Unit-5 : ICT in Education (Class-9 hours)
21st Century Skills
Meaning & Scope of ICT
History and evolution of ICT
ICT and Teaching-Learning Process — Computer Literacy, Computer Aided Learning.
Meaning & Scope of ICT
শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT): অর্থ ও পরিধি
ভূমিকা
একবিংশ শতাব্দী তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। শিক্ষাক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যা শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (Information and Communication Technology – ICT) আজ শিক্ষাব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই জ্ঞান আহরণ, বিনিময় ও প্রয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) থেকে শুরু করে D.El.Ed পাঠ্যক্রম পর্যন্ত—সর্বত্রই ICT-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ-সহায়ক উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ICT-এর অর্থ (Meaning of ICT)
ICT বা Information and Communication Technology বলতে সেই সকল প্রযুক্তিগত উপকরণ ও প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যেগুলি তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, প্রেরণ ও বিনিময়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, স্মার্টবোর্ড, প্রজেক্টর, শিক্ষামূলক সফটওয়্যার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি।
UNESCO-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ICT হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যা তথ্য সৃষ্টি, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং যা শিক্ষা, প্রশাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অধিকতর কার্যকর করে তোলে।
শিক্ষায় ICT বলতে বোঝায় শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর, আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ করে তোলার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার—যেমন মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা, অনলাইন শিক্ষা, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদির মাধ্যমে জ্ঞান আদান-প্রদান।
সহজ কথায়, ICT হলো শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের সেই আধুনিক মাধ্যম, যা প্রথাগত মুখস্থনির্ভর ও পাঠ্যপুস্তক-কেন্দ্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে দৃশ্য-শ্রাব্য, ইন্টারঅ্যাক্টিভ ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষণ পরিবেশ তৈরি করে।
ICT-এর প্রকৃতি (Nature of ICT)
- গতিশীল ও পরিবর্তনশীল: প্রযুক্তি ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, তাই ICT-ও একটি চলমান ও বিকাশমান ক্ষেত্র।
- আন্তঃবিষয়ক: এটি কম্পিউটার বিজ্ঞান, যোগাযোগ বিজ্ঞান ও শিক্ষাবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গঠিত।
- শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক: এটি একমুখী শিক্ষণের পরিবর্তে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও স্বনির্ভর শিক্ষাকে উৎসাহিত করে।
- বহুমাধ্যমিক (Multimedia-based): পাঠ্য, ছবি, শব্দ, ভিডিও—সব মাধ্যমের সমন্বয়ে জ্ঞান উপস্থাপন করে।
- সার্বজনীন প্রবেশাধিকার: ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।
ICT-এর পরিধি (Scope of ICT in Education)
শিক্ষাক্ষেত্রে ICT-এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং তা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে বিস্তৃত—
১. শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ায়
শ্রেণিকক্ষে স্মার্টবোর্ড, প্রজেক্টর, শিক্ষামূলক ভিডিও ও অ্যানিমেশনের মাধ্যমে বিমূর্ত ধারণা সহজবোধ্য করে তোলা যায়। DIKSHA (Digital Infrastructure for Knowledge Sharing) প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বিষয়ের ই-কন্টেন্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য উপলব্ধ।
২. দূরশিক্ষণ ও মুক্ত শিক্ষায় (Distance and Open Learning)
SWAYAM ও SWAYAM PRABHA (শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। IGNOU-এর মতো মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়ও ICT-নির্ভর দূরশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে।
৩. মূল্যায়ন পদ্ধতিতে
অনলাইন পরীক্ষা, স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল প্রশ্নব্যাংক ব্যবহার করে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা যায়।
৪. শিক্ষক প্রশিক্ষণে
NISHTHA (National Initiative for School Heads’ and Teachers’ Holistic Advancement) কর্মসূচির মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যা ভৌগোলিক দূরত্ব ও সময়ের সীমাবদ্ধতা দূর করে।
৫. প্রশাসনিক কাজে
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নথিভুক্তকরণ, ফলাফল প্রকাশ ও তথ্য সংরক্ষণে (যেমন UDISE+ তথ্যভাণ্ডার) ICT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬. সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক প্রযুক্তি (Assistive Technology)—যেমন স্ক্রিন রিডার, ব্রেইল ডিভাইস, শ্রবণ-সহায়ক যন্ত্র—তাদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা করে।
৭. গবেষণা ও জ্ঞান আহরণে
ইন্টারনেট, ডিজিটাল লাইব্রেরি (যেমন National Digital Library of India – NDLI) ও গবেষণা তথ্যভাণ্ডার শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিশ্বব্যাপী জ্ঞানভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার দেয়।
শিক্ষায় ICT-এর গুরুত্ব
১. এটি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয়, ইন্টারঅ্যাক্টিভ ও কার্যকর করে তোলে।
২. প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা শিক্ষাগত বৈষম্য হ্রাসে সহায়ক।
৩. স্বনির্ভর ও আজীবন শিক্ষার (Lifelong Learning) মানসিকতা গড়ে তোলে।
৪. শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বহুমুখী যোগাযোগ ও সহযোগিতামূলক শিক্ষা (Collaborative Learning) সহজতর করে।
৫. কোভিড-১৯ অতিমারির সময় প্রমাণিত হয়েছে যে সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও ICT-এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা সম্ভব।
চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা
তবে ভারতের প্রেক্ষাপটে ICT বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে—গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা, ডিজিটাল ডিভাইস ক্রয়ের আর্থিক অক্ষমতা (Digital Divide), শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি, এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতার ফলে শিক্ষার্থীর সামাজিক দক্ষতা হ্রাসের আশঙ্কা। এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় NEP 2020-এ “Digital Infrastructure” ও “National Educational Technology Forum (NETF)” গঠনের মাধ্যমে ICT-এর সুষম ও কার্যকর বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপসংহার
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ICT আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ, যার পরিধি শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মূল্যায়ন, প্রশাসন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত। একজন D.El.Ed শিক্ষার্থী তথা ভবিষ্যৎ শিক্ষক হিসেবে ICT-এর সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার রপ্ত করাই আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতির মূল চাবিকাঠি, যা ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গুণগত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।