নানা জায়গার প্রাকৃতির নানা সম্পদ
- পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী রাজ্য। রাজ্যের উর্বর পলিমাটি, প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং সেচব্যবস্থা ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রধান উৎপাদন জেলা: পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রায়ই “পশ্চিমবঙ্গের শস্যভান্ডার” নামে পরিচিত।
- চা চাষ: পশ্চিমবঙ্গে চা চাষের জন্য অম্লীয় দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যার pH প্রায় ৪.৫ থেকে ৫.৫ হওয়া উচিত এবং জলনিকাশ ব্যবস্থা ভালো থাকতে হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, বার্ষিক ১৫০ থেকে ৩০০ সেমি বৃষ্টিপাত এবং ২০° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা চা চাষের জন্য অনুকূল। পাহাড়ি ঢালু জমি বিশেষভাবে উপযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গে প্রধানত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় চা উৎপাদন হয় এবং দার্জিলিং চা বিশ্ববিখ্যাত।
প্রকৃতি ও মানুষ মিলে তৈরি করে সম্পদ
| মানুষের তৈরি সম্পদের নাম | ওই সম্পদ কী কী দিয়ে তৈরি | সম্পদটা কী কী কাজে লাগে |
|---|---|---|
| বই | কাগজ, কালি, মুদ্রণযন্ত্র | শিক্ষা গ্রহণ, জ্ঞান অর্জন, তথ্য সংরক্ষণ |
| ঘরবাড়ি | ইট, বালি, সিমেন্ট, লোহা, কাঠ | বসবাস, নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা |
| রাস্তা | পাথর, পিচ, কংক্রিট | যানবাহন চলাচল, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা |
| কাপড় | তুলা, সিল্ক, উল, সিন্থেটিক তন্তু | শরীর ঢেকে রাখা, শীত-গরম থেকে রক্ষা |
| যানবাহন | লোহা, ইস্পাত, রাবার, প্লাস্টিক | মানুষ ও পণ্য পরিবহন |
| মোবাইল ফোন | প্লাস্টিক, ধাতু, কাচ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ | যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা ও বিনোদন |
| আসবাবপত্র | কাঠ, লোহা, প্লাস্টিক | বসা, ঘর সাজানো, দৈনন্দিন ব্যবহার |
| সেতু | ইস্পাত, কংক্রিট, পাথর | নদী বা রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত সহজ করা |
লেখা নেই কাগজে আছে শুধু মগজে
| জ্ঞানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা | যাঁর জ্ঞান তার নাম ও পরিচয় | কীভাবে ওই জ্ঞান কাজে লেগেছিল | এ বিষয়ে তোমার মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বাড়িতে বানানো আচার সংরক্ষণের কৌশল | আমার দিদা। বহু বছর ধরে নিজে হাতে আচার বানান। | তিনি জানেন কীভাবে লবণ, সর্ষের তেল ও রোদে শুকিয়ে আচার অনেকদিন ভালো রাখা যায়। এতে খাবার নষ্ট হয় না এবং স্বাদও ভালো থাকে। | এই জ্ঞান বইয়ে না থাকলেও খুব কাজের। ভবিষ্যতে আমাদেরও শেখা উচিত। |
| সেলাই ও কাপড় মেরামত করার জ্ঞান | আমার পিসিমা। ছোটবেলা থেকে সেলাই শেখেন। | কাপড় ছিঁড়ে গেলে নতুন না কিনে সেলাই করে ব্যবহার করা যায়। এতে টাকা বাঁচে এবং কাপড় নষ্ট হয় না। | এমন জ্ঞান সংসারে খুব দরকারি। ছেলেমেয়ে সবার শেখা উচিত। |
| মাছ চাষের কৌশল | গ্রামের কাকা, পুকুরে মাছ চাষ করেন। | তিনি জানেন কখন খাবার দিতে হয়, কীভাবে পানি পরিষ্কার রাখতে হয়। এতে মাছ দ্রুত বড় হয় এবং লাভ বেশি হয়। | এই জ্ঞান গ্রামের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতা থেকে শেখা জ্ঞান মূল্যবান। |
| প্রাকৃতিক উপায়ে জ্বর কমানোর উপায় | আমার ঠাকুমা। ঘরোয়া চিকিৎসা জানেন। | তুলসী পাতা, মধু ও আদা দিয়ে কাশির ওষুধ বানান। এতে হালকা জ্বর ও সর্দি ভালো হয়। | সব সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। তাই এমন ঘরোয়া জ্ঞান জানা ভালো। |
| নকশা কাঁথা সেলাই | গ্রামের রুবিনা খালা। মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন। | পুরনো কাপড় দিয়ে সুন্দর কাঁথা বানান। এতে কাপড় নষ্ট হয় না এবং বাড়তি আয়ও হয়। | এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান রক্ষা করা দরকার। নতুন প্রজন্মের শেখা উচিত। |
লেখা নেই কাগজে আছে শুধু মগজে
প্রধান মেলা (Fair)
Gangasagar Mela – সাগরদ্বীপে অনুষ্ঠিত বৃহৎ তীর্থমেলা।
Poush Mela – শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত হয়।
Kenduli Mela – বাউল মেলা হিসেবে পরিচিত।
Rash Mela Cooch Behar – কোচবিহারে বিখ্যাত।
Book Fair Kolkata – এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বইমেলা।
জ্ঞান আর উৎসব
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান…..
স্মরণীয় যারা
সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ: এঁরা সমাজের কুসংস্কার দূর করেছেন, মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছেন, স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং মানবকল্যাণে কাজ করেছেন।
- হেনরি ডিরোজিও (১৮০৯–১৮৩১)
- রাজা রামমোহন রায়
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১)
- স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩–১৯০২)
- ভগিনী নিবেদিতা (১৮৬৭–১৯১১)
- বেগম রোকেয়া (১৮৮০–১৯৩২)
বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ: এঁরা বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষক ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসতেন এবং গবেষণার মাধ্যমে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন।
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭)
- আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৮৬১–১৯৪৪)
- মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩–১৯৫৬)
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪–১৯৭৪)
- প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিস
স্বাধীনতা সংগ্রামী: এঁরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। অনেকেই অল্প বয়সে শহিদ হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগের ফলেই ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়।
- নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭–১৯৪৫?)
- মহাত্মা গান্ধী (১৮৬৯–১৯৪৮)
- বটুকেশ্বর দত্ত (১৯১০–১৯৬৫)
- ক্ষুদিরাম বসু (১৮৮৯–১৯০৮)
- সূর্য সেন (মাস্টারদা) (১৮৯৪–১৯৩৪)
- ভগৎ সিং (১৯০৭–১৯৩১)
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯১১–১৯৩২)
- কল্পনা দত্ত (১৯১৩–১৯৯৫)
- মাতঙ্গিনী হাজরা (১৮৭০–১৯৪২)
দেশের উন্নতির জন্য সমাজসংস্কারক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী সকলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের কাজ, ত্যাগ ও আদর্শ আমাদের শ্রদ্ধা ও অনুসরণের যোগ্য।
দিবস পালন: আমাদের উৎসব
পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে পালিত গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ
| দিবসের নাম ও তারিখ | কেন পালন করা হয় ও কেন এই তারিখ |
|---|---|
| প্রজাতন্ত্র দিবস – ২৬ জানুয়ারি | ১৯৫০ সালের এই দিনে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। তাই ২৬ জানুয়ারি গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ স্মরণে পালন করা হয়। |
| নেতাজি জন্মজয়ন্তী – ২৩ জানুয়ারি | ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে দিনটি পালন করা হয়। |
| আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস – ২১ ফেব্রুয়ারি | ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে এই দিন নির্ধারিত। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার বার্তা দিতে পালন করা হয়। |
| জাতীয় বিজ্ঞান দিবস – ২৮ ফেব্রুয়ারি | ১৯২৮ সালে সি.ভি. রমন রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন। সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মরণে বিজ্ঞানচর্চা বাড়াতে পালন করা হয়। |
| নারী দিবস – ৮ মার্চ | ১৯১৭ সালের নারী অধিকার আন্দোলনের স্মরণে ৮ মার্চ নির্ধারিত। নারী সমতা ও অধিকার সচেতনতা বাড়াতে পালন করা হয়। |
| বিশ্ব জল দিবস – ২২ মার্চ | জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালে জল সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে ২২ মার্চ নির্ধারণ করে। জল রক্ষার বার্তা দিতে পালন করা হয়। |
| বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস – ৭ এপ্রিল | ১৯৪৮ সালে WHO প্রতিষ্ঠিত হয় এই দিনে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দিনটি পালন করা হয়। |
| পৃথিবী দিবস – ২২ এপ্রিল | ১৯৭০ সালে পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা স্মরণে এই দিন নির্ধারিত। পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়াতে পালন করা হয়। |
| রবীন্দ্র জয়ন্তী – ২৫ বৈশাখ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে ২৫ বৈশাখ পালন করা হয়। সাহিত্য ও মানবতার চর্চা বাড়াতে এই দিন উদযাপন হয়। |
| নজরুল জয়ন্তী – ১১ জ্যৈষ্ঠ | কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন স্মরণে পালন করা হয়। সাম্য ও মানবতার আদর্শ শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়। |
| বিশ্ব পরিবেশ দিবস – ৫ জুন soptaho | ১৯৭২ সালের স্টকহোম সম্মেলনের স্মরণে 1-7 ৫ জুন নির্ধারিত। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা গড়ে তুলতে পালন করা হয়। |
| যোগ দিবস – ২১ জুন | ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ২১ জুনকে যোগ দিবস ঘোষণা করে। স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির বার্তা ছড়াতে পালন করা হয়। |
| স্বাধীনতা দিবস – ১৫ আগস্ট | ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারত স্বাধীন হয়। দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার মূল্য স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। |
| শিক্ষক দিবস – ৫ সেপ্টেম্বর | ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন। শিক্ষকদের সম্মান জানাতে তাঁর জন্মদিনেই পালন করা হয়। |
| আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস – ৮ সেপ্টেম্বর | UNESCO ১৯৬৬ সালে এই দিন নির্ধারণ করে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে সচেতনতা গড়তে পালন করা হয়। |
| গান্ধী জয়ন্তী – ২ অক্টোবর | মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। অহিংসা ও সত্যাগ্রহের আদর্শ স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। |
| শিশু দিবস – ১৪ নভেম্বর | জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন। শিশুদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে এই দিন পালন করা হয়। |
| জাতীয় শিক্ষা দিবস – ১১ নভেম্বর | মৌলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন স্মরণে শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। |
| সংবিধান দিবস – ২৬ নভেম্বর | ১৯৪৯ সালে সংবিধান গৃহীত হয়। সেই দিন স্মরণে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পালন করা হয়। |
| মানবাধিকার দিবস – ১০ ডিসেম্বর | ১৯৪৮ সালে মানবাধিকার ঘোষণা গৃহীত হয়। মানবাধিকারের গুরুত্ব বোঝাতে পালন করা হয়। |
| ক্রীড়া দিবস – ২৯ আগস্ট | হকি খেলোয়াড় ধ্যানচাঁদের জন্মদিন। খেলাধুলার গুরুত্ব বোঝাতে দিনটি পালন করা হয়। |
| অরণ্য সপ্তাহ – জুলাই প্রথম সপ্তাহ | বন সংরক্ষণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গাছ লাগানো ও সচেতনতা বাড়াতে পালন করা হয়। |
| বিশ্ব খাদ্য দিবস – ১৬ অক্টোবর | FAO প্রতিষ্ঠা দিবস। খাদ্য নিরাপত্তা সচেতনতা গড়তে পালন করা হয়। |
| বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস – ১১ জুলাই | জনসংখ্যা সমস্যার গুরুত্ব বোঝাতে জাতিসংঘ দিনটি নির্ধারণ করে। |
| আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস – ২১ সেপ্টেম্বর | বিশ্বশান্তি প্রচারের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ দিনটি নির্ধারণ করে। |
| জাতীয় সংহতি দিবস – ৩১ অক্টোবর | সর্দার প্যাটেলের জন্মদিন। জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিতে পালন করা হয়। |
| সরস্বতী পূজা | বিদ্যার দেবীর আরাধনা ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য পালন করা হয়। |
| দুর্গাপূজা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য বিদ্যালয়ে উদযাপন করা হয়। |
| রক্তদান দিবস – ১৪ জুন | রক্তদানের গুরুত্ব বোঝাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দিন নির্ধারণ করে। |
| বিশ্ব ওজোন দিবস – ১৬ সেপ্টেম্বর | ১৯৮৭ সালের মন্ট্রিয়ল প্রটোকল স্মরণে ও পরিবেশ সচেতনতার জন্য পালন করা হয়। |
কেউ যেন না হারিয়ে যায়
- সিধু ও কানু দিবস: সিধু ও কানু মুর্মু ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। আদিবাসীদের জমির অধিকার ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের সংগ্রাম স্মরণে ৩০ জুন “হুল দিবস” পালিত হয়। স্কুলে এই দিন তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদিবাসী আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করা হয়।
- বীরসা মুন্ডা দিবস: বীরসা মুন্ডার জন্মদিন ১৫ নভেম্বর। তিনি মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা ছিলেন এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তাই ১৫ নভেম্বর “জনজাতি গৌরব দিবস” হিসেবে পালিত হয়।
- আরতী ঠাকুর দিবস: আরতী ঠাকুর ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ স্মরণে স্থানীয়ভাবে জন্মদিন বা বিশেষ দিনে অনুষ্ঠান করা হয়।
- তিতুমির দিবস: তিতুমির ১৮৩১ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। ১৪ নভেম্বর তাঁর স্মরণে তিতুমির দিবস পালিত হয়।
কেমন করে সমান ভাগ
বন, পাহাড় ও সমতলের সম্পদ সবার প্রয়োজন। এক অঞ্চলের সম্পদ অন্য অঞ্চলের কাজে লাগে। তাই সম্পদের ন্যায্য ও সমান ভাগ নিশ্চিত করলেই সবার উন্নতি সম্ভব।
আমাদের কৃষিজ সম্পদ: ধান
ধান চাষের সময়: ভারতে ধান সাধারণত বর্ষাকালে চাষ হয়। জুন–জুলাই মাসে বীজতলা তৈরি করে রোপণ করা হয় এবং অক্টোবর–নভেম্বর মাসে কাটাই হয়, একে আমন ধান বলে। গ্রীষ্মকালে বোরো ধান ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে রোপণ করে মার্চ–এপ্রিলে কাটা হয়। আউশ ধান এপ্রিল–মে বোনা হয় ও জুলাই–আগস্টে কাটা হয়।
ধান চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি: দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। জলধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় এসব মাটিতে ধান ভালো জন্মায়। সমতল জমি ও কাদামাটি ধানের জন্য আদর্শ।
ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে ধান উৎপাদন: ভারত বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ ধান উৎপাদক দেশ। প্রধান উৎপাদক রাজ্যগুলি হলো পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও তামিলনাড়ু। পশ্চিমবঙ্গ ভারতে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক, বার্ষিক প্রায় ১৬–১৭ মিলিয়ন টন উৎপাদন করে। রাজ্যের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও হুগলি জেলায় বেশি ধান উৎপন্ন হয়। পূর্ব বর্ধমানকে ‘ধানের গোলা’ বলা হয়। গাঙ্গেয় সমভূমির উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
মানুষের টানা লাঙল
নানা যুগে চাষের নানা কাজে যন্ত্রপাতি, মানুষ ও পশুর নানা রকম ভূমিকা ছিল। এ বিষয়ে বড়দের কাছ থেকে জেনে ও নিজেরা আলোচনা করে লেখো।
দিদিমণি বললেন:
আগে মেয়েরাই প্রথম বুদ্ধি দিয়ে চাষের সূচনা করে। পুরুষেরা শিকার করত, বন থেকে ফলপাতা আনত। মেয়েরা লক্ষ্য করল বীজ থেকে গাছ হয়। তখন গাছ লাগিয়ে বড় করা শুরু হলো।
আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার:
- হারভেস্টার ভাড়া করে আনা হয়।
- এতে দ্রুত ধান কাটা ও ঝাড়াই করা যায়।
- সময় ও শ্রম বাঁচে।
- অর্থনৈতিকভাবে লাভ হয়।
কাজের তালিকা
১. মাটি আলগা করা
২. মাটি সমান করা
৩. বীজ বা চারা বোনা
৪. ঘাস ও আগাছা তোলা
৫. ফসল তোলা
৬. ফসল খাবার মতো করা
সার আর কীটনাশক
প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থা
- কাঠের লাঙল ব্যবহার হতো।
- মানুষ নিজে লাঙল টানত, পরে গরু ও মহিষ ব্যবহৃত হয়।
- জমিতে স্বাভাবিকভাবে গোবর পড়ে সার হিসেবে কাজ করত।
- কীটনাশক হিসেবে নিমপাতা, ছাই ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো।
ধীরে ধীরে পরিবর্তন
- মানুষ বুঝতে পারে গোবর জমির উর্বরতা বাড়ায়।
- জৈব সার ব্যবহারের প্রচলন বাড়ে।
- বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা কৃষি পদ্ধতি গড়ে ওঠে।
- পোকামাকড় দমনে দেশি উপায় ব্যবহৃত হয়।
আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা
- রাসায়নিক সার যেমন ইউরিয়া, পটাশ ব্যবহৃত হয়।
- রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারে ফসল রক্ষা করা হয়।
- ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার ব্যবহার করা হয়।
- উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।
টেবিল: কৃষি পদ্ধতির বিবর্তন
| বিষয় | অনেক কাল আগে | ঠাকুমা-দিদিমাদের যুগে | ইদানীং কালে |
|---|---|---|---|
| মাটি চাষ | মানুষে টানা লাঙল | গরুর লাঙল | ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার |
| সার | স্বাভাবিক গোবর | গোবর ও কম্পোস্ট | ইউরিয়া, পটাশ, জৈব সার |
| কীটনাশক | নিমপাতা, ছাই | দেশি উপায় | রাসায়নিক কীটনাশক |
| ফসল তোলা | হাতে কাটা | কাস্তে | হারভেস্টার |
| ফলন | কম | মাঝারি | বেশি |
| পরিবেশ প্রভাব | প্রায় নেই | কম | তুলনামূলক বেশি |
চালের দাম চার গুণ
সমস্যার সূচনা
- ৪০–৪৫ বছর আগে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে।
- ১৯৬৬ সালের দিকে দুই বছরে চালের দাম চার গুণ বেড়ে যায়।
- এক টাকার চাল পাঁচ টাকা হয়ে যায়।
- খাদ্যসংকট দেখা দেয়।
- উৎপাদন কম ছিল, চাহিদা বেশি ছিল।
সমাধানের প্রচেষ্টা
- নতুন উচ্চফলনশীল বীজ আনা হয়।
- রাসায়নিক সার ব্যবহার বাড়ানো হয়।
- নতুন কীটনাশক বাজারে আসে।
- টিউবওয়েল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হয়।
- বছরে একাধিকবার ধান চাষ শুরু হয়।
সবুজ বিপ্লব
- ১৯৭০ সালের কাছাকাছি সময়ে খাদ্য উৎপাদন দ্রুত বাড়ে।
- এই ঘটনাকে “সবুজ বিপ্লব” বলা হয়।
- ভারত খাদ্যে স্বনির্ভরতার পথে এগোয়।
নেতিবাচক প্রভাব
- অতিরিক্ত রাসায়নিক সার জমির উর্বরতা কমায়।
- উপকারী পোকামাকড় মারা যায়।
- মাটির নিচের জলস্তর নেমে যায়।
- পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়।
- টিউবওয়েলের জল কমে যায়।
নতুন ভাবনা
- জৈব সার ব্যবহার
- অনুজীব সার ব্যবহার
- জৈব কীটনাশক
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ
- টেকসই কৃষি ব্যবস্থা
টেবিল: খাদ্য উৎপাদনের পরিবর্তন
| বিষয় | আগেকার অবস্থা | পরিবর্তনের সময় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| চালের দাম | কম | দ্রুত বৃদ্ধি | স্থিতিশীল |
| বীজ | দেশি জাত | HYV বীজ | উন্নত ও হাইব্রিড |
| সার | গোবর | রাসায়নিক সার | জৈব + রাসায়নিক |
| কীটনাশক | প্রাকৃতিক | রাসায়নিক শুরু | নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার |
| সেচ | বৃষ্টিনির্ভর | টিউবওয়েল | বহুমুখী সেচ |
| ফলন | কম | দ্রুত বৃদ্ধি | স্থিতিশীল কিন্তু পরিবেশ ভাবনা |
| জমির স্বাস্থ্য | স্বাভাবিক | ক্ষয় শুরু | পুনরুদ্ধারের চেষ্টা |
| জলস্তর | স্থিতিশীল | কমতে শুরু | সংরক্ষণ প্রয়োজন |
| পোকামাকড় | স্বাভাবিক ভারসাম্য | উপকারী পোকা হ্রাস | জৈব নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন |
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
প্রাচীন কৃষি ও বৃষ্টিনির্ভর চাষ
- আগে লোহার ফলা লাগানো লাঙল দিয়ে গরু চাষ করত।
- চাষ সম্পূর্ণ বৃষ্টিনির্ভর ছিল।
- বর্ষাকালে ধান চাষ হতো।
- শীতকালে ডাল, কপি, পেঁয়াজ, আলু ইত্যাদি চাষ হতো।
- গরমকালে বিট, পটল, ট্যাঁড়শ চাষ হতো।
জল ব্যবস্থাপনা
- নদী, খাল, পুকুরে জমে থাকা জল ব্যবহার করা হতো।
- ডোবা কেটে জল সেচ দেওয়া হতো।
- বেশিরভাগ জমিতে একবারই ধান চাষ হতো।
- কীটনাশক ব্যবহার ছিল না বা খুব কম ছিল।
ধানের প্রকারভেদ
- আউশ ধান → কম জল লাগে, উঁচু জমিতে চাষ।
- আমন ধান → বেশি জল লাগে, নিচু জমিতে চাষ।
- আমনের গাছ বড় ও কিছু মোটা ধান হতো।
ধান মাড়াই ও সংরক্ষণ
- চেরা বাঁশ দিয়ে তৈরি ফাঁকাকাঁটা ধান-ঝাড়া ব্যবহার করা হতো।
- খড়ের উপর পিটিয়ে ধান আলাদা করা হতো।
- বাঁশের কাঠামোর উপর খড়ের ছাউনি দিয়ে গোলা তৈরি করা হতো।
- সেখানে ধান সংরক্ষণ করা হতো।
পাহাড়ি ও ভিন্ন অঞ্চলের চাষ
- পাহাড়ে সিঁড়ির মতো জমি তৈরি করে চাষ (ধাপ-চাষ)।
- দার্জিলিং অঞ্চলে চা বাগান গড়ে ওঠে।
- কিছু জমিতে আগে পাট, পরে আমন ধান।
- দালানকুড়ো মাটিতে আউশ ধান ও ডাল, ভুট্টা, বাদাম চাষ।
বিভিন্ন ঋতুতে কৃষি উৎপাদন
| কী জাতীয় উৎপন্ন দ্রব্য | উৎপন্ন দ্রব্যের নাম | কোন ঋতুতে উৎপন্ন হয় | জল প্রয়োজন | জমির ধরন | বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|---|
| দানাশস্য জাতীয় | আউশ ধান | বর্ষার শুরু | কম | উঁচু জমি | ছোট গাছ |
| দানাশস্য জাতীয় | আমন ধান | বর্ষাকাল | বেশি | নিচু জমি | বড় গাছ |
| ডাল / আনাজ | মুসুর, ছোলা | শীতকাল | মাঝারি | সমতল জমি | পুষ্টিকর |
| সবজি | আলু, কপি, পেঁয়াজ | শীতকাল | মাঝারি | উর্বর মাটি | বাজারমূল্য বেশি |
| গ্রীষ্মকালীন ফসল | পটল, ট্যাঁড়শ | গ্রীষ্ম | মাঝারি | উঁচু জমি | দ্রুত বৃদ্ধি |
| অর্থকরী ফসল | পাট | বর্ষা | বেশি | জলাবদ্ধ জমি | তন্তু উৎপাদন |
| পাহাড়ি ফসল | চা | সারা বছর | নিয়ন্ত্রিত | ঢালু জমি | রপ্তানিযোগ্য |
ওরে বৃষ্টি দূরে যা
এলাকার কৃষির বৈশিষ্ট্য
- ওই অঞ্চলে নানা ধরনের লতানো গাছ জন্মায়।
- বিটের মতো দেখতে ও পেঁপের মতো স্বাদের ফল “স্কোয়াশ” চাষ হয়।
- কমলালেবুর বাগান রয়েছে।
- চা প্রধান ফসল।
- সারা বছর ঠান্ডা আবহাওয়া থাকে।
আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত
- পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি হয়।
- কিন্তু জল জমে থাকে না।
- পাহাড়ের ঢাল দিয়ে জল নেমে যায়।
- নদী যেমন তিস্তা ও মহানন্দা জল বহন করে নিয়ে যায়।
চাষের ধরন
- ধাপ-চাষ (সিঁড়ির মতো জমি তৈরি করে চাষ)।
- ধান খুব বেশি হয় না।
- গম, ভুট্টা, আলু, আদা, সবজি বেশি চাষ হয়।
- শীতের সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং প্রচুর উৎপন্ন হয়।
এলাকার ফসল ও ব্যবহার
| কী কী ফসল উৎপন্ন হয় | ফসল কত দামে বিক্রি হয় | ওই ফসল কী ধরনের ব্যবহার হয় | কোন ঋতুতে কোন ফসল বেশি |
|---|---|---|---|
| চা | উচ্চমূল্য (রপ্তানি) | পানীয় তৈরি | সারা বছর |
| কমলালেবু | মাঝারি থেকে উচ্চ | ফল ও জুস | শীতকাল |
| স্কোয়াশ ফল | মাঝারি | খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় | বর্ষা-শরৎ |
| আলু | মাঝারি | খাদ্য | শীতকাল |
| ফুলকপি | মাঝারি | সবজি | শীতকাল |
| বাঁধাকপি | মাঝারি | সবজি | শীতকাল |
| পালং | কম-মাঝারি | শাক | শীতকাল |
| ভুট্টা | মাঝারি | খাদ্য ও পশুখাদ্য | বর্ষা-শরৎ |
| আদা | উচ্চ | মসলা ও ওষুধ | বর্ষা |
| গম | মাঝারি | আটা | শীত-গ্রীষ্ম |
তোরাই আর মালদা দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষি
কাছাকাছি অঞ্চলের ফসল
- শাকসবজি চাষ হয়।
- আম, লিচু ফল জন্মায়।
- তুঁত গাছ চাষ হয় (রেশম কীট পালনের জন্য)।
- তুঁত এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ফসল।
মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষি
মাটির বৈশিষ্ট্য
- তিস্তা ও মহানন্দার পলি জমে মাটি উর্বর হয়েছে।
- ভালো ফলন হয়।
প্রধান ফসল
- ধান (সবচেয়ে বেশি)
- পাট
- গম
- বাদাম
- বিভিন্ন সবজি
তরাই অঞ্চলের কৃষি
- তরাই অঞ্চল পাহাড়ের পাদদেশে সমতল জমি।
- জল দাঁড়ায় না।
- খুব বেশি গরম নয়।
- চা চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।
বৈশিষ্ট্য
- দার্জিলিং চা সুগন্ধি ও বিখ্যাত।
- উচ্চ মূল্যে রপ্তানি হয়।
ফল উৎপাদন
- তরাই অঞ্চলে আনারস ও কলা বিখ্যাত।
- জুলাই মাসে আনারস বেশি পাওয়া যায়।
বৃষ্টিপাত ও জলপ্রবাহ
- উত্তরের পাহাড়ে বেশি বৃষ্টি হয়।
- দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় বেশি।
- নদী দিয়ে জল দক্ষিণে বয়ে যায়।
| অঞ্চল | মাটির ধরন | প্রধান ফসল | ফল | বিশেষ বৈশিষ্ট্য | বৃষ্টিপাত |
|---|---|---|---|---|---|
| মালদা | পলিমাটি | ধান, পাট | আম | উর্বর জমি | মাঝারি |
| দক্ষিণ দিনাজপুর | পলিমাটি | ধান, গম | বিভিন্ন ফল | নদীপারের জমি | মাঝারি |
| তরাই অঞ্চল | সমতল, জল নিষ্কাশন ভালো | চা | আনারস, কলা | পাহাড় পাদদেশ | বেশি |
| দার্জিলিং পাহাড় | ঢালু জমি | চা | কমলালেবু | ধাপ-চাষ | বেশি |
| স্থানীয় অনুর্বর অঞ্চল | অপেক্ষাকৃত কম উর্বর | শাকসবজি | লিচু | তুঁত চাষ | মাঝারি |
গাঙ্গেয় বদ্বীপ আর রাঢ় অঞ্চলের কৃষি
ডিভিসি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ
- দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন গঠন করা হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য।
- পাহাড় থেকে নেমে আসা বর্ষার জল বাঁধে জমিয়ে রাখার পরিকল্পনা ছিল।
- পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে জলাধার তৈরির কথা ছিল।
- বাস্তবে সব জলাধার তৈরি হয়নি।
- অতিরিক্ত জল দ্রুত ছাড়া হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা হয়।
- বর্ষাকালে জল ছাড়তে হয়, পরে সেচের জন্য জল ঘাটতি দেখা দেয়।
গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল
বৈশিষ্ট্য
- সমতল ভূমি
- নদীবাহিত পলিমাটি
- ধানের জন্য উপযুক্ত
প্রধান ফসল
- আমন ধান
- উচ্চ ফলনশীল ধান
- আলু (শীতকালে)
- শীতকালীন সবজি
রাঢ় অঞ্চল
বৈশিষ্ট্য
- কিছু অংশ সমতল
- দামোদর নদীর প্রভাব
- কিছু এলাকায় বন্যা সমস্যা
ফসল
- ধান
- আলু
- সবজি
- কিছু অঞ্চলে কম ফলন
অঞ্চলভেদে পার্থক্য
- পূর্বদিকের জমি বেশি উর্বর।
- পশ্চিমদিকে বন্যা বেশি হয়।
- ডিভিসির জল ব্যবস্থাপনা কৃষিতে প্রভাব ফেলে।
অঞ্চলভিত্তিক কৃষির তুলনা
| বিষয় | গাঙ্গেয় বদ্বীপ | রাঢ় অঞ্চল | সমস্যা | সম্ভাবনা |
|---|---|---|---|---|
| ভূমির ধরন | সমতল, পলিমাটি | আংশিক সমতল | বন্যা | সেচ উন্নয়ন |
| প্রধান ফসল | আমন ধান | ধান | অতিরিক্ত জল | বহুমুখী চাষ |
| শীতকালীন ফসল | আলু, সবজি | আলু | জলাভাব | জল সংরক্ষণ |
| বৃষ্টিপাত | মাঝারি-উচ্চ | মাঝারি | ডিভিসি জলছাড়া | নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা |
| উৎপাদন | বেশি | মাঝারি | ফসল নষ্ট | প্রযুক্তি উন্নয়ন |
ফসল মানচিত্র
পাঠ্যাংশের বিশ্লেষণ
- গাঙ্গেয় অঞ্চলে পূর্বদিকে বেশি সবজি চাষ হয়।
- পশ্চিমদিকে কিছু কিলোমিটার জুড়েও সবজি চাষ হয়।
- দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদীর দুপাশে প্রচুর সবজি চাষ।
- নদী থেকে দূরে গেলে সবজি চাষ কমে যায়।
- সরষে ও তিল চাষ হয়।
- বিট, পটল, বেগুন, ট্যাঁড়শ ও নানা ফুল চাষ হয়।
মূল ধারণা: নদীর নিকটবর্তী উর্বর পলিমাটি অঞ্চলে সবজি ও তেলবীজের চাষ বেশি।
পানের চাষ ফুলের চাষ
ফলের বাগান
- মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনায় আমবাগান বেশি।
- পশ্চিম দিকে ফলের বাগান তুলনামূলক কম।
- পূর্ব দিকে এখন অনেক জায়গায় আমবাগান, কলাবাগান হয়েছে।
- কোথাও এক বাগানেই আম, লিচু, বাতাবি, কাঁঠাল গাছ থাকে।
পানের চাষ
- পান গাছ লতানো, ছায়াযুক্ত পরিবেশে ভালো হয়।
- প্রায় সব জায়গায় পানের চাষ হয়।
- পলিমাটিতে পান ভালো জন্মায়।
- দক্ষিণ দিকে সুপারি ও নারকেল বেশি হয়।
ফুলের চাষ
- গাঁদা, গোলাপ, জবা ইত্যাদি ফুল চাষ হয়।
- অনেক জায়গায় ফুল চাষ হয়।
- শহরের কাছাকাছি অঞ্চলে ফুলের চাষ বেশি।
- কারণ শহরে ফুলের বাজার রয়েছে।
ফল, পান ও ফুল চাষের তথ্য
| জায়গার নাম | ফসল/ফুল/ফলের নাম | গাছগুলো কত উঁচু হয় | গাছ লাগানোর কতদিন পরে ফল/ফুল হয় | কী কী সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় |
|---|---|---|---|---|
| মালদা | আম | ১০–১৫ মিটার | ৩–৫ বছর | জৈব সার, ইউরিয়া |
| মুর্শিদাবাদ | লিচু | ৮–১০ মিটার | ৪–৫ বছর | গোবর সার, পটাশ |
| নদিয়া | পান | লতানো | ৬–৮ মাস | জৈব সার, কম কীটনাশক |
| দক্ষিণ ২৪ পরগনা | নারকেল | ১৫–২০ মিটার | ৫–৭ বছর | জৈব সার |
| হুগলি | ফুল (গাঁদা) | ১–২ ফুট | ৩–৪ মাস | কম্পোস্ট, সামান্য কীটনাশক |
| উত্তর ২৪ পরগনা | কলা | ৬–৮ ফুট | ১০–১২ মাস | গোবর সার, পটাশ |
পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি লাল মাটির কৃষি
ভৌগোলিক অবস্থা
- দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম সীমান্তে কাঁকুরে লালমাটি।
- বৃষ্টিপাত কম, জল দ্রুত নেমে যায়।
- মাটির উর্বরতা ও জলধারণ ক্ষমতা কম।
- উঁচু–নিচু ঢালু জমি বেশি।
জল ও সেচ ব্যবস্থা
- বৃষ্টিনির্ভর চাষ প্রধান।
- ছোট বাঁধ ও আল দিয়ে জল আটকানো হয়।
- ধাপ-চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- দূরের জমিতে বেশি সার প্রয়োজন।
প্রধান ফসল
ডালশস্য: মটর, অড়হর, মুসুর
তরিতরকারি: বিট, বরবটি, সিম
শস্য: ভুট্টা
তেলবীজ: বাদাম
ফল: আতা, আম, বেল, মুসলাম্বি
ধান চাষের পরিবর্তন
- আগে ধান কম হতো।
- এখন উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ বাড়ছে।
- উঁচু জমি কেটে ছোট আকারের চাষের ক্ষেত তৈরি হয়েছে।
লালমাটির অঞ্চলের কৃষির বিশদ তুলনা
| বিষয় | বৈশিষ্ট্য | প্রভাব | সমাধান |
|---|---|---|---|
| মাটি | লাল, কাঁকুরে | কম উর্বরতা | জৈব সার ব্যবহার |
| বৃষ্টি | কম | জলাভাব | জল সংরক্ষণ |
| ভূমিরূপ | উঁচু–নিচু | সেচ সমস্যা | ধাপ-চাষ |
| প্রধান ফসল | ডাল, ভুট্টা | কম জল প্রয়োজন | ফসল বৈচিত্র্য |
| ধান | আগে কম | উৎপাদন কম | HYV বীজ |
| ফল | আতা, বেল | বাজার নির্ভর | পরিচর্যা বৃদ্ধি |
| সার ব্যবহার | বেশি প্রয়োজন | খরচ বৃদ্ধি | সুষম সার প্রয়োগ |
| পরিবেশ | শুষ্ক | মাটিক্ষয় | বৃক্ষরোপণ |
দক্ষিণের নানা জমির কৃষি ও মাছ চাষ
ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
- সমুদ্রের কাছাকাছি নোনা মাটি।
- বৃষ্টিপাত তুলনামূলক বেশি।
- অনেক জমিতে জল জমে থাকে।
- কৃষির জন্য সব জমি উপযুক্ত নয়।
ধান চাষ
- আগে দেশি আমন ধান চাষ হতো।
- মোটা ধান, লম্বা খড়।
- জল জমে থাকলে এই ধান ভালো হতো।
- ফলন তুলনামূলক কম।
- এখন উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ বাড়ছে।
অন্যান্য কৃষি উৎপাদন
- ফল
- নারকেল
- সুপারি
- পেয়ারা (বারুইপুর বিখ্যাত)
- সবজি ও অন্যান্য
- লঙ্কা
- সুমুখী
- ভুট্টা
- পেঁপে
- কাজুবাদাম
ভেড়ি চাষ (Brackish Water Fish Farming)
- অনেকেই জমিতে চাষ না করে ভেড়ি করেন।
- ভেড়িতে জল আটকে মাছ চাষ হয়।
- লবণাক্ত জলে বিশেষ মাছ চাষ করা হয়।
- ভেড়ির মাছ
- পারসে
- ট্যাংরা
- ভেটকি
- পাবদা
- বাগদা চিংড়ি
- গলদা চিংড়ি
সমুদ্র মাছ ধরা
- উপকূল অঞ্চলে বহু মানুষ সমুদ্রে মাছ ধরেন।
- নৌকা করে সমুদ্রে যান।
- সাড়িন
- ইলিশ
- নানা রকম চাঁদা
- ভোলা
- লোটে
দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন
| বিভাগ | উৎপাদনের নাম | বৈশিষ্ট্য | ব্যবহার | অর্থনৈতিক গুরুত্ব |
|---|---|---|---|---|
| ধান | আমন, HYV | জলসহিষ্ণু | খাদ্য | স্থানীয় চাহিদা |
| ফল | নারকেল | লবণাক্ত সহিষ্ণু | খাদ্য ও তেল | উচ্চ |
| ফল | পেয়ারা | মিষ্টি স্বাদ | ফল ও প্রক্রিয়াজাত | বিখ্যাত |
| সবজি | লঙ্কা | মসলাজাত | রান্না | বাজারমূল্য ভালো |
| ভেড়ি মাছ | ভেটকি | লবণাক্ত জল | খাদ্য | রপ্তানি |
| চিংড়ি | বাগদা | উচ্চমূল্য | রপ্তানি | খুব বেশি |
| সমুদ্র মাছ | ইলিশ | জনপ্রিয় | খাদ্য | জাতীয় গুরুত্ব |
| নদীমাছ | পাবদা | মিষ্টি জল | খাদ্য | মাঝারি |