| (ক) শিশুর অধিকার। (খ) শিশুশ্রম ও মানবাধিকার। (গ) লিঙ্গ বৈষম্য ও মানবাধিকার। (ঘ) বার্ধক্য ও মানবাধিকার। (ঙ) বাল্যবিবাহ ও মানবাধিকার। (চ) ক্রেতা সুরক্ষা। | আমাদের মতটাও জরুরি অরুনের ধান রোয়া আমাদের দায়িত্ব বয়স্কদের সম্মান করো বাল্যবিবাহ কখনও নয় যাচাই করে তবেই কেন রাস্তার কলের জল |
আমাদের মতটাও জরুরি
প্রত্যেক মানুষের নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার আছে। বড় হয়ে কে কী হবে, কী পড়বে, কোন বিষয়ে আগ্রহ আছে—এসব বিষয়ে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ আকাশ ও নক্ষত্র নিয়ে পড়তে চায়, কেউ কৃষি নিয়ে, কেউ পরিবেশ রক্ষা নিয়ে, কেউ আবার ডাক্তার হতে চায়। প্রত্যেকের স্বপ্ন আলাদা, আর সেই স্বপ্নকে সম্মান করা উচিত।
শিশুদের কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। তারা বেঁচে থাকার অধিকার পায়, খাদ্য ও বিশুদ্ধ জল পাওয়ার অধিকার পায়, সুস্থ থাকার ও অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার পায়। আধুনিক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করা তাদের অধিকার। নিজের নাম, পরিচয় জানা ও প্রকাশ করা তাদের অধিকার। নিজের মত প্রকাশ ও আলোচনার স্বাধীনতাও তাদের অধিকার। শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থেকে সুরক্ষাও তাদের মৌলিক অধিকার।
অনেক সময় বড়রা শিশুদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চান না। কিন্তু ছোট হলেও তারা অনেক কিছু বুঝতে পারে। ভবিষ্যতের পৃথিবী তাদেরই হাতে গড়ে উঠবে। তাই তাদের মতামত শোনা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা খুব জরুরি।
এখন নির্দেশ অনুযায়ী টেবিলটি সাজানো হলো।
| কোথায় ঘটেছে | কী বিষয়ে মত দিয়েছ | তোমার মত কী | সে বিষয়ে অন্যরা কী বলেছে | প্রাসঙ্গিক অন্য বক্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| স্কুলে ক্লাস আলোচনায় | বড় হয়ে কী হতে চাই | আমি পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাই | কেউ বলেছে ডাক্তার হওয়া ভালো | পরিবেশ রক্ষা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ |
| বাড়িতে পরিবারের সাথে | কোন বিষয়ে পড়াশোনা করব | আমি কৃষি প্রযুক্তি শিখতে চাই | পরিবারের কেউ ডাক্তার হতে বলেছে | নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পড়া উচিত |
| স্কুলের সভায় | শিশুদের অধিকার | আমাদের মত প্রকাশের অধিকার আছে | শিক্ষক সমর্থন করেছেন | ১৪ বছর পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক |
| বন্ধুদের সাথে আলোচনা | ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | আমি গবেষক হতে চাই | বন্ধুরা উৎসাহ দিয়েছে | বিজ্ঞান গবেষণা দেশের উন্নতিতে সাহায্য করে |
অরুনের ধান রোয়া
ধান রোয়ার সময় মাঠে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অনুরের বাবা সকালে মাঠে কাজ করতে যান। একদিন অনুরের দায়িত্ব হয় বাবার খাবার মাঠে পৌঁছে দেওয়া। মাঠে গিয়ে সে দেখে ধান রোয়া হচ্ছে। কৌতূহল থেকে সে ভাবল, সেও কি একটু কাজ করতে পারে। বাবা কিছু না বললেও অনু নিজে থেকেই কয়েকটি ধানের চারা রোপণ করে। সারি ঠিক রেখে চারা বসাতে তার বেশ ভালোই লাগে।
রাতে বাবা বুঝিয়ে বলেন, কাজ ছোট বা বড় নয়, সবাই কাজ করতে পারে। তবে পড়াশোনা বন্ধ করে কাজ করা ঠিক নয়। অনু ভাবে, টাকা উপার্জন দরকার হলেও স্কুল কামাই করা ঠিক হবে না। তাই সে স্কুলে গিয়ে শিক্ষিকাকে সব কথা খুলে বলে। শিক্ষিকা জানান, পড়াশোনা করা তার অধিকার। ছোটদের দিয়ে নিয়মিত কাজ করানো বেআইনি। পরিবারকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা দরকার।
অনু প্রস্তাব দেয়, ছুটির দিনে যদি নিজের ইচ্ছায় বাবাকে সাহায্য করে। শিক্ষিকা বলেন, পড়াশোনার ক্ষতি না হলে মাঝে মাঝে সাহায্য করা দোষের নয়। একদিন কাজ করলে শেখা যায়, কিন্তু নিয়মিত করলে পড়াশোনায় ক্ষতি হয়।
মূল বিষয়গুলো সংগঠিতভাবে নিচে সারণিতে দেওয়া হলো
| বিষয় | বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ঘটনার প্রেক্ষাপট | ধান রোয়ার মৌসুম, অনুর বাবা মাঠে কাজ করছেন |
| অনুর ভূমিকা | বাবার জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়া |
| অনুর আগ্রহ | ধান রোপণ করার ইচ্ছা ও বাস্তবে কিছু চারা রোপণ |
| বাবার মতামত | কাজ সবাই করতে পারে, তবে পড়াশোনা বাদ দিয়ে নয় |
| অনুর দ্বিধা | টাকা দরকার, কিন্তু স্কুল কামাই করা ঠিক নয় |
| শিক্ষিকার মতামত | শিক্ষা শিশুদের অধিকার, কাজের জন্য স্কুল ছাড়ানো উচিত নয় |
| সমাধান | ছুটির দিনে স্বেচ্ছায় সাহায্য করা যেতে পারে |
| শিক্ষণীয় দিক | কাজের মর্যাদা আছে, তবে শিক্ষার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি |
| নৈতিক শিক্ষা | শিশুদের শ্রমে বাধ্য করা বেআইনি; পড়াশোনা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত |
আমাদের দায়িত্ব
শম্পা ও শ্যামল দুই ভাইবোন। দুজনেই স্কুলে পড়ে। শম্পা নিয়মিত ভোরে উঠে ঘরের কাজ করে। সে বিছানা গুছিয়ে রাখে, ময়লা জামাকাপড় সাবানজলে ভিজিয়ে দেয়, রান্নার জন্য আনাজ কেটে মাকে সাহায্য করে। বাবাকে ও শ্যামলকে খেতে দেয়, তারপর নিজে খেয়ে স্কুলে যায়। অন্যদিকে শ্যামল দেরি করে ওঠে এবং পড়তে বসার আগে অনেক সময় নষ্ট করে।
একদিন বাড়িতে দুধ ছিল না। মা শ্যামলকে দুধ আনতে বললে শম্পার রাগ হয়, কারণ সে আগেই অনেক কাজ করেছে। পরে স্কুলে গিয়ে শম্পা সব কথা শিক্ষিকাকে জানায়। শিক্ষিকা গল্পের মাধ্যমে বোঝান যে সংসারের কাজ ভাগাভাগি করে করা উচিত। শুধু একজনের ওপর সব দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়।
সহপাঠীরাও মত দেয় যে সকালে ওঠা, দুধ আনা, জামাকাপড় ধোয়া বা কেচে দেওয়া; এসব কাজ সবাই মিলে করলে কারও ওপর চাপ পড়ে না। এতে পরিবারে শান্তি থাকে এবং ভাইবোনের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে।
গল্পের মূল শিক্ষা হলো পরিবারে কাজের ন্যায্য বণ্টন প্রয়োজন। ছেলে-মেয়ে বা ছোট-বড় ভেদে নয়, সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মান পরিবারকে সুসংগঠিত ও সুখী করে। নিচে বিষয়টি সারণিতে উপস্থাপন করা হলো
| নাম ও পরিচয় | পরিবারের কী কী কাজ করে | কার চেয়ে বেশি কাজ করে | সে পরিবারের কী কী কাজ করে |
|---|---|---|---|
| শম্পা, বড় বোন | বিছানা গুছানো, কাপড় ভেজানো, আনাজ কাটা, খাবার পরিবেশন | শ্যামলের চেয়ে বেশি | ঘরের প্রায় সব সকালের কাজ |
| শ্যামল, ছোট ভাই | মাঝে মাঝে দুধ আনা | শম্পার চেয়ে কম | নিজের কাজ ছাড়া তেমন কিছু করে না |
| মা | রান্না, সংসার পরিচালনা | সবার চেয়ে বেশি | বাজারের হিসাব, রান্না, সন্তানদের দেখাশোনা |
| বাবা | বাইরে কাজ করে উপার্জন | বাইরের দায়িত্ব বেশি | সংসারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন |
এই গল্প আমাদের শেখায় যে পরিবারের সব সদস্যের অংশগ্রহণে কাজ করলে সম্পর্ক মজবুত হয় এবং কারও ওপর অন্যায় চাপ পড়ে না।
বয়স্কদের সম্মান করো
ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি শুরু হলেও গল্পের মূল বিষয় হলো বয়স্কদের সম্মান করা। বলাই ও তার বন্ধুরা খেলছিল। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন বলাইয়ের দাদু। সুমিত দাদুকে খেলায় যোগ দিতে বললেও বলাই বিরক্ত হয়ে দাদুকে সরে যেতে বলে। দাদু কষ্ট পেলেও চেষ্টা করেছিলেন খেলতে, কিন্তু বয়সের কারণে ভালো খেলতে পারেননি। এতে বলাই আরও রূঢ় আচরণ করে।
পরদিন শিক্ষিকা বিষয়টি জানার পর সবাইকে বোঝান যে বয়স হলে মানুষ অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে বা আগের মতো দক্ষ না-ও থাকতে পারে। তাই তাঁদের অসম্মান করা অন্যায়। বরং ধৈর্য, সহানুভূতি ও ভালোবাসা দেখানো উচিত। শিক্ষিকা আরও জানান ১৫ জুন বিশ্ব বয়স্ক নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস এবং ১ অক্টোবর বিশ্ব বয়স্ক দিবস হিসেবে পালিত হয়।
গল্পের শিক্ষা হলো পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা আমাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাঁদের সম্মান করা, সময় দেওয়া এবং সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। নিচে সারণিটি পূরণ করা হলো
| তোমার চেনা একজন বয়স্ক মানুষের নাম ও তোমার সঙ্গে সম্পর্ক | তাঁর সমস্যাগুলো কী কী | তুমি কীভাবে তাঁকে সাহায্য করবে |
|---|---|---|
| আবদুল করিম, আমার দাদু | হাঁটতে কষ্ট হয়, চোখে কম দেখেন, অনেক কিছু ভুলে যান | হাত ধরে হাঁটতে সাহায্য করব, ওষুধ সময়মতো দেব, গল্প করে সময় কাটাব |
| সরস্বতী দেবী, পাশের বাড়ির ঠাকুমা | একা থাকেন, ভারী কাজ করতে পারেন না | বাজারের জিনিস এনে দেব, ঘরের ছোটখাটো কাজে সাহায্য করব |
| গোপাল চাচা, প্রতিবেশী | কানে কম শোনেন, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন | ধীরে ও পরিষ্কারভাবে কথা বলব, প্রয়োজন হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব |
এভাবে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে এলে বয়স্করা মানসিকভাবে শক্ত থাকেন এবং পরিবারে ভালোবাসা ও সম্মানের পরিবেশ তৈরি হয়।
বাল্যবিবাহ কখনও নয়
মীনা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার অল্প বয়সে বিয়ের কথা উঠতেই সে স্পষ্টভাবে জানায় যে এখনই সে বিয়ে করবে না। তার বয়স কম এবং সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। পরিবার প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও মীনা ভয় না পেয়ে স্কুলে গিয়ে শিক্ষিকাকে সব জানায়। বন্ধুরাও তাকে সমর্থন করে।
শিক্ষিকা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেন। বাড়িতে গিয়ে তারা সবাইকে বোঝান যে নাবালিকার বিয়ে আইনত অপরাধ। জোর করে বিয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর ফলে মীনার বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারও বুঝতে পারে যে তারা ভুল করতে যাচ্ছিল।
স্কুলে পরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মীনার সাহসের প্রশংসা করা হয়। বড়রা বলেন, অন্যায় দেখলে চুপ না থেকে প্রতিবাদ করা উচিত। বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।
- রেখা কালিন্দী, আফসানা খাতুন, সুনীতা মাহাতো (রাষ্ট্রপতি ভবন: ১৪ মে, ২০০৯)
- সুনীতা মাহাতো, বীণা কালিন্দী, সঙ্গীতা বাউরি, আফসানা খাতুন, মুক্তি মারি (রাষ্ট্রপতি ভবন: ৭ ডিসেম্বর, ২০১১)
গল্পে আরও বলা হয়েছে, রেহা কালিন্দী, সুনীতা মাহাতো, আফসানা খাতুনদের মতো অনেক কিশোরী বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে। তাদের সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রীয় স্তরেও সম্মান জানানো হয়েছে। এতে অন্য মেয়েরাও অনুপ্রাণিত হয়েছে। মূল বিষয়গুলো সারণিতে উপস্থাপন করা হলো
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান সমস্যা | অল্প বয়সে মীনার বিয়ের সিদ্ধান্ত |
| মীনার অবস্থান | সে স্পষ্টভাবে বিয়ে করতে অস্বীকার করে |
| সহায়তাকারী | বন্ধু প্রভা ও রাবেয়া, শিক্ষিকা |
| প্রশাসনিক ভূমিকা | স্থানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ও পুলিশ হস্তক্ষেপ করে |
| আইনি দিক | নাবালিকা বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ |
| ফলাফল | বিয়ে বন্ধ হয়, মীনা স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যায় |
| সামাজিক প্রভাব | গ্রামে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় |
| শিক্ষণীয় দিক | সাহস, সচেতনতা ও আইনের জ্ঞান অন্যায় রোধ করতে পারে |
| বার্তা | বাল্যবিবাহ কখনও নয়, মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে |
এই ঘটনাটি দেখায়, সচেতনতা ও সাহস থাকলে একটি মেয়েও বড় সামাজিক অন্যায় থামাতে পারে।
যাচাই করে তবেই কেন
একদিন মা চন্দনকে দোকান থেকে তেল আনতে বললেন। চন্দন এক প্যাকেট তেল কিনে এনে দিল। মা প্যাকেটটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কী যেন দেখতে শুরু করলেন। তারপর চন্দনকে বললেন, মনে হচ্ছে এই তেলটা ভালো নয়। প্যাকেটের গায়ে কোথাও আগ মার্কা নেই। তাই তেলটায় ভেজাল থাকতে পারে। যাও এখনই ফেরত দিয়ে এসো। তখন মা চন্দনকে একটা মশলার প্যাকেটের গায়ের আগ মার্কাটা দেখালেন। এবার চন্দন দোকানে গিয়ে আগ মার্কা দেখেই তেলের প্যাকেট কিনে আনল।
পরে মা চন্দনকে বললেন, কেনাকাটার সময় আমাদের সবসময় সচেতন থাকা দরকার। যাতে আমরা ঠকে না যাই। তবে যাই কেনাকাটা করা হোক তার রসিদ নেওয়া দরকার। দেখা দরকার রসিদে যেন জিনিসের নাম, পরিবেবার বিবরণ আর তারিখ থাকে। চন্দন জিজ্ঞাসা করল, মা পরিবেবা কী।
মা বললেন, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ প্রভৃতি একধরনের পরিবেবা। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা নেওয়াও পরিবেবা। এককথায় যা কিছু টাকার বিনিময়ে কেনাকাটা করা হয় সবই হল পরিবেবা। আর যারা এই পরিবেবা নেয় বা ভোগ করে তারা হল উপভোক্তা।
চন্দন বলল, তার মানে আমি একজন উপভোক্তা। মা বললেন, ঠিক। তাহলে দেখো দোকানদার আমাদের পরিবেবা দিচ্ছেন। তারপর মা চন্দনকে কিছু প্যাকেট আর শিশি এনে দেখালেন। তেলের শিশিতে ভারত সরকারের F.P.O ছাপ দেখালেন। ঘি-র শিশির গায়ে আগ মার্কা, প্রেসার কুকারের প্যাকেটে ISI ছাপও দেখালেন।
মা বললেন, কোনো জিনিস বা পরিবেবা নিজের ব্যবহারের জন্য দাম দিয়ে আমরা কিনি। কেনার পর জিনিসটার দাম, ওজন, পরিমাপ বা মান নিয়ে ঠকে গেলে বা পরিবেবার ঘাটতি হলে সেটা নিয়ে উপভোক্তা সুরক্ষা আইনে আবেদন করা যায়। চন্দন বলল, আবেদন করলে টাকাও ফেরত দিতে পারে। মা বললেন, হ্যাঁ, একদম তাই। জিনিসটা বদলে দিতে পারে। ক্ষতিপূরণও দিতে পারে।
চন্দন বলল, দোকানদার যদি ওজনে কম দেয় তাহলে কোথায় নালিশ করতে পারি মা। মা বললেন, ডিস্ট্রিক্ট কনজ্যুমার ডিসপিউটস রেড্রেসাল ফোরাম বা সংক্ষেপে জেলা উপভোক্তা ফোরাম। এছাড়া উপভোক্তা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট থেকেও দরকারি তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে সবরকম প্রমাণ যোগাড় করে রাখতে হবে। প্রায়ই দেখা যায় যে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে উপভোক্তারা তাদের অভিযোগ ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। তার ফলে যথাযথ প্রতিকারও পান না।
রাস্তার কলের জল
সাবিনাদের স্কুল বাড়ি থেকে পনেরো কুড়ি মিনিটের হাঁটার পথ। এদিকে অটো চলে না। তিনদিন অসুস্থ থাকার পর সাবিনা স্কুলে যাবে। তার মা বললেন, চলো আমি তোমাকে দিয়ে আসি।
পথে সাবিনা দেখল একটি কল খোলা। জল পড়ে যাচ্ছে, কেউ জল নিচ্ছে না। সাবিনার অভ্যাস আছে খোলা কল দেখলে বন্ধ করে দেওয়ার। সে গেল কল বন্ধ করতে। মা অবাক হয়ে বললেন, অসুস্থ শরীরে এসব কী। সাবিনা বলল, মা জল নষ্ট হলে সর্বনাশ। আমরা যখন বড় হব তখন খাবার জল পাওয়া কঠিন হবে।
কিছু দূর যাওয়ার পর আবার একটি কল খোলা দেখল। সাবিনা আবার গেল বন্ধ করতে। মা একটু অধৈর্য হয়ে বললেন, সবাই কল খুলে রেখে যায়, আর তুমি সব বন্ধ করবে। কলটা যদি ভাঙা থাকে তাহলে কি মিস্ত্রি ডাকতে যাবে। সাবিনা বুঝল মা রেগে গেছেন। তাই চুপ করে বলল, প্রথম প্রথম ভাঙা কল দেখলে খুব কষ্ট হতো। এখন এমন দেখলে বড়দিকে জানাই। বড়দি পৌরসভায় ফোন করে খবর দেন।
স্কুলের কাছে রাস্তার শেষ কলটাও খোলা ছিল। এবার মা নিজেই কলটি বন্ধ করতে গেলেন। তা দেখে সাবিনার খুব আনন্দ হলো। সে বলল, মা কবি নজরুল ইসলাম আমাদের কী ভাবতে বলেছেন জানো।
আমরা যদি না জাগি মা
কেমনে সকাল হবে
তোমার ছেলে উঠলে মাগো
রাত পোহাবে তবে।
আমরা সকলে মিলে জল, মাটি, বাতাসের যত্ন করব। সচেতনভাবে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার করব। তবেই তৈরি হবে সুস্থ সামাজিক পরিবেশ। সেই সমাজে কোনো রকম বিভেদ থাকবে না। তখন থাকবে না ছেলে ও মেয়ের ভেদ। গায়ের রং বা জীবিকা দেখে কেউ মানুষের বিচার করবে না। গরিব বা বড়লোক বলে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার হেরফের হবে না। শহর, গ্রাম ও জঙ্গল সব জায়গাতেই মানুষ সমানভাবে সুযোগ সুবিধা পাবে। সেভাবেই গড়ে উঠবে নতুন সমাজ ও পরিবেশ ভাবনা।