরিবারে শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় বা সহায়তা না থাকলেও শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
  1. Newspaper বা সংবাদপত্র

সংবাদপত্র informal education-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম। এটি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ঘটনা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং সামাজিক বিষয় সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করে।

সংবাদপত্রের ভূমিকা

  • ১. দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান দেয়।
  • ২. সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি করে।
  • ৩. রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে।
  • ৪. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে।
  • ৫. অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।
  • ৬. শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে।
  • ৭. ভাষা ও শব্দভাণ্ডার উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • ৮. সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে।
  • ৯. বিভিন্ন মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
  • ১০. পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • ১১. নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
  • ১২. সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক জ্ঞান বিকাশে সাহায্য করে।

সংবাদপত্রের সীমাবদ্ধতা

সংবাদপত্রের তথ্য সবসময় সম্পূর্ণ বা নিরপেক্ষ নাও হতে পারে। সম্পাদকীয় নীতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য সংবাদ উপস্থাপনাকে প্রভাবিত করতে পারে। সব মানুষের নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস নেই। অনেক সংবাদ দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়। জটিল বিষয়ের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা অনেক সময় পাঠকের কাছে অসম্পূর্ণ ধারণা তৈরি করতে পারে। এছাড়া ভুল সংবাদ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও প্রকাশিত হতে পারে।

  1. Cinema বা সিনেমা

সিনেমা একটি শক্তিশালী অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যম। গল্প, চরিত্র, দৃশ্য, সংগীত ও সংলাপের মাধ্যমে এটি মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।

সিনেমার ভূমিকা

  • ১. ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
  • ২. সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
  • ৩. বিভিন্ন জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করায়।
  • ৪. বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করে।
  • ৫. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • ৬. সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিকতার ধারণা তুলে ধরতে পারে।
  • ৭. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
  • ৮. সৃজনশীল চিন্তা ও কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে।
  • ৯. ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
  • ১০. সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে।
  • ১১. বিভিন্ন মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
  • ১২. সহানুভূতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

সিনেমার সীমাবদ্ধতা

সব সিনেমা শিক্ষামূলক নয়। কিছু সিনেমায় সহিংসতা, নেতিবাচক আচরণ বা অবাস্তব জীবনধারা প্রদর্শিত হতে পারে। শিশু ও কিশোররা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। অতিরঞ্জিত বা কাল্পনিক উপস্থাপনা অনেক সময় বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে। অতিরিক্ত সিনেমা দেখার ফলে পড়াশোনা ও অন্যান্য কার্যক্রমে সময় কমে যেতে পারে।

  1. Radio বা রেডিও

রেডিও দীর্ঘদিন ধরে informal education-এর একটি কার্যকর মাধ্যম। শব্দ, আলোচনা, সাক্ষাৎকার, সংবাদ, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে এটি মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে।

রেডিওর ভূমিকা

  • ১. সংবাদ ও সাম্প্রতিক তথ্য প্রদান করে।
  • ২. শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে।
  • ৩. কৃষি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
  • ৪. ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করে।
  • ৫. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির তথ্য প্রচার করে।
  • ৬. বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে।
  • ৭. দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়।
  • ৮. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্য প্রচার করে।
  • ৯. দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
  • ১০. শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • ১১. বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জ্ঞান প্রদান করে।
  • ১২. তুলনামূলকভাবে কম খরচে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে।

রেডিওর সীমাবদ্ধতা

রেডিওতে visual বা দৃশ্যমান উপাদান থাকে না। ফলে জটিল বিষয় বোঝাতে অসুবিধা হতে পারে। অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে সম্প্রচারিত হলে শ্রোতা তা মিস করতে পারে। শ্রোতার সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমিত। তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও সবসময় থাকে না। বর্তমানে internet ও digital media-এর বিস্তারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে রেডিওর ব্যবহার কমেছে।

  1. Television বা টেলিভিশন

টেলিভিশন শব্দ ও ছবির সমন্বয়ে শিক্ষা ও বিনোদন প্রদান করে। এর visual presentation অনেক বিষয়কে সহজে বোঝাতে সাহায্য করে।

টেলিভিশনের ভূমিকা

  • ১. দেশ-বিদেশের ঘটনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
  • ২. শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে।
  • ৩. বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন করে।
  • ৪. ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়।
  • ৫. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ৬. স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
  • ৭. পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করে।
  • ৮. কৃষি ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে।
  • ৯. সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে জনমত তৈরি করতে সাহায্য করে।
  • ১০. বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত করে।
  • ১১. শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করে।
  • ১২. বিনোদনের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে।

টেলিভিশনের সীমাবদ্ধতা

টেলিভিশনের সব অনুষ্ঠান শিক্ষামূলক নয়। অতিরিক্ত television viewing শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও শারীরিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু অনুষ্ঠান সহিংসতা, ভোগবাদ বা অনুপযুক্ত আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে। দর্শক সাধারণত passive viewer হিসেবে থাকে, ফলে সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমিত হয়। এছাড়া television content-এর তথ্য সবসময় নির্ভুল বা নিরপেক্ষ নাও হতে পারে।

  1. Social Organization বা সামাজিক সংগঠন

সামাজিক সংগঠন বলতে এমন সংগঠনকে বোঝায় যেখানে মানুষ একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, মূল্যবোধ বা সামাজিক কার্যক্রমের জন্য একত্রিত হয়। বিভিন্ন যুব সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্রীড়া সংগঠন এবং community organization informal education-এর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা

  • ১. দলগত কাজের অভ্যাস তৈরি করে।
  • ২. নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ করে।
  • ৩. সহযোগিতা ও সহমর্মিতা শেখায়।
  • ৪. সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
  • ৫. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
  • ৬. গণতান্ত্রিক আচরণ ও অংশগ্রহণ শেখায়।
  • ৭. যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করে।
  • ৮. সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
  • ৯. সমস্যা সমাধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেয়।
  • ১০. সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষণে সাহায্য করে।
  • ১১. স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব ও সমাজসেবার চেতনা তৈরি করে।
  • ১২. ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

সামাজিক সংগঠনের সীমাবদ্ধতা

সব সামাজিক সংগঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সমানভাবে শিক্ষামূলক নয়। কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা আদর্শগত পক্ষপাত সদস্যদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু সংগঠনে নেতৃত্বের সুযোগ সীমিত থাকে। পর্যাপ্ত অর্থ, প্রশিক্ষিত কর্মী বা সংগঠনের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে কার্যক্রম কার্যকর হয় না। আবার সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ ও সংঘাতও সংগঠনের শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

1.2.2 Formal Education

Formal Education বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হলো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে পরিচালিত শিক্ষা। বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট curriculum, শিক্ষক, সময়সূচি, শিক্ষণ পদ্ধতি, মূল্যায়ন এবং certification-এর মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রদান করা হয়।

সংজ্ঞা

Formal Education হলো এমন একটি পরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে নির্দিষ্ট curriculum, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, সময়সূচি, শিক্ষণ পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো হয়।

Formal Education-এর বৈশিষ্ট্য

  • ১. প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: Formal education নির্দিষ্ট বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
  • ২. নির্দিষ্ট curriculum: এখানে নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম বা curriculum থাকে। কোন বিষয় কীভাবে এবং কোন স্তরে পড়ানো হবে তা পূর্বনির্ধারিত থাকে।
  • ৩. নির্দিষ্ট সময়সূচি: Formal education নির্দিষ্ট academic calendar, class routine এবং timetable অনুসরণ করে।
  • ৪. প্রশিক্ষিত শিক্ষক: শিক্ষাদানের জন্য সাধারণত যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থীর শেখার প্রক্রিয়াকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেন।
  • ৫. নির্দিষ্ট শিক্ষাগত লক্ষ্য: প্রতিটি স্তর ও বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট learning objectives নির্ধারণ করা হয়।
  • ৬. ধারাবাহিক স্তর: Formal education সাধারণত প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত।
  • ৭. পরিকল্পিত শিক্ষণ পদ্ধতি: শিক্ষার্থীদের বয়স, বিষয় ও শিক্ষাগত লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন teaching method ব্যবহার করা হয়।
  • ৮. নিয়মিত মূল্যায়ন: পরীক্ষা, assignment, project, practical work এবং অন্যান্য assessment-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।
  • ৯. Certification: নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর সফলভাবে সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থী certificate, diploma বা degree অর্জন করতে পারে।
  • ১০. নির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা: Formal education প্রতিষ্ঠানে attendance, discipline, examination এবং academic conduct-এর নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
  • ১১. সামাজিকীকরণ: বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, নেতৃত্ব, সামাজিক দায়িত্ব, নিয়ম মেনে চলা এবং পারস্পরিক সম্মান শেখায়।
  • ১২. পরিকল্পিত ব্যক্তিত্ব বিকাশ: Formal education শুধু academic knowledge প্রদান করে না। এটি শিক্ষার্থীর intellectual, social, emotional, moral এবং practical development-এর জন্যও কাজ করে।

Formal Education-এর সীমাবদ্ধতা

  • ১. অতিরিক্ত পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা: অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়। ফলে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান বোঝার পরিবর্তে মুখস্থ করার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।
  • ২. ব্যক্তিগত পার্থক্যের প্রতি কম গুরুত্ব: একটি নির্দিষ্ট curriculum ও একই assessment system সব শিক্ষার্থীর ভিন্ন ক্ষমতা, আগ্রহ ও শেখার গতিকে সবসময় যথাযথভাবে বিবেচনা করতে পারে না।
  • ৩. অতিরিক্ত নিয়ম ও কাঠামো: অতিরিক্ত নিয়ম, timetable এবং rigid structure শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতাকে কখনও সীমিত করতে পারে।
  • ৪. বাস্তব জীবনের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা: কিছু ক্ষেত্রে পাঠ্যবিষয় বাস্তব জীবনের সমস্যা ও প্রয়োজনের সঙ্গে যথেষ্টভাবে যুক্ত থাকে না।
  • ৫. প্রতিযোগিতার চাপ: পরীক্ষা, grade এবং ranking-এর অতিরিক্ত গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
  • ৬. ব্যয়বহুল হতে পারে: উচ্চমানের formal education অনেক ক্ষেত্রে tuition, বই, transport এবং অন্যান্য খরচের কারণে সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য হয় না।
  • ৭. সময়সাপেক্ষ: Formal education সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে।
  • ৮. শিক্ষকনির্ভরতা: অতিরিক্ত teacher-centered teaching শিক্ষার্থীর স্বাধীন চিন্তা ও active learning কমিয়ে দিতে পারে।
  • ৯. curriculum পরিবর্তনের ধীরগতি: সমাজ ও প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হলেও formal curriculum সবসময় একই গতিতে পরিবর্তিত হয় না।
  • ১০. সামাজিক বৈষম্যের প্রভাব: শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা, সামাজিক পরিবেশ এবং শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য formal education-এর ফলাফলে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে।

1.2.2.1 School

School বা বিদ্যালয় হলো একটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র যেখানে পরিকল্পিত curriculum, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, নির্দিষ্ট শিক্ষণ পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক আচরণের বিকাশ ঘটানো হয়।

Catet Gold-এর ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায়, School হলো এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষা প্রদান করা হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

Responsibility and Function of School

বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

বিদ্যালয় শুধু বইয়ের বিষয় শেখানোর প্রতিষ্ঠান নয়। এটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, সামাজিক দক্ষতা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও নাগরিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। বিদ্যালয়ের প্রধান কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে জ্ঞান প্রদান, দক্ষতা বিকাশ, চরিত্র গঠন, সামাজিকীকরণ, মূল্যবোধের বিকাশ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, নাগরিকত্বের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা।

A. Learner Centric Function of School

শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন, আগ্রহ, ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং শেখার গতিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র তথ্য গ্রহণকারী হিসেবে না দেখে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  • ১. শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পার্থক্যকে স্বীকৃতি দেওয়া।
  • ২. শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষণ পরিকল্পনা করা।
  • ৩. Active learning-এর সুযোগ সৃষ্টি করা।
  • ৪. শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • ৫. Problem solving ও critical thinking-এর বিকাশ ঘটানো।
  • ৬. সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তিকে উৎসাহিত করা।
  • ৭. বিভিন্ন teaching method ব্যবহার করা।
  • ৮. শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন জ্ঞান যুক্ত করা।
  • ৯. Positive classroom environment তৈরি করা।
  • ১০. নিয়মিত ও গঠনমূলক feedback প্রদান করা।
  • ১১. শিক্ষার্থীর সামাজিক ও emotional needs-এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
  • ১২. শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্বের ক্ষমতা বিকাশ করা।

Learner centric approach-এ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকে গুরুত্ব দেয়। শিক্ষক এখানে শুধুমাত্র lecturer বা information provider নন। তিনি facilitator, guide এবং mentor হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষার্থীরা discussion, project, experiment, group work, presentation এবং problem solving-এর মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে শেখে। শিক্ষার্থীর ভুলকে শেখার একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখা হয়। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আগ্রহ, ক্ষমতা ও শেখার গতি অনুযায়ী differentiated learning-এর সুযোগ তৈরি করে। Inclusive education-এর মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। Learner centric school শিক্ষার্থীর academic achievement-এর পাশাপাশি emotional well-being, creativity, communication skill, social skill এবং independent thinking-এর বিকাশ ঘটায়। এর ফলে শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করতে পারে।

B. Social Centric Function of School

বিদ্যালয় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি সমাজের প্রয়োজন, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য তাদের প্রস্তুত করা বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। Social centric approach শিক্ষাকে সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে।

  • ১. শিক্ষার্থীদের সামাজিক মূল্যবোধ শেখানো।
  • ২. সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের মনোভাব গড়ে তোলা।
  • ৩. সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করা।
  • ৪. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক চেতনা বিকাশ করা।
  • ৫. বৈচিত্র্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে সম্মান করতে শেখানো।
  • ৬. সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
  • ৭. পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি দায়িত্বশীলতা গড়ে তোলা।
  • ৮. সমাজসেবা ও community participation-এর সুযোগ তৈরি করা।
  • ৯. জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা।
  • ১০. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সংরক্ষণে সাহায্য করা।
  • ১১. নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণের দক্ষতা বিকাশ করা।
  • ১২. শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করা।

Social centric school শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে না, বরং সমাজের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা, সহনশীলতা, ন্যায়বোধ, সমতা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে শেখে। বিভিন্ন group activity, community project, cultural programme, social service এবং environmental activity-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। বিদ্যালয় সমাজের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কুসংস্কার, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে পারে। একটি social centric school পরিবার ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞানী ব্যক্তি নয়, বরং সচেতন, সহানুভূতিশীল, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।

1.2.2.2 Society

সমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠান, নিয়ম, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার একটি সংগঠিত ব্যবস্থা। বিদ্যালয় সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয় ও সমাজ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বিদ্যালয় সমাজ থেকে মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, ভাষা, সামাজিক প্রয়োজন এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন ধারণা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক তৈরি করে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে। তাই বিদ্যালয়কে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না। একটি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা সমাজের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সামাজিক জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।

1.2.3 Non Formal Education

Non Formal Education বা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা হলো বিদ্যালয়ের প্রচলিত formal system-এর বাইরে পরিকল্পিত ও সংগঠিত শিক্ষার ব্যবস্থা। এটি সাধারণত নির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা সামাজিক প্রয়োজন পূরণের জন্য পরিচালিত হয় এবং বয়স, সময়, স্থান ও curriculum-এর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয়।

সংজ্ঞা

Non Formal Education হলো formal school system-এর বাইরে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত, সংগঠিত ও উদ্দেশ্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী বা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয় পদ্ধতিতে জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ব্যবহারিক সক্ষমতা প্রদান করে।

Non Formal Education-এর বৈশিষ্ট্য

  • ১. Formal system-এর বাইরে পরিচালিত হয়: Non formal education সাধারণ বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হয়।
  • ২. পরিকল্পিত ও সংগঠিত: Informal education-এর মতো সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত নয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই শিক্ষা পরিচালিত হয়।
  • ৩. নমনীয় curriculum: শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী curriculum পরিবর্তন বা সংক্ষিপ্ত করা যায়।
  • ৪. নমনীয় সময়সূচি: শিক্ষার্থীদের কাজ, বয়স ও সামাজিক পরিস্থিতি অনুযায়ী class timing নির্ধারণ করা যায়।
  • ৫. বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থী: শিশু, কিশোর, যুবক এবং প্রাপ্তবয়স্ক সবাই non formal education-এর অংশ হতে পারে।
  • ৬. ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব: Vocational skill, literacy, health education, agricultural training, computer skill এবং livelihood skill-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  • ৭. প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা: নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়।
  • ৮. নমনীয় স্থান: বিদ্যালয় ভবন ছাড়াও community centre, workplace, training centre বা অন্যান্য স্থানে শিক্ষা পরিচালিত হতে পারে।
  • ৯. বিকল্প শিক্ষার সুযোগ: যারা formal education থেকে বাদ পড়েছে বা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তাদের জন্য non formal education গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
  • ১০. মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে নমনীয়: Formal education-এর মতো কঠোর examination system সব ক্ষেত্রে থাকে না। প্রয়োজন অনুযায়ী practical assessment বা skill assessment করা যেতে পারে।
  • ১১. স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে: Course-এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী non formal education কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস বা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
  • ১২. জীবন ও কর্মমুখী: এই শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্যক্তিকে দৈনন্দিন জীবন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা।

Non Formal Education-এর সীমাবদ্ধতা

Non formal education নমনীয় ও প্রয়োজনভিত্তিক হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, সব non formal programme-এর মান সমান নয়। প্রশিক্ষিত শিক্ষক, পর্যাপ্ত অর্থ ও উপযুক্ত learning resources-এর অভাব অনেক সময় শিক্ষার মান কমিয়ে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের programme-এর মধ্যে standardization কম থাকায় অর্জিত qualification সব ক্ষেত্রে সমানভাবে স্বীকৃত নাও হতে পারে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যারা কর্মজীবী বা পারিবারিক দায়িত্বে যুক্ত। চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর academic knowledge অর্জনের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। পঞ্চমত, উপযুক্ত infrastructure ও technology-এর অভাবে কিছু অঞ্চলে programme কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। এছাড়া funding-এর অনিশ্চয়তা, দক্ষ trainer-এর অভাব, পর্যাপ্ত monitoring না থাকা এবং certification-এর সীমিত স্বীকৃতিও non formal education-এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

Scroll to Top