- Impact of colonialism and anti-colonial struggle
- Education in Pre and Post-Independence India
Wood’s Despatch -1854
ভারতীয় শিক্ষায় উডের দলিলের প্রভাব [WB D.El.Ed 2020-22 14 Mark PYQ]
ভারতে আধুনিক শিক্ষার ইতিহাসে উনবিংশ শতকের প্রথম ভাগ ছিল নানা সমস্যায় পূর্ণ। 1855 সালের Despatch-এর পূর্বে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার দ্বন্দ্বের সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি। ম্যাকলের শিক্ষানীতি এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের পরও ভারতীয় শিক্ষাক্ষেত্রে বহু সমস্যা থেকে যায়। বিশেষত দেশীয় বিদ্যালয়গুলির পুনর্গঠন, ভারতীয় ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম, দক্ষ কর্মী তৈরি, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মানগত সমতা প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমস্যা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে 1853 খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সনদ পুনর্নবীকরণের সময় ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। House of Commons-এর একটি নির্বাচিত কমিটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করে। এই তদন্তের পরিণতিতে 1854 খ্রিস্টাব্দে Wood’s Despatch বা উডের দলিল প্রকাশিত হয়। Board of Control-এর সভাপতি Charles Wood-এর নামানুসারে এই দলিলটি পরিচিত হয়। তাই ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে Wood’s Despatch একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী দলিল হিসেবে বিবেচিত।
ভারতে শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্য
উডের দলিলে ভারতে শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কোম্পানি কী উদ্দেশ্যে ভারতে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, তারও একটি ধারণা এতে পাওয়া যায়।
ভারতবাসীর মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার করা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে জ্ঞান ও চেতনার বিকাশ ঘটবে বলে মনে করা হয়েছিল। একই সঙ্গে পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শিক্ষিত কর্মচারী তৈরি করা এবং সরকারি কাজের জন্য উপযুক্ত লোক পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল।
এই শিক্ষার ফলে ভারতবাসীর মধ্যে বাণিজ্য ও সম্পদ বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ঘটবে—এমন প্রত্যাশাও ছিল। একই সঙ্গে ভারতকে ব্রিটিশ শিল্পপণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে গড়ে তোলার ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও এর মধ্যে কাজ করেছিল।
উডের দলিলের প্রধান সুপারিশ
১. শিক্ষা প্রশাসনের ব্যবস্থা
উডের দলিলে প্রতিটি প্রদেশে একটি করে Education Department বা শিক্ষা দফতর গঠনের সুপারিশ করা হয়। এই দফতরের অধীনে শিক্ষাব্যবস্থার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা প্রথমবারের মতো একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে আসার সুযোগ পায়।
২. Department of Public Instruction
শিক্ষা দফতরের কাজ পরিচালনার জন্য Director of Public Instruction (DPI)-এর ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা-পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে বিদ্যালয়গুলির কাজকর্ম, শিক্ষার মান এবং সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নের উপর নজর রাখা সম্ভব হয়।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
উডের দলিলে ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। এর ফলস্বরূপ কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় 1857 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে ভারতে উচ্চশিক্ষার একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি হয় এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৪. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার
উডের দলিল শুধু উচ্চশিক্ষার উপর গুরুত্ব দেয়নি; প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারের কথাও বলেছে। নিম্নস্তরের শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষাকে কেবল উচ্চবিত্ত বা সীমিত সংখ্যক মানুষের মধ্যে আটকে না রেখে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথ তৈরি হয়।
৫. শিক্ষার মাধ্যম
উডের দলিলে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজির পাশাপাশি মাতৃভাষা বা দেশীয় ভাষার গুরুত্ব স্বীকার করা হয়। উচ্চতর শিক্ষায় ইংরেজির গুরুত্ব থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাতৃভাষার ব্যবহারকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়। এর ফলে ভারতীয় ভাষায় শিক্ষার প্রসারের সুযোগ তৈরি হয়।
৬. Grant-in-Aid প্রথা
উডের দলিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল Grant-in-Aid System। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।
৭. শিক্ষক-শিক্ষণ
উডের দলিলে Teacher Training-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন—এই ধারণা থেকে শিক্ষক-শিক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য Normal School বা শিক্ষক-শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৮. নারীশিক্ষা
উডের দলিলে নারীশিক্ষার প্রসার-এর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য নারীশিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৯. ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা
উডের দলিলে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার সুপারিশ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাত না রেখে শিক্ষার ব্যবস্থা করার ধারণা এতে গুরুত্ব পায়। পরবর্তী ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।
১০. বৃত্তিমূলক ও পেশাগত শিক্ষা
উডের দলিলে বৃত্তিশিক্ষা ও পেশাগত শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসা, আইন, প্রকৌশল ইত্যাদি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার কথা বলা হয়। এর ফলে শিক্ষাকে কেবল সাধারণ বা সাহিত্যভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
১১. মুসলিম শিক্ষা
মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত উন্নতির দিকেও নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। যেসব জনগোষ্ঠী শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল, তাদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়।
উডের দলিলের গুরুত্ব
- Wood’s Despatch-এর বিশেষ গুরুত্ব হল এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল। শিক্ষার সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত ছিল।
- এটি শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন বিতর্কিত দিকের সমাধান করার চেষ্টা করেছিল। বিশেষ করে ছুঁয়ে পড়া নীতি বা শুধু উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রিক প্রবণতার পরিবর্তে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারকে জনশিক্ষার ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- ইংরেজির পাশাপাশি মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশের ফলে ভারতে উচ্চশিক্ষার বিস্তার সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্য Grant-in-Aid System চালু হয়, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।
- এছাড়া নারীশিক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা, বৃত্তিশিক্ষা, মুসলিম শিক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষণ ব্যবস্থার মতো আধুনিক শিক্ষার বিভিন্ন দিককে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার নতুন চাহিদাগুলি বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হয়।
ভারতের শিক্ষায় উডের দলিলের প্রভাব
- ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার উপর Wood’s Despatch-এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় বলা যায়, উডের দলিল ভারতে আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
- দলিলটি প্রকাশিত হওয়ার পর এর সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রদেশে Education Department গঠিত হয়। বর্তমানেও বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনায় এই ধরনের শিক্ষা প্রশাসনের কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে Grant-in-Aid প্রথা চালু হয়। এর ফলে বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া ভারতে প্রথম পরীক্ষাগ্রহণকারী ও উপাধি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তীকালে ভারতীয় উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
- ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা সম্পর্কে উডের দলিলের সুপারিশ ভারতের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একইভাবে নারীশিক্ষা, বৃত্তিশিক্ষা, মুসলিমদের শিক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
উডের দলিলের সীমাবদ্ধতা
- তবে Wood’s Despatch সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ছিল না। এর ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু অসম্পূর্ণতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পরীক্ষার উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশে পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।
- এছাড়া বৃত্তিশিক্ষাকে উৎসাহিত করার সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় বৃত্তিশিক্ষার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে পরবর্তীকালে ভারতে বৃত্তিশিক্ষা কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব লাভ করতে পারেনি।
উপসংহার
সর্বশেষে বলা যায়, Wood’s Despatch, 1854 ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রশাসনের সংগঠন, Education Department, Grant-in-Aid System, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মাতৃভাষার স্বীকৃতি, শিক্ষক-শিক্ষণ, নারীশিক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা, বৃত্তিশিক্ষা ও মুসলিম শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
যদিও দলিলটির কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল এবং এর মধ্যে ঔপনিবেশিক স্বার্থও কাজ করেছিল, তবুও ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার উপর এর ইতিবাচক প্রভাবের দিকটি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে Wood’s Despatch-কে যথার্থভাবেই আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
Lord Curzon’s Educational Policy (1901–1905)
Lord Curzon-এর শিক্ষানীতি (1901–1905) [WB D.El.Ed 2015-17 14M PYQ]
ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে Lord Curzon-এর শিক্ষানীতি (1901–1905) একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। Lord Curzon 1899 থেকে 1905 সাল পর্যন্ত ভারতের Viceroy ছিলেন। তাঁর শাসনকালে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের দুর্বলতা পর্যালোচনা করে শিক্ষার গুণগত মান, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তাঁর শিক্ষানীতির প্রধান ঘটনাগুলির মধ্যে ছিল Simla Educational Conference – 1901, Indian Universities Commission – 1902, Education Resolution – 1904 এবং Indian Universities Act – 1904। এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ, কৃষি ও কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।
শিক্ষানীতি প্রণয়নের পটভূমি
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে ভারতে শিক্ষার প্রসার ঘটলেও শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা ও সুযোগ অপর্যাপ্ত ছিল, মাধ্যমিক শিক্ষা অনেকাংশে পরীক্ষামুখী হয়ে উঠেছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূলত পরীক্ষা গ্রহণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষক-প্রশিক্ষণ, গবেষণা, technical education ও agricultural education-ও যথেষ্ট উন্নত ছিল না। Curzon মনে করেছিলেন যে শুধু শিক্ষার সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; শিক্ষার quality ও efficiency উন্নত করা প্রয়োজন। এই ধারণার ভিত্তিতেই তাঁর শিক্ষানীতি গড়ে ওঠে।
Simla Educational Conference, 1901
1901 সালে Lord Curzon Simla Educational Conference আহ্বান করেন। এই সম্মেলনে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, teacher training, university education এবং educational administration-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত সংগ্রহ করা হয়।
এই সম্মেলন Curzon-এর পরবর্তী শিক্ষাসংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে। সম্মেলনের আলোচনার মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন যে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু expansion নয়, বরং organisation, supervision এবং quality improvement প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষা
Curzon-এর প্রাথমিক শিক্ষানীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হলো:
- প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থের বড় অংশ ব্যয় করার কথা বলা হয়।
- আঞ্চলিক ক্ষেত্রে শিক্ষার জন্য সংগৃহীত অর্থ প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয় করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য DPI-এর অনুমোদন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
- গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলের পরিবেশের প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক পাঠ্যক্রম রাখার কথা বলা হয়।
- শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষকদের শিক্ষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়।
- পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করার সুপারিশ করা হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষাকে গণশিক্ষার রূপ দিতে হবে এবং শিক্ষাকে বিভিন্নভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
- প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান, উভয়ের দিকে নজর দিতে হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষা
Curzon মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে দুটি নীতি গ্রহণ করেছিলেন:
(ক) নিয়ন্ত্রণ এবং (খ) উন্নয়ন।
(ক) নিয়ন্ত্রণ
Curzon সরকারিভাবে বেসরকারি উদ্যোগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে প্রধান ছিল-
- বিভাগীয় অনুমোদন: বিভাগীয় অনুমোদন ছাড়া নতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যাবে না। সাহায্যপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত নয়—উভয় ধরনের মাধ্যমিক বিদ্যালয়কেই বিভাগীয় অনুমতি নিতে হবে।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন: শিক্ষার্থীদের Matriculation পরীক্ষায় পাঠানোর জন্য বিভাগীয় অনুমোদনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
- অনুমোদনহীন বিদ্যালয়ের ছাত্রদের অনুমোদনপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি করার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
- সরকারি বিদ্যালয়গুলি সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনের অধীনে থাকবে।
(খ) উন্নয়ন
মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতির জন্য-
- অনুমোদিত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়কে প্রচুর পরিমাণে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- পাঠ্যক্রমকে প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
- মাধ্যমিক স্তরে মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়; পাশাপাশি উচ্চমানের ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
- বিদ্যালয় পরিদর্শনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়।
- ছাত্রবেতন, ছাত্রসংখ্যা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়।
University Education
Curzon-এর শিক্ষানীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল university education। তিনি মনে করেছিলেন যে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসন, teaching, research এবং academic standards-এ যথেষ্ট উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তখন কলকাতা, বোম্বাই, মাদ্রাজ, এলাহাবাদ ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানত examination-oriented প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করত। Curzon বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও কার্যকর teaching and research institutions হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে 1902 সালে Indian Universities Commission গঠন করা হয়।
Indian Universities Commission, 1902
1902 সালে Lord Curzon-এর উদ্যোগে Indian Universities Commission গঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন Sir Thomas Raleigh। কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং তাদের প্রশাসন ও শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য সুপারিশ করা।
কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের:
- administration;
- teaching;
- examination;
- affiliation;
- academic standards;
- teaching staff;
- library;
- laboratory;
- research
ইত্যাদি বিষয় পরীক্ষা করে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে Indian Universities Act, 1904 প্রণীত হয়।
Indian Universities Act, 1904
Indian Universities Act, 1904 ছিল Curzon-এর শিক্ষানীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। এই আইনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়।
এর মাধ্যমে:
- বিশ্ববিদ্যালয়ের Senate ও Syndicate-এর গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলির teaching ও research কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়।
- affiliation-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের library ও laboratory উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়।
- শিক্ষক ও academic staff-এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হয়।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কেবল পরীক্ষা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান না থেকে teaching ও research-এর দিকেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
Curzon-এর শিক্ষানীতির ইতিবাচক দিক
Curzon-এর নীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক ও academic reform-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়। Teaching ও research-এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। Library ও laboratory উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়। Teacher training, technical education এবং agricultural education-এর গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় quality, efficiency এবং organisation-এর বিষয়গুলি আরও গুরুত্ব পায়।
Curzon-এর শিক্ষানীতির সমালোচনা
Curzon-এর শিক্ষানীতি ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। এর প্রধান কারণ ছিল অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ। বিশেষত Indian Universities Act, 1904-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ভারতীয় শিক্ষাবিদ ও জাতীয়তাবাদী নেতা মনে করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের autonomy ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আরও একটি সমালোচনা ছিল যে Curzon শিক্ষার quantitative expansion-এর তুলনায় administrative control ও quality-এর উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ফলে ভারতীয়দের একাংশ তাঁর নীতিকে শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি political control-এর একটি উপায় হিসেবেও দেখেছিল
Kothari Commission (1964–66)
Kothari Commission (1964–66)
ভারতের শিক্ষার ইতিহাসে Kothari Commission (1964–66) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কমিশন। এর সরকারি নাম ছিল Education Commission (1964–66) এবং এর সভাপতি ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী Dr. D. S. Kothari। কমিশনের প্রতিবেদন 1966 সালে প্রকাশিত হয় এবং এর নাম ছিল “Education and National Development”। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সুসংগঠিত, সমতাভিত্তিক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরবর্তীকালে এর সুপারিশ ভারতের National Policy on Education, 1968-কে প্রভাবিত করে। (Ministry of Education)
Kothari Commission গঠনের প্রেক্ষাপট
স্বাধীনতার পর ভারত দ্রুত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নানা সমস্যা ছিল—শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য, নিরক্ষরতা, বিদ্যালয়ত্যাগ, শিক্ষার নিম্নমান, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মজগতের দুর্বল সম্পর্ক। এই সমস্যাগুলির সামগ্রিক পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশ দেওয়ার জন্য ভারত সরকার 1964 সালে Education Commission গঠন করে। Dr. D. S. Kothari-এর নেতৃত্বে কমিশনটি 1964–66 সময়কালে কাজ করে।
Kothari Commission-এর প্রধান উদ্দেশ্য
কমিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল-
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক পর্যালোচনা করা।
শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা।
সকলের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো।
শিক্ষার মান উন্নত করা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
শিক্ষাকে কর্মমুখী ও উৎপাদনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা।
দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করা।
নিরক্ষরতা দূর করা।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করা।
ভারত সরকারের নথিতে Kothari Commission-এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে primary education-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, general education-এ work experience অন্তর্ভুক্তি, secondary education-এর vocationalisation, শিক্ষকতার মানোন্নয়ন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং advanced study ও research শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
Kothari Commission-এর প্রধান Recommendations [WB D.ELED 20-22 14 MARK]
1. 10+2+3 Education Structure
Kothari Commission ভারতের জন্য একটি সুসংগঠিত 10+2+3 শিক্ষাকাঠামো-র সুপারিশ করে। এই কাঠামোতে স্কুল শিক্ষার 10 বছর, উচ্চমাধ্যমিক স্তরের 2 বছর এবং degree education-এর 3 বছর ধরা হয়। এই কাঠামো পরবর্তীকালে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করা এবং school education, higher secondary education ও higher education-এর মধ্যে একটি সুসংবদ্ধ সম্পর্ক স্থাপন করা।
2. Equalisation of Educational Opportunity
কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল শিক্ষার সুযোগের সমতা। ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম, নারী-পুরুষ বা বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষা যেন কেবল সুবিধাভোগী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিশুরাও মানসম্মত শিক্ষা পায়—এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। পরবর্তী NPE 1968-এও equalisation of educational opportunity-কে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
3. Common School System
Kothari Commission-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল Common School System। এর উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।
কমিশন area-specific Neighbourhood School-এর ধারণার সঙ্গেও যুক্ত ছিল। পরবর্তী সরকারি নথিতে Kothari Commission-এর school education সংক্রান্ত সুপারিশের মধ্যে neighbourhood schools এবং equality-oriented institutional arrangements-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
4. Free and Compulsory Education
শিশুদের elementary education সর্বজনীন করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সকল শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা এবং নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে ভারতের নিরক্ষরতা কমানো এবং ভবিষ্যৎ নাগরিকদের শিক্ষিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।
5. Science and Mathematics Education
দেশের আধুনিকীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য Science এবং Mathematics শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও কৃষির আধুনিকীকরণের জন্য বিজ্ঞান শিক্ষাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
6. Work Experience
Kothari Commission-এর একটি উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল Work Experience-কে সাধারণ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রহণ করা। কমিশনের মতে, শিক্ষা শুধু বই পড়া বা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন, শ্রম, উৎপাদনশীল কাজ ও কর্মজগতের সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, “learning by doing”-এর ধারণাকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
7. Vocationalisation of Education
মাধ্যমিক শিক্ষাকে আরও vocational ও employment-oriented করার সুপারিশ করা হয়। সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় যাবে না—এই বাস্তবতা বিবেচনা করে এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয় যাতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করার পর কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়।
8. Teacher Education
শিক্ষার মান অনেকাংশে শিক্ষকের মানের উপর নির্ভর করে। তাই Kothari Commission শিক্ষকতার পেশায় যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং উন্নত teacher education ও training-এর উপর গুরুত্ব দেয়।
শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সংখ্যায় নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
9. Adult Education and Eradication of Illiteracy
ভারতে নিরক্ষরতা ছিল একটি বড় সামাজিক সমস্যা। তাই কমিশন Adult Education সম্প্রসারণ এবং নিরক্ষরতা দূর করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। শুধু শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও literacy ও continuing education-এর সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষাকে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার প্রবণতা শক্তিশালী হয়।
10. Women’s Education
নারী ও পুরুষের মধ্যে শিক্ষাগত বৈষম্য কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নারীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করলে পরিবার, সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব- এই ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া ও গ্রামীণ এলাকার মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
11. Three-Language Formula
ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্যের কথা বিবেচনা করে ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে Three-Language Formula-কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক ভাষা, Hindi এবং English/অন্য ভারতীয় ভাষার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা। পরবর্তীকালে National Policy on Education, 1968-এ Three-Language Formula স্পষ্টভাবে গ্রহণ করা হয়। Hindi-speaking states-এর ক্ষেত্রে Hindi ও English-এর পাশাপাশি একটি আধুনিক ভারতীয় ভাষা এবং non-Hindi-speaking states-এর ক্ষেত্রে regional language, Hindi ও English-এর উপর জোর দেওয়া হয়।
12. National Integration
Kothari Commission শিক্ষাকে জাতীয় সংহতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে। বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে democratic values, social responsibility, discipline এবং national consciousness গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
13. Higher Education and Research
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে advanced study ও research-এর মান উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যও কমিশনের আলোচনায় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে teaching ও research-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা এবং গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
14. Agriculture and Allied Sciences
ভারত একটি কৃষিনির্ভর দেশ হওয়ায় Agriculture এবং Allied Sciences-এর শিক্ষা ও গবেষণার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষির আধুনিকীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কৃষি-শিক্ষা ও গবেষণাকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়।
15. Examination Reform
পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান, বোঝাপড়া ও দক্ষতা যাচাই করার জন্য মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শুধু মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক learning outcome বিবেচনা করার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
16. Educational Planning and Investment
দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ—এই ধারণা Kothari Commission-এর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল। শিক্ষার বিস্তার, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করে।
Programme of Action (1992)
National Policy on Education (NPE), 1986-এর পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে Ramamurti Committee (1990) এবং পরবর্তীকালে Janardhana Reddy Committee (1992) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে Programme of Action (POA), 1992 প্রস্তুত হয়। [WB D.ElEd Part 2 2014-16 7 Mark PYQ]
1. Uniform Education Structure
সারা দেশে একই ধরনের শিক্ষা কাঠামো চালু করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। 10+2+3 কাঠামোকে গ্রহণ করা হয়।
- প্রথম 10 বছর—school education
- পরবর্তী 2 বছর—higher secondary
- পরবর্তী 3 বছর—degree education
2. Primary Education
POA 1992-এ প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধান Recommendations
- সর্বজনীন সাক্ষরতার দিকে নজর দিতে হবে।
- 14 বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে।
- Dropout সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- 14 বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য সর্বজনীন ও অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।
- প্রাথমিক শিক্ষার পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
- সমস্ত শিক্ষার্থী যাতে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
- Operation Blackboard কর্মসূচিকে সঠিকভাবে কার্যকর করতে হবে।
- প্রাথমিক স্তরে MLL – Minimum Levels of Learning নির্দিষ্ট করতে হবে।
- প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সারা দেশে একই ধরনের পাঠ্যক্রমের কাঠামো থাকা উচিত এবং এর কাঠামো তৈরির দায়িত্ব NCERT-এর উপর থাকবে।
3. Secondary Education
মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে POA 1992-এর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলি ছিল—
- গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলিকে Navodaya Vidyalaya-এর আদলে উন্নত করার কথা বলা হয়।
- প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় staff ও equipment থাকা উচিত।
- অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
- বর্তমান পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও বাস্তবসম্মত ও নৈর্ব্যক্তিক করতে হবে।
- বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
- প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
- মাধ্যমিক স্তরে ইতিহাসকে জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পড়াতে হবে।
- Common School System এবং Neighbourhood School System-কে গুরুত্ব দিতে হবে।
- অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক পরিকাঠামোসহ নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
- বিদ্যালয়ের প্রশাসন ও পরিদর্শন ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
- মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পুনর্গঠন করে তাদের প্রশাসনিক সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
4. Teachers’ Training
শিক্ষক-শিক্ষণের ক্ষেত্রে:
- শিক্ষকদের শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষক-শিক্ষণ কর্মসূচির দিকে বেশি নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
অর্থাৎ, পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী শিক্ষকদের নতুন জ্ঞান, দক্ষতা ও teaching techniques-এর সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন।
5. Non-Formal Education
যেসব শিশু বা শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তাদের জন্য Non-Formal Education-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান Recommendations
- (a) Dropout children: Dropout শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে শ্রমজীবী এবং যেসব মেয়েরা পারিবারিক বা সামাজিক কারণে স্কুলে যেতে পারে না, তাদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
- (b) Quality improvement: প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।
- (c) শিক্ষক নির্বাচন: প্রশিক্ষিত ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
- (d) Mainstreaming: প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
- (e) Quality of education: প্রাথমিক শিক্ষা যাতে প্রচলিত শিক্ষার গুণমানের তুলনীয় হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
- (f) Educational materials: উন্নতমানের শিক্ষণীয় উপকরণ প্রস্তুত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সেগুলি বিনা পয়সায় দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
- (g) Activities: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ ইত্যাদির উপর প্রাধান্য দিতে হবে।
- (h) Participation: প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
- (i) Finance: প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে।
6. Higher Secondary Education
1992 সালের POA-তে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়-
- জাতীয় পাঠ্যক্রম রচনা এবং তার ভিত্তিতে Instructional Package প্রস্তুত করা।
- Vocational/Technical School System-এর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া।
- উচ্চমাধ্যমিক পাঠক্রমকে বহুমুখী (multifarious/multidimensional) করার উপর গুরুত্ব দেওয়া।
7. Higher Education
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান Recommendations ছিল-
- উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও অন্যান্য মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হবে।
- বর্তমানে যে সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।
- স্বায়ত্তশাসিত কলেজ (Autonomous College) গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
- কলেজগুলির ক্ষমতা ও দক্ষতার উন্নতি ঘটাতে হবে।
- পাঠক্রমের পুনর্গঠন ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচির সম্প্রসারণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
- উন্নতমানের গবেষণার ব্যবস্থা করতে হবে।
- মুক্ত শিক্ষার (Open Education) উপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
8. Vocational Education
1992 সালের সুপারিশে বৃত্তিশিক্ষাকে কর্মমুখী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান Recommendations
- উচ্চমাধ্যমিক স্তরে 1995 সালের মধ্যে 10% এবং 2000 সালের মধ্যে 25% শিক্ষার্থীকে vocational education-এর আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- পরিবর্তিত বৃত্তিমুখী শিক্ষা চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
- সাধারণ শিক্ষার জন্য যেসব বিদ্যালয় রয়েছে, তাদের দ্বারা উপযুক্ত vocational education দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
- বৃত্তিশিক্ষার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী যাতে চাকরি বা উপযুক্ত কর্মসংস্থানে যেতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারে, তার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
Ramamurti Committee, 1990 – Important Recommendations
Acharya Ramamurti Committee 1990 সালে NPE 1986-এর পর্যালোচনার জন্য গঠিত হয়। তোমার বইয়ের মূল পয়েন্টগুলি হলো-
- শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্যতা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
- সর্বস্তরের শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন।
- শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা দরকার।
- Common School প্রথার উন্নয়ন প্রয়োজন।
- শিক্ষাকে সাংবিধানিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- নারীশিক্ষার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
- পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।
- বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া দরকার।
- শিক্ষার সকল স্তরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা দরকার।
- আঞ্চলিক ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- উচ্চশিক্ষার স্তরে বিভিন্ন ফি বৃদ্ধি করার কথাও সুপারিশের মধ্যে ছিল।
Janardhana Reddy Committee, 1992
1992-এর Janardhana Reddy Committee NPE-1986-এর শিক্ষানীতি বিবেচনা করে। পাশাপাশি সংবিধানের 73তম ও 74তম সংশোধনীর মাধ্যমে বিদ্যালয় শিক্ষাকে পঞ্চায়েতি রাজের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরেই শিক্ষা সংক্রান্ত সুপারিশসমূহ (Recommendations Related to Education) এবং Programme of Action-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়।
NPE 1986
↓
Ramamurti Committee – 1990
↓
Janardhana Reddy Committee – 1992
↓
Modified NPE – 1992
↓
Programme of Action – 1992