- পাকস্থলীতে যে অ্যাসিড নিঃসৃত হয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড HCl। এটি পাকস্থলীর আবরণে অবস্থিত প্যারিয়েটাল বা অক্সিন্টিক কোষ থেকে উৎপন্ন হয়। এই অ্যাসিড পাকস্থলীর ভিতরে অত্যন্ত অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর pH প্রায় ১.৮ থেকে ২.৫ এর মধ্যে থাকে। এত কম pH থাকার ফলে খাদ্যের সাথে প্রবেশ করা অনেক ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খাদ্য হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। এটি পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় উপাদানকে সক্রিয় এনজাইম পেপসিনে রূপান্তরিত করে। পেপসিন প্রোটিনকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। তাই হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খাদ্য পরিপাক, জীবাণুনাশ এবং এনজাইম সক্রিয়করণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক শুরু হয় মুখে। লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সালাইভারি অ্যামাইলেজ বা প্টাইলিন এনজাইম শর্করাকে ভাঙা শুরু করে।
- প্রোটিনের পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলীতে। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের উপস্থিতিতে পেপসিন এনজাইম প্রোটিনকে ছোট অংশে ভাঙতে শুরু করে।
- চর্বি বা ফ্যাটের পরিপাক মূলত শুরু হয় ক্ষুদ্রান্ত্রে। লিভার থেকে আসা পিত্তরস চর্বিকে ইমালসিফাই করে এবং অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত লাইপেজ এনজাইম চর্বিকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
- 💉 টিকাকরণ পদ্ধতির সূচনা করেন ইংরেজ চিকিৎসক Edward Jenner. ১৭৯৬ সালে তিনি গুটিবসন্ত রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রথম সফল ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে, যারা গরুর বসন্তে আক্রান্ত হন, তারা গুটিবসন্তে সহজে আক্রান্ত হন না। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি এক বালকের শরীরে গরুর বসন্তের জীবাণু প্রবেশ করান এবং প্রমাণ করেন যে এতে গুটিবসন্ত থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। এই আবিষ্কারই আধুনিক টিকাকরণের ভিত্তি স্থাপন করে।
- কে কোষ আবিষ্কার করেছিলেন? রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে নিজস্ব তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কর্কের পাতলা টুকরো দেখে কোষের ধারণা দেন। তিনি ছোট ছোট কুঠুরির মতো গঠন দেখেছিলেন, যা তিনি “সেল” নাম দেন।
- কে প্রথম জীবিত কোষ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন?
Antonie van Leeuwenhoek ১৬৭৪ সালে নিজ হাতে তৈরি শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথম জীবিত অণুজীব পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি পানির ফোঁটা, দাঁতের ময়লা প্রভৃতি নমুনায় অতি ক্ষুদ্র জীব দেখতে পান। এগুলোকে তিনি “animalcules” নামে অভিহিত করেন। তাঁর আবিষ্কার অণুজীববিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করে এবং জীববিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা ঘটায়। - কে কোষতত্ত্ব প্রবর্তন করেন?
Matthias Schleiden ও Theodor Schwann ১৮৩৮ ও ১৮৩৯ সালে কোষতত্ত্ব প্রবর্তন করেন। তাঁরা বলেন যে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ দ্বারা গঠিত এবং কোষই জীবের গঠন ও কার্যকলাপের মৌলিক একক। পরবর্তীতে Rudolf Virchow যুক্ত করেন যে প্রতিটি কোষ পূর্ববর্তী কোষ থেকে উৎপন্ন হয়। এই তত্ত্ব আধুনিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে। - কে প্রথম বিবর্তন তত্ত্ব প্রস্তাব করেন?
Charles Darwin ১৮৫৯ সালে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ On the Origin of Species-এ প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা বিবর্তন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে জীবেরা পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে গিয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। উপযোগী বৈশিষ্ট্যধারীরা টিকে থাকে এবং বংশবিস্তার করে। এই ধারণা জীববিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। - কে বংশগতি সূত্র আবিষ্কার করেন?
Gregor Mendel ১৮৬৫ সালে মটর গাছের উপর পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগতির মৌলিক সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি বৈশিষ্ট্য উত্তরাধিকার সূত্রে কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় তা ব্যাখ্যা করেন। তাঁর প্রস্তাবিত প্রাধান্য, অপপ্রাধান্য ও বিভাজন সূত্র আধুনিক জেনেটিক্সের ভিত্তি স্থাপন করে। - কে জীবাণু তত্ত্ব প্রবর্তন করেন?
Louis Pasteur উনবিংশ শতাব্দীতে জীবাণু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে বহু সংক্রামক রোগ অদৃশ্য অণুজীবের কারণে হয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত উৎপত্তি ধারণা ভুল। তাঁর পরীক্ষাগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীবাণুবিদ্যা ও টিকাকরণ পদ্ধতির বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এবং আধুনিক অণুজীববিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলে। - কে প্রথম রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন?
William Harvey ১৬২৮ সালে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে হৃদপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে এবং রক্ত ধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে প্রবাহিত হয়ে শিরার মাধ্যমে আবার হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে। তাঁর গবেষণা শারীরবিদ্যায় নতুন যুগের সূচনা করে। - কে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন?
James Watson ও Francis Crick ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স গঠন প্রস্তাব করেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায় যে ডিএনএ দুটি পরস্পর জড়ানো সর্পিল শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত। এই আবিষ্কার বংশগতির রহস্য উন্মোচন করে এবং আধুনিক আণবিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে। - কে রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন?
Karl Landsteiner ১৯০১ সালে মানব রক্তের বিভিন্ন গ্রুপ আবিষ্কার করেন। তিনি দেখান যে রক্তের ভিন্ন ভিন্ন অ্যান্টিজেনের কারণে A, B, AB ও O গ্রুপ গঠিত হয়। তাঁর এই আবিষ্কার নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন সম্ভব করে তোলে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এজন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। - কে ফটোসিন্থেসিসে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় তা প্রমাণ করেন?
Joseph Priestley ১৭৭১ সালে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে সবুজ উদ্ভিদ বায়ুকে বিশুদ্ধ করতে পারে। পরে Jan Ingenhousz প্রমাণ করেন যে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে উদ্ভিদ অক্সিজেন নির্গত করে। তাঁদের গবেষণা আলোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া বোঝার ভিত্তি স্থাপন করে এবং উদ্ভিদের গুরুত্ব স্পষ্ট করে। - কে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন?
Alexander Fleming ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। এই আবিষ্কার থেকেই প্রথম অ্যান্টিবায়োটিকের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটায় এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। - কে রক্তকণিকা আবিষ্কার করেন?
Antonie van Leeuwenhoek প্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ১৬৭৪ সালের দিকে রক্তের লোহিত কণিকা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মানব রক্তে ক্ষুদ্র গোলাকার গঠন দেখতে পান এবং সেগুলোর বর্ণনা দেন। তাঁর গবেষণা রক্তের গঠন ও অণুবীক্ষণভিত্তিক শারীরবিদ্যার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আধুনিক হেমাটোলজির ভিত্তি স্থাপন করে। - কে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন?
Felix Hoppe-Seyler উনবিংশ শতাব্দীতে হিমোগ্লোবিন পৃথক করে এর গঠন ও কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান যে হিমোগ্লোবিন রক্তে অক্সিজেন বহন করে শরীরের কোষে পৌঁছে দেয়। তাঁর গবেষণা জৈবরসায়ন ও শারীরবিদ্যার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং রক্তের কার্যপ্রণালী বোঝার পথ উন্মুক্ত করে। - কে ইনসুলিন আবিষ্কার করেন?
Frederick Banting ও Charles Best ১৯২১ সালে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন পৃথক করতে সক্ষম হন। তাঁরা প্রমাণ করেন যে ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই আবিষ্কার ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা করে। এজন্য ব্যান্টিং নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। - কে ক্রোমোজোম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন?
Walter Sutton ও Theodor Boveri বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ক্রোমোজোম তত্ত্ব প্রস্তাব করেন। তাঁরা দেখান যে বংশগত বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোমের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয় এবং মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় মেন্ডেলের সূত্রের সাথে মিল পাওয়া যায়। এই তত্ত্ব আধুনিক জেনেটিক্সকে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে। - কে রক্তে শ্বেত কণিকা আবিষ্কার করেন?
William Hewson অষ্টাদশ শতাব্দীতে রক্তের গঠন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে শ্বেত রক্তকণিকার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তের উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করেন। তাঁর গবেষণা ইমিউনোলজি ও হেমাটোলজির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধারণা স্পষ্ট করে। - কে মাইটোসিস প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন?
Walther Flemming উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে মাইটোসিস প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। তিনি বিশেষ রঞ্জক ব্যবহার করে কোষের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন এবং বিভাজনের বিভিন্ন ধাপ চিহ্নিত করেন। তাঁর গবেষণা কোষজীববিদ্যার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। - কে রিফ্লেক্স ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন?
Ivan Pavlov স্নায়ুতন্ত্র ও শর্তাধীন প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে রিফ্লেক্স ক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন। তিনি কুকুরের উপর পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে নির্দিষ্ট উদ্দীপনার ফলে স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাঁর গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞান ও আচরণবিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শিক্ষণ প্রক্রিয়া বোঝার পথ প্রসারিত করে। - কে এক্স-রে আবিষ্কার করেন?
Wilhelm Conrad Röntgen ১৮৯৫ সালে এক্স-রে আবিষ্কার করেন। যদিও এটি মূলত পদার্থবিজ্ঞানের আবিষ্কার, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানে এর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্স-রের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখা সম্ভব হয়। এই আবিষ্কার আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে বিপ্লব ঘটায় এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। - কে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন?
Robert Brown ১৮৩১ সালে উদ্ভিদ কোষ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে কোষের ভিতরে একটি ঘন গোলাকার গঠন দেখতে পান, যাকে তিনি নিউক্লিয়াস নাম দেন। তিনি প্রথম দেখান যে নিউক্লিয়াস কোষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই আবিষ্কার কোষজীববিদ্যা ও বংশগতিবিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করে। - কে ভিটামিন আবিষ্কার করেন?
Casimir Funk ১৯১২ সালে খাদ্যের বিশেষ জৈব যৌগকে “ভিটামিন” নামে অভিহিত করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে নির্দিষ্ট রোগ যেমন বেরিবেরি ভিটামিনের অভাবে হয়। তাঁর গবেষণা পুষ্টিবিজ্ঞানকে নতুন দিশা দেয় এবং খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা স্পষ্ট করে। - কে অ্যানেস্থেসিয়া প্রবর্তন করেন?
William T. G. Morton ১৮৪৬ সালে অস্ত্রোপচারে ইথার ব্যবহার করে অজ্ঞান করার পদ্ধতি প্রদর্শন করেন। এর ফলে ব্যথাহীন অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়। এই আবিষ্কার শল্যচিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এবং আধুনিক সার্জারির পথ সুগম করে। - কে হরমোন শব্দটি প্রবর্তন করেন?
Ernest Starling ১৯০৫ সালে “হরমোন” শব্দটি প্রবর্তন করেন। তিনি দেখান যে দেহে রাসায়নিক বার্তাবাহক পদার্থ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে নির্দিষ্ট অঙ্গে প্রভাব ফেলে। এই ধারণা অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। - কোনটিতে আলফা কেরাটিন প্রোটিন থাকে? চুল, নখ, শিং, খুর এবং ত্বকের বাহ্যিক স্তর আলফা কেরাটিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত। আলফা কেরাটিন একটি তন্তুযুক্ত গাঠনিক প্রোটিন, যা প্রধানত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দেহে পাওয়া যায়। এটি ত্বক ও ত্বকের উপাঙ্গকে শক্তি, সুরক্ষা ও স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে এবং দেহকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- সিল্কে কোন প্রোটিন থাকে? সিল্কে ফাইব্রোইন প্রোটিন থাকে। ফাইব্রোইন একটি গাঠনিক প্রোটিন যা রেশম পোকার দ্বারা উৎপন্ন হয়। এটি বিটা প্লিটেড শিট গঠন করে, ফলে সিল্ক শক্ত হলেও নমনীয় হয়।
- কোলাজেন কোন ধরনের টিস্যুতে প্রধানত পাওয়া যায়? কোলাজেন সংযোজক কলায় পাওয়া যায়। এটি ত্বক, অস্থি, টেন্ডন ও লিগামেন্টে উপস্থিত। কোলাজেন দেহকে দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে এবং এটি মানবদেহের সর্বাধিক পরিমাণে উপস্থিত প্রোটিন।
- পেশীতে কোন প্রোটিন থাকে? পেশীতে অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিন থাকে। এই দুটি সংকোচনশীল প্রোটিনের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে পেশীর সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে, যা চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ডিমের সাদা অংশে কোন প্রোটিন থাকে? ডিমের সাদা অংশে অ্যালবুমিন প্রোটিন থাকে। অ্যালবুমিন একটি সরল ও জলদ্রবণীয় প্রোটিন, যা ভ্রূণের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে এবং গবেষণাগারে পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী প্রোটিন কোনটি? হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহন করে। এটি লোহিত রক্তকণিকায় থাকে এবং ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয়। এটি কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণেও সাহায্য করে।