WBBPE Class 5 Notes: Amader Paribesh – Unit 6 Environment and Forests

Rate this post
ক) বনের উপাদানসমূহ।
খ) বনের ইতিহাস।
গ) স্থানীয় বনভূমি ও তার ইতিহাস।
ঘ) বনজ প্রাণী সুরক্ষা।
বনে থাকে বাঘ
বনে থেকে কি কি পাই
হারিয়ে যাওয়া বন আর নতুন বন
বেড়াতে গিয়ে বন দেখা
নিজের দেখা বনখন্ডব
ন্যপ্রাণী সুরক্ষা

বনে থাকে বাঘ

বনে কি বাঘ থাকে?

  • সবাই ভাবে বনে শুধু বাঘ থাকে — কিন্তু তা নয়।
  • বনে নানা ধরনের প্রাণী, পাখি, গাছপালা ও পোকামাকড় থাকে।
  • সব বনে একই রকম জীবজন্তু বা গাছপালা থাকে না।
  • বন মানেই জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার।

বনে কী কী প্রাণী থাকে?

  • 🐘 হাতি
  • 🐯 বাঘ
  • 🐒 বানর
  • 🦌 হরিণ
  • 🐗 বুনো শূকর
  • 🐻 ভালুক
  • 🐊 কুমির (জলাভূমি অঞ্চলে)
  • 🦅 চিল, শকুন
  • 🐍 সাপ
  • 🦊 শিয়াল

বনের গাছপালা

  • শাল
  • সেগুন
  • অর্জুন
  • পলাশ
  • ইউক্যালিপটাস
  • সুন্দরী, গরান (সুন্দরবন অঞ্চলে)
  • আম, লিচু (কিছু বনে)

সব বনে এক ধরনের গাছ হয় না। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গাছের পার্থক্য হয়।

বনের অন্যান্য জীব

  • প্রজাপতি
  • মৌমাছি
  • পিঁপড়ে
  • নানা রকম পোকামাকড়
  • বিভিন্ন প্রজাতির পাখি

বন সম্পর্কিত তথ্য

বনের গাছপালার নামবনের পশুপাখির নামবন থেকে আমরা কী কী পাইবনের জীব কোথায় চলে যায়
শালবাঘকাঠকখনও গ্রামাঞ্চলে
সেগুনহাতিমধুজলাশয়ের ধারে
অর্জুনহরিণফলচাষের জমিতে
পলাশবানরঔষধি গাছনদীর পাড়ে
সুন্দরীকুমিরমোমবন থেকে অন্য বনে
গরানশিয়ালজ্বালানি কাঠলোকালয়ে
ইউক্যালিপটাসভালুকগাছের পাতাপাহাড়ি এলাকায়
আমপাখিফলমাঠে
লিচুসাপবাঁশঝোপঝাড়ে
বটচিলরাবারঅন্য জঙ্গলে

বনে থেকে কি কি পাই

বন আমাদের কী দেয়?

বন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়:

  • কাঠ → দরজা, জানালা, টেবিল, চেয়ার
  • গাছের ছাল → মশলা
  • মূল, ছাল, পাতা → ওষুধ
  • ডাল/ডালপালা → দড়ি
  • কাঠ → কাগজ
  • পাতা → থালা, বাটি
  • ফুল ও ফল → খাদ্য
  • বিভিন্ন গাছ → ঔষধি উপাদান
বস্তুগাছের অংশউদাহরণ
ওষুধছাল, পাতা, মূলনিম, অর্জুন
দড়িআঁশ, ডালনারকেল, পাট
আসবাবপত্রের কাঠকাণ্ডশাল, সেগুন
কাগজকাঠইউক্যালিপটাস
মশলাছালদারুচিনি
ফলফলআম, লিচু
ফুলফুলশিমুল, পলাশ
জ্বালানিশুকনো কাঠবট, বাবলা
থালা-বাটিপাতাশাল পাতা
তেলবীজসরিষা, নারকেল

গাছের বৈচিত্র্য

  • কিছু গাছ খুব লম্বা (নারকেল, তাল)
  • কিছু বড় ছায়াদানকারী গাছ (বট, অশ্বথ)
  • কিছু নরম কাঠের গাছ (কলা, পেঁপে)
  • কিছু লতানো গাছ (শিম, লাউ)
  • কিছু মাটিতে বিছানো গাছ
  • কিছু জলাভূমির গাছ (সুন্দরী, গরান)
  • কিছু গাছের পাতা ঝরে যায়, কিছু গাছ সারা বছর সবুজ থাকে

গাছের ধরন অনুযায়ী উদাহরণ

লম্বা গাছবড় গাছনরম কাঠের গাছলতানো গাছস্যাঁতসেঁতে মাটির গাছজলাভূমির গাছ
নারকেলবটকলালাউকলমিসুন্দরী
তালঅশ্বথপেঁপেশিমকচুগরান
শালসেগুনকাঁঠালকুমড়োধনেপাতাহেতাল
ইউক্যালিপটাসআমপেয়ারাঝিঙেপুদিনাগোলপাতা
দেবদারুকাঁঠালসফেদাকরলাআদাকেওড়া
  • বন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ।
  • বন থেকে আমরা খাদ্য, ঔষধ, কাঠ, কাগজ, মশলা, দড়ি ইত্যাদি পাই।
  • গাছের বিভিন্ন অংশের আলাদা আলাদা ব্যবহার আছে।
  • সব গাছ এক রকম নয়: আকার, গঠন ও পরিবেশ অনুযায়ী তাদের ভিন্নতা আছে।

হারিয়ে যাওয়া বন আর নতুন বন

আগে বন কেমন ছিল?

  • আগে অনেক জায়গায়ই বন ছিল।
  • মানুষ চাষ শিখলে জমির জন্য গাছ কাটতে শুরু করে।
  • জনসংখ্যা কম থাকায় বন পুরোপুরি নষ্ট হয়নি।
  • রাজারা বন রক্ষা করতেন; বন থেকে কাঠ, হাতি ইত্যাদি পাওয়া যেত।

কেন বন কমে গেল?

  • জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ল।
  • চাষের জমি ও শহর গড়ার জন্য গাছ কাটা হলো।
  • কারখানা, রাস্তা, বাড়ি তৈরির জন্য বন উজাড় হলো।
  • ফলে বাতাসে দূষণ বাড়ল, অক্সিজেন কমল।
  • বন্য প্রাণীরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ল।
  • ফসল ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হতে লাগল।

বন কমে যাওয়ার ফলাফল

  • বায়ুদূষণ বৃদ্ধি
  • শ্বাসকষ্ট ও রোগ বৃদ্ধি
  • পশুর আবাসস্থল নষ্ট
  • ফসলের ক্ষতি
  • ফলের দাম বৃদ্ধি
  • পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট

মানুষ কী বুঝল?

  • বন ছাড়া জীবন সম্ভব নয়।
  • গাছের পাতা অক্সিজেন দেয়।
  • ফলের চাহিদা বাড়লে ফলের গাছ লাগানো শুরু হলো।
  • রাস্তার ধারে ও বাড়ির পাশে গাছ লাগানো হলো।

নতুন বন বা সামাজিক বনায়ন

  • ছোট ছোট বন তৈরি করা শুরু হলো।
  • বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে, চাষের জমির পাশে গাছ লাগানো হলো।
  • একে বলে সামাজিক বনায়ন
  • উদ্দেশ্য: পরিবেশ রক্ষা, কাঠ ও ফলের চাহিদা পূরণ।

বন কমে যাওয়া ও নতুন বন

বিষয়আগেপরে সমস্যাসমাধান
বনাঞ্চলবিস্তৃত বনবন কমে গেলসামাজিক বনায়ন
জনসংখ্যাকমবেশিপরিকল্পিত বসতি
বাতাসপরিষ্কারদূষিতবেশি গাছ লাগানো
প্রাণীবনে থাকতলোকালয়ে আসতে শুরুবন সংরক্ষণ
ফলসহজলভ্যদাম বেড়েছেফলের বাগান
কাঠবন থেকেঘাটতিনতুন গাছ লাগানো
  • বন ধ্বংস করলে পরিবেশের ক্ষতি হয়।
  • গাছ আমাদের অক্সিজেন, খাদ্য ও কাঠ দেয়।
  • তাই বন সংরক্ষণ ও নতুন বন তৈরি করা জরুরি।
  • “একটি গাছ মানে একটি জীবন” — এই ভাবনা ছড়িয়ে দিতে হবে।

বেড়াতে গিয়ে বন দেখা

কী দেখা গেল?

  • গ্রামের পাশে বড় বড় গাছ নিয়ে বনসদৃশ একটি জায়গা।
  • মোটা মোটা আমগাছ – তিনজন মিলে ধরতে হয়।
  • ভিতরে শান্ত, শান-বাঁধানো পুকুর।
  • অনেক পুরোনো গাছ – প্রায় তিন–চারশো বছরের।

বিশালাক্ষীর আমবাগান

  • জায়গাটির নাম বিশালাক্ষীর আমবাগান
  • পাশে আছে বিশালাক্ষীর পুকুরবিশালাক্ষীর মন্দির
  • প্রায় দুই হাজার আমগাছ রয়েছে।
  • আগে নানা গাছ ছিল, পরে অনেক গাছ কেটে বাড়ি-ঘর তৈরি হয়।
  • আম কাঠ বাঁকানো যায় এবং ফলের দাম ভালো — তাই আমগাছ রয়ে গেছে।
  • পঞ্চায়েত আম বিক্রির ব্যবস্থা করে।

দৌলত মাজারের বন

  • আরেকটি বন আছে, যাকে বলে দৌলত মাজারের বন
  • সেখানে শাল, শিমুল, গামার গাছ আছে।
  • গাছ কাটা নিষিদ্ধ।
  • “মাজার” মানে পীর সাহেবের কবরস্থান।

সাহেব জেনের বন

  • বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে।
  • আবার আরও এক কিলোমিটার গেলে আরেকটি বন।
  • লোকমুখে নাম – সাহেব জেনের বন

বিভিন্ন বনের বৈশিষ্ট্য

বনের নামপ্রধান গাছবিশেষ বৈশিষ্ট্যব্যবস্থাপনা
বিশালাক্ষীর আমবাগানআম২০০০-এর বেশি গাছপঞ্চায়েত আম বিক্রি করে
দৌলত মাজারের বনশাল, শিমুল, গামারগাছ কাটা নিষিদ্ধধর্মীয় স্থান সংলগ্ন
সাহেব জেনের বনবিভিন্ন বড় গাছলোকমুখে পরিচিতসংরক্ষিত এলাকা

মূল শিক্ষা

  • সব বন একরকম নয়: কোথাও ফলের বাগান, কোথাও সংরক্ষিত বন।
  • গাছের অর্থনৈতিক মূল্য (যেমন আম) থাকলে তা বেশি রক্ষা পায়।
  • ধর্মীয় বা সামাজিক কারণে অনেক বন সংরক্ষিত থাকে।
  • বন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও যুক্ত।

নিজের দেখা বনখন্ডব

বনের নাম: শালডাঙা সামাজিক বন
গ্রাম: শালডাঙা
পোস্ট: শালডাঙা বাজার
জেলা: পশ্চিম বর্ধমান
কত সময় হেঁটে বনটা পেরিয়ে যাওয়া যায়: প্রায় ২০–২৫ মিনিট
উত্তর থেকে দক্ষিণ: প্রায় ১ কিলোমিটার
পূর্ব থেকে পশ্চিম: প্রায় ৭০০ মিটার

বনে কী কী গাছ দেখেছি

  • শাল
  • সেগুন
  • আকাশমণি
  • আম
  • কাঁঠাল
  • শিমুল
  • বট ও অশ্বথ

গাছের সংখ্যা: প্রায় কয়েক হাজার হতে পারে।

বনে কী কী পাখি দেখেছি

  • শালিক
  • কোকিল
  • দোয়েল
  • কাক
  • টিয়া
  • কাঠঠোকরা

পাখির বাসা দেখেছি:

  • বটগাছের ডালে বড় বাসা
  • বাঁশঝাড়ে ছোট পাখির বাসা

বনে কী কী জলাশয় দেখেছি

  • একটি ছোট পুকুর
  • বর্ষাকালে জমে থাকা জলাভূমি
  • একটি সরু খাল

বনের ভিতরে আর কী দেখেছি

  • ঝোপঝাড়
  • লতাগুল্ম
  • বুনো ফুল
  • প্রজাপতি ও মৌমাছি
  • কাঠবিড়ালি

ওই বনের ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয় লোকদের বক্তব্য

  • কত বছরের পুরোনো বন: প্রায় ৪০–৫০ বছর পুরোনো।
  • কারা দেখভাল করে: বনদপ্তর ও গ্রামের মানুষ মিলে।
  • অন্যান্য বিষয়: আগে এই জায়গায় ফাঁকা মাঠ ছিল। পরে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গাছ লাগানো হয়।

এই বন সম্পর্কে আমার নিজের মত

বিষয়নিজের কী মনে হয়েছে
পরিবেশখুব শান্ত ও ঠান্ডা লাগে
গাছপালাঅনেক রকম গাছ দেখে ভালো লেগেছে
প্রাণীপাখির ডাক খুব সুন্দর
উপকারিতাবাতাস পরিষ্কার রাখে
সংরক্ষণসবাইকে বন রক্ষা করা উচিত

মূল শিক্ষা

  • ছোট বনও পরিবেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • সামাজিক বনায়ন আমাদের গ্রাম ও শহরকে সবুজ করে।
  • বন রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষা

আগে বাঘ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী বেশি ছিল

  • আগে বনজঙ্গলে বাঘ, চিতা, নেকড়ে প্রভৃতি প্রাণী অনেক ছিল।
  • কবি রবীন্দ্রনাথও লিখেছিলেন — “বনে থাকে বাঘ”।
  • তখন বাঘের সংখ্যা ছিল হাজার হাজার, এখন তা অনেক কমে গেছে।

বাঘ ও প্রাণী কমে যাওয়ার কারণ

  • মানুষ বন্দুক দিয়ে শিকার করেছে।
  • বাঘ মেরে ছবি তুলে বীরত্ব দেখানো হতো।
  • চিতার চামড়া, হাতির দাঁত বিক্রির জন্য হত্যা।
  • পাখি ধরে খাঁচায় পোষা।
  • বন কেটে ফেলায় প্রাণীদের আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে।

বাঘ কি সব সময় মানুষ খায়?

  • সাধারণত বাঘ মানুষের ওপর আক্রমণ করে না।
  • বনে খাবার না পেলে বা বিপদে পড়লে লোকালয়ে আসে।
  • বেশিরভাগ সময় মানুষই আগে বাঘকে মেরেছে।

কিছু প্রাণী প্রায় বিলুপ্ত

  • ভারত থেকে চিতা প্রায় হারিয়ে গেছে।
  • অনেক পাখি ও বন্যপ্রাণী এখন খুব কম।
  • কিছু মানুষ গণ্ডার মারে তার শিংয়ের জন্য।
  • হাতি মারা হয় দাঁতের জন্য।

পশুপাখি মারা ও আমাদের মতামত

পশুপাখির নামতাদের মারার কারণযারা মারে তাদের শাস্তি বিষয়ে মত
বাঘচামড়া ও ট্রফির জন্যকঠোর শাস্তি হওয়া উচিত
চিতাচামড়াআইন অনুযায়ী জেল ও জরিমানা
হাতিদাঁতের জন্যসম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কড়া শাস্তি
গণ্ডারশিংয়ের জন্যআন্তর্জাতিকভাবে দমন করা উচিত
পাখিখাঁচায় পোষাসচেতনতা ও জরিমানা
হরিণমাংসের জন্যবনরক্ষী নজরদারি বাড়ানো উচিত

আমাদের করণীয়

  • শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
  • বন সংরক্ষণ করা।
  • বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
  • শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রাণীপ্রেম শেখানো।
  • বনদপ্তরের নিয়ম কঠোরভাবে মানা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top