Sarva Shiksha Abhiyan – SSA 2000, 2001 & 2002

Rate this post

The Sarva Shiksha Abhiyan (SSA) is not the National Policy on Education itself, but rather a major government program that works to implement the goals of the policy, particularly the goal of Universal Elementary Education. তখনকার যুগে অনুসন্ধান করে দেখা গেছিল যে কুড়ি কোটি শিশুর মধ্যে ৬ কোটি শিশু স্কুল এই পা দেয়নি। সেই উদ্দেশ্যে সমস্ত শিশুদের বিদ্যালয় আনার জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সর্বশিক্ষা অভিযান (Sarva Shiksha Abhiyan) ২০০১ সালে চালু হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ভারতে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। এটি কেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, গুণগত মান এবং সমতা–সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্য ক্ষেত্র (Target Area)নির্দিষ্ট লক্ষ্যনির্ধারিত সময়সীমা
বিদ্যালয়ে ভর্তি৬–১৪ বছর বয়সী সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা২০০৩ সালের মধ্যে
প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণকরণসকল শিশু দ্বারা ৫ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা২০০৭ সালের মধ্যে
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণকরণসকল শিশু দ্বারা ৮ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা২০১০ সালের মধ্যে
সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা (UEE)গুণগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা২০১০ সাল

প্রেক্ষাপট (Context): 1986-এর National Policy on Education (NPE) ও 1992-এর Program of Action-এর পর প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের প্রয়োজন।

Objectives of Sarva Shiksha Abhiyan:

1. সার্বজনীন প্রবেশাধিকার (Universal Access)

সর্বশিক্ষা অভিযানে সার্বজনীন প্রবেশাধিকার বলতে বোঝায়—ভারতের ৬–১৪ বছর বয়সী প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়

SSA-এর আওতায় সার্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য—

  • প্রতিটি বসতির কাছাকাছি প্রাথমিক (1 KM) ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়(3KM) স্থাপন করা হয়,
  • দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন বিদ্যালয়, বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র ও ব্রিজ কোর্স চালু করা হয়,
  • বিদ্যালয়ে ভর্তি সহজ ও নমনীয় করা হয়,
  • বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো যেমন শ্রেণিকক্ষ, পানীয় জল, শৌচাগার ইত্যাদি উন্নত করা হয়,
  • বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের চিহ্নিত করে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর মাধ্যমে SSA নিশ্চিত করতে চায় যে কোনও শিশুই শিক্ষার মূলধারা থেকে বাদ না পড়ে

2. গুণগত মানোন্নয়ন (Quality Improvement)

সর্বশিক্ষা অভিযানে গুণগত মানোন্নয়ন বলতে বোঝায়—শিশুরা শুধু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে তা নয়, বরং তারা যেন অর্থবহ, কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষা লাভ করতে পারে।

SSA-এর আওতায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার জন্য—

  • শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়,
  • শিশুকেন্দ্রিক ও কার্যকলাপভিত্তিক শিক্ষণ-পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়,
  • পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তককে শিশুর মানসিক স্তর ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উন্নত করা হয়,
  • শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য ধারাবাহিক ও সামগ্রিক মূল্যায়ন (CCE) চালু করা হয়,
  • বিদ্যালয়ে শিক্ষণ-শেখার উপকরণ (TLM) ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়।

এইভাবে SSA নিশ্চিত করতে চায় যে প্রাথমিক শিক্ষা হবে শুধু সার্বজনীন নয়, গুণগত মানসম্পন্নও

3. লিঙ্গ ও সামাজিক সমতা (Gender and Social Equity)

সর্বশিক্ষা অভিযানে লিঙ্গ ও সামাজিক সমতা বলতে বোঝায়—শিক্ষায় যেন কোনও ধরনের বৈষম্য না থাকে, এবং সমাজের সব স্তরের শিশুরা সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পায়।

SSA-এর আওতায় লিঙ্গ ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার জন্য—

  • মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিকে থাকার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়,
  • তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST), সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিশুদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করা হয়,
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়,
  • বিদ্যালয়ে পৃথক শৌচাগার, নিরাপদ পরিবেশ ও সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়,
  • সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মেয়েশিশু ও বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হয়।

এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে SSA শিক্ষাকে ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবার জন্য সমান করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।

4. বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু (Out-of-School Children)

বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু বলতে সেই সব শিশুদের বোঝায়, যারা কখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি অথবা বিভিন্ন কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। সর্বশিক্ষা অভিযানে এই শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

SSA-এর আওতায় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের জন্য—

  • স্কুলে না যাওয়া শিশুদের সনাক্তকরণ ও সমীক্ষা করা হয়,
  • তাদের জন্য ব্রিজ কোর্স ও বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্র চালু করা হয়,
  • বয়স অনুযায়ী শ্রেণিতে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়,
  • দারিদ্র্য, শিশুশ্রম বা সামাজিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া শিশুদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়,
  • অভিভাবক ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

এই ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমে SSA নিশ্চিত করতে চায় যে কোনও শিশুই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং সকলেই প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করার সুযোগ পাবে

5. সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ (Community Involvement)

সর্বশিক্ষা অভিযানে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বলতে বোঝায়—বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও পরিচালনায় স্থানীয় সমাজ, অভিভাবক এবং জনগণের সক্রিয় ভূমিকা। SSA মনে করে, সমাজের অংশগ্রহণ ছাড়া সার্বজনীন ও গুণগত শিক্ষা সম্ভব নয়।

SSA-এর আওতায় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য—

  • বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (VEC/SMC) গঠন করা হয়,
  • অভিভাবকদের বিদ্যালয়ের শিক্ষণ–শেখন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়,
  • স্থানীয় জনগণকে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তদারকিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়,
  • শিশুদের নিয়মিত উপস্থিতি ও ঝরে পড়া রোধে সমাজের সহযোগিতা নেওয়া হয়,
  • শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

এর ফলে বিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক।

6. সামগ্রিক বিকাশ (Holistic Development)

সর্বশিক্ষা অভিযানে সামগ্রিক বিকাশ বলতে বোঝায়—শিশুর শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং তার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা। SSA শিশুদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

SSA-এর আওতায় সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য—

  • শিশুকেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিক্ষণ-পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়,
  • সহ-পাঠক্রমিক কার্যকলাপ যেমন খেলাধুলা, গান, আঁকা, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশ করা হয়,
  • জীবনদক্ষতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক আচরণ শেখানোর উপর জোর দেওয়া হয়,
  • স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা হয়,
  • নিরাপদ ও সহায়ক বিদ্যালয় পরিবেশ তৈরি করা হয়।

এইভাবে SSA শিশুদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চায়, যাতে তারা ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

বাস্তবায়ন কৌশল (Implementation Strategies)

সর্বশিক্ষা অভিযানকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌশলগুলির মাধ্যমে শিক্ষার সার্বজনীনতা, গুণগত মান ও সমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

SSA-এর প্রধান বাস্তবায়ন কৌশলগুলি হলো—

  • কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ
    কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে পরিকল্পনা ও অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালনা করে।
  • বিকেন্দ্রীভূত পরিকল্পনা
    জেলা, ব্লক ও বিদ্যালয় স্তরে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
  • পরিকাঠামো উন্নয়ন
    নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়।
  • শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ
    পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়মিত ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষণের মান উন্নত করা হয়।
  • শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষণ পদ্ধতি
    কার্যকলাপভিত্তিক, আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষণ কৌশল প্রয়োগ করা হয়।
  • নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন
    শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের জন্য মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হয়।
  • সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ
    অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজকে বিদ্যালয় পরিচালনা ও তদারকিতে যুক্ত করা হয়।

এই বাস্তবায়ন কৌশলগুলির মাধ্যমে SSA প্রাথমিক শিক্ষাকে কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।

সর্বশিক্ষা অভিযানের (Sarva Shiksha Abhiyan) অর্জনসমূহ (Achievements)

সূচক (Indicator)প্রারম্ভিক অবস্থাসাম্প্রতিক/উন্নত অবস্থাঅগ্রগতির ইঙ্গিত
বিদ্যালয়ে মোট ভর্তি সংখ্যা (Enrollment)২০০৯–১০ সালে ১৮.৭৯ কোটি২০১৫–১৬ সালে ১৯.৬৭ কোটিবিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি
শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত (PTR)২০০৯–১০ সালে ৩২ : ১২০১৫–১৬ সালে ২৫ : ১শিক্ষণের মান উন্নত
মোট ভর্তি অনুপাত (GER)তুলনামূলকভাবে কমপ্রাথমিক স্তরে ৯৯.২১%
উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৯২.৮১%
সার্বজনীন শিক্ষার কাছাকাছি
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু২০০৫ সালে ১.৩৫ কোটি২০০৯ সালে ৮১ লক্ষ২০১৫ সালে ৬০.৬৪ লক্ষউল্লেখযোগ্য হ্রাস
লিঙ্গ সমতা সূচক (GPI)নিম্ন স্তরে ছিলপ্রাথমিক স্তরে ০.৯৩উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ০.৯৫লিঙ্গ বৈষম্য কমেছে

Comparative Table: SSA 2000 vs 2001 vs 2002

YearMain FocusKey FeaturesSignificance
2000Launch of SSAInfrastructure, teacher recruitment, enrollment, focus on marginalized childrenFirst national-level elementary education program
2001Quality & Community ParticipationSchool Management Committees (SMCs), monitoring & evaluation, retention improvementShift from access to quality & participation
2002Integration & Holistic ApproachMid-day meals and para teacher recruitment (WB-2013), out-of-school children, inclusive education, learning outcomes. WB is the 3rd state among india in 2013.Comprehensive focus: access + equity + quality + retention

Some Impotent Answer cum Question

  • সবুজ কার্ড বলতে সর্বশিক্ষা অভিযান কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ে না যাওয়া বা স্কুলছুট ছেলে-মেয়েদের সনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ পরিচয় কার্ডকে বোঝায়।
  • মহিলা মণ্ডল” বলতে গ্রামীণ বা স্থানীয় পর্যায়ে মহিলাদের নিয়ে গঠিত এমন একটি সংগঠনকে বোঝায়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের শিক্ষিত, সচেতন ও স্বনির্ভর করে তোলা।
  • 3Rs হল পঠন (Reading), লিখন (Writing) এবং গণিত (Arithmetic)
  • 7Rs হলো পঠন (Reading), লিখন (Writing), সরল গণিত (Simple Arithmetic), সম্পর্ক (Relation), বিনোদন (Recreation), দায়িত্ববোধ (Responsibility) এবং অধিকার (Right)

সর্বশিক্ষা অভিযান (SSA) সম্পর্কিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

Q1. প্রারম্ভিক শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: প্রারম্ভিক শিক্ষা বলতে শিশুর জন্ম থেকে প্রায় ৬ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ে যে পরিকল্পিত শিক্ষা ও শেখার অভিজ্ঞতা প্রদান করা হয়, তাকে বোঝায়। এই শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক, মানসিক, ভাষাগত, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশ ঘটে। এই স্তরে শিশুরা মূলত খেলা, গল্প, গান, ছড়া, ছবি ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে শেখে। প্রারম্ভিক শিক্ষা শিশুর মধ্যে শেখার আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস ও ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের বিদ্যালয় জীবনের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করে। অঙ্গনওয়াড়ি, প্রি-প্রাইমারি, নার্সারি, কেজি—এই সব স্তরের শিক্ষাই প্রারম্ভিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
সংক্ষেপে বলা যায়: প্রারম্ভিক শিক্ষা হলো শিশুর জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ধাপ।

Q2. সর্বশিক্ষা অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আলোচনা কর।

উত্তর: সর্বশিক্ষা অভিযান (SSA)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো—প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। এই অভিযানের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিশু, বিশেষ করে ৬–১৪ বছর বয়সী শিশুদের, বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দারিদ্র্যপীড়িত, প্রান্তিক, তপশিলি জাতি ও উপজাতি, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

সর্বশিক্ষা অভিযানের ফলে—

  • নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন হয়েছে
  • শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছে
  • মিড-ডে মিল, বই, ইউনিফর্ম ইত্যাদির মাধ্যমে স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি বেড়েছে
  • ঝরে পড়া (dropout) কমেছে

অতএব বলা যায়: প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছে দিয়ে শিক্ষার ভিত মজবুত করাই সর্বশিক্ষা অভিযানের অন্যতম প্রধান ভূমিকা।

Q3. সর্বশিক্ষা অভিযান অনুসারে কত থেকে কত বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: সর্বশিক্ষা অভিযান (SSA) অনুসারে ৬ বছর থেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এই বয়সসীমার মধ্যে প্রাথমিক (Class I–V) ও উচ্চ প্রাথমিক (Class VI–VIII) স্তরের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ, ৬–১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করাই সর্বশিক্ষা অভিযানের মূল লক্ষ্য।

Q4. সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শিশুদের শিক্ষা দেওয়া কেন প্রয়োজন? (সর্বশিক্ষা অভিযান অনুযায়ী)

উত্তর: সর্বশিক্ষা অভিযান (SSA) অনুযায়ী সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শিশুদের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য দূর করার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

SSA মনে করে—

  • সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ না পেলে তারা মূলধারার সমাজ থেকে আরও পিছিয়ে পড়বে।
  • শিক্ষা তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা ও দক্ষতা গড়ে তোলে।
  • শিক্ষার মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে স্বনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
  • নারী শিশু, তপশিলি জাতি ও উপজাতি, সংখ্যালঘু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষিত না করলে সর্বজনীন শিক্ষা লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়।

অতএব বলা যায়, 👉 সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সামাজিক ন্যায়, সমতা ও দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য—এটাই সর্বশিক্ষা অভিযানের মূল ভাবনা।

Q5. SSA অনুসারে মহিলাদের শিক্ষার উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কেন?

✍️ উত্তর: সর্বশিক্ষা অভিযান (SSA) অনুসারে মহিলাদের শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ নারী শিক্ষা সমাজ ও জাতির সার্বিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি।

SSA-এর মতে:

  • শিক্ষিত মহিলা হলে পরিবারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান উন্নত হয়।
  • নারী শিক্ষার অভাবে সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য, বাল্যবিবাহ ও কুসংস্কার বৃদ্ধি পায়।
  • শিক্ষিত নারী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে পারে।
  • সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার বাইরে রাখলে সর্বজনীন শিক্ষা অর্জন অসম্ভব।

তাই SSA মনে করে, 👉 মহিলাদের শিক্ষিত করা মানেই একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত পুরো দেশকে শিক্ষিত করা।

Q6. সর্বশিক্ষা অভিযান বা মিশন অনুসারে কত সালের মধ্যে প্রত্যেক শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে?

✍️ উত্তর: সর্বশিক্ষা অভিযান (SSA) বা সর্বশিক্ষা মিশন অনুসারে ২০১০ সালের মধ্যে প্রত্যেক শিশুর প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক (৬–১৪ বছর) স্তরের শিক্ষা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল—

  • সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা
  • প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনীনতা আনা
  • ঝরে পড়া কমিয়ে শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া

অতএব বলা যায়, 👉 SSA অনুযায়ী ২০১০ সালের মধ্যেই প্রত্যেক শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top