Complete and easy notes on West Bengal Government schemes covering education sector, women schemes, youth schemes, and welfare programmes.
আকাঙ্ক্ষা স্কিম (Akanksha Scheme)
প্রকল্পের পরিচয়: আকাঙ্ক্ষা স্কিম হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আবাসন (Housing) ভিত্তিক কল্যাণমূলক প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিজস্ব ফ্ল্যাট/বাড়ি (Own House) পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই স্কিম মূলত সরকারি কর্মীদের বাসস্থান সমস্যা সমাধান এবং নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক।
প্রবর্তন করেছে (Introduced By): পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবাসন দপ্তর (Housing Department, Government of West Bengal)
উদ্দেশ্য (Objective): এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো—
- রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন প্রদান করা
- কর্মচারীদের নিজস্ব ফ্ল্যাট/বাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি করা
- সহজ ও সুবিধাজনক শর্তে (কিস্তি/সহজ নিয়ম) আবাসন সুবিধা দেওয়া
- সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা
লক্ষ্যভুক্ত উপকারভোগী (Target Group): এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন—
✅ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা,
➡️ যারা আগে কোনো সরকারি আবাসন প্রকল্প/হাউজিং স্কিমের সুবিধা নেননি।
প্রধান সুবিধা (Key Benefits): আকাঙ্ক্ষা স্কিমের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলি—
✅ Affordable Residential Flat অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে কম দামে ফ্ল্যাট
✅ Own House Concept → নিজস্ব বাড়ির অধিকার নিশ্চিত করা
✅ Easy & Convenient Terms → সহজ নিয়মে/সহজ শর্তে সুবিধা প্রদান
✅ স্থায়ী আবাসনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল জীবন নিশ্চিত করা
পাইলট প্রকল্প (Pilot Project Area): এই স্কিমটি প্রথমে পাইলট প্রকল্প (Pilot Project) হিসেবে চালু করা হয়েছে—
📍 নিউ টাউন – রাজারহাট – কলকাতা (New Town–Rajarhat–Kolkata) এলাকায়
আনন্দধারা স্কিম (Anandadhara Scheme)
আনন্দধারা হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প। এটি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত। আনন্দধারা স্কিম মূলত National Rural Livelihoods Mission (NRLM / DAY-NRLM)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংস্করণ (State Version)।
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (Objectives & Targets)
1) ✅ SHG ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গঠন ও শক্তিশালী করা
- গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারগুলিকে সংগঠিত করে
- Self Help Group (SHG) তৈরি করা
- SHG-গুলিকে শক্তিশালী করে কমিউনিটি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা
👉 কারণ: দলবদ্ধভাবে কাজ করলে সঞ্চয়, ঋণ, এবং আয় বৃদ্ধি সহজ হয়।
2) 👩🦰 নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি
- মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন করা
- নারীদের নিজের আয় নিজে করার সুযোগ দেওয়া
- পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি করা
📌 গুরুত্বপূর্ণ লাইন: এই প্রকল্প নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করে।
3) 💰 ঋণপ্রাপ্তি, আয়বর্ধক কাজ, স্কিল ট্রেনিং ও বাজার সংযোগ
এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হলো—
✅ ঋণ সুবিধা (Credit Access) দেওয়া
✅ Income Generating Activity অর্থাৎ আয় করার কাজ শুরু করা (যেমন—ছাগল পালন, মাছ চাষ, সেলাই, মাশরুম, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি)
✅ Skill Training অর্থাৎ দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া
✅ উৎপাদিত জিনিসের জন্য Market Linkage অর্থাৎ বাজারের সঙ্গে সংযোগ ঘটানো
4) 🏦 Financial Inclusion বৃদ্ধি করা (ব্যাংক সংযোগ)
- SHG-গুলিকে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করা
- ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় ও লোন ব্যবস্থায় আনা
- দরিদ্র পরিবারকে বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ (financial opportunities)-এর আওতায় আনা
📌 অর্থাৎ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা।
জল ধরো জল ভরো (Jal Dharo Jal Bharo)
জল ধরো জল ভরো হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ) জল সংরক্ষণ প্রকল্প। এটি চালু হয় ২০১১–১২ সালে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—
🌧️ বৃষ্টির জল ধরে রাখা,
💧 জল সঞ্চয় করা,
🌿 ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠস্থ জল (groundwater + surface water) সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে— ✅ Water Resources Investigation & Development Department (WRI&DD) এবং সহযোগিতায় থাকে—
- Panchayats & Rural Development (P&RD) Department
- MGNREGA (100 দিনের কাজ)
📌 অর্থাৎ এটি একটি convergence programme—একাধিক দপ্তরের সমন্বয়ে কাজ হয়।
🎯 উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (Objectives & Goals)
1) 🌧️ Rainwater Harvesting বাড়ানো
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (rainwater harvesting) করা
- ছাদের জল সংগ্রহ (rooftop rainwater collection) ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা
- জল নষ্ট না করে তা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ধরে রাখা
✅ ফল: পানীয় জল ও সেচের জন্য জল সংকট কমে।
2) 🏞️ পুকুর/ট্যাংক/খাল পুনঃখনন ও সংস্কার
অনেক জলাশয়ের ধারণ ক্ষমতা কমে যায়—পলি জমে, আগাছা হয়। তাই এই প্রকল্পে—
- ট্যাংক, পুকুর, ডোবা, জলাধার
- খাল, ক্যানাল, চ্যানেল ইত্যাদি পুনঃখনন (re-excavate) ও সংস্কার (renovation) করা হয়।
✅ ফল: জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
3) 🧱 Surface Runoff আটকানো (Check Dam নির্মাণ)
বৃষ্টির জল অনেক সময় বয়ে চলে যায় (surface runoff)। এটা আটকাতে—
- চেক ড্যাম (check dams)
- জল ধরে রাখার কাঠামো
- ছোট বাঁধ/স্ট্রাকচার
ইত্যাদি তৈরি করা হয়।
✅ ফল: জল মাটিতে ঢোকে → groundwater recharge হয়।
4) 🚿 সারা বছর জল নিশ্চিত করা
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো—
✅ শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য জল পাওয়া
✅ গবাদি পশুর জল (livestock needs) নিশ্চিত করা
✅ গৃহস্থালি কাজে জল (household use) পাওয়া
5) 🐟 জলাশয়কে আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার
জলাশয় সংস্কারের পরে তা ব্যবহার হয়—
- 🐟 মৎস্যচাষ (pisciculture)
- 🐄 পশুপালন/ডেইরি কার্যক্রম
- অন্যান্য আয়বর্ধক কাজ
✅ ফল: জল সংরক্ষণের পাশাপাশি রোজগারের সুযোগও বাড়ে।
6) 📢 জনসচেতনতা তৈরি
প্রকল্পটি বিশেষভাবে গ্রামাঞ্চলে—
✅ জল সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়
✅ জল অপচয় বন্ধ করতে মানসিকতা গড়ে তোলে
✅ জল ব্যবহারের দক্ষতা (efficient use) শেখায়
কন্যাশ্রী প্রকাল্প (Kanyashree Prakalpa)
কন্যাশ্রী প্রকাল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি শর্তসাপেক্ষ নগদ অর্থ প্রদান (Conditional Cash Transfer – CCT) প্রকল্প।
- এই প্রকল্পটি পরিচালনা করে: নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তর (Women Development & Social Welfare Department, Govt. of West Bengal)
- 📌 শুরু হয়: ৮ মার্চ ২০১৩ (International Women’s Day)
অফিসিয়াল ট্যাগলাইন (Official Taglines)
- “Say No to Child Marriage, Yes to Education” “শিশুবিবাহকে না বলুন, শিক্ষাকে হ্যাঁ বলুন”
- মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য: “মেয়েরা আমাদের ঘরের সম্পদ… ওদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন। কন্যাশ্রী তাদের অনুপ্রেরণা।”
- দপ্তরের অনুপ্রেরণামূলক লাইন: “কন্যাশ্রীতে যোগ দিন—পড়ুন, শিখুন, এগিয়ে যান।”
- জনপ্রিয় স্লোগান: “আমি অগ্রগতি, আমি কন্যাশ্রী।”
🎯 উদ্দেশ্যসমূহ (Objectives)
1) 👧 ১৩–১৮ বছর বয়সী মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া
- ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েরা যাতে স্কুলে/শিক্ষায় থাকে
- ড্রপআউট কমানো (বিশেষ করে দারিদ্র্যের কারণে)
2) 🚫 শিশুবিবাহ প্রতিরোধ করা
- ভারতে মেয়েদের বিয়ের আইনি ন্যূনতম বয়স = ১৮ বছর
- কন্যাশ্রী মেয়েদের পড়াশোনায় যুক্ত রেখে early marriage বন্ধ করতে সাহায্য করে
📌 ইন্টারভিউ লাইন: “এই প্রকল্প মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে শিশুবিবাহ প্রতিরোধ করে।”
3) 📚 মেয়েদের স্কুলিং বছর বৃদ্ধি করা
- মেয়েদের যত বেশি পড়াশোনা হবে,
✅ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে
✅ পরিবারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে
✅ সমাজে নিরাপত্তা বাড়বে
4) 👩⚕️ মা ও শিশুমৃত্যু হার কমাতে সহায়ক
- কম বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্ব হলে—
❌ মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে
❌ শিশু অপুষ্টি/মৃত্যুর হার বাড়ে
কন্যাশ্রী মেয়েদের বিয়ে দেরি করিয়ে: maternal mortality ও child mortality কমাতে সাহায্য করে
5) 💪 সামাজিক ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি করা
- মেয়েদের self-reliance তৈরি হয়
- তারা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা/চাকরি/স্বনিযুক্তির পথে এগোয়
- পরিবার ও সমাজে মেয়েদের মর্যাদা বাড়ে

| কম্পোনেন্ট | বয়স ও যোগ্যতা | আর্থিক সুবিধা |
|---|---|---|
| K1 (Annual Scholarship) | ১৩–১৮ বছর, ক্লাস VIII–XII, অবিবাহিত, আয় ≤ ₹১,২০,০০০ | বছরে স্কলারশিপ (আগে ₹৫০০, পরে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ₹১,০০০) |
| K2 (One-Time Grant) | ১৮ বছর পূর্ণ, ১৮–১৯, অবিবাহিত, পড়াশোনা/ট্রেনিং চলছে বা JJ Home, আয় শর্ত পূরণ | এককালীন ₹২৫,০০০ |
নির্মল বাংলা মিশন (Nirmal Bangla Mission)
নির্মল বাংলা মিশন হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গ্রামীণ স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্প, যা Swachh Bharat Mission (Gramin)-এর রাজ্য সংস্করণ। এর প্রধান লক্ষ্য হলো—
✅ রাজ্যকে ODF (Open Defecation Free) করা
✅ গ্রামাঞ্চল, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি, পঞ্চায়েত এলাকায় শৌচাগার ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা উন্নত করা
📌 ৩০ এপ্রিল ২০১৫: নদীয়া জেলায় WB-এর প্রথম ODF ব্লক ঘোষিত হয়।
✅ কেন্দ্র সরকার (SBM-G): ৬০% এবং রাজ্য সরকার (Nirmal Bangla): ৪০%
সবুজ সাথী প্রকল্প (Sabooj Sathi Scheme)
সবুজ সাথী হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) প্রকল্প। এটি ২০১৫ সালে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয়।
“শিক্ষা চলবে—সাইকেল হবে সাথী; সবুজ সাথী আমাদের আশার প্রতীক।”

প্রধান উদ্দেশ্য (Main Objectives)
✅ ক্লাস IX থেকে XII পর্যন্ত প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে একটি করে বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়া
✅ বিশেষ করে গ্রামীণ/দূরবর্তী অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাতায়াত সহজ করা
✅ স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
✅ মেয়েদের শিক্ষা ও উপস্থিতি বাড়ানো (Girls-focused impact)
✅ পরিবেশবান্ধব যানবাহন অর্থাৎ Green Mobility প্রচার করা
লক্ষ্য ও সুবিধা (Goals & Benefits)
1) 🎓 শিক্ষায় সমান সুযোগ
- ছেলে ও মেয়ে—উভয়েই সমানভাবে বিনামূল্যে সাইকেল পায়
- ফলে সমতার ভিত্তিতে শিক্ষা এগোয়
2) 🚫 স্কুলছুট কমানো (Dropout Reduction)
- দূরে স্কুল থাকায় অনেকেই পড়াশোনা ছাড়ে
- সাইকেলের ফলে দূরত্ব সমস্যা কমে → ড্রপআউট কমে
3) 👧 মেয়েদের ক্ষমতায়ন (Girls’ Empowerment)
- মেয়েদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সহজ হয়
- attendance বৃদ্ধি পায়
- আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা বাড়ে
4) 🌿 পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি
- সাইকেল ব্যবহারে দূষণ কমে
- পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়ায়
5) 🏡 গ্রামীণ উন্নয়ন
- গ্রামীণ কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটে
বাস্তবায়ন (Implementation)
✅ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ দপ্তর (Transport Department)।
✅ ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটির বেশি সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
✅ এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি।
শিক্ষাশ্রী প্রকল্প (Shikshashree Scheme)
শিক্ষাশ্রী প্রকল্প হলো একটি শিক্ষা সহায়তা/স্কলারশিপ ভিত্তিক প্রকল্প, যার মূল লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের (বিশেষ করে SC/ST) শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করা।
| শ্রেণি | SC স্কলারশিপ (₹/বছর) | ST স্কলারশিপ (₹/বছর) |
|---|---|---|
| Class V | ₹750 | ₹800 |
| Class VI | ₹750 | ₹800 |
| Class VII | ₹750 | ₹800 |
| Class VIII | ₹800 | ₹800 |
যুবশ্রী প্রকল্প (Yuvasree Scheme)
যুবশ্রী প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অর্থনৈতিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ, যা মূলত শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু করা হয়েছে।
- 📌 এটি বাস্তবায়িত হয়: ১ অক্টোবর ২০১৩ এবং উদ্যোগ নেওয়া হয় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।
- 💰 মাসিক ভাতা (Unemployment Assistance)
- নির্বাচিত/অনুমোদিত শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা পান ₹১৫০০ প্রতি মাসে
- আবেদনকারীকে অবশ্যই Employment Bank-এ নাম নথিভুক্ত করতে হবে
- যাচাই/অনুমোদনের পর টাকা DBT (Direct Benefit Transfer) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংকে জমা হয়
🎯 প্রধান উদ্দেশ্য (Main Objectives)
✅ শিক্ষিত বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া
✅ চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করা
✅ দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Development) ও কর্মসংস্থান সম্ভাবনা বাড়ানো
✅ যুবসমাজকে স্বনির্ভর করে তোলা
প্রকল্পের প্রভাব (Impact)
✅ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী উপকৃত হয়েছেন
✅ আর্থিক স্বস্তি দেয় এবং কাজের প্রস্তুতিতে সাহায্য করে
✅ বেকারত্ব কমাতে এটি একটি কার্যকর ভূমিকা নেয়
যুবশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অর্থনৈতিক সহায়তা কর্মসূচি, যা ১ অক্টোবর ২০১৩ সালে চালু হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ₹১৫০০ ভাতা দেওয়া হয় এবং Employment Bank-এ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে DBT পদ্ধতিতে টাকা সরাসরি ব্যাংকে যায়। এই প্রকল্প যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করে।
রূপশ্রী প্রকল্প (Rupashree Prakalpa) 2018
রূপশ্রী প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিবাহ সহায়তা (Marriage Assistance) প্রকল্প, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের কন্যাসন্তানের বিবাহের জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
- 📌 চালু হয়: ২০১৮ সালে
- 📌 পরিচালনা করে: Women Development & Social Welfare Department, Govt. of WB
- 💰 আর্থিক সুবিধা (Financial Benefit): এককালীন অনুদান = ₹২৫,০০০ টাকা DBT (Direct Benefit Transfer) মাধ্যমে সরাসরি মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
🎯 উদ্দেশ্য (Objectives)
✅ দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের খরচে সহায়তা করা
✅ পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো
✅ মেয়েদের সম্মান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা
✅ শিশুবিবাহ রোধে পরোক্ষভাবে সাহায্য করা (কারণ বয়স ১৮+ বাধ্যতামূলক)
রূপশ্রী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিবাহ সহায়তা প্রকল্প, যা ২০১৮ সালে চালু হয়। এতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী দরিদ্র পরিবারের অবিবাহিত মেয়েদের বিবাহের জন্য এককালীন ₹২৫,০০০ অনুদান দেওয়া হয়। এই অর্থ DBT মাধ্যমে সরাসরি মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi) প্রকল্প
স্বাস্থ্য সাথী হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি স্বাস্থ্য বিমা/ক্যাশলেস চিকিৎসা প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাজ্যের পরিবারগুলো বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পায়।
- ✅ এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য প্রকল্প।
- 📌 বিশেষ দিক: এই প্রকল্পে কার্ডের মালিক সাধারণত পরিবারের মহিলা সদস্য (নারী ক্ষমতায়নের একটি দিক)
- স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সূচনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৬ সালে করে।
🎯 প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য
✅ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে বড় অঙ্কের চিকিৎসা খরচ থেকে রক্ষা করা
✅ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসা নিশ্চিত করা
✅ পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা
প্রকল্পের গুরুত্ব (Impact)
✅ লক্ষ লক্ষ পরিবার বড় চিকিৎসা খরচ থেকে রক্ষা পেয়েছে
✅ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে
✅ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে
✅ দরিদ্র পরিবার ঋণ না করে চিকিৎসা করাতে পারছে
স্বাস্থ্য সাথী হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ক্যাশলেস স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাজ্যের পরিবারগুলো সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে/ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পায়। এটি পরিবারকে বড় চিকিৎসা খরচ থেকে রক্ষা করে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
জয় বাংলা প্রকল্প (Jai Bangla Scheme)
জয় বাংলা প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সমাজকল্যাণমূলক আর্থিক সহায়তা/পেনশন প্রকল্প। এর মাধ্যমে রাজ্যের তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা (পেনশন) প্রদান করা হয়।
- 📌 এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ Social Security Scheme
- আবেদন করা যায়— Duare Sarkar ক্যাম্প-এর মাধ্যমে অথবা স্থানীয় প্রশাসন/ব্লক অফিসের মাধ্যমে
জয় বাংলা প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সমাজকল্যাণমূলক পেনশন স্কিম। এর মাধ্যমে SC ও ST সম্প্রদায়ের যোগ্য মানুষদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং DBT-এর মাধ্যমে টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এটি দুর্বল শ্রেণির আর্থিক সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করে।
বাংলার যুব শক্তি (Banglar Yuba Shakti)
বাংলার যুব শক্তি হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি যুব উন্নয়ন প্রকল্প, যার মাধ্যমে যুবকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য যুবসমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে বেকারত্ব কমানো এবং যুবদের স্বনির্ভর করা।
বিশ্ব বাংলা (Biswa Bangla)
বিশ্ব বাংলা (Biswa Bangla) হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য হলো—
✅ পশ্চিমবঙ্গের হস্তশিল্প (Handicrafts)
✅ হ্যান্ডলুম (Handloom)
✅ ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও সংস্কৃতি
—এইসবকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করা এবং বিক্রি বৃদ্ধি করা।
📌 সহজভাবে বললে: বাংলার শিল্পকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সরকারি ব্র্যান্ড হলো বিশ্ব বাংলা।
গীতাঞ্জলি প্রকল্প (Geetanjali / Gitanjali Scheme)
গীতাঞ্জলি প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবাসন (Housing) ভিত্তিক সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও গৃহহীন মানুষের জন্য পাকা ঘর/আবাসন তৈরি করে দেওয়া হয় বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
- 📌 এটি মূলত দরিদ্র মানুষকে নিজস্ব নিরাপদ বাসস্থান দিতে চালু করা হয়।
- পরিচালনা করে: Housing Department, Government of West Bengal (আবাসন দপ্তর)
- উপকারভোগীদের বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা/বাসস্থান দেওয়া হয়।
গতিধারা স্কিম (Gatidhara Scheme) 2014
গতিধারা স্কিম হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি পরিবহণ (Transport) ও স্বনিযুক্তি (Self-employment) ভিত্তিক প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী বিশেষ করে গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষকে গাড়ি কিনে রোজগার করার সুযোগ দেওয়া হয়।
- 📌 সহজভাবে বললে: “গাড়ি কিনে নিজের ব্যবসা/রোজগার শুরু করা”—এই লক্ষ্যেই গতিধারা।
- বাস্তবায়নকারী দপ্তর (Implementation): Transport Department, Government of West Bengal(পরিবহণ দপ্তর)
উৎকর্ষ বাংলা (Utkarsh Bangla)
উৎকর্ষ বাংলা হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Development) ও কর্মসংস্থানমুখী (Employment-oriented) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রশিক্ষণ (skill training) দিয়ে চাকরি বা স্বনিযুক্তির সুযোগ তৈরি করা হয়।
- 📌 সহজভাবে বললে: 👉 “কাজ শেখো → দক্ষ হও → চাকরি/রোজগার করো”—এই হলো উৎকর্ষ বাংলার মূল লক্ষ্য।
- প্রশিক্ষণ শেষে স্বীকৃত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যা চাকরিতে কাজে লাগে।
- বাস্তবায়ন (Implementation): এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Skill Development Mission / সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।
- উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের সূচনা ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার করে।
- 📌 এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প।
খাদ্য সাথী স্কিম (Khadyasathi Scheme) 2016
খাদ্য সাথী হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি খাদ্য সুরক্ষা (Food Security) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার খুব কম দামে চাল/গম কিনতে পারে।
- 📌 এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ কল্যাণমূলক প্রকল্প
- অত্যন্ত কম দামে খাদ্যশস্য দেওয়া হয় সাধারণভাবে চাল ₹২/কেজি গম ₹২/কেজি (সরকারি নিয়ম অনুযায়ী)
- বাস্তবায়নকারী দপ্তর: Food & Supplies Department, Government of West Bengal (খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর)
সবুজশ্রী প্রকল্প (Saboojshree Scheme)
সবুজশ্রী প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন (Greening Programme) ভিত্তিক প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে—
🌱 বৃক্ষরোপণ বাড়ানো
🌿 পরিবেশ রক্ষা করা
🌍 সবুজায়ন (Green Cover) বৃদ্ধি
- 👉 “বেশি করে গাছ লাগাও, পরিবেশ বাঁচাও”—এই হলো সবুজশ্রীর মূল উদ্দেশ্য
- বাস্তবায়ন (Implementation): সাধারণত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত থাকে— Forest Department / Environment Department স্থানীয় প্রশাসন Panchayat & Rural Development Department (কিছু ক্ষেত্রে)
মানবিক পেনশন (Manabik Pension Scheme)
মানবিক পেনশন হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সমাজকল্যাণমূলক পেনশন প্রকল্প, যা মূলত প্রতিবন্ধী (Divyang) ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পেনশন হিসেবে দেওয়া হয়। 2014
আবেদন করা যায়— Duare Sarkar ক্যাম্প থেকে অথবা ব্লক অফিস/মিউনিসিপ্যালিটি/সমাজকল্যাণ দপ্তর
লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar)
লক্ষ্মীর ভান্ডার হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি নারী কল্যাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়—যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন।
- 📌 এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ স্কিম
- সাধারণভাবে বয়সসীমা: ২৫–৬০ বছর (নীতিমালা অনুযায়ী)
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড (Student Credit Card) 2021
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি শিক্ষা ঋণ (Education Loan 4%) প্রকল্প, যার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার জন্য সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারে।
- 📌 এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য: 👉 অর্থের অভাবে যেন কোনো ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়
- স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, ম্যানেজমেন্ট, অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্স- সবই অন্তর্ভুক্ত
- সর্বোচ্চ ঋণ: ₹১০ লক্ষ (10 Lakh) পর্যন্ত
(পড়াশোনার খরচ + ভর্তি ফি + বই + হোস্টেল/ল্যাপটপ ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা যায়)