Holistic Progress Report Card (HPRC) কী?
Holistic Progress Report Card (HPRC) হলো এমন একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি যেখানে শিক্ষার্থীর শুধু একাডেমিক ফল নয়, বরং তার সামগ্রিক বিকাশ (Holistic Development) মূল্যায়ন করা হয়। এটি NEP 2020–এর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
👩🏫 শিক্ষক ইন্টারভিউতে বলার জন্য আদর্শ উত্তর
“Holistic Progress Report Card হলো এমন একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার্থীর একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি তার সামাজিক, আবেগীয়, শারীরিক ও নৈতিক বিকাশও মূল্যায়ন করা হয়। এটি শিশুকে কেন্দ্র করে তৈরি এবং ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শেখার অগ্রগতি তুলে ধরে।”
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE): শিক্ষক ডায়েরি ও হলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড (HPRC) বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, বৈজ্ঞানিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলার জন্য ‘Teacher’s Diary’ বা শিক্ষক ডায়েরিকে একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি মূলত Holistic Progress Report Card (HPRC) সফলভাবে বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
HPRC কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- শিশুদের উপর পরীক্ষার চাপ কমায়
- প্রতিটি শিশুর স্বতন্ত্র ক্ষমতা চিহ্নিত করে
- শেখার আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
- শিক্ষাকে করে তোলে অর্থবহ ও মানবিক
শিক্ষক ডায়েরির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
শিক্ষক ডায়েরি শুধুমাত্র প্রতিদিনের কাজের হিসাব রাখা নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিবর্তনের সাক্ষী। এর মাধ্যমে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়:
- কতগুলি অধ্যায় বা পাঠ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা হলো তার হিসাব রাখা।
- শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কীভাবে জ্ঞান নির্মিত হচ্ছে (Construction of Knowledge), তার প্রমাণ রাখা।
- শিক্ষার্থীর আচরণের পরিবর্তন এবং তার বহুমাত্রিক দক্ষতা (যেমন: সৃজনশীলতা, প্রতিফলন) পর্যবেক্ষণ করা।
- শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত, সামাজিক ও আবেগীয় উন্নয়নের গুণগত বর্ণনা প্রদান করা।
- Bloom’s Taxonomy-র অ্যাকশন ভার্ব ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সামর্থ্য বা কম্পিটেন্সি নির্ধারণ করা।
- কনটেন্ট ভিত্তিক শিক্ষার বদলে কম্পিটেন্সি বা দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।
মূল্যায়ন পদ্ধতি: প্রস্তুতিমূলক ও পর্যায়ক্রমিক (Formative & Summative)
পর্ষদ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রদান করেছে:
প্রস্তুতিমূলক মূল্যায়ন (Formative Evaluation):
বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ে বছরে মোট ৯ বার এই মূল্যায়ন করতে হবে।
- প্রতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মূল্যায়ন আয়োজন করা বাঞ্ছনীয়।
- মূল্যায়নের পরবর্তী সপ্তাহে অর্থাৎ চতুর্থ সপ্তাহে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য Remedial Teaching বা প্রতিকারমূলক পাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।
- মূল্যায়নের ধরণ হতে পারে: লিখিত পরীক্ষা, প্রজেক্ট, মৌখিক পরীক্ষা, শারীরিক কসরত, মডেল প্রদর্শন বা অন্য কোনো উদ্ভাবনী পদ্ধতি।
পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (Summative Evaluation):
এটি বছরে তিনবার অনুষ্ঠিত হবে—এপ্রিল, আগস্ট এবং ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য নম্বরের বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- ১ম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন: ৩০ নম্বর
- ২য় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন: ৫০ নম্বর
- ৩য় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন: ৭০ নম্বর
- মোট নম্বর: ১৫০
শিক্ষণ মডেল:
৪C, ৪H, ICON এবং 5E Model
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একবিংশ শতাব্দীর দক্ষতা তৈরি করতে বিশেষ কিছু মডেল অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
Class VI – VIII (৪C ও ৪H মডেল):
- 4C: Communication (যোগাযোগ), Collaboration (সহযোগিতা), Critical Thinking (যুক্তিপূর্ণ চিন্তা), Creativity (সৃজনশীলতা)
- 4H: Head (মাথা), Heart (হৃদয়), Hands (হাত), Health (স্বাস্থ্য)
Class IX – X (ICON ও 5E Model):
- ICON Model: Contextualization, Collaboration, Interpretation Construction, Multiple Interpretation
- 5E Model: Engage, Explore, Explain, Elaborate, Evaluate
দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য
‘Catch-Challenge-Change’ পদ্ধতি
শিখনে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য পর্ষদ একটি চমৎকার ত্রি-স্তরীয় মডেল প্রস্তাব করেছে:
- CATCH (ধরা): শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা, তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রয়োজনগুলোকে বোঝা।
- CHALLENGE (চ্যালেঞ্জ): তাদের নিজেদের আইডিয়া শেয়ার করার সুযোগ দেওয়া এবং প্রজেক্ট, ডায়াগ্রাম বা মডেল তৈরির মাধ্যমে সক্রিয় করা।
- CHANGE (পরিবর্তন): নতুন শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করে শিক্ষার্থীর পুরনো ভুল ধারণা বদলে নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা তৈরি করা।
শিক্ষকদের জন্য পালনীয় নির্দেশাবলী
শিক্ষক ডায়েরি রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে পর্ষদের কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম রয়েছে:
- প্রতিটি পিরিয়ডের পাঠের বিষয়, প্রত্যাশিত শিখন সামর্থ্য এবং কী ধরণের এক্টিভিটি করানো হলো তা ডায়েরিতে প্রতিদিন লিপিবদ্ধ করতে হবে।
- বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (Head of Institution) সপ্তাহে অন্তত একবার এই ডায়েরি পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনীয় মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করবেন।
- একবিংশ শতাব্দীর ১৫টি জীবনদক্ষতা (যেমন: এম্প্যাথি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ) শিক্ষার্থীর মধ্যে কতটা বিকশিত হলো, তার রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক।
সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী (Co-curricular Activities)
পর্ষদ শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, বরং বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরণের এক্টিভিটির ওপর জোর দিয়েছে:
- নাটক বা অভিনয়
- যোগব্যায়াম ও শরীরচর্চা
- আঁকা, মাটির কাজ ও বাগান করা
- কুইজ ও প্রকৃতি পাঠ
এই নতুন শিক্ষক ডায়েরি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি মূলত শিক্ষাকে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস। প্রতিটি শিক্ষক যদি এই নিয়মগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করেন, তবে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।