Top 10 Largest Animal in the World
১) নীল তিমি: নীল তিমি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রাণী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫–৩০ মিটার এবং ওজন ১৫০–১৮০ টন পর্যন্ত হতে পারে। এরা পৃথিবীর বিভিন্ন মহাসাগরে বসবাস করে। নীল তিমি মূলত ক্রিল নামের ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী খায়। এরা স্তন্যপায়ী প্রাণী, তাই ডিম পাড়ে না; বাচ্চা প্রসব করে এবং মায়ের দুধ পান করায়। একটি বাচ্চা জন্মের সময়ই প্রায় ২–৩ টন ওজনের হয়। নীল তিমির হৃদপিণ্ড একটি ছোট গাড়ির সমান বড়। পরিবেশ দূষণ ও শিকার এদের জন্য বড় হুমকি।
২) আফ্রিকান হাতি: আফ্রিকান হাতি স্থলভাগের সবচেয়ে বড় প্রাণী। উচ্চতা প্রায় ১০–১৩ ফুট এবং ওজন ৫–৭ টন পর্যন্ত। আফ্রিকার তৃণভূমি ও বনাঞ্চলে এদের বসবাস। ঘাস, পাতা, ফল ও গাছের ছাল এদের খাদ্য। এরা স্তন্যপায়ী, অর্থাৎ জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। গর্ভকাল প্রায় ২২ মাস, যা প্রাণিজগতে দীর্ঘতম। হাতির শুঁড় খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা দিয়ে খাওয়া, পান করা ও কাজ করা যায়। সামাজিক ও বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে হাতি পরিচিত।
৩) এশীয় হাতি: এশীয় হাতি আকারে আফ্রিকান হাতির তুলনায় কিছুটা ছোট হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। ওজন প্রায় ৩-৫ টন এবং উচ্চতা ৮-১০ ফুট। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে এদের বাস। ঘাস, বাঁশ, ফল ও পাতা এদের প্রধান খাদ্য। এরা স্তন্যপায়ী এবং বাচ্চা প্রসব করে। এশীয় হাতি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে – যানবাহন টানা ও ভারী কাজের জন্য। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এদের গুরুত্ব অনেক।
৪) স্পার্ম তিমি: স্পার্ম তিমি দাঁতযুক্ত তিমিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬-২০ মিটার এবং ওজন ৫০-৬০ টন। গভীর সমুদ্রে এদের বসবাস। স্কুইড ও বড় মাছ এদের প্রধান খাদ্য। এরা স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। গভীর সমুদ্রে ডুব দেওয়ার ক্ষেত্রে এরা রেকর্ডধারী। মাথার বিশাল আকৃতি ও শক্তিশালী শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে শিকার ধরতে পারা এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
৫) জিরাফ: জিরাফ পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা স্থলজ প্রাণী। উচ্চতা প্রায় ১৮-২০ ফুট এবং ওজন ৮০০-১২০০ কেজি। আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলে এদের বসবাস। গাছের উঁচু পাতা, বিশেষ করে আকাসিয়া গাছের পাতা, এদের খাদ্য। এরা স্তন্যপায়ী এবং জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। লম্বা গলা ও শক্ত পা জিরাফের প্রধান বৈশিষ্ট্য। উঁচু থেকে চারপাশ দেখতে পারার কারণে শিকারি থেকে বাঁচতে সুবিধা হয়।
৬) লবণাক্ত জলের কুমির: লবণাক্ত জলের কুমির পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সরীসৃপ। দৈর্ঘ্য প্রায় ৬-৭ মিটার এবং ওজন ১ টনের কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী ও উপকূলে এদের বাস। মাছ, হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং মা কুমির ডিম ও বাচ্চার যত্ন নেয়। শক্ত চোয়াল ও ধৈর্যশীল শিকার কৌশল এদের ভয়ংকর করে তোলে।
৭) সাদা গণ্ডার: সাদা গণ্ডার আফ্রিকার বৃহত্তম গণ্ডার প্রজাতি। ওজন ২-২.৫ টন পর্যন্ত এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ মিটার। আফ্রিকার তৃণভূমিতে এদের বাস। ঘাসই এদের প্রধান খাদ্য। এরা স্তন্যপায়ী এবং বাচ্চা প্রসব করে। নাকের উপর বড় শিং এদের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। অবৈধ শিকার কারণে এরা আজ বিপন্ন। পরিবেশ সংরক্ষণে গণ্ডারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
৮) জলহস্তী (হিপোপটামাস): জলহস্তী আকারে বড় ও ভারী স্তন্যপায়ী প্রাণী। ওজন প্রায় ১.৫-২ টন। আফ্রিকার নদী ও হ্রদে এদের বাস। ঘাস এদের প্রধান খাদ্য। এরা পানির মধ্যেই বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। দেখতে শান্ত হলেও জলহস্তী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হতে পারে। শক্ত দাঁত ও চোয়াল আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র। জলজ পরিবেশ রক্ষায় এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
৯) কলসাল স্কুইড: কলসাল স্কুইড গভীর সমুদ্রের অন্যতম বৃহৎ অমেরুদণ্ডী প্রাণী। দৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১৪ মিটার। অ্যান্টার্কটিকার গভীর সমুদ্রে এদের বসবাস। মাছ ও অন্যান্য স্কুইড এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে। বিশাল চোখ গভীর অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে। এই প্রাণী সম্পর্কে এখনও অনেক তথ্য অজানা, যা বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যময়।
১০) গোলিয়াথ বিটল: গোলিয়াথ বিটল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পোকামাকড়গুলোর একটি। দৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১১ সেমি এবং ওজন ৮০-১০০ গ্রাম। আফ্রিকার বনে এদের বাস। গাছের রস ও ফল এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং লার্ভা অবস্থায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আকারে বিশাল হলেও মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। পোকামাকড়ের বৈচিত্র্য বোঝাতে এদের গুরুত্ব অনেক।
List of Top 10 Largest Birds in the World

১) উটপাখি (Ostrich): উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি। পূর্ণবয়স্ক উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮–৯ ফুট এবং ওজন ১০০–১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এরা মূলত আফ্রিকার তৃণভূমি ও মরুভূমি অঞ্চলে বাস করে। খাদ্য হিসেবে ঘাস, পাতা, ফল, বীজ ও ছোট পোকামাকড় খায়। উটপাখি ডিম পাড়ে; একটি ডিম প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের, যা পাখিজগতের সবচেয়ে বড় ডিম। এরা উড়তে পারে না, কিন্তু ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিমি গতিতে দৌড়াতে পারে। শক্তিশালী পা আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র।

২) সাউদার্ন ক্যাসোয়ারি (Southern Cassowary): এই পাখি আকারে দ্বিতীয় বৃহত্তম। উচ্চতা প্রায় ৫–৬ ফুট এবং ওজন ৫০–৬০ কেজি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ গিনির ঘন বৃষ্টিবনে এদের বাস। ফল, বীজ, বেরি ও মাঝে মাঝে ছোট প্রাণী এদের খাদ্য। ক্যাসোয়ারি ডিম পাড়ে এবং আশ্চর্যভাবে পুরুষ পাখিই ডিমে তা দেয় ও ছানাদের লালন-পালন করে। মাথার উপরের শক্ত হাড়ের মতো অংশ (হেলমেট) খুবই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এরা উড়তে পারে না এবং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মকও হতে পারে।

৩) ইমু (Emu): ইমু অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পাখি। উচ্চতা প্রায় ৫–৬ ফুট ও ওজন ৪০–৫০ কেজি। খোলা তৃণভূমি ও বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়। ঘাস, ফল, বীজ, পোকামাকড় ইমুর প্রধান খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং এখানেও পুরুষ ইমু ডিমে তা দেয়। ইমু উড়তে না পারলেও দ্রুত দৌড়াতে সক্ষম। দীর্ঘ পা ও শক্ত শরীরের জন্য এরা দীর্ঘ দূরত্ব সহজেই অতিক্রম করতে পারে।

৪) ভ্রাম্যমাণ অ্যালবাট্রস (Wandering Albatross): ডানার বিস্তার অনুযায়ী এটিই বিশ্বের বৃহত্তম পাখি; ডানা মেলে প্রায় ১১–১২ ফুট পর্যন্ত হয়। ওজন ৮–১২ কেজি। দক্ষিণ মহাসাগর ও অ্যান্টার্কটিকার আশেপাশে এদের বসবাস। মাছ, স্কুইড ও সামুদ্রিক জীব এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ছানার যত্ন নেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের উপর ভেসে উড়তে পারা এদের বিশেষ ক্ষমতা। দীর্ঘজীবী পাখি হিসেবে এরা পরিচিত।

৫) কোরি বাস্টার্ড (Kori Bustard): কোরি বাস্টার্ড আফ্রিকার অন্যতম ভারী উড়তে সক্ষম পাখি। উচ্চতা প্রায় ৪–৫ ফুট এবং ওজন ১৫–১৮ কেজি। তৃণভূমি ও খোলা সমতলে এদের বাস। পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ, বীজ ও ফল এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং মাটিতে বাসা তৈরি করে। ওজন বেশি হওয়ায় উড়তে কষ্ট হলেও প্রয়োজনে উড়তে পারে। ধীর গতির স্বভাব ও বিশাল শরীর এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

৬) মিউট সোয়ান (Mute Swan): মিউট সোয়ান বড় আকারের জলচর পাখি। দৈর্ঘ্য প্রায় ৫–৬ ফুট ও ওজন ১০–১৫ কেজি। ইউরোপ ও এশিয়ার হ্রদ, নদী ও জলাভূমিতে এদের দেখা যায়। জলজ উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছোট জলজ প্রাণী এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং জোড়ায় জোড়ায় ছানার যত্ন নেয়। সাদা পালক ও লম্বা ঘাড় এদের সৌন্দর্যের প্রতীক। শান্ত দেখালেও বাসা রক্ষায় খুব সাহসী।

৭) অ্যান্ডিয়ান কন্ডর (Andean Condor): এটি বিশ্বের বৃহত্তম উড়ন্ত শিকারি পাখিগুলোর একটি। ডানার বিস্তার প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত। দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতে এদের বাস। মৃত প্রাণীর মাংস (scavenger) এদের প্রধান খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং ধীরে ধীরে বংশবিস্তার করে। দীর্ঘজীবী পাখি হিসেবে পরিচিত—৫০ বছরেরও বেশি বাঁচতে পারে। পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে মৃত প্রাণী খাওয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮) সারাস ক্রেন (Sarus Crane): সারাস ক্রেন বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা উড়ন্ত পাখি। উচ্চতা প্রায় ৫–৬ ফুট। ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় এদের বসবাস। শস্য, শিকড়, পোকামাকড় ও ছোট জলজ প্রাণী এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং আজীবন জোড়া বেঁধে থাকে—ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। জলাভূমিতে বাসা তৈরি করে। পরিবেশের পরিবর্তনে এদের সংখ্যা কমছে, তাই সংরক্ষণ জরুরি।

৯) গ্রেট বাস্টার্ড (Great Bustard): গ্রেট বাস্টার্ড ইউরোপের অন্যতম ভারী উড়ন্ত পাখি। ওজন ১৫–২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। খোলা তৃণভূমি ও কৃষিজ এলাকায় এদের বাস। বীজ, শস্য, পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী এদের খাদ্য। এরা ডিম পাড়ে এবং মাটিতে বাসা বানায়। বড় আকার ও ধীর স্বভাবের কারণে শিকার ও বাসস্থান নষ্ট হওয়ায় এরা বিপন্ন। সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ এদের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

১০) ট্রাম্পিটার সোয়ান (Trumpeter Swan): এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় জলচর পাখি। দৈর্ঘ্য প্রায় ৫–৬ ফুট এবং ওজন ১২–১৪ কেজি। হ্রদ, নদী ও জলাভূমিতে এদের বাস। জলজ উদ্ভিদ, শিকড় ও শৈবাল এদের প্রধান খাদ্য। ডিম পাড়ার মাধ্যমে বংশবিস্তার করে এবং বাবা-মা দুজনেই ছানার যত্ন নেয়। জোরে আওয়াজ করার জন্য এদের নাম “ট্রাম্পিটার”। সংরক্ষণের ফলে এদের সংখ্যা আবার বাড়ছে।