WBBPE Class 5 Notes: Amader Paribesh – Unit 10 Poribesh O Aakash

Rate this post
(ক) সূর্যগ্রহণ।
খ) চন্দ্রগ্রহণ।
(গ) চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর গতিপথ।
(ঘ) জোয়ার-ভাটা।
(ঙ) সূর্য-সকল শক্তির উৎস।
(চ) নক্ষত্র মণ্ডল।
মেঘের ছায়া চাঁদের ছায়া: দিন দুপুরে সূর্য ঢাকা
পুরো ঢাকা খানিক ঢাকা পূর্ণ গ্রহণ খণ্ড গ্রহণ
চন্দ্রগ্রহণ
পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথ
জোয়ারভাটা
কেন সাড়ে বারো ঘন্টা
সূর্যই সব শক্তির উৎস
জীবজগত বাঁচিয়ে রাখবো আমরা
আকাশে কত তারা

মেঘের ছায়া চাঁদের ছায়া: দিন দুপুরে সূর্য ঢাকা

দুপুরে রোদ থাকলেও মেঘের মতো অন্য কিছু সূর্যকে আড়াল করতে পারে কি না, এই প্রশ্ন থেকেই আলোচনা শুরু। সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে যদি চাঁদ এসে পড়ে, তবে চাঁদ সূর্যের আলো আটকে দিতে পারে। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। ঘুরতে ঘুরতে কখনও এমন অবস্থায় আসে, যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় থাকে। তখন চাঁদ মাঝখানে থাকে, সূর্য পেছনে এবং পৃথিবী সামনে।

এই অবস্থায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অংশে পড়ে। সেই অংশের মানুষ কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে দেখতে পায় না। সূর্য যেন আড়াল হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই সূর্যগ্রহণ বলা হয়। চাঁদ যতক্ষণ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে থাকে, ততক্ষণ সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণ ঢাকা থাকতে পারে। পরে চাঁদ সরে গেলে আবার সূর্য দেখা যায়।

ছায়া পড়ার বিষয়টি বুঝতে হলে তিনটি জিনিস মনে রাখতে হয়

  1. সূর্য আলোর উৎস
  2. চাঁদ মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়
  3. পৃথিবীর ওপর চাঁদের ছায়া পড়ে

নিচে বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে দেখানো হলো

বিষয়বিস্তারিত ব্যাখ্যা
সূর্যের ভূমিকাসূর্য আলো দেয় এবং পৃথিবীকে আলোকিত করে
চাঁদের অবস্থানসূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এলে আলো আটকায়
পৃথিবীতে প্রভাবচাঁদের ছায়া পড়ে, কিছু সময় সূর্য দেখা যায় না
যে স্থানে ছায়া পড়েশুধু সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলেই গ্রহণ দেখা যায়
গ্রহণের স্থায়িত্বঅল্প সময়ের জন্য হয়, পরে চাঁদ সরে গেলে শেষ হয়
কেন রোজ হয় নাচাঁদের কক্ষপথ সবসময় একই সরলরেখায় থাকে না
কীভাবে বোঝা যায়আকাশ পর্যবেক্ষণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব করে আগেই জানা যায়

সূর্যগ্রহণ তাই হঠাৎ কোনো অদ্ভুত ঘটনা নয়, বরং সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর নির্দিষ্ট অবস্থানের ফল। এটি একটি স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যা বিজ্ঞানীরা আগেই গণনা করে জানাতে পারেন।

The Earth Moon System

পুরো ঢাকা খানিক ঢাকা পূর্ণ গ্রহণ খণ্ড গ্রহণ

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (Total Solar Eclipse):

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ একটি বিরল ও বিস্ময়কর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। এটি ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের পুরো দৃশ্যমান অংশ ঢেকে দেয়। তখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এই অবস্থায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে এবং সেই ছায়ার দুটি প্রধান অংশ থাকে: উম্ব্রা(UMBRA) ও পেনুম্ব্রা(PENUMBRA)।

উম্ব্রা হলো চাঁদের গাঢ় কেন্দ্রীয় ছায়া, যেখানে সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। পৃথিবীর যে অংশে উম্ব্রা পড়ে, সেখানকার মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পায়। এই অঞ্চল খুব সরু হয় এবং সেখানে কিছু সময়ের জন্য আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়। সূর্যের উজ্জ্বল অংশ পুরোপুরি ঢাকা পড়লেও তার বাইরের স্তর, যাকে করোনা বলা হয়, সাদা আলোর মুকুটের মতো দেখা যায়।

পেনুম্ব্রা হলো চাঁদের হালকা ছায়া, যেখানে সূর্যের আলো আংশিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। পৃথিবীর যে অংশে পেনুম্ব্রা পড়ে, সেখানে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। অর্থাৎ সূর্যের কিছু অংশ ঢাকা থাকে, কিন্তু পুরোটা নয়।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং পৃথিবীর একটি সীমিত অঞ্চলে দেখা যায়। চাঁদের কক্ষপথ সামান্য হেলানো হওয়ায় প্রতিটি অমাবস্যায় গ্রহণ ঘটে না। বিজ্ঞানীরা সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর অবস্থান গণনা করে বহু বছর আগেই গ্রহণের সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা বিপজ্জনক। সঠিক সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রকৃতির এক অনন্য ও বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যাত ঘটনা।

[পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় চাঁদের পেনুম্ব্রা সব জায়গায় সমানভাবে পড়ে না। চাঁদের অবস্থান ও পৃথিবীর অক্ষের হেলনের কারণে পেনুম্ব্রার কিছু অংশ কখনও উত্তর মেরু বা দক্ষিণ মেরুর দিকে বেশি প্রসারিত হতে পারে।

প্রথম বিন্দু, মধ্য অক্ষাংশের কাছাকাছি
এখানে সূর্যের একটি বড় অংশ ঢাকা পড়ে। সূর্যকে অর্ধচন্দ্রের মতো দেখা যায়। স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে সূর্যের এক পাশ কাটা হয়েছে। আলো কিছুটা কমে যায় এবং খণ্ডগ্রাস গ্রহণ পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

দ্বিতীয় বিন্দু, মেরুর আরও কাছে
এখানে পেনুম্ব্রা পাতলা হয়ে যায়। সূর্যের তুলনামূলক কম অংশ ঢাকা পড়ে। সূর্য প্রায় গোল দেখায়, শুধু এক পাশে সামান্য খাঁজের মতো অংশ দেখা যায়। আলো প্রায় স্বাভাবিক থাকে।

তৃতীয় বিন্দু, পেনুম্ব্রার একেবারে প্রান্তে, মেরু অঞ্চলের দিকে
এখানে সূর্যের খুব অল্প অংশ ঢাকা পড়ে। সূর্য প্রায় সম্পূর্ণ গোলই দেখা যায়। অনেক সময় গ্রহণ বোঝাই কঠিন হয়ে যায়। কোথাও কোথাও গ্রহণ দেখা নাও যেতে পারে।

এই পার্থক্যের কারণ হলো পেনুম্ব্রা শঙ্কুর মতো ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্র থেকে দূরে গেলে ছায়া দুর্বল হয়। তাই পেনুম্ব্রার গভীরতার উপর নির্ভর করে সূর্যের আকার অর্ধচন্দ্র থেকে প্রায় পূর্ণ বৃত্ত পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে।]

খণ্ডগ্রাস(Partial Solar Eclipse):

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse):

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হলো এমন এক ধরনের সূর্যগ্রহণ যেখানে চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে পড়ে, কিন্তু সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢাকতে পারে না। এই অবস্থায় সূর্যের চারদিকে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বলয় বা আংটির আকৃতি দেখা যায়। তাই একে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়। ইংরেজিতে একে Annular Solar Eclipse বলা হয়।

এটি ঘটে তখনই, যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি দূরে অবস্থান করে। চাঁদের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় কখনও চাঁদ পৃথিবীর কাছে থাকে, আবার কখনও দূরে সরে যায়। দূরে থাকলে আকাশে চাঁদের আপাত আকার ছোট দেখায়। সেই সময় চাঁদ সূর্যের সামনে এলেও সূর্যের সম্পূর্ণ অংশ ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের মাঝখান অন্ধকার হয়ে যায়, কিন্তু চারপাশে উজ্জ্বল আলোর বৃত্ত দেখা যায়।

এই গ্রহণের সময় চাঁদের মূল ছায়া, অর্থাৎ উমব্রা, অনেক সময় পৃথিবীর পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না। তার পরিবর্তে অ্যান্টামব্রা নামে একটি অংশ পৃথিবীতে পড়ে। যে অঞ্চলে অ্যান্টামব্রা পড়ে, সেখানকার মানুষ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পায়। আর যে অঞ্চল পেনামব্রায় থাকে, সেখানে আংশিক গ্রহণ দেখা যায়।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। কারণ সূর্যের উজ্জ্বল আলো চোখের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমা বা উপযুক্ত ফিল্টার ব্যবহার করে এটি দেখা উচিত।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ একটি বিরল ও মনোমুগ্ধকর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যা সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর নিখুঁত অবস্থানের ফলস্বরূপ ঘটে। বিজ্ঞানীরা এই সময় সূর্যের গঠন ও আলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন।

চন্দ্রগ্রহণ

lunar eclipse diagram

তোমার দেওয়া চারটি ছবির সাহায্যে চন্দ্রগ্রহণের চারটি অবস্থাকে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করছি। এগুলো যথাক্রমে পূর্ণগ্রাস, খণ্ডগ্রাস, উপচ্ছায়া গ্রহণ এবং গ্রহণ নয়।

প্রথম অবস্থা: পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (Total Lunar Eclipse)
সূর্য একদিকে, পৃথিবী মাঝখানে এবং চাঁদ পৃথিবীর ঠিক পিছনে থাকে। চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর গাঢ় ছায়া উমব্রার মধ্যে ঢুকে যায়। তখন সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদের উপর পড়তে পারে না। ফলে চাঁদ লালচে বা তামাটে রঙের দেখা যায়। এটিই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।

দ্বিতীয় অবস্থা: খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (Partial Lunar Eclipse)
চাঁদের একাংশ পৃথিবীর উমব্রার মধ্যে থাকে, কিন্তু পুরো চাঁদ নয়। বাকি অংশ আলো পায়। তাই চাঁদের একদিক অন্ধকার আর অন্যদিক উজ্জ্বল দেখা যায়। এই অবস্থাকে খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।

তৃতীয় অবস্থা: উপচ্ছায়া বা পেনামব্রাল চন্দ্রগ্রহণ (Penumbral Lunar Eclipse)
চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়া পেনামব্রার মধ্যে থাকে, কিন্তু উমব্রায় ঢোকে না। তখন চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয় না, শুধু একটু ম্লান বা ফ্যাকাসে দেখায়। অনেক সময় খালি চোখে বোঝাও কঠিন হয়। এটিকে উপচ্ছায়া গ্রহণ বলে।

চতুর্থ অবস্থা: কোনো গ্রহণ নয় (No Eclipse)
যদি সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ এক সরলরেখায় না থাকে, তাহলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে না। তখন চাঁদ স্বাভাবিক পূর্ণিমার মতোই দেখা যায়। এই অবস্থায় চন্দ্রগ্রহণ হয় না।

পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথ

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট পথে ঘোরে। এই পথকে কক্ষপথ বলা হয়। একই সময়ে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপরও ঘোরে। পৃথিবীর এই নিজের অক্ষে ঘোরার ফলেই দিন ও রাত হয়। পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে সেখানে দিন হয়, আর বিপরীত অংশে রাত হয়।

চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। চাঁদেরও একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ আছে। পৃথিবী যেমন সূর্যের চারদিকে ঘোরে, তেমনি চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। অর্থাৎ একই সঙ্গে তিনটি গতি চলছে। সূর্য স্থির অবস্থায় আছে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করছে এবং নিজের অক্ষের উপর ঘূর্ণন করছে, আর চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে পরিভ্রমণ করছে।

ছবিতে ডিম্বাকার রেখা দেখা যাচ্ছে। এই রেখাগুলো কক্ষপথ নির্দেশ করে। কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয়, কিছুটা ডিম্বাকার। পৃথিবীর কক্ষপথ বড় এবং চাঁদের কক্ষপথ ছোট। চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, কারণ পৃথিবী যেদিকে যায় চাঁদও সেই দিকেই যায়।

জোয়ারভাটা

সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের অবস্থানের কারণে সমুদ্র ও নদীর জলে ওঠানামা হয়। চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ পৃথিবীর জলকে নিজের দিকে টানে। ফলে চাঁদের দিকের সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে, এটিই জোয়ার। পৃথিবীর বিপরীত দিকেও জল ফুলে ওঠে, কারণ পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাব থাকে। তাই একই সময়ে পৃথিবীর দুই পাশে জোয়ার হয়।

যেখানে জল বাড়ে তাকে জোয়ার বলে, আর যেখানে জল কমে যায় তাকে ভাটা বলে। সাধারণত প্রায় ছয় ঘণ্টা পরপর জল বাড়ে ও কমে। অর্থাৎ দিনে প্রায় দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ এক সরলরেখায় থাকলে চাঁদ ও সূর্যের সম্মিলিত আকর্ষণে বেশি জোয়ার হয়, এটিকে মুখ্য জোয়ার বলে। অষ্টমী তিথির সময় সূর্য ও চাঁদ সমকোণে থাকলে জোয়ারের উচ্চতা কম হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বলে।

বিষয়উত্তর
জোয়ারভাটা হয় এমন পাঁচটা নদীর নামগঙ্গা, হুগলি, রূপনারায়ণ, মহানদী, গোদাবরী
নদীগুলো রাজ্যের কোনদিকে অবস্থিতপ্রধানত দক্ষিণবঙ্গ ও উপকূলীয় অঞ্চলে, সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায়
জোয়ারভাটা হয় না এমন পাঁচটা নদীর নামদামোদর, তিস্তা, মহানন্দা, কোসি, উজানের ব্রহ্মপুত্র
মুখ্য জোয়ারের কত সময় পরে ভাটা হয়প্রায় ৬ ঘণ্টা পরে
মুখ্য জোয়ারের কত পরে গৌণ জোয়ার হয়প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে
আজ দুপুর একটায় মুখ্য জোয়ার হলে কাল কয়টায় মুখ্য জোয়ার হতে পারেপ্রায় ২৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পরে, অর্থাৎ পরদিন প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে

এভাবে বোঝা যায় যে জোয়ারভাটা চাঁদের আকর্ষণের জন্য প্রধানত ঘটে, তবে পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং সূর্যের আকর্ষণও এতে ভূমিকা রাখে। সমুদ্রের কাছে নদীগুলোতে জোয়ারভাটা বেশি দেখা যায়, কিন্তু উজানের নদীগুলোতে সাধারণত জোয়ারভাটা হয় না।

Understanding tides High and low explained

কেন সাড়ে বারো ঘন্টা

পৃথিবীর যে দিকটি চাঁদের সামনে থাকে সেখানে মুখ্য জোয়ার হয়। পৃথিবীর বিপরীত দিকে গৌণ জোয়ার হয়। পৃথিবী নিজের অক্ষে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘোরে। কিন্তু চাঁদও একই সময়ে নিজের কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। ফলে পৃথিবীকে আবার চাঁদের ঠিক সামনে আসতে অতিরিক্ত প্রায় ২৬ মিনিট সময় লাগে। তাই এক মুখ্য জোয়ার থেকে পরের মুখ্য জোয়ার হতে প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট সময় লাগে। এ কারণে জোয়ার-ভাটা প্রায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ মিনিট করে পিছিয়ে যায়।

চাঁদের আকর্ষণ শক্তিই মুখ্য জোয়ারের প্রধান কারণ। পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে বিপরীত দিকেও গৌণ জোয়ার সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর যে দিক চাঁদের দিকে মুখ করে থাকে সেখানে জল ফুলে ওঠে। বিপরীত দিকেও জলের স্তর কিছুটা বাড়ে। মাঝামাঝি অংশে জল কমে যায়, সেখানে ভাটা হয়।

অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করে। তখন সূর্য ও চাঁদের যৌথ আকর্ষণে জল বেশি ফুলে ওঠে। একে ভরা কোটাল বা বসন্ত জোয়ার বলে। অষ্টমী ও অষ্টমীর কাছাকাছি সময় সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর সাথে সমকোণে অবস্থান করে। তখন জোয়ারের জল তুলনামূলক কম বাড়ে। একে মরা কোটাল বা নীপ জোয়ার বলে।

এখন নিচের তথ্যগুলো টেবিল আকারে সাজানো হলো।

প্রশ্ন/বিষয়সঠিক উত্তর
জোয়ারের জল বেশি ওঠেঅমাবস্যার দিন এবং পূর্ণিমার দিন
জোয়ারের জল সবচেয়ে বেশি ওঠেঅমাবস্যা ও পূর্ণিমায়, যখন সূর্য-পৃথিবী-চাঁদ একই সরলরেখায় থাকে
জোয়ারের জল কম ওঠেঅষ্টমী তিথির কাছাকাছি সময়ে
ভরা কোটাল কবে হয়অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়
মরা কোটাল কবে হয়শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীর কাছাকাছি সময়ে
এক মুখ্য জোয়ার থেকে পরের মুখ্য জোয়ারপ্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরে
প্রতিদিন জোয়ারের সময়ের পার্থক্যপ্রায় ৫০ মিনিট পিছিয়ে যায়
গৌণ জোয়ার কেন হয়পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবে বিপরীত দিকে জলের স্ফীতি ঘটে
ভাটা কোথায় হয়জোয়ার এলাকার মাঝামাঝি অংশে

সূর্যই সব শক্তির উৎস

সূর্য পৃথিবীর প্রধান শক্তির উৎস। সূর্য পৃথিবীকে আকর্ষণ করে, তবে জোয়ার-ভাটার ক্ষেত্রে চাঁদের প্রভাব বেশি দেখা যায়, কারণ চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে। সূর্যও সমুদ্রের জল টানে, কিন্তু দূরত্ব বেশি হওয়ায় তার প্রভাব তুলনামূলক কম।

সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট সময় লাগে। সূর্যের পরে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রোক্সিমা সেন্টৌরি। সেখান থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে ৪ বছরেরও বেশি সময় লাগে। অর্থাৎ নক্ষত্রগুলো অনেক দূরে অবস্থিত। অনেক নক্ষত্র সূর্যের চেয়েও বড়, কিন্তু তারা দূরে থাকায় পৃথিবীতে বিশেষ প্রভাব ফেলে না।

পৃথিবীর আলো ও তাপের প্রধান উৎস সূর্য। গাছপালা সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষ বলে। সূর্যের আলো না থাকলে গাছ জন্মাতে পারত না, খাদ্য উৎপাদন হতো না, প্রাণী ও মানুষও বাঁচতে পারত না। কাঠ পুড়লে যে তাপ পাওয়া যায়, সেটিও মূলত সূর্যের শক্তি, কারণ গাছ সূর্যের শক্তি সঞ্চয় করে রাখে।

এখন প্রশ্ন অনুযায়ী টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো।

শক্তি বা কাজের নামআলোচনার সিদ্ধান্তকেন এমন সিদ্ধান্ত
গাছের খাদ্য তৈরিসূর্যের শক্তি থেকে পাইগাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে
কাঠ পোড়ালে তাপ পাওয়াসূর্যের শক্তি থেকে পাইগাছ সূর্যের শক্তি সঞ্চয় করে, কাঠ পোড়ালে সেই শক্তি তাপে রূপান্তরিত হয়
কয়লা পোড়ানোসূর্যের শক্তির উৎস থেকেকয়লা প্রাচীন উদ্ভিদের অবশেষ, যা সূর্যের শক্তি সঞ্চয় করেছিল
পেট্রোল ও ডিজেলপরোক্ষভাবে সূর্যের শক্তিএগুলো প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে তৈরি, যাদের শক্তির উৎস ছিল সূর্য
বায়ু শক্তিসূর্যের শক্তি থেকেসূর্যের তাপে বায়ুর তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়, ফলে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়
জলবিদ্যুৎসূর্যের শক্তি থেকেসূর্যের তাপে জল বাষ্পীভূত হয়, বৃষ্টি হয়, নদীতে জল প্রবাহিত হয়
খাদ্য থেকে শক্তিসূর্যের শক্তি থেকেমানুষ ও প্রাণী গাছ বা গাছভোজী প্রাণী খায়, গাছ সূর্য থেকে শক্তি পায়
আবহাওয়া পরিবর্তনসূর্যের শক্তি থেকেসূর্যের তাপ পৃথিবীর তাপমাত্রা ও আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে

জীবজগত বাঁচিয়ে রাখবো আমরা

নানারকম ডাইনোসরের নামমাংসাশী ডাইনোসর কারাডাইনোসরের ছবি আঁকো
টিরানোসরাস রেক্সটিরানোসরাস রেক্সশিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
ভেলোসিরাপ্টরভেলোসিরাপ্টরশিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
স্পাইনোসরাসস্পাইনোসরাসশিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
ট্রাইসেরাটপসমাংসাশী নয়শিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
ব্র্যাকিওসরাসমাংসাশী নয়শিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
স্টেগোসরাসমাংসাশী নয়শিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
অ্যালোসরাসঅ্যালোসরাসশিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে
কার্নোটরাসকার্নোটরাসশিক্ষার্থীরা নিজে আঁকবে

আকাশে কত তারা

সব নক্ষত্রেরই জন্ম ও মৃত্যু আছে। অনেক নক্ষত্র সূর্যের মতোই একসময় জন্মেছে, আলো দিচ্ছে, আবার একসময় নিভে যাবে। খালি চোখে আমরা হাজার হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই, কিন্তু বাস্তবে নক্ষত্রের সংখ্যা অগণিত। একটি দূরের নক্ষত্রের মৃত্যু হলে পৃথিবীর তেমন ক্ষতি হয় না, কারণ তারা অনেক দূরে। তবে কোনো বড় জ্যোতিষ্ক যদি পৃথিবীর খুব কাছে আসে বা আঘাত করে, তাহলে বিপদ হতে পারে।

নক্ষত্র পৃথিবীর উপর সরাসরি পড়ে না, কিন্তু ধূমকেতু বা গ্রহাণুর মতো বস্তু আঘাত করতে পারে। ১৯৯৪ সালে বৃহস্পতি গ্রহে একটি ধূমকেতুর অংশ আঘাত করেছিল। সেই ধূমকেতুর নাম ছিল শুমেকার-লেভি। বিজ্ঞানীরা আগেই হিসাব করে এই ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আকাশের সবকিছু নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তাকে মহাকাশ বিজ্ঞান বলে। এই বিষয়ে অনেক গবেষণা চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।

এখন নির্দেশ অনুযায়ী টেবিলটি সাজানো হলো। এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক কাজের নমুনা টেবিল।

তারিখ ও তিথিআকাশের কোন অংশ দেখেছনক্ষত্রের সংখ্যানক্ষত্রের মোট সংখ্যাগোনার সময় কী কী অসুবিধা হয়েছে
১২ আশ্বিন, পূর্ণিমাপূর্ব আকাশ২৫১০০চাঁদের আলো বেশি থাকায় ক্ষীণ তারা দেখা যায়নি
২৭ আশ্বিন, অমাবস্যাপশ্চিম আকাশ৪০১৬০কিছু তারা একসাথে গুচ্ছ আকারে থাকায় গোনা কঠিন
১৫ কার্তিক, পূর্ণিমাউত্তর আকাশ৩০১২০মেঘের জন্য কিছু সময় তারা ঢাকা পড়েছিল
৩০ কার্তিক, অমাবস্যাদক্ষিণ আকাশ৪৫১৮০ছোট তারা চোখে পরিষ্কার বোঝা যায়নি

শিক্ষার্থীরা বাস্তবে পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের তথ্য অনুযায়ী টেবিল পূরণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top