Soler System: Science trivia at a glance
- সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি (Jupiter)। এটি একটি গ্যাসীয় দৈত্য (Gas Giant) এবং এর ভর সৌরজগতের অন্যান্য সব গ্রহের মোট ভরের দ্বিগুণেরও বেশি। - কোন গ্রহকে ‘লাল গ্রহ’ (Red Planet) বলা হয়?
মঙ্গল (Mars)-কে ‘লাল গ্রহ’ বলা হয়। এর পৃষ্ঠে লৌহ অক্সাইড (Iron Oxide) বা মরিচার উপস্থিতির কারণে এটি লালচে রঙের দেখায়। - কোন গ্রহটি তার ‘গ্রেট রেড স্পট’ (Great Red Spot)-এর জন্য বিখ্যাত?
বৃহস্পতি (Jupiter) তার বিশাল গ্রেট রেড স্পট (Great Red Spot)-এর জন্য বিখ্যাত। এটি একটি বিশাল ঘূর্ণিঝড় (Giant Storm), যা কমপক্ষে ৩৫০ বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই ঝড়ের আকার এত বড় যে এর ভেতরে পৃথিবীর চেয়েও বড় একটি অঞ্চল সহজেই ধারণ করা যায়। - সূর্য কী ধরনের নক্ষত্র (What Type of Star Is the Sun)?
সূর্য (Sun) একটি হলুদ বামন নক্ষত্র (Yellow Dwarf Star), যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে G-টাইপ প্রধান-ক্রমের নক্ষত্র (G-type Main-Sequence Star বা G2V) নামে পরিচিত। এর বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন (৪৬০ কোটি) বছর। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য আরও প্রায় ৪.৫–৫ বিলিয়ন বছর প্রধান-ক্রমের নক্ষত্র হিসেবে থাকবে। এরপর এর কেন্দ্রের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এটি প্রসারিত হয়ে একটি লাল দানব নক্ষত্র (Red Giant)-এ পরিণত হবে। - সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি (Largest Volcano in the Solar System) কোনটি?
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি হলো অলিম্পাস মনস (Olympus Mons), যা মঙ্গল গ্রহে অবস্থিত একটি বিশাল শিল্ড আগ্নেয়গিরি। এর উচ্চতা প্রায় ২২–২৫ কিলোমিটার, অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও প্রায় ২.৫–৩ গুণ বেশি। মঙ্গলে পৃথিবীর মতো সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের চলাচল না থাকায়, একই হটস্পটের ওপর লাভা দীর্ঘ সময় ধরে জমা হয়ে এই রেকর্ড আকারের আগ্নেয়গিরিটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া মঙ্গলের দুর্বল মহাকর্ষ বলও পাহাড়কে আরও বেশি উঁচু হতে সহায়তা করেছে। - প্রশ্ন: দূরবর্তী ছায়াপথের অসাধারণ ছবি আমাদের কোন মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র (space telescope) দিয়েছে? উত্তর: জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (James Webb Space Telescope, JWST), ২০২১ সালে উৎক্ষেপিত, এটি হাবলের উত্তরসূরি এবং ইনফ্রারেড ক্ষমতায় দূরবর্তী মহাবিশ্বের সবচেয়ে স্পষ্ট ছবি তুলেছে।
- প্রশ্ন: মহাকাশে উড়ে যাওয়া প্রথম নারী কে? উত্তর: ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভা (Valentina Tereshkova), সোভিয়েত মহাকাশচারী, ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন ভোস্তক-৬ যানে মহাকাশে যান, ৪৮টি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করেন, ৭০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট মহাকাশে ছিলেন।
- প্রশ্ন: বিশ্ব এবং ভারত কর্তৃক মহাকাশে উৎক্ষেপিত প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম কী? উত্তর: বিশ্বের প্রথম স্পুটনিক-১ (Sputnik 1), ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন উৎক্ষেপণ করে; ভারতের প্রথম আর্যভট্ট (Aryabhata), ১৯৭৫ সালে উৎক্ষেপিত।
Basic Chemistry: Science trivia at a glance
- ঘরের তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকা ধাতু কোনটি?
ঘরের তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকা একমাত্র ধাতু হলো পারদ (Mercury বা Hg)। এর গলনাঙ্ক −38.83°C, তাই সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় (প্রায় 20–25°C) এটি তরল অবস্থায় থাকে। পারদ একসময় থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও এর বিষাক্ততার কারণে বর্তমানে এর ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত করা হয়েছে। - কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকা একমাত্র অধাতু কোনটি?
উত্তর: ব্রোমিন (Bromine – Br) - পর্যায় সারণির সবচেয়ে ভারী প্রাকৃতিক মৌল কোনটি?
উত্তর: ইউরেনিয়াম (Uranium – U - পর্যায় সারণিতে মোট কতটি মৌল রয়েছে (২০২৬ পর্যন্ত)?
উত্তর: ১১৮টি মৌল - সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহী (Best Electrical Conductor) মৌল কোনটি?
উত্তর: রূপা (Silver – Ag) - পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা ধাতু কোনটি?
উত্তর: অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium – Al) - সবচেয়ে সক্রিয় ক্ষার ধাতু (Alkali Metal) কোনটি?
উত্তর: ফ্রান্সিয়াম (Francium – Fr) - সবচেয়ে সক্রিয় হ্যালোজেন কোনটি?
উত্তর: ফ্লোরিন (Fluorine – F) - পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ (Hardest Natural Substance on Earth) কোনটি?
পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ হলো হীরা (Diamond)। মোহস কঠোরতা স্কেলে (Mohs Hardness Scale) এর কঠোরতা ১০, যা সর্বোচ্চ। হীরা সম্পূর্ণরূপে কার্বন (Carbon) পরমাণু দিয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি কার্বন পরমাণু শক্তিশালী সমযোজী (Covalent) বন্ধনের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক স্ফটিক (Crystal) কাঠামো তৈরি করে। এই বিশেষ গঠনই হীরাকে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থে পরিণত করেছে। - কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস (°C) এবং ফারেনহাইট (°F) স্কেলের মান সমান হয়?
−40° তাপমাত্রায় সমান হয়। - পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute Zero) কী?
পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute Zero) হলো তাপমাত্রার সর্বনিম্ন তাত্ত্বিক সীমা, যেখানে কোনো বস্তুর কণার তাপগতীয় শক্তি (Thermal Energy) সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। Absolute Zero = 0 K = -273.15°C = -459.67°F – এটি তাপমাত্রার সর্বনিম্ন তাত্ত্বিক সীমা। - পর্যায় সারণিতে (periodic table) সবচেয়ে নতুন মৌলিক উপাদান কোনটি? উত্তর: সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত চারটি মৌল হলো নিহোনিয়াম (১১৩), মসকোভিয়াম (১১৫), টেনেসিন (১১৭) এবং ওগানেসন (১১৮), যেগুলো ২০১৬ সালে IUPAC কর্তৃক স্বীকৃতি পায়। ১১৯ নম্বর মৌল এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, এর অস্থায়ী নাম উনুনেনিয়াম (Ununennium, Uue)। এটি আবিষ্কৃত হলে পর্যায় সারণির অষ্টম সারির প্রথম মৌল এবং ক্ষার ধাতু হবে।
আধুনিক রসায়নের জনক (Father of Modern Chemistry) কে?
আঁতোয়ান-লরাঁ ল্যাভয়জিয়ে (Antoine-Laurent Lavoisier)-কে আধুনিক রসায়নের জনক (Father of Modern Chemistry) বলা হয়।
| শাখা | জনক | গুরুত্বপূর্ণ অবদান |
|---|---|---|
| আধুনিক রসায়ন | অঁতোয়ান লavoয়াসিয়ে (Antoine Lavoisier) | ভর সংরক্ষণের সূত্র, অক্সিজেনের নামকরণ |
| জৈব রসায়ন | ফ্রিডরিখ ভোলার (Friedrich Wöhler) | ১৮২৮ সালে ইউরিয়া সংশ্লেষণ, জীবনী শক্তি তত্ত্ব ভাঙ্গা |
| ভৌত রসায়ন | ভিলহেলম অস্টওয়াল্ড (Wilhelm Ostwald) | ১৯০৯ সালে নোবেল পুরস্কার |
| অজৈব রসায়ন | আলফ্রেড ভেরনার (Alfred Werner) | সমন্বয় তত্ত্ব, ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার |
| জীব রসায়ন | কার্ল নিউবার্গ (Carl Neuberg) | ১৯০৩ সালে ‘বায়োকেমিস্ট্রি’ শব্দ প্রবর্তন |
| নিউক্লিয়ার রসায়ন | অটো হান (Otto Hahn) | নিউক্লিয় বিভাজন আবিষ্কার, ১৯৪৪ সালে নোবেল পুরস্কার |
| পারমাণবিক তত্ত্ব | জন ডালটন (John Dalton) | পারমাণবিক তত্ত্ব, আংশিক চাপের সূত্র |
| পর্যায় সারণি | দিমিত্রি মেন্ডেলিফ (Dmitri Mendeleev) | আধুনিক পর্যায় সারণি প্রস্তাব |
| আধুনিক পর্যায় সারণি | হেনরি মসলি (Henry Moseley) | পারমাণবিক সংখ্যার ভিত্তিতে সাজানো |
Basic Biology:
- মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ কোনটি?
মানবদেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হলো ত্বক (Skin)। এটি শরীরকে জীবাণু, আঘাত ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - স্থলভাগের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাণী (Fastest Land Animal) কোনটি?
স্থলভাগের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাণী হলো চিতা (Cheetah)। এটি স্বল্প দূরত্বে ঘণ্টায় প্রায় ১০০–১২০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। শিকার ধরার সময় চিতা সাধারণত ২০–৩০ সেকেন্ডের জন্য এই সর্বোচ্চ গতি বজায় রাখতে পারে, যা তাকে পৃথিবীর দ্রুততম স্থলচর প্রাণীতে পরিণত করেছে। - মস্তিষ্কের কোন অংশ শরীরের ভারসাম্য ও চলাচলের সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করে?
সেরিবেলাম (Cerebellum) বা লঘুমস্তিষ্ক শরীরের ভারসাম্য (Balance), সমন্বয় (Coordination) এবং সুনির্দিষ্ট চলাচল (Fine Motor Control) নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মস্তিষ্কের পেছনের দিকে, খুলিের নিচের অংশে অবস্থিত। হাঁটা, দৌড়ানো, দাঁড়িয়ে থাকা, লেখা বা কোনো সূক্ষ্ম কাজ করার সময় সেরিবেলাম পেশির নড়াচড়াকে সমন্বয় করে, ফলে আমরা সচেতনভাবে চিন্তা না করেও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি। - মানবদেহের মৌলিক উপাদানগুলোর শতাংশ কত? অক্সিজেন ৬৫%, কার্বন ১৮.৫%, হাইড্রোজেন ৯.৫%, নাইট্রোজেন ৩.৩%, ক্যালসিয়াম ১.৫%, ফসফরাস ১%, অন্যান্য ১.২% – মোট ১০০%।
- স্বর্ণমাছের (goldfish) স্মৃতিশক্তি কতদিন স্থায়ী? উত্তর: কমপক্ষে ছয় মাস। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, স্বর্ণমাছ মাসের পর মাস ধরে মানুষের মুখ, খাবারের সময় এবং বিভিন্ন সংকেত মনে রাখতে পারে
- প্রশ্ন: সবচেয়ে বিরল রক্তের গ্রুপ কোনটি? উত্তর: Rhnull বা “স্বর্ণ রক্ত” সবচেয়ে বিরল, এতে কোনো Rh অ্যান্টিজেন থাকে না। এখন পর্যন্ত বিশ্বে মাত্র ৪৩ জনের শরীরে এটি পাওয়া গেছে।
বিশ্বে আনুমানিক রক্তের গ্রুপের হার
- O Rh+ – প্রায় 37–40%
- A Rh+ – প্রায় 27–30%
- B Rh+ – প্রায় 20–25% (এশিয়ায় তুলনামূলক বেশি)
- AB Rh+ – প্রায় 4–7%
- O Rh− – প্রায় 6–7%
- A Rh− – প্রায় 5–6%
- B Rh− – প্রায় 1–2%
- AB Rh− – 1% এরও কম
- Rhnull – বিশ্বে ৫০ জনেরও কম পরিচিত ব্যক্তি, তাই এটিকে Golden Blood বলা হয়।
- প্রশ্ন: প্রথম টিকা (vaccine) কোন রোগের জন্য তৈরি করা হয়েছিল? উত্তর: Smallpox, ১৭৯৬ সালে এডওয়ার্ড জেনার দ্বারা।
- প্রশ্ন: শরীরের সবচেয়ে লম্বা কোষ কোনটি? উত্তর: স্নায়ু কোষ বা নিউরন (Neuron), যা স্পাইনাল কর্ড থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
Basic Geography
- পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি (Largest Desert on Earth) কোনটি? পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হলো অ্যান্টার্কটিক মরুভূমি (Antarctic Desert)। এর আয়তন প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ বর্গকিলোমিটার (14.2 million km²)। যদিও এটি বরফে আচ্ছাদিত, তবুও অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাতের কারণে এটি একটি শীতল মরুভূমি (Cold Desert) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। অতিরিক্ত তথ্য: যদি শুধু উষ্ণ মরুভূমি (Hot Desert) বিবেচনা করা হয়, তবে পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হলো সাহারা মরুভূমি (Sahara Desert), যা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত।
- পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান (Deepest Place on Earth) কোনটি?
পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান হলো চ্যালেঞ্জার ডিপ (Challenger Deep), যা মারিয়ানা খাত (Mariana Trench)-এর মধ্যে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। এর সর্বাধিক গভীরতা প্রায় ১০,৯৩৫ মিটার (প্রায় ১০.৯ কিলোমিটার), যদিও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জরিপে এই গভীরতার সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। এটি পৃথিবীর মহাসাগরের সর্বনিম্ন পরিচিত বিন্দু এবং গভীর সমুদ্র গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। - সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহ (Third Planet from the Sun) কোনটি?
সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহ হলো পৃথিবী (Earth)। সূর্য থেকে গ্রহগুলোর ক্রম হলো— বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)। যদিও এই গ্রহগুলোর মধ্যে দূরত্ব সমান নয়, তবুও পৃথিবী সবসময় সূর্য থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
Earth and environment
1. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর আমাদের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে?
ওজোন স্তর (Ozone Layer) আমাদের সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (Ultraviolet বা UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এই ওজোন স্তরটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)-এ অবস্থিত।
| UV রশ্মির ধরন | তরঙ্গদৈর্ঘ্য nm | পৃথিবীতে পৌঁছায় | প্রধান প্রভাব |
|---|---|---|---|
| UVA | 315–400 | ✅ প্রায় 95% | ত্বকের বার্ধক্য, বলিরেখা, ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি |
| UVB | 280–315 | ⚠️ অল্প পরিমাণ | সানবার্ন, ভিটামিন D উৎপাদন, DNA ক্ষতি, ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি |
| UVC | 100–280 | ❌ পৌঁছায় না | সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক UV রশ্মি: জীবাণু ধ্বংস করে; মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তবে ওজোন স্তর এটি শোষণ করে |
2. পৃথিবীর পৃষ্ঠের কত শতাংশ লবণাক্ত পানি (Saltwater) দ্বারা আচ্ছাদিত?
পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠের প্রায় ৭১% অংশ পানি দ্বারা আচ্ছাদিত। এর মধ্যে প্রায় ৯৭% হলো লবণাক্ত পানি (Saltwater), যা প্রধানত মহাসাগর ও সাগরে রয়েছে। বাকি প্রায় ৩% হলো মিঠা পানি (Freshwater)। তবে এই ৩%-এরও অধিকাংশ হিমবাহ, বরফস্তর এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে জমা থাকায় মানুষের সরাসরি ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য মিঠা পানির পরিমাণ ১%-এরও কম। এই কারণেই নিরাপদ পানীয় জল ও মিঠা পানির সংরক্ষণ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।

3. কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী ডিম পাড়ে (Which Mammal Lays Eggs)?
প্লাটিপাস (Platypus) এবং ইকিডনা (Echidna) হলো পৃথিবীর একমাত্র ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী প্রাণী (Egg-laying Mammals)। এদের মনোট্রিম (Monotremes) বলা হয়। এই দুটি প্রাণী প্রধানত অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ গিনি অঞ্চলে পাওয়া যায়। এদের স্তনবৃন্ত (Nipples) থাকে না; ত্বকের বিশেষ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত দুধ চেটে বাচ্চারা পান করে।
4. পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কামড়ের (Strongest Bite Force) অধিকারী প্রাণী কোনটি?
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কামড়ের অধিকারী প্রাণী হলো লবণাক্ত পানির কুমির (Saltwater Crocodile)।
5. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সময় ঘুমায় কোন প্রাণী (Which Animal Sleeps the Most)?
কোয়ালা (Koala) পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সময় ঘুমানো প্রাণীদের অন্যতম। এটি প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে বা বিশ্রামে কাটাতে পারে।
6. কোন প্রাণীর ঘ্রাণশক্তি (Sense of Smell) সবচেয়ে প্রখর?
আফ্রিকান হাতি (African Elephant) স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রখর ঘ্রাণশক্তির অধিকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ঘ্রাণগ্রাহী (Olfactory) জিনের সংখ্যা অন্যান্য অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি।
Mathematics
প্রশ্ন 1: গণিতের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: আর্কিমিডিসকে (Archimedes) গণিতের জনক বলা হয়, তিনি ২৮৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিসিলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাই (π) এর মান নির্ণয় করেন। ক্লান্তি পদ্ধতি (method of exhaustion) উদ্ভাবন করেন যা Integral Calculus-এর সূচনা। আর্কিমিডিসের নীতি (buoyancy principle) আবিষ্কার করেন। আধুনিক গণিতের জনক রেনে দেকার্ত (René Descartes)। ভারতীয় গণিতের জনক ব্রহ্মগুপ্ত। গণিতের রাজা লিওনার্ড অয়লার (Leonhard Euler)। গণিতের মা হাইপেশিয়া (Hypatia)।
📚 বিভিন্ন বিষয়ের জনক (Father of Different Branches of Science & Mathematics)
- গণিতের জনক (Father of Mathematics): আর্কিমিডিস (Archimedes)
- জ্যামিতির জনক (Father of Geometry): ইউক্লিড (Euclid)
- বীজগণিতের জনক (Father of Algebra): আল-খোয়ারিজমি (Muhammad ibn Musa al-Khwarizmi)
- ত্রিকোণমিতির জনক (Father of Trigonometry): হিপারকাস (Hipparchus)
- ক্যালকুলাসের জনক (Father of Calculus): স্যার আইজ্যাক নিউটন (Isaac Newton) এবং গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিজ (G. W. Leibniz)
- সংখ্যাতত্ত্বের জনক (Father of Number Theory): পিয়েরে দ্য ফের্মা (Pierre de Fermat)
- সম্ভাব্যতা তত্ত্বের জনক (Father of Probability): ব্লেইজ পাস্কাল (Blaise Pascal) ও পিয়েরে দ্য ফের্মা (Pierre de Fermat)
- পরিসংখ্যানের জনক (Father of Statistics): কার্ল পিয়ারসন (Karl Pearson)
- আধুনিক পরিসংখ্যানের জনক (Father of Modern Statistics): রোনাল্ড এ. ফিশার (Ronald A. Fisher)
- কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক (Father of Computer Science): অ্যালান টিউরিং (Alan Turing)
- কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের জননী (Mother of Computer Programming): এডা লাভলেস (Ada Lovelace)
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক (Father of Artificial Intelligence): জন ম্যাকার্থি (John McCarthy)
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক (Father of Modern Physics): আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein)
- ধ্রুপদী পদার্থবিজ্ঞানের জনক (Father of Classical Physics): স্যার আইজ্যাক নিউটন (Isaac Newton)
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক (Father of Quantum Theory): ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক (Max Planck)
- পরমাণু তত্ত্বের জনক (Father of Atomic Theory): জন ডাল্টন (John Dalton)
- আধুনিক রসায়নের জনক (Father of Modern Chemistry): আঁতোয়ান-লরাঁ ল্যাভয়জিয়ে (Antoine-Laurent Lavoisier)
- পর্যায় সারণির জনক (Father of the Periodic Table): দিমিত্রি মেন্ডেলেভ (Dmitri Mendeleev)
- আধুনিক জীববিজ্ঞানের জনক (Father of Modern Biology): চার্লস ডারউইন (Charles Darwin)
- জিনতত্ত্বের জনক (Father of Genetics): গ্রেগর মেন্ডেল (Gregor Mendel)
- অণুজীববিজ্ঞানের জনক (Father of Microbiology): অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antonie van Leeuwenhoek)
- রোগপ্রতিরোধবিদ্যার জনক (Father of Immunology): এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner)
- আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক (Father of Modern Medicine): হিপোক্রেটিস (Hippocrates)
- জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক (Father of Astronomy): নিকোলাস কোপার্নিকাস (Nicolaus Copernicus)
- পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক (Father of Observational Astronomy): গ্যালিলিও গ্যালিলি (Galileo Galilei)
- বিবর্তন তত্ত্বের জনক (Father of Evolution): চার্লস ডারউইন (Charles Darwin)
- বাস্তুবিদ্যার জনক (Father of Ecology): আর্নস্ট হেকেল (Ernst Haeckel)
- ভূতত্ত্বের জনক (Father of Geology): জেমস হাটন (James Hutton)
- ভূমিকম্পবিদ্যার জনক (Father of Seismology): জন মিলনে (John Milne)
- সমুদ্রবিজ্ঞানের জনক (Father of Oceanography): ম্যাথিউ ফন্টেইন মৌরি (Matthew Fontaine Maury)
- আবহাওয়াবিজ্ঞানের জনক (Father of Meteorology): অ্যারিস্টটল (Aristotle)
- ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির জনক (Father of the Indian Space Programme): বিক্রম সারাভাই (Vikram Sarabhai)
- ভারতীয় পারমাণবিক কর্মসূচির জনক (Father of the Indian Nuclear Programme): হোমি জে. ভাবা (Homi J. Bhabha)
- বিশ্বের সবুজ বিপ্লবের জনক (Father of the Green Revolution): নরম্যান বোরলগ (Norman Borlaug)
- ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক (Father of the Green Revolution in India): এম. এস. স্বামীনাথন (M. S. Swaminathan)
- ভারতের শ্বেত বিপ্লবের জনক (Father of the White Revolution in India): ভার্গিজ কুরিয়েন (Verghese Kurien)
- ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জনক (Father of the Indian Missile Programme): ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম (A. P. J. Abdul Kalam)
- ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতি (Father/Chief Architect of the Indian Constitution): ড. বি. আর. আম্বেদকর (B. R. Ambedkar)
- ভারতীয় অর্থনীতির জনক (Father of Indian Economics): দাদাভাই নওরোজি (Dadabhai Naoroji)
- অ্যারিস্টোটল (Aristotle) — প্রাচীন পদার্থবিদ্যার (Old Physics) জনক — “Physics” ও “On the Heavens” গ্রন্থে গতি, উপাদান ও কার্যকারণ তত্ত্ব স্থাপন করেন।
Science Trivia – Robotics
- প্রশ্ন: রোবটের কোন অংশ তার “মস্তিষ্ক”-এর মতো কাজ করে? উত্তর: নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Control System or Processor), বিশেষত এর প্রসেসর বা কন্ট্রোলার, যা সেন্সর থেকে তথ্য গ্রহণ করে বিশ্লেষণ করে এবং অ্যাকচুয়েটরকে নির্দেশ দেয়।
- প্রশ্ন: বাতাসে উড়তে পারে এমন রোবটের প্রকারভেদ কী? উত্তর: ড্রোন (Drone) বা আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (UAV), যা রিমোট কন্ট্রোল বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় উড়তে সক্ষম।
- প্রশ্ন: রোবটের ভারসাম্য রক্ষায় কোন অংশ সাহায্য করে? উত্তর: জাইরোস্কোপ (Gyroscope) রোবটের কোণীয় বেগ ও অবস্থান সনাক্ত করে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্ট্যাবিলাইজার (Stabiliser) পায়ের আকারে বা বাহ্যিক কাঠামো হিসেবে দেহকে সোজা রাখতে সহায়তা করে।
কেন আমাদের বিশ্বাস করবেন?
এই “General Knowledge Questions: Science Trivia” ব্লগের প্রতিটি প্রশ্ন ও উত্তর আমাদের রসায়নে স্নাতকোত্তর (MSc in Chemistry) প্রধান লেখক দ্বারা রচিত এবং গণিতে স্নাতকোত্তর (MSc in Math) ও শিক্ষায় স্নাতকোত্তর-ডক্টরেট (MA, PhD in Education) সহ-লেখকদের দ্বারা যাচাইকৃত, যাতে বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা ও শিক্ষাগত মান নিশ্চিত করা হয়। গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা দেশের বিভিন্ন স্কুলে বিজ্ঞানভিত্তিক সাধারণ জ্ঞান কুইজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছি, যেখানে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া প্রশ্ন ও তাদের প্রতিক্রিয়ার আলোকে আমরা প্রতিটি তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকাশ করি, ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থী ও জ্ঞানপিপাসু পাঠকদের কাছে আমাদের বিষয়বস্তু শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষোপযোগী।
