CC-03 Unit 7: Children with Special Needs

Children with Special Needs (CWSN) বলতে এমন শিশুদের বোঝায়, যাদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সংবেদনগত, যোগাযোগগত, আচরণগত বা শেখার ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের প্রয়োজন রয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা, উপযোগী পরিবেশ, বিশেষ শিক্ষণ-পদ্ধতি বা শিক্ষাসামগ্রীর প্রয়োজন হতে পারে।

CWSN একটি বিস্তৃত ধারণা, যেখানে disability-এর পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ শিক্ষাগত বা developmental needs-ও বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে Children with Disabilities বলতে মূলত প্রতিবন্ধিতাযুক্ত শিশুদের বোঝায়।

CWSN-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে

  • (i) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু Visual Impairment
  • (ii) শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু Auditory Impairment
  • (iii) মৃদু মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা মৃদু বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা Mild Mental Retardation
  • (iv) অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু Orthopedically handicapped
  • Autism Spectrum Disorder-যুক্ত শিশু
  • Specific Learning Disabilities যেমন Dyslexia, Dysgraphia ইত্যাদি
  • Speech and Language difficulties-যুক্ত শিশু
  • Multiple Disabilities-যুক্ত শিশু
  • Developmental disabilities-যুক্ত শিশু
  • Gifted and talented children, যাদের শিক্ষাগত চাহিদা সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা হতে পারে

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু (Visual Impairment)

ভূমিকা:
দৃষ্টিশক্তি শিশুর শেখা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, চলাফেরা এবং বিভিন্ন কার্যকলাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দৃষ্টিশক্তির আংশিক বা সম্পূর্ণ সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিশু স্বাভাবিক পদ্ধতিতে শিক্ষাগ্রহণে অসুবিধার সম্মুখীন হলে তাকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়। উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি ও সহায়তা প্রদান করলে এই শিশুরাও সফলভাবে শিক্ষালাভ করতে পারে।

সংজ্ঞা:
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু বলতে সেইসব শিশুকে বোঝায় যাদের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে সীমিত হওয়ার কারণে পড়া, লেখা, বোর্ড দেখা, ছবি বা চার্ট পর্যবেক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে চলাফেরা এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কাজে অসুবিধা হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সাধারণত দুটি প্রধান ভাগে আলোচনা করা হয়:

  1. সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা (Blindness)
  2. স্বল্প দৃষ্টিশক্তি (Low Vision)

সনাক্তকরণ (Identification):
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিশুর আচরণ ও শেখার ধরন পর্যবেক্ষণ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। যেমন:

  1. বই বা খাতা চোখের খুব কাছে এনে পড়া।
  2. ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা দেখতে অসুবিধা হওয়া।
  3. পড়ার সময় চোখ কুঁচকে দেখা বা মাথা কাত করে রাখা।
  4. বারবার চোখ ঘষা বা চোখ দিয়ে অতিরিক্ত জল পড়া।
  5. আলোতে তাকাতে অসুবিধা বা অতিরিক্ত আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
  6. পড়া ও লেখার কাজে অস্বাভাবিক ধীরগতি।
  7. শ্রেণিকক্ষে চলাফেরা বা বাধা এড়াতে অসুবিধা।
  8. ছবি, মানচিত্র, চার্ট বা ছোট অক্ষরের লেখা বুঝতে সমস্যা।
  9. পরিচিত স্থান ছাড়া নতুন পরিবেশে চলাচলে অনিশ্চয়তা।

তবে শিক্ষক নিজে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার চিকিৎসাগত নির্ণয় করবেন না। সন্দেহ হলে শিশুকে উপযুক্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো উচিত।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ শিক্ষণ দক্ষতা:

  1. মৌখিক বর্ণনা: শিক্ষককে বোর্ডের লেখা, ছবি, চার্ট, মানচিত্র ও শ্রেণিকক্ষের কার্যকলাপ স্পষ্টভাবে মুখে বর্ণনা করতে হবে।
  2. ব্রেইল শিক্ষা: সম্পূর্ণ বা গুরুতর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর জন্য Braille পড়া ও লেখার সুযোগ দিতে হবে।
  3. অডিও উপকরণ: পাঠ্যবিষয় বোঝাতে অডিও বই, রেকর্ড করা পাঠ এবং মৌখিক নির্দেশনা ব্যবহার করা উচিত।
  4. স্পর্শনির্ভর উপকরণ: মডেল, বাস্তব বস্তু, উঁচু-নিচু চিত্র ও Tactile Materials ব্যবহার করতে হবে।
  5. বড় অক্ষরের ব্যবহার: Low Vision শিশুর জন্য Large Print বই ও উপযুক্ত আকারের শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা যেতে পারে।
  6. উপযুক্ত আসন: শিশুকে এমন স্থানে বসাতে হবে যেখানে তার অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।
  7. স্পষ্ট মৌখিক নির্দেশনা: শিক্ষককে শুধু ইশারা বা দৃশ্যনির্ভর নির্দেশ না দিয়ে পরিষ্কার মৌখিক নির্দেশ দিতে হবে।
  8. Orientation and Mobility: নিরাপদে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ে চলাফেরার দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে।
  9. অতিরিক্ত সময়: পড়া, লেখা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় দিতে হবে।
  10. সহপাঠীর সহযোগিতা: সহযোগিতামূলক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুকে শ্রেণিকক্ষের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যকলাপে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

উপসংহার:
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষা শুধুমাত্র ব্রেইল শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মৌখিক বর্ণনা, অডিও ও স্পর্শনির্ভর উপকরণ, Large Print, উপযুক্ত আসন, চলাফেরার প্রশিক্ষণ, অতিরিক্ত সময় এবং সহপাঠীর সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাকে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব। শিক্ষকের সংবেদনশীলতা ও উপযুক্ত শিক্ষণ দক্ষতা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর আত্মনির্ভরতা ও শিক্ষাগত সাফল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু Auditory Impairment

ভূমিকা:
শ্রবণশক্তি শিশুর ভাষা, কথা বলা, যোগাযোগ এবং শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রবণশক্তির আংশিক বা সম্পূর্ণ সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিশু অন্যের কথা শোনা, বুঝতে পারা এবং মৌখিকভাবে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হলে তাকে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়। উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি ও সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই শিশুদের শিক্ষায় সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

সংজ্ঞা:
শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু বলতে সেইসব শিশুকে বোঝায় যাদের শ্রবণশক্তি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে কমে যাওয়ার কারণে কথাবার্তা শোনা, মৌখিক নির্দেশ বোঝা, ভাষা অর্জন, কথা বলা এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষামূলক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে অসুবিধা হয়। শ্রবণপ্রতিবন্ধকতা সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়:

  1. বধিরতা (Deafness): শ্রবণশক্তির গুরুতর বা সম্পূর্ণ ক্ষতির কারণে সাধারণ মৌখিক কথোপকথন শুনতে বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হয়।
  2. স্বল্প শ্রবণশক্তি (Hard of Hearing): কিছুটা শ্রবণশক্তি অবশিষ্ট থাকে এবং শ্রবণযন্ত্র বা অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে কথাবার্তা বোঝা সম্ভব হতে পারে।

সনাক্তকরণ (Identification):
শিক্ষক শিশুর দৈনন্দিন আচরণ, যোগাযোগের ধরন এবং শ্রেণিকক্ষের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শ্রবণপ্রতিবন্ধকতার সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। যেমন:

  1. নাম ধরে ডাকলে বা মৌখিক নির্দেশ দিলে সাড়া না দেওয়া।
  2. শিক্ষক বা সহপাঠীর কথা বুঝতে বারবার বলতে বলা।
  3. কথা বলার সময় বক্তার মুখের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে তাকানো।
  4. ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে কথা বোঝার চেষ্টা করা।
  5. টেলিভিশন বা অডিওর শব্দ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জোরে রাখা।
  6. উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার বা ভাষার বিকাশে বয়স অনুযায়ী বিলম্ব দেখা দেওয়া।
  7. মৌখিক প্রশ্নের উত্তর দিতে অসুবিধা হওয়া।
  8. শ্রেণিকক্ষে মৌখিক নির্দেশ অনুসরণ করতে সমস্যা হওয়া।
  9. দলগত আলোচনা বা কথোপকথনে অংশগ্রহণে অনীহা বা অসুবিধা দেখা দেওয়া।
  10. বারবার ভুল বোঝাবুঝি বা অনুপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়া।

তবে শিক্ষক শুধুমাত্র আচরণ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। সন্দেহ হলে শিশুর শ্রবণশক্তি যথাযথ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।

শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ শিক্ষণ দক্ষতা:

  1. মুখোমুখি যোগাযোগ:
    শিক্ষককে শিশুর দিকে মুখ করে স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখা, পেছন ফিরে কথা বলা বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দ্রুত কথা বলা উচিত নয়।
  2. স্পষ্ট ও ধীর বক্তৃতা:
    সহজ শব্দ ব্যবহার করে স্বাভাবিক কিন্তু স্পষ্ট গতিতে কথা বলতে হবে। অত্যধিক জোরে চিৎকার না করে শব্দের উচ্চারণ পরিষ্কার রাখতে হবে।
  3. Visual Teaching:
    শ্রবণনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ছবি, চার্ট, পোস্টার, লিখিত নির্দেশ, ভিডিও, ডায়াগ্রাম এবং অন্যান্য দৃশ্যনির্ভর উপকরণ ব্যবহার করতে হবে।
  4. লিখিত নির্দেশ:
    গুরুত্বপূর্ণ মৌখিক নির্দেশ ও বিষয়বস্তু বোর্ডে বা লিখিতভাবে দিতে হবে। নতুন শব্দ ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা লিখে বোঝানো উচিত।
  5. Sign Language:
    প্রয়োজন অনুযায়ী Indian Sign Language বা শিশুর ব্যবহৃত উপযুক্ত সংকেতভাষা ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষক ও সহপাঠীদেরও মৌলিক সংকেতভাষা শেখানো যেতে পারে।
  6. Lip Reading সহায়তা:
    যেসব শিশু ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে কথা বোঝে, তাদের সামনে থেকে কথা বলতে হবে এবং মুখে পর্যাপ্ত আলো থাকতে হবে।
  7. শ্রেণিকক্ষের উপযুক্ত আসন:
    শিশুকে এমন স্থানে বসাতে হবে যেখান থেকে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মুখ সহজে দেখা যায়। আলো যেন বক্তার মুখে পড়ে এবং মুখ স্পষ্ট দেখা যায় তা নিশ্চিত করা দরকার।
  8. সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার:
    Hearing Aid, Cochlear Implant, FM/Assistive Listening System এবং অন্যান্য উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করতে হবে।
  9. পুনরাবৃত্তি ও যাচাই:
    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রয়োজনে পুনরায় ব্যাখ্যা করতে হবে এবং শিশু বিষয়টি বুঝেছে কি না তা প্রশ্ন করে যাচাই করতে হবে।
  10. Peer Support:
    সহপাঠীদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিশুকে দলগত কাজ, আলোচনা ও অন্যান্য শ্রেণিকক্ষ কার্যকলাপে যুক্ত করতে হবে।
  11. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা:
    শিশুর ভাষা, শব্দভাণ্ডার, উচ্চারণ এবং যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশে অতিরিক্ত অনুশীলনের সুযোগ দিতে হবে।
  12. ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ:
    শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুকে আলাদা বা অসহায় হিসেবে না দেখে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

উপসংহার:
শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো যোগাযোগের বাধা। তাই শিক্ষকের মুখোমুখি ও স্পষ্ট যোগাযোগ, লিখিত নির্দেশ, দৃশ্যনির্ভর উপকরণ, সংকেতভাষা, উপযুক্ত আসন, সহায়ক প্রযুক্তি, পুনরাবৃত্তি এবং সহপাঠীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত শিক্ষণ কৌশল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুও অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো কার্যকরভাবে শিক্ষালাভ করতে পারে।


মৃদু মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা মৃদু বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা Mild Mental Retardation

ভূমিকা:
বর্তমানে “Mental Retardation” শব্দটির পরিবর্তে “Intellectual Disability” বা “বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা” শব্দটি বেশি গ্রহণযোগ্য। বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা একটি বিকাশজনিত অবস্থা, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা এবং দৈনন্দিন অভিযোজনমূলক দক্ষতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা থাকে। AAIDD-এর বর্তমান সংজ্ঞা অনুযায়ী মূল্যায়নে বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা, অভিযোজনমূলক আচরণ এবং বিকাশকালীন সূচনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

সংজ্ঞা:
মৃদু বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বলতে বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা ও অভিযোজনমূলক দক্ষতায় তুলনামূলকভাবে মৃদু মাত্রার সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়। এর ফলে শিশুর শেখা, যুক্তি, সমস্যা সমাধান, ভাষা, পড়া, লেখা, গণিত, সামাজিক বিচারবোধ এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। তবে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে এই শিশুরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক, সামাজিক ও স্বনির্ভরতার দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

পুরনো শ্রেণিবিভাগে মৃদু বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতার সঙ্গে IQ প্রায় 50 থেকে 70-এর কাছাকাছি সীমা উল্লেখ করা হতো। তবে বর্তমানে শুধুমাত্র IQ-এর ভিত্তিতে মৃদু বা অন্য মাত্রার বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা নির্ধারণ করা যথেষ্ট নয়। অভিযোজনমূলক আচরণ এবং শিশুর প্রয়োজনীয় সহায়তার মাত্রাও বিবেচনা করা হয়।

সনাক্তকরণ (Identification):
শিক্ষক শিশুর আচরণ, শেখার গতি, ভাষা, সামাজিক আচরণ ও দৈনন্দিন কাজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। যেমন:

  1. একই বিষয় বুঝতে অন্যদের তুলনায় বেশি সময় লাগে।
  2. নতুন বিষয় শেখা এবং শেখা বিষয় মনে রাখতে অসুবিধা হয়।
  3. পড়া, লেখা ও সাধারণ গণিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সমস্যা দেখা যায়।
  4. জটিল নির্দেশ বুঝতে বা একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে অসুবিধা হয়।
  5. বিমূর্ত ধারণা, যুক্তি ও সমস্যা সমাধানে সমস্যা দেখা যায়।
  6. ভাষা ও যোগাযোগের বিকাশ তুলনামূলকভাবে ধীর হতে পারে।
  7. সামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে বা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হতে পারে।
  8. টাকা, সময়, পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
  9. সামাজিকভাবে কিছুটা অপরিণত আচরণ দেখা যেতে পারে।
  10. ব্যক্তিগত পরিচর্যা, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনের কিছু দক্ষতা শেখার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে শিক্ষক শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের আচরণ দেখে শিশুকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অক্ষম বলে চিহ্নিত করবেন না। যথাযথ মূল্যায়নের জন্য মানসম্মত বুদ্ধিবৃত্তিক ও অভিযোজনমূলক দক্ষতার পরীক্ষা, অভিভাবকের তথ্য এবং শিশুর বাস্তব জীবনের কার্যক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মৃদু বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা সম্পন্ন শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ শিক্ষণ দক্ষতা:

  1. সহজ ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার:
    শিক্ষককে ছোট বাক্য এবং সহজ শব্দ ব্যবহার করে পাঠ উপস্থাপন করতে হবে।
  2. ধাপে ধাপে শিক্ষা:
    একটি বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে শেখাতে হবে। প্রতিটি ধাপ আয়ত্ত করার পর পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
  3. পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলন:
    নতুন বিষয় বারবার ব্যাখ্যা ও অনুশীলনের সুযোগ দিতে হবে। এতে শেখা বিষয় দীর্ঘস্থায়ী হয়।
  4. Concrete থেকে Abstract পদ্ধতি:
    প্রথমে বাস্তব বস্তু, ছবি, মডেল ও দৈনন্দিন উদাহরণ ব্যবহার করে শেখাতে হবে। পরে ধীরে ধীরে বিমূর্ত ধারণায় নিয়ে যেতে হবে।
  5. কার্যভিত্তিক শিক্ষা:
    শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা না দিয়ে বাস্তব জীবনের কাজ, যেমন টাকা গণনা, সময় বোঝা, কেনাকাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা শেখাতে হবে।
  6. Individualized Teaching:
    শিশুর ক্ষমতা, আগ্রহ ও শেখার গতির ভিত্তিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
  7. ইতিবাচক reinforcement:
    সঠিক কাজের জন্য প্রশংসা, উৎসাহ ও উপযুক্ত পুরস্কার দিতে হবে। ভুলের জন্য অপমান বা শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
  8. Visual ও Multisensory Teaching:
    ছবি, চার্ট, মডেল, বাস্তব বস্তু, অডিও এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়নির্ভর উপকরণ ব্যবহার করা উচিত।
  9. পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন:
    শিশু বিষয়টি কতটা শিখেছে তা ছোট ছোট কার্যক্রম ও মৌখিক বা লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
  10. সামাজিক ও জীবনদক্ষতা শিক্ষা:
    যোগাযোগ, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরতা, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক আচরণ শেখাতে হবে।
  11. Peer Support:
    সহপাঠীদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিশুকে দলগত কাজ ও শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন কার্যকলাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
  12. ধৈর্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব:
    শিক্ষককে ধৈর্যশীল, সহানুভূতিশীল ও উৎসাহদায়ক হতে হবে এবং শিশুকে অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে শেখার সুযোগ দিতে হবে। উপযুক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্ষমতা উন্নত করতে পারে।

উপসংহার:
মৃদু বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা সম্পন্ন শিশু ধীরে শেখে বলে তার শিক্ষার সম্ভাবনা কম, এমন ধারণা ভুল। সহজ ভাষা, ধাপে ধাপে শিক্ষা, পুনরাবৃত্তি, বাস্তব ও দৃশ্যনির্ভর উপকরণ, কার্যভিত্তিক শিক্ষা, ইতিবাচক reinforcement এবং জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাগত ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। তাই শিক্ষকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুর সীমাবদ্ধতার পরিবর্তে তার সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে উপযুক্ত সহায়তা প্রদান করা।


অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী বা পঙ্গু Orthopedically handicapped

ভূমিকা:
অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী শিশু বলতে এমন শিশুদের বোঝায় যাদের অস্থি, সন্ধি, পেশি, স্নায়ু বা চলনক্ষমতার সমস্যার কারণে দৈনন্দিন কাজ ও শিক্ষাগ্রহণে অসুবিধা হয়। এই প্রতিবন্ধকতা জন্মগত, রোগজনিত বা দুর্ঘটনাজনিত হতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও শিশুটির বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকতে পারে। তাই শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

সংজ্ঞা:
Orthopedic Impairment বলতে এমন গুরুতর অস্থি-চলনগত প্রতিবন্ধকতাকে বোঝায় যা শিশুর শিক্ষাগত কার্যসম্পাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে জন্মগত অস্বাভাবিকতা, রোগজনিত সমস্যা যেমন পোলিও বা অস্থির যক্ষ্মা এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট সমস্যা যেমন Cerebral Palsy, অঙ্গচ্ছেদ, হাড় ভাঙা বা পোড়ার ফলে Contracture অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সহজভাবে বলা যায়, যে শারীরিক বা অস্থি-চলনগত সমস্যার কারণে শিশু হাঁটা, বসা, দাঁড়ানো, হাতের সূক্ষ্ম কাজ, লেখা, বিদ্যালয়ে চলাফেরা বা অন্যান্য শিক্ষামূলক কাজে উল্লেখযোগ্য অসুবিধার সম্মুখীন হয়, তাকে অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়।

সনাক্তকরণ (Identification):
শিক্ষক শিশুর শারীরিক চলাফেরা, শ্রেণিকক্ষের কাজ এবং দৈনন্দিন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য সমস্যাগুলি শনাক্ত করতে পারেন। যেমন:

  1. হাঁটা, দৌড়ানো বা সিঁড়ি ওঠানামায় অসুবিধা হওয়া।
  2. দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা সঠিকভাবে বসার ভঙ্গি বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া।
  3. হাত, আঙুল বা বাহুর নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা থাকা।
  4. পেন্সিল, কলম, বই বা অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী ধরতে অসুবিধা হওয়া।
  5. লেখা, আঁকা, কাটা বা অন্যান্য সূক্ষ্ম মোটর কার্যকলাপে সমস্যা হওয়া।
  6. দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া বা শারীরিক কাজের সময় অতিরিক্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হওয়া।
  7. Wheelchair, crutch, walker বা অন্যান্য mobility aid ব্যবহার করা।
  8. শ্রেণিকক্ষ, সিঁড়ি, শৌচাগার বা বিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থানে চলাচলে অসুবিধা হওয়া।
  9. দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণে সমস্যা হওয়া।
  10. হাতের চলন সীমিত হওয়ার কারণে লিখিত কাজ সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগা।

তবে শিক্ষক শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে শিশুর প্রতিবন্ধকতার চিকিৎসাগত নির্ণয় করবেন না। প্রয়োজনে চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, Occupational Therapist এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রতিবন্ধকতার প্রভাব শিশুর শিক্ষাগত কার্যসম্পাদনে কীভাবে পড়ছে, সেটিও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ শিক্ষণ দক্ষতা:

  1. উপযুক্ত আসন ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থা:
    শিশুর চলাফেরা ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ডেস্ক-চেয়ার দিতে হবে। Wheelchair ব্যবহারকারী শিশুর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং চলাচলের পরিষ্কার পথ রাখতে হবে।
  2. লিখন সহায়তা:
    যদি শিশুর পেন্সিল ধরতে অসুবিধা হয়, Pencil Grip, বিশেষ কলম, বড় আকারের লেখার উপকরণ বা অন্যান্য সহায়ক সামগ্রী ব্যবহার করা যেতে পারে।
  3. বিকল্পভাবে উত্তর দেওয়ার সুযোগ:
    হাতে লিখতে অসুবিধা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মৌখিক উত্তর, Scribe বা Speech-to-Text Software ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
  4. অতিরিক্ত সময়:
    লেখা বা অন্য কোনো কাজ করতে বেশি সময় লাগলে পরীক্ষায় ও শ্রেণিকাজে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় দিতে হবে।
  5. সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার:
    কম্পিউটার, Tablet, Speech-to-Text Software, adaptive keyboard এবং অন্যান্য Assistive Technology ব্যবহার করে শিশুর স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ বাড়াতে হবে।
  6. কার্যভিত্তিক ও ধাপে ধাপে শিক্ষা:
    শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে শেখাতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।
  7. শারীরিক কার্যকলাপে অভিযোজন:
    শিশুকে সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলা বা কার্যকলাপ থেকে বাদ না দিয়ে তার সক্ষমতা অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
  8. বিশ্রামের সুযোগ:
    যেসব শিশু দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বিরতি ও বিশ্রামের সুযোগ দিতে হবে।
  9. স্বাধীনতা বৃদ্ধি:
    শিক্ষকের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুর হয়ে সব কাজ করে দেওয়া নয়, বরং উপযুক্ত সহায়তার মাধ্যমে শিশুকে যতটা সম্ভব নিজে কাজ করতে সক্ষম করে তোলা।
  10. Peer Support:
    সহপাঠীদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিশুকে দলগত কাজ, খেলাধুলা ও শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন কার্যকলাপে যুক্ত করতে হবে।
  11. ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা:
    প্রতিটি শিশুর শারীরিক সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষাগত প্রয়োজন আলাদা। তাই Individualized Education Plan বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষণ পরিকল্পনা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা উচিত।
  12. ইতিবাচক মনোভাব:
    শিক্ষককে শিশুর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে তার সম্পূর্ণ পরিচয় হিসেবে না দেখে তার সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

উপসংহার:
অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী শিশুর প্রধান শিক্ষাগত সমস্যা অনেক সময় বুদ্ধিবৃত্তিক নয়, বরং বিদ্যালয়ের পরিবেশ, চলাফেরা, লেখা এবং শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে শারীরিক বাধা। তাই উপযুক্ত আসন, চলাচলের সুবিধা, লিখন সহায়তা, Assistive Technology, বিকল্প উত্তর পদ্ধতি, অতিরিক্ত সময় এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষণ কৌশলের মাধ্যমে এই বাধাগুলি কমানো সম্ভব। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক শ্রেণিকক্ষ তৈরি করলে অর্থোপেডিক্যালি প্রতিবন্ধী শিশুও অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে সমানভাবে শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।


Principles of Integration for CWSN in School

ভূমিকা:
CWSN অর্থ হলো Children with Special Needs বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। বিদ্যালয়ে একীকরণ (Integration) বলতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্যান্য সাধারণ শিশুর সঙ্গে একই বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষালাভের সুযোগ দেওয়াকে বোঝায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং সকল শিশুর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা।

CWSN-এর বিদ্যালয়ে একীকরণের প্রধান নীতিসমূহ:

  1. সমান সুযোগের নীতি:
    প্রতিটি শিশুকে তার প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে শিক্ষালাভের সমান সুযোগ দিতে হবে। কোনো শিশুকে প্রতিবন্ধকতার কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
  2. বৈষম্যহীনতার নীতি:
    CWSN-কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা করে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। সকল শিশুর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখতে হবে।
  3. নিকটবর্তী বিদ্যালয়ের নীতি:
    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে তার বাড়ির কাছাকাছি সাধারণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
  4. Individual Difference-এর নীতি:
    প্রতিটি শিশুর ক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা, আগ্রহ ও শেখার গতি আলাদা। তাই CWSN-এর ব্যক্তিগত শিক্ষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।
  5. Least Restrictive Environment-এর নীতি:
    শিশুকে যতটা সম্ভব সাধারণ শিক্ষার পরিবেশে রেখে শিক্ষা দিতে হবে। শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা পৃথক সহায়তা প্রদান করা উচিত।
  6. উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতির নীতি:
    CWSN-এর প্রয়োজন অনুযায়ী Visual, Auditory, Tactile, Activity-based এবং Multisensory Teaching ব্যবহার করতে হবে।
  7. উপযুক্ত শিক্ষাসামগ্রীর নীতি:
    Braille বই, Large Print, Audio Material, Tactile Material, Sign Language এবং Assistive Technology-এর মতো প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।
  8. Barrier-free Environment-এর নীতি:
    বিদ্যালয়ের ভবন ও পরিবেশ সকল শিশুর জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করতে হবে। Ramp, accessible toilet, handrail, উপযুক্ত দরজা ও চলাচলের পর্যাপ্ত স্থান থাকা প্রয়োজন।
  9. Flexible Curriculum-এর নীতি:
    CWSN-এর প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ পদ্ধতি, কার্যক্রম এবং মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা অভিযোজন করতে হবে।
  10. Flexible Assessment-এর নীতি:
    শিশুর প্রতিবন্ধকতার ধরন অনুযায়ী পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময়, লেখকের সাহায্য, মৌখিক উত্তর, Large Print বা অন্যান্য উপযুক্ত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
  11. Peer Group Support-এর নীতি:
    সাধারণ শিক্ষার্থীদের CWSN-এর সঙ্গে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে উৎসাহিত করতে হবে। Peer Support সামাজিকীকরণ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  12. সহযোগিতামূলক শিক্ষার নীতি:
    শিক্ষক, বিশেষ শিক্ষক, অভিভাবক, সহপাঠী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য পেশাদার ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
  13. Participation-এর নীতি:
    CWSN-কে শুধু শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত রাখাই যথেষ্ট নয়। তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দলগত কাজ, আলোচনা এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
  14. স্বনির্ভরতার নীতি:
    শিশুর হয়ে সব কাজ করে না দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে তাকে যতটা সম্ভব নিজের কাজ নিজে করার সুযোগ দিতে হবে।
  15. সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার নীতি:
    CWSN-কে বিদ্যালয় ও সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাদের প্রতি সহানুভূতির পাশাপাশি মর্যাদা, সম্মান ও স্বাভাবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
  16. Early Identification and Intervention-এর নীতি:
    শিশুর বিশেষ প্রয়োজন যত তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত উপযুক্ত শিক্ষাগত ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব।
  17. পরিবার ও বিদ্যালয়ের সহযোগিতার নীতি:
    শিশুর শিক্ষা ও বিকাশে অভিভাবকদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা উচিত।
  18. Positive Attitude-এর নীতি:
    শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে CWSN সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবন্ধকতাকে শিশুর অক্ষমতার একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

উপসংহার:
CWSN-এর বিদ্যালয়ে একীকরণের মূল লক্ষ্য হলো সকল শিশুকে একই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সম্মান, সমতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া। সমান সুযোগ, বৈষম্যহীনতা, ব্যক্তিগত পার্থক্যের স্বীকৃতি, Barrier-free Environment, নমনীয় পাঠ্যক্রম, উপযুক্ত শিক্ষাসামগ্রী, Peer Support এবং পরিবার ও বিদ্যালয়ের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি কার্যকর অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।

Scroll to Top