| (ক) জনসম্পদ ও তার যথার্থ ব্যবহার। (খ) জনসম্পদ ও স্বাস্থ্য। (গ) জনসম্পদ ও শিক্ষা। (ঘ) বৈষম্য ও সমতা। (ঙ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিরাপত্তা। | সামাজিক পরিবেশ স্বাস্থ্য ভালো করতে হবে পড়া আর শেখা গীতালির সাইকেল প্রাকৃতিক দুর্যোগ: সুনামি, আইলা প্রাকৃতিক দুর্যোগ: ভূমিকম্প এবং হড়পা বান পূর্বাভাস |
সামাজিক পরিবেশ
সমাজে ভিড়, দূষণ ও নানা সমস্যা বাড়ার একটি বড় কারণ সচেতনতার অভাব। যদি মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হয়, তবে তারা পরিবেশ রক্ষা করবে, গাছ লাগাবে, জল নষ্ট করবে না এবং অন্যের অধিকার সম্মান করবে। সবাই সমান সুযোগ পায় না, তাই একে অপরকে ছোট না করে পাশে দাঁড়ানো দরকার। তবেই সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।
শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ প্রকৃতি ও সমাজ দুটোকেই গুরুত্ব দেয়। তারা পশুপাখি, গাছপালা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করে। অন্যের কাজকে সম্মান করে এবং সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চায়। সমাজে বৈষম্য কমিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ায়। নিচে একটি উদাহরণ সারণি দেওয়া হলো
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তার নাম ও ঠিকানা | দীনেশ চক্রবর্তী, পূর্বপাড়া, নদীয়া |
| তিনি কী করেন | উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক |
| তোমার সঙ্গে তার পরিচয় | তিনি আমাদের পাশের বাড়ির কাকা ও আমার শিক্ষক |
| জীবিকার জন্য নয়, এমন কাজ | ছুটির দিনে বিনামূল্যে পড়ান, গাছ লাগান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রচার করেন |
| কেন তিনি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়েন | সকলকে সমান চোখে দেখেন, ছোটদের উৎসাহ দেন, পরিবেশ ও সমাজ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ান |
এভাবে একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ নিজের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে সমাজকে সুন্দর ও সুস্থ করে তুলতে পারেন।
স্বাস্থ্য ভালো করতে হবে
রুবির দাদু মাছ চাষ করেন এবং নিয়মিত সাঁতার কাটেন। ছোটবেলায় তিনি সাঁতার শিখেছিলেন এবং এখনো প্রতিদিন প্রায় আধঘণ্টা সাঁতার কাটেন। তাঁর মতে শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম খুব জরুরি। পুকুরের জল পরিষ্কার রাখতে তিনি মাছকে সঠিক খাবার দেন, মেশিন দিয়ে জলে বাতাস প্রবাহ করান এবং প্রয়োজন হলে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ব্যবহার করেন। নোংরা জলে সাঁতার কাটলে ত্বকের সমস্যা হতে পারে, তাই জল পরিষ্কার রাখা দরকার। তিনি অন্যদেরও হাঁটা ও ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন।
| বয়স | সাঁতার কাটা | নির্দিষ্ট সময় টিভি দেখা | ব্যায়াম | অনেকক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা | হাঁটা | সাইকেল চালানো | পরিমিত ঘুমানো | অতিরিক্ত প্যাকেটজাত খাদ্য খাওয়া |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ৫–১০ বছর | হ্যাঁ, শিখতে পারে | সীমিত সময় | হালকা ব্যায়াম | না | হ্যাঁ | হ্যাঁ | ৯–১০ ঘন্টা | না |
| ১০–১৫ বছর | হ্যাঁ | সীমিত সময় | নিয়মিত | কম সময় | হ্যাঁ | হ্যাঁ | ৮–৯ ঘন্টা | না |
| ১৫–৩০ বছর | হ্যাঁ | নির্দিষ্ট সময় | নিয়মিত | প্রয়োজনে, মাঝে বিরতি | হ্যাঁ | হ্যাঁ | ৭–৮ ঘন্টা | না |
| ৩০–৪৫ বছর | হ্যাঁ | সীমিত সময় | নিয়মিত | কাজের জন্য, বিরতি দরকার | হ্যাঁ | পারে | ৭–৮ ঘন্টা | না |
| ৪৫–৬০ বছর | হালকা সাঁতার | কম সময় | হালকা ব্যায়াম | বেশি নয় | হ্যাঁ | কম | ৭ ঘন্টা | না |
| ৬০ বছরের বেশি | ডাক্তারের পরামর্শে | খুব কম | হালকা ব্যায়াম | না | হ্যাঁ | সাধারণত না | ৭ ঘন্টা | না |
পড়া আর শেখা
রুবির দাদু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি পড়াশোনা করেননি, কিন্তু নানা কাজে যুক্ত থেকে শিখেছেন। তিনি শুধু বই পড়ে থেমে থাকেননি, কাজের মাধ্যমে জ্ঞান বাড়িয়েছেন। আগে মানুষ শোনার মাধ্যমে শিখত, মুখে মুখে আলোচনা করত, পরে লেখা শুরু হয়। কাগজ পরে এসেছে; প্রথমে চীনে কাগজ তৈরি হয়। আমাদের দেশে তালপাতায় লেখা হতো। শুধু বই পড়লেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না; বাস্তব কাজের সঙ্গে যোগ না হলে শিক্ষা অর্থপূর্ণ হয় না। শিক্ষার সঙ্গে বাস্তবের যোগ ঘটাতে নিজের করণীয় বিষয়গুলি নিচে সারণিতে দেওয়া হলো
| বিষয় | উত্তর |
|---|---|
| সংসারের কী কী কাজ তুমি করো | ঘর গুছানো, বাজার থেকে জিনিস আনা, ছোটদের পড়া দেখানো |
| পরিবারের আয়ের জন্য অন্য কারও কাজ করতে হয়? হলে কী করো | প্রয়োজনে পরিবারের কাজে সাহায্য করি, চাষের কাজে হাত লাগাই বা বাড়ির ছোট কাজ করি |
| বইতে যেসব কাজ করার কথা পেয়েছ তার মধ্যে কতগুলো করেছ | গাছ লাগানো, জল অপচয় না করা, মাটি পরীক্ষা করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা |
| এসব কাজ করতে কেমন লেগেছে | ভালো লেগেছে, নতুন জিনিস শিখেছি, কাজের মাধ্যমে বিষয়টি বেশি বুঝেছি |
এভাবে পড়ার বিষয়কে বাস্তবে প্রয়োগ করলে শিক্ষা আরও ফলপ্রসূ হয় এবং জীবনের সঙ্গে জ্ঞানের সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গীতালির সাইকেল
গীতালির সমস্যা থেকে বোঝা যায় অনেক সময় পরিবারের আর্থিক অসুবিধা, কাজের চাপ ও সুযোগের অভাবে পড়াশোনায় বাধা আসে। সে বাড়ির কাজ করে, মাকে সাহায্য করে এবং দূরের স্কুলে হেঁটে যায়। সাইকেল থাকলেও তা নিয়ে পারিবারিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাবার কাজ অনিয়মিত, মা কাজ করতে বাইরে যান। ফলে পড়াশোনা, কাজ শেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক বিষয়টি বুঝে অভিভাবককে ডেকে কথা বলতে চান, যাতে সমস্যার সমাধান হয়। নিচে চারপাশে দেখা এমন সমস্যার একটি সারণি দেওয়া হলো
| সমান পরিমাণ খাদ্য | পড়াশোনা | খেলাধুলা | অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা |
|---|---|---|---|
| অনেক পরিবারে সব শিশু সমান পুষ্টিকর খাবার পায় না | দরিদ্রতার জন্য অনেকেই মাঝপথে স্কুল ছাড়ে | কাজের চাপে খেলাধুলার সময় পায় না | বই, পোশাক, সাইকেল, ইন্টারনেট সবার কাছে নেই |
| মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা কখনও বেশি খাবার পায় | প্রাইভেট পড়ার সুযোগ সবার হয় না | মাঠের অভাব | ভালো কোচিং বা প্রশিক্ষণের সুযোগ কম |
| অপুষ্টির কারণে দুর্বলতা | বই-খাতা কেনার সামর্থ্য নেই | ক্রীড়া সরঞ্জামের অভাব | স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহনের অসুবিধা |
এ ধরনের সমস্যার সমাধানের জন্য পরিবারের সচেতনতা, শিক্ষকের সহযোগিতা ও সমাজের সহায়তা খুবই প্রয়োজন। সবাই সমান সুযোগ পেলে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ দুটোই সুন্দর হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: সুনামি, আইলা
বড় ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হলে আগে থেকেই সতর্কবার্তা শোনা জরুরি। সমুদ্রের ধারে থাকলে যতটা সম্ভব নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হয়। মাছ ধরতে সমুদ্রে না যাওয়াই ভালো। বাড়িঘর শক্ত করে বানানো, নিচু জায়গা ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া দরকার। ২০০৮ সালের সুনামিতে সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্পের ফলে বিশাল ঢেউ উঠে উপকূলের বহু ক্ষতি করেছিল। কোথাও তিন মিটার, কোথাও বারো মিটার পর্যন্ত জল উঠেছিল। ২০০৯ সালের আইলা ঝড়ে সুন্দরবন ও উপকূলের বহু বাড়িঘর ভেঙে যায়, লবণাক্ত জল ঢুকে চাষের জমি নষ্ট হয়। নিচে সারণি পূরণ করা হলো
| বিষয় | উত্তর |
|---|---|
| পশ্চিমবঙ্গে সুনামিতে কী দেখা গিয়েছিল | আমাদের রাজ্যে বড় ঢেউয়ের প্রভাব কম ছিল, তবে সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছিল এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছিল |
| দক্ষিণ ও পূর্বের রাজ্যে সুনামিতে কী দেখা গিয়েছিল | তামিলনাড়ু ও আন্দামান-নিকোবর অঞ্চলে সমুদ্রের জল উঁচু ঢেউ হয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে, বহু বাড়িঘর ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় |
| সুন্দরবনের দিকে আইলায় কী হয়েছিল | প্রবল ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত জল ঢুকে পড়ে, বাড়িঘর ভেঙে যায়, ফসল নষ্ট হয় |
| পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য এলাকায় কী হয়েছিল | উপকূলবর্তী জেলায় ঝড়ে গাছ পড়ে, ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় |
এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সচেতনতা, আগাম সতর্কতা ও নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণই প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার প্রধান উপায়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: ভূমিকম্প এবং হড়পা বান
ভূমিকম্প সমুদ্রের নীচে বা স্থলে গভীরে সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের নীচে ভূমিকম্প হলে বিশাল ঢেউ তৈরি হতে পারে। ভূমিকম্প বন্ধ করা যায় না, তবে সতর্ক থাকা যায়। যেসব এলাকায় ভূমিকম্প বেশি হয় সেখানে হালকা ও কাঠের বাড়ি তুলনামূলক নিরাপদ। আমাদের এলাকায় জোরে ভূমিকম্প হলে খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে। সময় না পেলে মজবুত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
বন্যা অনেক সময় হঠাৎ হয়, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার কাছে। অতিবৃষ্টিতে নদীতে জল বেড়ে গেলে এবং নদীগুলো মাটি ও পাথরে ভরাট হয়ে গেলে জল নামতে পারে না। তখন হড়পা বান হয়। এতে মানুষ ও সম্পদের বড় ক্ষতি হয়। নিচের সারণি পূরণ করা হলো
| ভূমিকম্পের সময় কী কী সাবধানতা নেওয়া দরকার | ভূমিকম্পে কী কী ক্ষতি হতে পারে | বন্যায় কী কী ক্ষতি হয় | বন্যার সময় কীভাবে সাবধানতা নেওয়া দরকার |
|---|---|---|---|
| খোলা জায়গায় চলে যাওয়া | বাড়িঘর ভেঙে পড়া | বাড়িঘর ডুবে যাওয়া | উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া |
| টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়া | মানুষ আহত বা প্রাণহানি | ফসল নষ্ট হওয়া | আগাম সতর্কবার্তা শোনা |
| লিফট ব্যবহার না করা | রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়া | গবাদি পশুর ক্ষতি | নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণ |
| গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রাখা | বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়া | জলবাহিত রোগ ছড়ানো | প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ মজুত রাখা |
সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়।
পূর্বাভাস
আবহাওয়া বলতে ঝড়-বৃষ্টি, গরম-ঠান্ডা, বাতাসের গতি ইত্যাদির অবস্থা বোঝায়। এসব বিষয় আগে থেকে জানানোকে পূর্বাভাস বলে। খবরের কাগজ, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। পরিবেশ দূষণের ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে এবং বৃষ্টির ধরনও বদলাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে গবেষণা এখনো সম্পূর্ণ নয়, তাই সব ঝড়-বৃষ্টির কথা অনেক আগে থেকে নির্ভুলভাবে বলা যায় না।
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের পূর্বাভাস অনেক আগেই জানা যায়, কারণ এ বিষয়ে গবেষণা অনেক উন্নত। চাঁদ ও সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক দূরে, তাই পৃথিবীর পরিবেশ দূষণের প্রভাব তাদের ওপর পড়ে না। নিচের সারণি পূরণ করা হলো
| কী ধরনের দুর্যোগ | কী হবে বলে পূর্বাভাস ছিল | কী হয়েছিল | পূর্বাভাস পাওয়ায় ক্ষতি কতটা কমেছিল |
|---|---|---|---|
| ঘূর্ণিঝড় | প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি হবে | উপকূলে গাছ ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত | আগেই মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ায় প্রাণহানি কম হয় |
| অতিবৃষ্টি ও বন্যা | নদীর জল বেড়ে বন্যা হতে পারে | নিচু এলাকা প্লাবিত হয় | আগাম সতর্কতায় মানুষ উঁচু জায়গায় সরে গিয়ে ক্ষতি কিছুটা কমায় |
| তাপপ্রবাহ | তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বাড়বে | বহু মানুষ অসুস্থ হয় | আগে থেকে সাবধানতায় জল পান ও ঘরে থাকার ফলে ক্ষতি কমে |
| বজ্রঝড় | ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত হবে | বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গাছপালা ভাঙে | সতর্কবার্তায় খোলা মাঠ এড়িয়ে চলায় দুর্ঘটনা কমে |
সঠিক পূর্বাভাস মানুষকে সচেতন করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে।