সমস্যা সমাধান পদ্ধতি হলো এমন একটি শিক্ষণ-পদ্ধতি যেখানে শিক্ষার্থীদের সামনে একটি বাস্তব বা শিক্ষণযোগ্য সমস্যা উপস্থাপন করা হয় এবং তারা যুক্তি, চিন্তা, অনুসন্ধান, পূর্বজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সাহায্যে সমস্যাটির সমাধান খুঁজে বের করে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষক মূলত সহায়ক ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন এবং শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে শেখার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
সংজ্ঞা
B. F. Skinner (1964):
Skinner-এর মতে, সমস্যা সমাধান হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তি পূর্বে শেখা আচরণ বা প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নতুন পরিস্থিতির উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া আবিষ্কার করে।
Robert M. Gagné (1985):
Gagné-এর মতে, সমস্যা সমাধান হলো এমন একটি উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী পূর্বে অর্জিত ধারণা, নিয়ম ও নীতিকে নতুন ও অপরিচিত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সমাধান উদ্ভাবন করে।
সহজ ভাষায়
- Skinner (1964) → শেখা আচরণ/প্রতিক্রিয়াকে পরিবর্তন ও সমন্বয় করে সমাধান খোঁজা।
- Gagné (1985) → পূর্বে শেখা ধারণা, নিয়ম ও নীতি নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করে সমাধান করা।
Gagné- Problem Solving-কে Higher-Order Intellectual Skill হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
সমস্যা সমাধানমূলক শিখন প্রক্রিয়ায় বৌদ্ধিক দৃষ্টিভঙ্গি তত্ত্ব
(Cognitive Field Theory in Problem-Solving Learning Process)
বৌদ্ধিক দৃষ্টিভঙ্গি তত্ত্ব (Cognitive Field Theory) অনুযায়ী শিখন কেবল উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে যান্ত্রিক সংযোগ স্থাপন নয়; বরং শিক্ষার্থী তার পূর্বজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষণ, চিন্তন ও অন্তর্দৃষ্টির সাহায্যে কোনো পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করে এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে Gestalt Psychology এবং বিশেষত Kurt Lewin-এর Field Theory-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
মূল ধারণা
বৌদ্ধিক দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষার্থীকে একটি সক্রিয় চিন্তাশীল ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়। কোনো সমস্যা সমাধানের সময় সে সমস্যাটিকে বিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে না দেখে সমগ্র পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে বোঝার চেষ্টা করে। তার মনের মধ্যে যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, লক্ষ্য, প্রয়োজন ও পরিবেশের সমন্বয়ে একটি cognitive field তৈরি হয়, সেই ক্ষেত্রের পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
সমস্যা সমাধানে Cognitive Field Theory-এর প্রয়োগ
- ১. সমস্যা উপলব্ধি (Perception of Problem):
প্রথমে শিক্ষার্থী সমস্যাটিকে প্রত্যক্ষণ করে এবং সমস্যার প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করে। - ২. পূর্বজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার:
নতুন সমস্যার সঙ্গে পূর্বে শেখা ধারণা, নিয়ম ও অভিজ্ঞতার সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। - ৩. Cognitive Field-এর পুনর্গঠন:
সমস্যার বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সম্পর্ক নতুনভাবে উপলব্ধি করার ফলে শিক্ষার্থীর মানসিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে। - ৪. অন্তর্দৃষ্টি (Insight):
সমস্যার বিভিন্ন অংশের মধ্যে হঠাৎ বা সুস্পষ্ট সম্পর্ক উপলব্ধি হলে সমাধানের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। এটিই Insight। - ৫. সমাধান প্রয়োগ:
উপলব্ধ সমাধানটি সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় এবং ফলাফল যাচাই করা হয়। - ৬. স্থানান্তর (Transfer):
একটি সমস্যার সমাধান থেকে অর্জিত ধারণা ও কৌশল পরবর্তী অনুরূপ বা নতুন সমস্যায় প্রয়োগ করা যায়।
| শিক্ষক | শিক্ষার্থী |
|---|---|
| সমস্যা উপস্থাপন করেন | সমস্যা বুঝে চিহ্নিত করে |
| প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন | তথ্য সংগ্রহ করে |
| প্রশ্ন ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে সাহায্য করেন | যুক্তি ও বিশ্লেষণ করে |
| শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন | সম্ভাব্য সমাধান প্রস্তাব করে |
| আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেন | সমাধান যাচাই করে |
| শেষে মূল্যায়ন করেন | সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমাধান প্রয়োগ করে |
শিক্ষাগত গুরুত্ব
Cognitive Field Theory শিক্ষার্থীর যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, অন্তর্দৃষ্টি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে অর্থপূর্ণ ও বোঝার মাধ্যমে শিখনকে গুরুত্ব দেয়।