আজকের আলোচ্য বিষয়
প্রাইমারি টিচার ইন্টারভিউতে—
- কী ধরনের পোশাক পরা উচিত
- ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কী কী খোঁজা হয়?
- ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী
ইন্টারভিউতে জন্য উপযুক্ত পোশাক
ইন্টারভিউতে পুরুষদের জন্য উপযুক্ত পোশাক
জামা : সাদা, ক্রিম, ঘিয়ে অথবা হালকা আকাশি রঙের ফুল হাতা ফরমাল জামা পরা সবচেয়ে ভালো। এই রঙগুলো শান্ত, মার্জিত এবং প্রফেশনাল ভাব প্রকাশ করে, যা ইন্টারভিউ বোর্ডের কাছে ইতিবাচক ইমপ্রেশন তৈরি করে। জামাটি যেন পরিষ্কার, ইস্ত্রি করা এবং দাগহীন হয়—এটি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা জরুরি।
প্যান্ট : কালো অথবা নেভি ব্লু রঙের ফরমাল প্যান্ট পরলে খুব ভালো হয়। এই রঙের প্যান্ট শিক্ষক পেশার সঙ্গে মানানসই এবং আপনাকে আরও দায়িত্বশীল ও শালীন হিসেবে উপস্থাপন করে। প্যান্টটি যেন ঠিক মাপের হয় এবং অতিরিক্ত ঢিলা বা টাইট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
জামা ইন করে পরা : জামা অবশ্যই প্যান্টের ভিতরে ঢুকিয়ে (ইন করে) পরা উচিত। এতে আপনার পোশাক পরিপাটি দেখায় এবং ব্যক্তিত্ব আরও স্মার্ট ও আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হয়।
বেল্ট : কালো রঙের সাধারণ ফরমাল বেল্ট ব্যবহার করা ভালো। বেল্টের রং জুতোর রঙের সঙ্গে মিললে পোশাক আরও সুন্দর ও গোছানো দেখায়।
জুতো : ভালোভাবে পালিশ করা কালো বা গাঢ় রঙের ফরমাল বুট বা জুতো পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা বা আনপালিশড জুতো ইন্টারভিউতে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
হাতঘড়ি : হাতে একটি সাধারণ, পরিষ্কার ও মার্জিত হাতঘড়ি থাকলে ভালো ইমপ্রেশন পড়ে। অতিরিক্ত ডিজাইনের বা চটকদার ঘড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো।
চুলের স্টাইল : চুল ছোট করে ছাঁটা এবং পরিপাটি রাখা উচিত। অতিরিক্ত স্টাইলিশ বা অগোছালো চুল শিক্ষক ইন্টারভিউয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
কলম :জামার পকেটে একটি সাধারণ মানের কলম রাখা প্রয়োজন। এটি ছোট বিষয় হলেও আপনার প্রস্তুতি ও পেশাদার মনোভাবের পরিচয় দেয়।


মহিলাদের জন্য ইন্টারভিউ পোশাক (বিস্তারিত নির্দেশিকা)
শাড়ি : হালকা রঙের শাড়ি অথবা সরু স্ট্রাইপ দেওয়া শাড়ি পরলে সবচেয়ে ভালো হয়। বিশেষ করে তাঁতের শাড়ি পরার চেষ্টা করবেন, কারণ তাঁতের শাড়ি শালীনতা, পরিপক্বতা ও শিক্ষকসুলভ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। খুব গাঢ়, ঝকঝকে বা বেশি ডিজাইনের শাড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো।
ব্লাউজ : শাড়ির সঙ্গে মানানসই ডিপ রঙের ব্লাউজ পরা উচিত। সম্ভব হলে ফুল হাতা ব্লাউজ পরলে আরও বেশি শালীন ও প্রফেশনাল লুক পাওয়া যায়। ব্লাউজ যেন খুব আঁটসাঁট বা ফ্যাশনেবল না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
নখ (Nails) : হাতে খুব বড় নখ রাখা যাবে না। নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন, কারণ এটি আপনার পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়।
নেলপালিশ : নেলপালিশ না পরাই সবচেয়ে ভালো। যদি একান্তই পরতে হয়, তবে খুব হালকা ও ন্যুড রঙ ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়।
চুড়ি ও গয়না : হাতে অত্যাধিক চুড়ি বা ভারী গয়না পরা উচিত নয়। সাধারণ, হালকা গয়না ব্যবহার করলে আপনার লুক মার্জিত ও শিক্ষকসুলভ থাকবে।
মেকআপ : ইন্টারভিউতে কখনোই ভারী মেকআপ করে যাওয়া উচিত নয়। সাধারণত মেকআপ না করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত। এতে বোর্ডের কাছে আপনার স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী ভাব ফুটে ওঠে।
পোশাকের ধরন : পোশাক-পরিচ্ছদে যেন কোনোভাবেই অত্যাধুনিকতা বা ফ্যাশনের বাড়াবাড়ি না থাকে। শিক্ষক পেশার জন্য শালীনতা ও পরিমিতিবোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চুলের স্টাইল : চুল সাধারণভাবে বাঁধা বা গোছানো থাকবে। কোনো রকম হেয়ার কালার, হাইলাইট বা স্টাইলিং করা যাবে না। চুল যেন পরিষ্কার ও পরিপাটি থাকে।
হাতঘড়ি : হাতে একটি সাধারণ মানের, পরিষ্কার ও মার্জিত হাতঘড়ি পরা ভালো। এটি সময়ানুবর্তিতা ও প্রফেশনাল মনোভাবের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কী কী খোঁজা হয়?
ইন্টারভিউ কেবল প্রশ্ন–উত্তরের জায়গা নয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোর্ড মূলত একজন প্রার্থীকে মানুষ ও শিক্ষক; এই দুই দিক থেকেই বিচার করে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:
1. আপনি একজন শিক্ষক হিসেবে কতটা উপযুক্ত
ইন্টারভিউ বোর্ড প্রথমেই দেখতে চায়: আপনি আদৌ একজন শিক্ষক হওয়ার যোগ্য কি না।

এক্ষেত্রে তারা লক্ষ্য করে:
- আপনার আচরণ ও ভদ্রতা
- কথা বলার ভাষা ও ভঙ্গি
- আপনার মধ্যে ধৈর্য, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ আছে কি না
- শিশুদের সঙ্গে কাজ করার মতো মানসিকতা ও মনোভাব আপনার আছে কি না
একজন ভালো শিক্ষক শুধু বিষয় জানলেই হয় না, বরং তাকে হতে হয়:
- শালীন
- সহনশীল
- নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন
- এবং শিশুদের জন্য আদর্শ ব্যক্তি
এই গুণগুলো আপনার কথাবার্তা ও ব্যবহার থেকেই বোর্ড বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করে।
2. আপনার সাধারণ জ্ঞানের পরিধি কতটা
ইন্টারভিউ বোর্ড জানতে চায়: আপনি শুধু বইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নাকি চারপাশের সমাজ, দেশ ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কেও সচেতন।

এখানে তারা দেখতে চায়:
- আপনার সাধারণ জ্ঞান (GK)
- শিক্ষা সম্পর্কিত বর্তমান বিষয় (NEP, RTE, FLN ইত্যাদি)
- সমাজ ও শিশুবিকাশ সম্পর্কে আপনার বেসিক ধারণা
একজন শিক্ষককে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। তাই আপনার জ্ঞান কতটা বিস্তৃত এবং আপডেটেড—তা বোর্ড যাচাই করে।
3. আপনি একজন শিক্ষক হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন
এটি ইন্টারভিউয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।

বোর্ড জানতে চায়:
- কোনো ছাত্র যদি দুষ্টুমি করে, আপনি কী করবেন
- ক্লাসে সমস্যা হলে আপনি রাগ করবেন না সমাধান করবেন
- অভিভাবক বা সহকর্মীর সঙ্গে মতবিরোধ হলে আপনি কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন
এখানে বোর্ড আপনার:
- ধৈর্যশক্তি
- সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা
- ইমোশনাল কন্ট্রোল
- এবং বাস্তব বুদ্ধিমত্তা
—পরখ করে।
একজন ভালো শিক্ষক কখনোই চিৎকার বা শাস্তির ওপর নির্ভর করেন না, বরং বুদ্ধি, সহানুভূতি ও আলোচনা দিয়ে সমস্যা সমাধান করেন; এটাই বোর্ড দেখতে চায়।
4. আপনার আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা

ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে বোর্ড আরও লক্ষ্য করে:
- আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী
- চাপের মধ্যে প্রশ্ন করলে আপনি নার্ভাস হন কি না
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনি যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে পারেন কি না
শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তাই আপনার Presence of Mind ইন্টারভিউতে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
5. আপনার শিক্ষকসুলভ মনোভাব ও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি

সবশেষে বোর্ড খোঁজে:
- শিক্ষা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী
- আপনি শিক্ষকতাকে চাকরি হিসেবে দেখছেন, নাকি দায়িত্ব হিসেবে
- শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আন্তরিক
ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে বোর্ড জানতে চায়, আপনি কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং একজন দায়িত্বশীল, সচেতন ও আদর্শ শিক্ষক হতে পারবেন কি না।
ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী
ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই বোর্ড আপনার আচরণ, ভদ্রতা ও আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করতে শুরু করে। তাই এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
1.টেনশনমুক্ত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্রবেশ করতে হবে
ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার সময় অবশ্যই নিজেকে শান্ত ও টেনশনমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অতিরিক্ত নার্ভাস হলে তা আপনার মুখভঙ্গি, হাঁটার ধরন ও কথা বলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মনে রাখতে হবে-
বোর্ড আপনাকে ফেলানোর জন্য নয়, বরং আপনার যোগ্যতা বোঝার জন্য বসে আছেন।
একটু গভীর শ্বাস নিয়ে, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রুমে প্রবেশ করবেন।

2. রুমে প্রবেশের আগে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে
ইন্টারভিউ রুমের দরজায় হালকা করে নক করবেন। তারপর ভদ্রভাবে বলবেন—
- “May I come in, Sir/Madam?”
অথবা - “আমি কি আসতে পারি, স্যার/ম্যাডাম?”
বোর্ডের সদস্যরা সম্মতি জানালে তবেই রুমে প্রবেশ করবেন। অনুমতি ছাড়া হঠাৎ রুমে ঢুকে পড়া শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ হিসেবে গণ্য হয়।
3. প্রবেশের পর শিষ্টাচার বজায় রেখে অভিবাদন জানাতে হবে
রুমে প্রবেশ করার পর দরজা আস্তে করে বন্ধ করবেন (যদি বলা না হয় দরজা খোলা রাখতে)। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ভদ্রভাবে বলবেন-
- “নমস্কার স্যার”
- “নমস্কার ম্যাডাম”
অথবা - “Good Morning, Sir/Madam”
এক্ষেত্রে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—
দুপুর ১২টার আগে হলে তবেই “Good Morning” বলবেন। দুপুর ১২টার পরে হলে “Good Afternoon” বলা উচিত।