CC-02 Unit-3: Learning, Learner and Teaching

  • Learning-Concept and nature
  • Learning- Knowledge and skills
  • Different ways of learning
  • Meaning of teaching and its relationship with learning and learner
Table of Contents

3.1.1 শিক্ষণের সংজ্ঞা  (Definitions of Learning)

শিক্ষণ বা Learning হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও পরিবেশের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ বা দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে।

উলফোকের মতে (Woolfolk) –  শিক্ষণ হল অভিজ্ঞতার ফলে জ্ঞান বা আচরণে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। এখানে অভিজ্ঞতা ও অনুশীলন শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

স্যান্ট্রকের মতে (Santrock) –  শিক্ষণ হল অভিজ্ঞতার ফলে আচরণে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী পরিবর্তন, যা ব্যক্তির নতুন জ্ঞান, দক্ষতা বা আচরণ অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

হিলগার্ডের মতে (Hilgard) – হিলগার্ডের মতে, শিক্ষণ হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার ফলে কোনো কাজ করার ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে এবং সেই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র স্বাভাবিক বৃদ্ধি বা সাময়িক অবস্থার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

সংক্ষেপে:  উপরের সংজ্ঞাগুলি থেকে বোঝা যায় যে শিক্ষণ শুধু বই পড়ে তথ্য মনে রাখার নাম নয়। অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও পরিবেশের প্রভাবে জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ ও মনোভাবের তুলনামূলকভাবে স্থায়ী পরিবর্তনই শিক্ষণ।

3.1.2 শিক্ষণের প্রকৃতি (Nature of Learning)

শিক্ষণের প্রকৃতি বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  1. শিক্ষণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া: মানুষের জন্মের পর থেকেই শেখার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তা চলতে থাকে।

  2. শিক্ষণ একটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া: শিক্ষণের ফলে ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ, মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।

  3. অভিজ্ঞতানির্ভর: অভিজ্ঞতা শিক্ষণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নিজের কাজ, পর্যবেক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে ব্যক্তি শেখে।

  4. অনুশীলনের গুরুত্ব রয়েছে: কোনো দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বারবার অনুশীলন শিক্ষণকে শক্তিশালী করে। যেমন—লেখা, সাইকেল চালানো বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো।

  5. শিক্ষণ সক্রিয় প্রক্রিয়া: শিক্ষার্থী শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে না; সে প্রশ্ন করে, চিন্তা করে, পরীক্ষা করে, আলোচনা করে এবং নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে।

  6. শিক্ষণ উদ্দেশ্যমুখী: অধিকাংশ শিক্ষণ কোনো না কোনো উদ্দেশ্য পূরণের সঙ্গে যুক্ত। যেমন—নতুন জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা তৈরি, সমস্যা সমাধান বা আচরণ পরিবর্তন।

  7. শিক্ষণ সর্বজনীন: স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনোভাবে শেখে। তবে ব্যক্তিভেদে শেখার গতি, পদ্ধতি ও দক্ষতার পার্থক্য থাকতে পারে।

  8. শিক্ষণ পরিবেশনির্ভর: পরিবার, বিদ্যালয়, বন্ধু, সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষাকে প্রভাবিত করে।

  9. শিক্ষণ তুলনামূলকভাবে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটায়: সাময়িক ক্লান্তি, অসুস্থতা বা আবেগের কারণে আচরণে যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে সাধারণত শিক্ষণ বলা হয় না। শিক্ষণের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে স্থায়ী হয়।

  10. শিক্ষণ অভিযোজনের সাহায্য করে: নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যক্তি নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে। তাই শিক্ষণ ব্যক্তিকে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে।

  11. শিক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন: একই বিষয় একইভাবে সবাই শেখে না। বুদ্ধি, আগ্রহ, প্রেরণা, পূর্বজ্ঞান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণে শিক্ষণের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

  12. শিক্ষণ ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় হতে পারে: ব্যক্তি ভালো অভ্যাস যেমন শেখে, তেমনি ভুল অভ্যাসও শিখতে পারে। তাই শিক্ষার পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, শিক্ষণ হল একটি ধারাবাহিক, সক্রিয়, অভিজ্ঞতানির্ভর ও উদ্দেশ্যমুখী প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ফলে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ ও মনোভাব অর্জন করে।

শিক্ষণ: জ্ঞান ও দক্ষতা (Learning: Knowledge and Skills)

শিক্ষণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও পরিবেশের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে নতুন জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ ও মনোভাব অর্জন করে। শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ফল হল জ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার দক্ষতা তৈরি করা। জ্ঞান ও দক্ষতা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

জ্ঞান (Knowledge)

জ্ঞান বলতে কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য, ধারণা, নিয়ম, নীতি, ঘটনা ও অর্থ সম্পর্কে জানা বা বোঝাকে বোঝায়। শিক্ষার্থী পড়াশোনা, পর্যবেক্ষণ, আলোচনা, অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে। যেমন: গণিতের সূত্র জানা, বিজ্ঞানের কোনো নিয়ম বোঝা, ইতিহাসের ঘটনা জানা, ব্যাকরণের নিয়ম জানা ইত্যাদি জ্ঞানের উদাহরণ। জ্ঞান শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি ও বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন বিষয় শেখার ভিত্তি তৈরি করে।

দক্ষতা (Skills)

দক্ষতা হল অর্জিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর ক্ষমতা। শুধু কোনো বিষয় সম্পর্কে জানা যথেষ্ট নয়; সেই জ্ঞানকে বাস্তব পরিস্থিতিতে ব্যবহার করতে পারাও জরুরি। নিয়মিত অনুশীলন, অভিজ্ঞতা ও কার্যসম্পাদনের মাধ্যমে দক্ষতা গড়ে ওঠে। যেমন: গণিতের সূত্র জানা হল জ্ঞান, কিন্তু সেই সূত্র ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করা হল দক্ষতা। একইভাবে বিজ্ঞান সম্পর্কে জানা জ্ঞান, কিন্তু পরীক্ষাগারে সঠিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করা একটি দক্ষতা।

দক্ষতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন: লেখার দক্ষতা, পড়ার দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা।

জ্ঞান ও দক্ষতার সম্পর্ক

জ্ঞান ও দক্ষতা পরস্পরের পরিপূরক। জ্ঞান শিক্ষার্থীকে কী করতে হবে তা বুঝতে সাহায্য করে, আর দক্ষতা তাকে কীভাবে করতে হবে তা শেখায়। জ্ঞান অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতায় রূপান্তরিত হয়। তাই কার্যকর শিক্ষণের ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তার বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সহজভাবে: শিক্ষণ → জ্ঞান অর্জন → অনুশীলন → দক্ষতার বিকাশ → বাস্তব প্রয়োগ

সুতরাং, শিক্ষণের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে যখন শিক্ষার্থী অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে।

শেখা বা Learning মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। জন্মের পর থেকেই মানুষ তার পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, পরিবেশ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন বিষয় শিখতে থাকে। শেখার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ, অভ্যাস, মনোভাব ও মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী একইভাবে শেখে না। কেউ দেখে ভালো শেখে, কেউ শুনে, কেউ নিজে কাজ করে, আবার কেউ আলোচনা, অনুশীলন বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দ্রুত শেখে।

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষামনোবিজ্ঞানীরা শেখার বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন। থর্নডাইক, পাভলভ, স্কিনার, কোহলার, বান্দুরা, পিয়াজে, ভিগোৎস্কি, ডিউই, ব্রুনার ও কোল্ব-এর মতো চিন্তাবিদদের ধারণা শেখার বিভিন্ন দিক বুঝতে সাহায্য করে। আধুনিক শিক্ষায় তাই একটিমাত্র পদ্ধতির পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়।

১. পর্যবেক্ষণ মাধ্যমে শেখা (Learning through Observation)

Bandura-এর Social Learning Theory/Observational Learning অনুযায়ী মানুষ অন্যের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে শিখতে পারে এবং পরে সেই আচরণ model বা imitate করতে পারে। তাঁর মডেলিং প্রক্রিয়ায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে: মনোযোগ (Attention) → সংরক্ষণ/স্মরণ (Retention) → পুনরুৎপাদন (Reproduction) → প্রেরণা (Motivation)

শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীরা শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ model হতে পারেন। যেমন, শিক্ষক নিয়মিত সময়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল আচরণ করলে শিক্ষার্থীরা তা পর্যবেক্ষণ করে অনুকরণ করতে পারে। তবে শুধু দেখা বা অনুকরণ করলেই শিক্ষণ সম্পূর্ণ হয় না; মনোযোগ, স্মরণ, আচরণটি সম্পাদনের ক্ষমতা এবং প্রেরণাও গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী শিক্ষককে বিজ্ঞান পরীক্ষা সঠিকভাবে করতে দেখে এবং পরে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজে পরীক্ষাটি সম্পন্ন করে।

২. চেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শেখা (Learning by Trial and Error)

কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বারবার বিভিন্ন পদ্ধতি চেষ্টা করতে করতে সঠিক পদ্ধতি খুঁজে পাওয়াকে চেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে শেখা বলা হয়।

এডওয়ার্ড এল. থর্নডাইক (Edward L. Thorndike) প্রাণীর উপর পরীক্ষার মাধ্যমে এই ধরনের শিক্ষণের ব্যাখ্যা দেন। তাঁর Trial and Error Theory অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সফল প্রতিক্রিয়াটি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়।

থর্নডাইকের Law of Effect অনুসারে, যে আচরণের ফল সন্তোষজনক হয়, সেই আচরণ ভবিষ্যতে পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

উদাহরণ: একটি শিশু সাইকেল চালানোর সময় বারবার ভারসাম্য হারিয়ে শেষে সঠিকভাবে চালানো শিখতে পারে।

৩.অনুবর্তনের মাধ্যমে শেখা (Learning through Conditioning)

অনুবর্তনের মাধ্যমে শেখা বলতে এমন একটি শিক্ষণ-প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যেখানে উদ্দীপক (Stimulus) ও প্রতিক্রিয়ার (Response)-এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তার ফলে ব্যক্তির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের প্রভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা উদ্দীপকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া যুক্ত হতে পারে।

a) ইভান পাভলভ (Ivan Pavlov)-এর Classical Conditioning Theory অনুবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা। তাঁর বিখ্যাত পরীক্ষায় দেখা যায়, খাদ্য দেখলে স্বাভাবিকভাবে কুকুরের লালা নিঃসরণ হয়। পরে খাদ্যের সঙ্গে ঘণ্টার শব্দকে বারবার যুক্ত করার ফলে কুকুরটি শুধু ঘণ্টার শব্দ শুনেও লালা নিঃসরণ করতে শুরু করে। অর্থাৎ, আগে নিরপেক্ষ একটি উদ্দীপক ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধারণা থেকে বোঝা যায় যে শিক্ষার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও আবেগ কোনো বিষয়ের প্রতি তার প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

উদাহরণ: কোনো শিক্ষার্থী যদি গণিতের ক্লাসে বারবার অপমান বা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা লাভ করে, তাহলে ধীরে ধীরে গণিতের ক্লাস বা বিষয়টির সঙ্গে ভয় ও উদ্বেগের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, শিক্ষক যদি গণিত শেখানোর সময় উৎসাহ, প্রশংসা ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরি করেন, তাহলে শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষয়টির প্রতি আগ্রহ ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠতে পারে।

b) বি. এফ. স্কিনার (B. F. Skinner)-এর Operant Conditioning Theory অনুযায়ী, আচরণের পরিণতি সেই আচরণের পুনরাবৃত্তিকে প্রভাবিত করে। পুরস্কার বা ইতিবাচক ফলাফল কোনো আচরণকে শক্তিশালী করতে পারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশংসা, উৎসাহ, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ করলে শিক্ষক তার প্রশংসা করলে শিক্ষার্থী ভবিষ্যতেও কাজটি করার জন্য উৎসাহিত হতে পারে।

৪. অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে শেখা (Learning by Insight)

গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন পরীক্ষার পর এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে শেখা সবসময় চেষ্টা ও ভুলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ঘটে না। অনেক সময় কোনো সমস্যার সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝতে পারার পর হঠাৎ তার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। এই ধরনের শেখাকে অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে শেখা (Learning by Insight) বলা হয়। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করার পর কোনো মুহূর্তে সমস্যার সমাধান হঠাৎ পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।

গেস্টাল্ট মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিক্ষার্থী কোনো সমস্যাকে তার বিভিন্ন অংশে আলাদা করে না দেখে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বা Whole হিসেবে বোঝার চেষ্টা করে। সমস্যার বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্পর্ক বুঝতে পারলেই হঠাৎ সমাধানের পথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই এই মতবাদকে সমগ্রতাবাদী বা ক্ষেত্রতত্ত্ব (Field Theory)-এর সঙ্গেও যুক্ত করা হয়। 

উদাহরণ: আর্কিমিডিসের বিখ্যাত “Eureka” ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যায়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, স্নানের সময় আর্কিমিডিস হঠাৎ একটি সমস্যার সমাধানের ধারণা পান এবং আনন্দে “Eureka” বা “পেয়ে গেছি” বলে উঠেছিলেন। এটি অন্তর্দৃষ্টির একটি প্রচলিত উদাহরণ হিসেবে শিক্ষামনোবিজ্ঞানে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্ব: অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে শেখা শিক্ষার্থীর যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়। তাই শিক্ষককে সব সমস্যার সরাসরি উত্তর না দিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার, প্রশ্ন করার এবং নিজেরা সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী একটি গণিতের সমস্যা প্রথমে বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণ বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র নিয়ে চিন্তা করার পর হঠাৎ সে বুঝতে পারে কোন সূত্র ব্যবহার করলে সমস্যাটি সমাধান হবে। এই হঠাৎ সমাধান উপলব্ধিই অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে শেখা

১. পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ→ ২. সমস্যা সম্পর্কে চিন্তা → ৩. মানসিক পুনর্গঠন → ৪. হঠাৎ সমাধান উপলব্ধি: → ৫. সমাধানের প্রয়োগ → শেখা

৫. আবিষ্কারের মাধ্যমে শেখা (Learning by Discovery)

Learning by Discovery বা আবিষ্কারের মাধ্যমে শেখা হল এমন একটি শিক্ষণ-পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষার্থী শিক্ষক কর্তৃক সরাসরি উত্তর গ্রহণ না করে নিজের পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান, প্রশ্ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিন্তার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান বা ধারণা আবিষ্কার করে।

এই পদ্ধতির সঙ্গে জেরোম এস. ব্রুনার (Jerome S. Bruner)-এর নাম বিশেষভাবে যুক্ত। ব্রুনার শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিজে অনুসন্ধান করে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

  1. শিক্ষার্থী সক্রিয় থাকে — সে নিজে প্রশ্ন করে, অনুসন্ধান করে ও তথ্য সংগ্রহ করে।
  2. শিক্ষক সহায়কের ভূমিকা পালন করেন — শিক্ষক সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
  3. অনুসন্ধান ও পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ — শিক্ষার্থী বিভিন্ন তথ্য ও পরিস্থিতি পরীক্ষা করে।
  4. পূর্বজ্ঞান ব্যবহার করা হয় — পুরোনো জ্ঞানের সঙ্গে নতুন তথ্যের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
  5. সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় — শিক্ষার্থী নিজে সমাধানের পথ খুঁজে বের করে।
  6. সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে — নতুনভাবে চিন্তা ও প্রশ্ন করার সুযোগ পাওয়া যায়।
  7. শেখা অর্থবহ হয় — নিজে আবিষ্কার করা বিষয় শিক্ষার্থীর কাছে বেশি অর্থপূর্ণ হতে পারে।

উদাহরণ: শিক্ষক সরাসরি না বলে যে “লোহার বস্তু জলে ডুবে যায় এবং কিছু হালকা বস্তু ভাসে”, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বস্তু জলে ফেলতে দেন। শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণ করে কোন বস্তু ভাসছে এবং কোনটি ডুবে যাচ্ছে তা নোট করে। পরে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি ধারণায় পৌঁছায়। এটাই Learning by Discovery-এর উদাহরণ।

শিক্ষকের ভূমিকা: পরিকল্পনাকারী → নির্দেশক → সহায়ক → প্রশ্নকারী → Feedback প্রদানকারী

শিক্ষার্থীর ভূমিকা: প্রশ্ন করা → অনুসন্ধান → পর্যবেক্ষণ → পরীক্ষা → বিশ্লেষণ → সিদ্ধান্ত → জ্ঞান অর্জন

৬. সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শেখা (Learning through Problem Solving)

বাস্তব বা শিক্ষামূলক সমস্যা বিশ্লেষণ করে তার সমাধান খোঁজার মাধ্যমে শেখাকে সমস্যা-সমাধানভিত্তিক শিক্ষণ বলা হয়। জন ডিউই শিক্ষায় সমস্যা, চিন্তা ও অনুসন্ধানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো বাস্তব সমস্যা শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপন করলে সে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, যুক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এই পদ্ধতিতে শুধু জ্ঞান নয়, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।

৭. কাজের মাধ্যমে শেখা (Learning by Doing)

শুধু বই পড়া বা শিক্ষকের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে নিজে কাজ করে শেখাকে কাজের মাধ্যমে শেখা বলা হয়। জন ডিউই (John Dewey) শিক্ষায় অভিজ্ঞতা ও কার্যকলাপের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর শিক্ষাদর্শনে শিক্ষার্থীকে বাস্তব কাজ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ: বিজ্ঞান বইয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্পর্কে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী নিজে একটি গাছ লাগিয়ে তার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করলে শেখা আরও অর্থবহ হয়।

 

৮. গঠনবাদী শিক্ষণ (Constructivist Learning)

গঠনবাদী শিক্ষণ বা নির্মিতিবাদী শিক্ষণ (Constructivist Learning) হল এমন একটি শিক্ষণ-দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শিক্ষার্থীকে শুধু শিক্ষক বা বই থেকে জ্ঞান গ্রহণকারী হিসেবে দেখা হয় না। বরং শিক্ষার্থী তার পূর্বজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, চিন্তা, পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে নিজের জ্ঞান নির্মাণ করে।

নির্মিতিবাদ অনুযায়ী, জ্ঞান সরাসরি শিক্ষার্থীর মনে প্রদান করা যায় না। শিক্ষার্থী নতুন তথ্যকে তার পূর্ববর্তী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে নিজেই অর্থপূর্ণ জ্ঞান তৈরি করে। তাই এখানে শিক্ষার্থী হল সক্রিয় জ্ঞান-নির্মাতা, আর শিক্ষক হলেন সহায়ক, নির্দেশক ও পরিবেশ-সৃষ্টিকারী

সহজ সূত্র: পূর্বজ্ঞান + নতুন অভিজ্ঞতা → চিন্তা/মিথস্ক্রিয়া → জ্ঞান নির্মাণ

নির্মিতিবাদের প্রধান দুটি ধারা

গঠনবাদ বা নির্মিতিবাদ (Constructivism)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল-

  1. জ্ঞানীয় নির্মিতিবাদ (Cognitive Constructivism)
  2. সামাজিক নির্মিতিবাদ (Social Constructivism)

১. জ্ঞানীয় নির্মিতিবাদ (Cognitive Constructivism)

জ্ঞানীয় নির্মিতিবাদে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত চিন্তা, পূর্বজ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানীয় বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী পরিবেশের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে মিথস্ক্রিয়া করে এবং নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জ্ঞান নির্মাণ করে। এই মতবাদের সঙ্গে জ্যঁ পিয়াজে (Jean Piaget)-এর নাম বিশেষভাবে যুক্ত।

পিয়াজের মতে, শিশু একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী। সে নিজের অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের জ্ঞান গড়ে তোলে। নতুন অভিজ্ঞতা তার পূর্ববর্তী জ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে জ্ঞান আরও সুসংগঠিত হয়; আবার নতুন অভিজ্ঞতা পূর্বধারণার সঙ্গে না মিললে তার জ্ঞানীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আসে।

পিয়াজের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা

  • ১. Assimilation (আত্তীকরণ): নতুন অভিজ্ঞতাকে পূর্বে থাকা জ্ঞান বা মানসিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা।
  • ২. Accommodation (অভিযোজন/পরিবর্তন): নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পূর্বের জ্ঞান বা মানসিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা।
  • ৩. Equilibration (সাম্যায়ন): নতুন অভিজ্ঞতা ও পূর্বজ্ঞানকে সমন্বয় করে একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করা।

উদাহরণ: একটি শিশু জানে যে পাখির ডানা থাকে এবং পাখি উড়তে পারে। পরে সে বাদুড় দেখে প্রথমে সেটিকে পাখি মনে করতে পারে। পরে বাদুড়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পেরে সে বুঝতে পারে যে বাদুড় পাখি নয়। নতুন অভিজ্ঞতার ফলে তার পূর্বধারণার পরিবর্তন ঘটে।

২. সামাজিক নির্মিতিবাদ (Social Constructivism)

সামাজিক নির্মিতিবাদে বলা হয় যে জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগতভাবে তৈরি হয় না; বরং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, সংস্কৃতি এবং অন্যের(more knowledgeable person) সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান নির্মাণ হয়। এই মতবাদের সঙ্গে লেভ ভিগোৎস্কি (Lev Vygotsky)-এর নাম বিশেষভাবে যুক্ত।

ভিগোৎস্কির মতে, শিক্ষার্থীর শেখার ক্ষেত্রে সমাজ ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক, সহপাঠী বা দক্ষ ব্যক্তির সাহায্যে শিক্ষার্থী এমন কিছু শিখতে পারে যা সে একা হয়তো সম্পূর্ণভাবে করতে পারত না।

সামাজিক নির্মিতিবাদের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা

  • ১. Zone of Proximal Development (ZPD):  ZPD হল এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে শিক্ষার্থী একা কোনো কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলেও উপযুক্ত সহায়তা পেলে কাজটি করতে পারে।
  • ২. Scaffolding: শিক্ষার্থী কোনো কাজ শেখার সময় শিক্ষক বা দক্ষ ব্যক্তির কাছ থেকে যে অস্থায়ী সহায়তা ও নির্দেশনা পায়, তাকে Scaffolding বলা হয়। শিক্ষার্থী দক্ষ হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে এই সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী একটি গণিতের সমস্যা একা সমাধান করতে পারছে না। শিক্ষক প্রথমে তাকে সূত্রের ইঙ্গিত দেন, তারপর প্রথম ধাপটি বুঝিয়ে দেন। এরপর শিক্ষার্থী নিজে পরবর্তী ধাপগুলি সম্পন্ন করে সমস্যার সমাধান করে। এটি সামাজিক নির্মিতিবাদের একটি উদাহরণ।

 

১. শিক্ষণের অর্থ ও সংজ্ঞা (Meaning of Teaching)

শিক্ষণ হল একটি পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যমূলক, সক্রিয়, ধারাবাহিক ও পারস্পরিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীর শিখনকে উদ্দীপিত, নির্দেশিত, পরিচালিত ও উৎসাহিত করেন। সাধারণ অর্থে শিক্ষণ বলতে শিক্ষার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান, দক্ষতা, অভ্যাস, মূল্যবোধ ও মনোভাব অর্জনে সাহায্য করাকে বোঝায়। তবে শিক্ষণকে শুধু শিক্ষক কর্তৃক তথ্য বা জ্ঞান প্রদান হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থ সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায় না। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থী নিজেও শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

Burton (1963)-এর সংজ্ঞা

“Teaching is the stimulation, guidance, direction and encouragement of learning.” অর্থাৎ, শিক্ষণ হল শিখনকে উদ্দীপিত করা, পথনির্দেশ করা, পরিচালনা করা এবং উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া।

এই সংজ্ঞা থেকে বোঝা যায় যে শিক্ষক শুধু জ্ঞান প্রদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীকে শেখার জন্য উৎসাহিত করেন, সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

B. O. Smith-এর মতে, শিক্ষণ হল এমন একটি প্রচেষ্টা, যা একটি নির্দিষ্ট ধরনের বা গুণের learning ঘটানোর দিকে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ শিক্ষণের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। শিক্ষক সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীর শিখনকে সহজ ও কার্যকর করে তোলেন।

Ned A. Flanders (1970) শিক্ষণকে একটি “interactive process” বা পারস্পরিক ক্রিয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষক বক্তব্য দেন, প্রশ্ন করেন ও নির্দেশনা দেন; অন্যদিকে শিক্ষার্থী উত্তর দেয়, প্রশ্ন করে, মতামত প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এই পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমেই শিক্ষণের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।

W. R. Ryburn (1946) শিক্ষণের মধ্যে শিশুর আবেগের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষণ শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বিষয় নয়; শিক্ষার্থীর আবেগ, অনুভূতি ও ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশও শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

সুতরাং, শিক্ষণকে একটি একমুখী প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যায় না। শিক্ষক যেমন শিক্ষার্থীর শিখনকে প্রভাবিত করেন, তেমনই শিক্ষার্থীর প্রশ্ন, উত্তর, আচরণ, সমস্যা ও Feedback শিক্ষকের পরবর্তী শিক্ষণকে প্রভাবিত করে।

২. ভালো শিক্ষণের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Good Teaching)

ভালো শিক্ষণ হল এমন একটি শিক্ষণ-প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী শুধু তথ্য মুখস্থ করে না, বরং বিষয়কে বুঝতে, প্রয়োগ করতে, প্রশ্ন করতে, চিন্তা করতে এবং বাস্তব জীবনে ব্যবহার করতে শেখে। ভালো শিক্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল শিক্ষার্থীর শিখন ও বিকাশ। আপনার প্রদত্ত বইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী শিক্ষককে শুধুমাত্র instructor বা task master হিসেবে না দেখে helper and guide হিসেবে কাজ করতে হয়।

ভালো শিক্ষণের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  • ১. শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক – ভালো শিক্ষণে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন, আগ্রহ, পূর্বজ্ঞান, ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষক শুধু বক্তৃতা দেন না; শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন।
  • ২. সক্রিয় প্রক্রিয়া – শিক্ষণ তখনই কার্যকর হয় যখন শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রশ্ন করা, আলোচনা, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমস্যা সমাধান ও দলগত কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে শেখে।
  • ৩. উদ্দেশ্যমূলক – ভালো শিক্ষণের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। পাঠ শুরু করার আগে শিক্ষক কী শেখাবেন এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ শেষে কী শিখবে তা নির্ধারণ করেন।
  • ৪. সহজ ও স্পষ্ট – শিক্ষককে কঠিন বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হয়। উপযুক্ত উদাহরণ, চার্ট, ছবি, মডেল, বাস্তব বস্তু ও প্রযুক্তির সাহায্যে বিষয়কে স্পষ্ট করা যায়।
  • ৫. যোগাযোগনির্ভর – শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ভালো শিক্ষণের অন্যতম শর্ত। শিক্ষার্থী যাতে নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে এবং নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে, শিক্ষককে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হয়।
  • ৬. ব্যক্তিগত পার্থক্যের স্বীকৃতি – সব শিক্ষার্থী একই গতিতে বা একই পদ্ধতিতে শেখে না। কারও শেখার গতি বেশি, কারও কম; কারও ভাষাগত দক্ষতা বেশি, আবার কারও ব্যবহারিক দক্ষতা বেশি। তাই শিক্ষককে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পার্থক্য অনুযায়ী শিক্ষণ -পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হয়।
  • ৭. অর্থবহ – নতুন জ্ঞানকে শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করলে শিক্ষণ অর্থবহ হয়। এতে শিক্ষার্থী শেখা বিষয়ের ব্যবহারিক গুরুত্ব বুঝতে পারে।
  • ৮. মূল্যায়ননির্ভর – ভালো শিক্ষণে শুধু পাঠদান করলেই কাজ শেষ হয় না। শিক্ষার্থী কতটা শিখেছে তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হয়।
  • ৯. Feedback নির্ভর – শিক্ষার্থীর ভুল ও দুর্বলতা শনাক্ত করে উপযুক্ত Feedback দিতে হয়। Feedback শিক্ষার্থীকে ভুল সংশোধন করতে এবং আরও ভালোভাবে শিখতে সাহায্য করে।
  • ১০. সৃজনশীল – ভালো শিক্ষণ শিক্ষার্থীর চিন্তা, কল্পনা, যুক্তি, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
  • ১১. পরিবর্তনশীল ও গতিশীল – সমাজ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষণ-পদ্ধতিও পরিবর্তিত হওয়া প্রয়োজন।
  • ১২. আনন্দদায়ক – ভালো শিক্ষণ শিক্ষার্থীর মধ্যে শেখার আনন্দ, আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। ভয়ভিত্তিক শিক্ষণের পরিবর্তে সহযোগিতামূলক পরিবেশ শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে।
  • ১৩. পেশাগত – শিক্ষণ একটি পেশা। তাই একজন ভালো শিক্ষকের বিষয়জ্ঞান, শিক্ষণ-পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, মূল্যায়ন এবং যোগাযোগ দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।
  • ১৪. শিক্ষার্থীর স্বাধীন চিন্তাকে উৎসাহিত করে – ভালো শিক্ষক সব প্রশ্নের উত্তর নিজে বলে দেন না; বরং শিক্ষার্থীকে নিজে চিন্তা করে উত্তর খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দেন। এতে স্বাধীন চিন্তা ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।

৩. শিক্ষণ ও শিখনের সম্পর্ক (Relationship of Teaching with Learning)

শিক্ষণ ও শিখন শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার দুটি অবিচ্ছেদ্য এবং পরস্পর-সম্পর্কিত দিক। শিক্ষণ হল শেখার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া, আর শিখন হল সেই সুযোগ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব ও আচরণে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন ঘটার প্রক্রিয়া।

শিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হল কার্যকর শিখন সৃষ্টি করা। একজন শিক্ষক যত ভালোভাবে পাঠদান করুন না কেন, যদি শিক্ষার্থীর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত শিখন না ঘটে, তাহলে সেই শিক্ষণ সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলা যায় না।

শিক্ষণ ও শিখনের সম্পর্ক:

  • i. শিক্ষণ সক্রিয় শিখনকে নিশ্চিত করে।
  • ii. শিক্ষণ শিখনের বিষয়কে স্পষ্ট করে তোলে।
  • iii. শিক্ষণ শিখনকে অর্থবহ করে তোলে।
  • iv. শিক্ষণ শিখনে দৃঢ়তা সৃষ্টি করে।

(i) সক্রিয় শিখন নিশ্চিত করা (Ensuring Active Learning)

শিক্ষার্থীর শিখনে সক্রিয়তা যত বাড়ে, শেখার প্রতি তার আগ্রহ ও আনন্দ তত বৃদ্ধি পায়। তাই শিক্ষককে শুধু বক্তৃতা দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

শিক্ষক-

  • শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করতে পারেন;
  • সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিতে পারেন;
  • আলোচনা ও বিতর্কের ব্যবস্থা করতে পারেন;
  • পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিতে পারেন;
  • চিন্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

এর ফলে শিক্ষার্থী শুধু শ্রোতা না হয়ে সক্রিয় শিক্ষার্থী হয়ে ওঠে।

(ii) শিখনের বিষয় স্পষ্ট করা (Ensuring Clarity)

শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে না পারলে প্রকৃত শিখন ঘটে না। তাই শিক্ষককে নতুন ধারণা সহজভাবে উপস্থাপন করতে হয়।

বিষয়কে স্পষ্ট করার জন্য শিক্ষক:

  • সহজ ভাষা ব্যবহার করবেন;
  • উপযুক্ত উদাহরণ দেবেন;
  • পূর্বজ্ঞান থেকে নতুন জ্ঞানে নিয়ে যাবেন;
  • ছবি, চার্ট, মডেল ও অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করবেন;
  • শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

এর ফলে শিক্ষার্থীর ধারণা পরিষ্কার হয় এবং বিভিন্ন ধারণার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা সহজ হয়।

(iii) শিক্ষণকে অর্থবহ করা (Making Teaching Meaningful)

শিক্ষার্থীর কাছে কোনো বিষয় তখনই অর্থবহ হয় যখন সে বুঝতে পারে যে বিষয়টি তার জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শিক্ষককে পাঠ্য বিষয়কে শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, শুধু “বাষ্পীভবন”-এর সংজ্ঞা মুখস্থ না করিয়ে ভেজা কাপড় শুকিয়ে যাওয়া, রোদে জল শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বাস্তব ঘটনা দিয়ে বিষয়টি বোঝালে শিক্ষার্থীর কাছে শিখন অর্থবহ হয়ে ওঠে।

(iv) শিখনে দৃঢ়তা সৃষ্টি করা (Ensuring Mastery)

শিক্ষার্থী কোনো বিষয় সত্যিই আয়ত্ত করেছে কি না তা নিশ্চিত করাও শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু পাঠ শেষ করলেই শিক্ষণ সফল হয় না। শিক্ষার্থী বিষয়টি বুঝেছে কি না, প্রয়োগ করতে পারছে কি না এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা শিক্ষককে জানতে হয়।

এর জন্য শিক্ষক:

  • শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন;
  • নিয়মিত মূল্যায়ন করবেন;
  • Formative Evaluation ব্যবহার করবেন;
  • Feedback প্রদান করবেন;
  • প্রয়োজনে পুনরায় শিক্ষণ করবেন।

এভাবে দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করা যায় এবং শিখনে দৃঢ়তা সৃষ্টি হয়।

৪. শিক্ষণ ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক (Relationship of Teaching with Learner)

শিক্ষার্থী হল শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শিক্ষকের শিক্ষণ তখনই সফল হয় যখন শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে সেই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক একমুখী নয়; এটি দ্বিমুখী, পারস্পরিক ও সহযোগিতামূলক

(i) ব্যক্তিগত পার্থক্য স্বীকার করা (Recognising Individual Difference)

একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগীয়, সামাজিক ও ভাষাগত পার্থক্য থাকতে পারে। কারও শেখার গতি দ্রুত, আবার কারও শেখার জন্য বেশি সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। কেউ দেখে ভালো শেখে, কেউ শুনে এবং কেউ কাজ করে বেশি ভালো শেখে। তাই শিক্ষককে বুঝতে হবে যে সব শিক্ষার্থী একইভাবে শেখে না।

এই কারণে শিক্ষককে:

(ক) শিক্ষার্থীকে নিজের গতিতে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে;
(খ) প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার নিজের মতো করে শেখার সুযোগ দিতে হবে;
(গ) বিভিন্ন শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করতে হবে।

এভাবে ব্যক্তিগত পার্থক্যকে সম্মান করে শিক্ষণ পরিচালনা করা যায়।

(২) শিক্ষার্থীর বিকাশের প্রতি যত্ন নেওয়া (Nursing Students)

আপনার প্রদত্ত বইয়ে Nursing students point name ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের যত্ন, সহায়তা ও নির্দেশনার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। শিক্ষককে শিক্ষার্থীর শুধুমাত্র পড়াশোনার দিকে নজর দিলেই হবে না; তার মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিকাশের দিকেও যত্নশীল হতে হবে।

শিক্ষক;

  • শিক্ষার্থীর সমস্যা বুঝবেন;
  • প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন;
  • বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে পথ দেখাবেন;
  • শিক্ষার্থীকে নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেবেন;
  • শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে উৎসাহ দেবেন।

এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

(iii) শিক্ষণকে অর্থবহ করা (Making Teaching Meaningful)

শিক্ষার্থীর কাছে শেখা বিষয়কে অর্থবহ করে তোলা শিক্ষকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করালে শিক্ষার্থী দ্রুত তা ভুলে যেতে পারে। কিন্তু নতুন বিষয়কে পূর্বজ্ঞান, বাস্তব জীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করলে শিক্ষার্থী বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে পারে।

তাই শিক্ষককে:

  • শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান ব্যবহার করতে হবে;
  • বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিতে হবে;
  • দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাঠের সম্পর্ক দেখাতে হবে;
  • শিক্ষার ব্যবহারিক গুরুত্ব বোঝাতে হবে।

এতে শিক্ষার্থী বুঝতে পারে “আমি কেন এই বিষয়টি শিখছি?”

(৪) শিখনে দৃঢ়তা সৃষ্টি করা (Ensuring Mastery)

শিক্ষার্থীর শিখন কতটা হয়েছে তা শিক্ষককে নিয়মিত যাচাই করতে হবে। শুধু পরীক্ষার সময় মূল্যায়ন করলেই হবে না; শিক্ষণ চলাকালীনও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এর জন্য:

  • Formative Evaluation,
  • প্রশ্নোত্তর,
  • শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম,
  • মৌখিক উত্তর,
  • লিখিত কাজ,
  • সমস্যা সমাধান,
  • Feedback

ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। শিক্ষার্থী কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে শিক্ষককে পুনরায় ব্যাখ্যা করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর দুর্বলতা কমে এবং শিখনে দৃঢ়তা আসে।

(v) শিখনের বিকাশ (Development of Learning)

শিখন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তাই শিক্ষকের কাজ শুধু একটি পাঠ শেষ করা নয়; শিক্ষার্থীর শিখনের ধারাবাহিক উন্নতি ঘটানো।

শিক্ষক শিক্ষার্থীর:

  • অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন;
  • ভুল শনাক্ত করবেন;
  • কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা বুঝবেন;
  • উপযুক্ত Feedback দেবেন;
  • প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেবেন;
  • পরবর্তী শিক্ষণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করবেন।

এইভাবে শিক্ষক শিক্ষার্থীর শিখনের ক্রমাগত বিকাশে সহায়তা করেন।

শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষণ

Recognising Individual Difference

Nursing Students

Making Teaching Meaningful

Ensuring Mastery

Development of Learning

 

Scroll to Top