D.El.Ed Part-2 | CC-02 Educational Studies | Unit-3 : Learning, Learner and Teaching

Rate this post

Unit-3 : Learning, Learner and Teaching [Class: 7 hours]
Learning – Concept and nature
Learning – Knowledge and skills
Different ways of learning
Meaning of teaching and its relationship with learning and learner

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo.

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Q. শিখনের পদ্ধতিগুলি কী ? [2014-16]

ব্লুমের শিখনক্ষেত্রের ধাপসমূহ
ব্লুমের তত্ত্ব অনুসারে শিখনের ছয়টি প্রধান ধাপ রয়েছে, যা আপনার উত্তরে উল্লিখিত:

  • জ্ঞান (Knowledge): তথ্য, সংজ্ঞা বা সূত্র মুখস্ত করে স্মরণ করা।
  • বোধ/বুঝন (Comprehension/Understanding): অর্জিত জ্ঞানের অর্থ বোঝা, ব্যাখ্যা করা বা উদাহরণ দেওয়া।
  • প্রয়োগ (Application): জ্ঞানকে বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো।
  • বিশ্লেষণ (Analysis): বিষয়কে অংশে ভাগ করে সম্পর্ক বোঝা।
  • সংশ্লেষণ (Synthesis): অংশগুলো একত্রিত করে নতুন কিছু সৃষ্টি করা।
  • মূল্যায়ন (Evaluation): মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিচার করা

শিখন প্রক্রিয়ার বর্ণনা
জ্ঞান অর্জনের সাথে বোধ জাগ্রত করে প্রয়োগ, বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণের মাধ্যমে শেষে মূল্যায়ন করা হয়। এটি প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু মুখস্ত না করে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করে। এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিখনকে উৎসাহিত করে।

শিখন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও পরিবেশের প্রভাবের ফলে ব্যক্তির আচরণে তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে। এটি কেবল তথ্য অর্জন নয়, বরং জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে থাকে। তাই শিখন একটি অবিচ্ছিন্ন ও জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।

শিখন ও শিক্ষনের পার্থক্য লিখুন। [2016-18]

বিষয়শিখনশিক্ষণ
অর্থঅভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে আচরণে তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন ঘটেশিক্ষক কর্তৃক জ্ঞান প্রদান বা শেখানোর প্রক্রিয়া
প্রকৃতিএটি মানসিক ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াএটি বাহ্যিক ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়া
কেন্দ্রবিন্দুশিক্ষার্থী প্রধানশিক্ষক প্রধান
নির্ভরতাশিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর নির্ভরশীলশিক্ষকের দক্ষতা ও পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল
ফলাফলআচরণে পরিবর্তন ও দক্ষতা অর্জনজ্ঞান প্রদান ও শিখনকে সহায়তা করা
স্থায়িত্বশিখনের ফল তুলনামূলক স্থায়ীশিক্ষণ সাময়িক হতে পারে, ফল নির্ভর করে শিখনের উপর
প্রক্রিয়াস্বতঃস্ফূর্ত বা পরিকল্পিত উভয়ই হতে পারেসাধারণত পরিকল্পিত ও সংগঠিত
ভূমিকাশিক্ষার্থী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেশিক্ষক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন
মূল্যায়নআচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বোঝা যায়পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়
সম্পর্কশিক্ষণ ছাড়াও শিখন হতে পারেশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো শিখন ঘটানো

শিক্ষাবিদ Benjamin Bloom শিক্ষার লক্ষ্যকে তিনটি ক্ষেত্রে বিভক্ত করেছেন—জ্ঞানমূলক, আবেগমূলক ও ক্রিয়ামূলক। দক্ষতা শিখন মূলত ক্রিয়ামূলক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।

ব্লুমের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী দক্ষতা শিখন এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে শিক্ষার্থী অনুশীলন ও অভ্যাসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ সঠিক ও নিপুণভাবে সম্পাদন করতে শেখে। এই ক্ষেত্রে শারীরিক সমন্বয়, গতি, নিখুঁততা ও নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন লেখা, অঙ্কন, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা, যন্ত্র পরিচালনা করা ইত্যাদি কাজ ক্রিয়ামূলক দক্ষতার উদাহরণ। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই দক্ষতা উন্নত হয় এবং আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আনে।

অতএব, ব্লুমের মতে দক্ষতা শিখন হলো এমন শিখন, যা কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং অনুশীলনের ফলে ক্রমে পরিপূর্ণতা অর্জন করে।

 
 

শিখন মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছিন্ন ও গতিশীল প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও পরিবেশের প্রভাবে আচরণে তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে। শিখনের প্রকৃতি বোঝার জন্য এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা যায়-

১. শিখন একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া: জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে থাকে।
২. শিখন পরিবর্তনশীল: শিখনের ফলে আচরণ, জ্ঞান ও মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে।
৩. শিখন অভিজ্ঞতাভিত্তিক: অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের প্রভাব শিখনের প্রধান উৎস।
৪. শিখন উদ্দেশ্যমূলক: প্রত্যেক শিখনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে।
৫. শিখন সক্রিয় প্রক্রিয়া: শিক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ না করলে কার্যকর শিখন সম্ভব নয়।
৬. শিখন ব্যক্তিগত ও সামাজিক: শিখন ব্যক্তির নিজস্ব প্রক্রিয়া হলেও সামাজিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
৭. শিখন স্থায়ী: শিখনের ফল আচরণে তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন আনে।

অতএব, শিখন একটি বহুমাত্রিক ও জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, যা মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সহায়তা করে।

শিক্ষণ (Teaching) ও শিখন (Learning)-এর মধ্যে সম্পর্ক

শিক্ষণ ও শিখন একে অপরের পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়া। শিক্ষণ হলো শেখানোর কার্যক্রম এবং শিখন হলো সেই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও আচরণগত পরিবর্তন। কার্যকর শিক্ষণ ছাড়া সুষ্ঠু শিখন সম্ভব নয়, আবার শিখন না ঘটলে শিক্ষণ অর্থহীন হয়ে পড়ে।

শিক্ষক পরিকল্পিত উপায়ে পাঠদান করেন, উপযুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, চিন্তা করে ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে। শিক্ষণ শিখনের পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করে, আর শিখন সেই পরিবেশকে ফলপ্রসূ করে তোলে।

এদের সম্পর্ক কারণ ও ফলের মতো। শিক্ষণ হলো কারণ, শিখন হলো ফল। তবে এই ফল নির্ভর করে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, অংশগ্রহণ ও পরিবেশের উপর। তাই বলা যায়, শিক্ষণ ও শিখন একই প্রক্রিয়ার দুই দিক, যা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

Fitts and Posner’s model of skill acquisition:

কগনিটিভ স্টেজ: শিক্ষার্থীরা কাজটি বোঝার জন্য চেষ্টা করে, প্রায়ই ভুল করে এবং ঘন ঘন প্রতিক্রিয়া ও ডেমোনস্ট্রেশনের প্রয়োজন হয়। চলাচলগুলি সমন্বয়হীন থাকে কারণ মস্তিষ্ক সচেতনভাবে “কী করতে হবে” চিন্তা করে।
প্রাথমিক শিক্ষায়, শিক্ষকরা সহজ ধাপে ভাগ করে মডেলিং দিয়ে সাহায্য করতে পারেন, যেমন হাতের লেখার বেসিকস।

অ্যাসোসিয়েটিভ স্টেজ: কার্যক্ষমতা উন্নত হয় যখন শিক্ষার্থীরা চলাচল পরিশোধন করে, ভুল কমায় এবং মসৃণ মোটর প্রোগ্রাম তৈরি করে। তারা প্যাটার্ন শনাক্ত করে এবং কাজগুলি আরও ভালোভাবে প্রেডিক্ট করে।
এখানে অনুশীলন আরও কার্যকর হয়, প্রাথমিক ছাত্রদের জন্য আদর্শ যেমন মৌলিক গণিত অপারেশনের পুনরাবৃত্তি।

অটোনোমাস স্টেজ: দক্ষতা স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়, সচেতন প্রচেষ্টার প্রায়ই প্রয়োজন হয় না, যাতে কৌশল বা মাল্টিটাস্কিংয়ে ফোকাস করা যায়। উন্নতি ধীরে ধীরে আসে।
শিক্ষকদের জন্য এই স্টেজ উন্নত অ্যাপ্লিকেশনে জোর দেয়, যেমন ছাত্ররা গ্রুপ অ্যাক্টিভিটিতে স্বাধীনভাবে কনসেপ্ট প্রয়োগ করে।

ক্লাসরুম প্রয়োগ: এই মডেল পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক পাঠ পরিকল্পনায় সাহায্য করে, NCF ফ্রেমওয়ার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্টেজশিক্ষকের ভূমিকাছাত্রের বৈশিষ্ট্য
কগনিটিভডেমো, প্রতিক্রিয়া প্রদানউচ্চ ভুল, ধীর অগ্রগতি
অ্যাসোসিয়েটিভঅনুশীলন গাইড, স্ব-মনিটরিংকম ভুল, মসৃণ কার্যক্ষমতা
অটোনোমাসকৌশল ব্যবহার উৎসাহস্বয়ংক্রিয়, আত্মবিশ্বাসী

অর্থবহ শিখনের উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী যদি বিজ্ঞান ক্লাসে বাষ্পীভবন সম্পর্কে পড়ে এবং পরে দেখে যে রোদে ভেজা কাপড় শুকিয়ে যায়, তখন সে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাঠ্যবস্তুর মিল খুঁজে পায়। এতে বিষয়টি সে বোঝে ও জীবনে প্রয়োগ করতে পারে। এটি অর্থবহ শিখন, কারণ এখানে জ্ঞান বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থায়ীভাবে মনের মধ্যে গেঁথে যায়।

অর্থহীন শিখনের উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী যদি কোনো কবিতা বা সংজ্ঞা কেবল পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করে এবং তার অর্থ না বুঝে লিখে দেয়, তবে তা অর্থহীন শিখন। পরীক্ষার পরে সে বিষয়টি ভুলে যায়, কারণ এখানে বোঝার চেয়ে মুখস্থ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে জ্ঞান স্থায়ী হয় না এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা যায় না।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

#1.শিক্ষণ (Teaching) ও শিখন (Learning)-এর মধ্যে সম্পর্ক লিখুন। 7 Mark [2014-16]

শিক্ষণ (Teaching) ও শিখন (Learning)-এর মধ্যে সম্পর্ক লিখুন। 7 Mark [2014-16]

শিক্ষণ ও শিখন শিক্ষা-প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান দিক। শিক্ষক শেখার পরিবেশ তৈরি করেন, আর শিক্ষার্থী অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি পূর্ণ হয় না।

What is Teaching?

শিক্ষণ হল এমন একটি সচেতন, পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, মনোভাব ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করেন। এটি কেবল বই পড়ানো নয়; বরং শেখার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা। শিক্ষক শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান, আগ্রহ ও ব্যক্তিগত পার্থক্য বিবেচনা করে পাঠ পরিকল্পনা করেন। প্রশ্ন-উত্তর, আলোচনা, কার্যক্রম, শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষণ সম্পন্ন হয়।

একজন দক্ষ শিক্ষক শুধু তথ্য দেন না, বরং কৌতূহল জাগান, সৃজনশীল চিন্তা বাড়ান এবং নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রেণিকক্ষ তৈরি করেন যাতে প্রতিটি শিশু ভয়মুক্তভাবে অংশ নিতে পারে। তাই শিক্ষণ হল নির্দেশনা, সহায়তা, অনুপ্রেরণা ও মূল্যায়নের সমন্বিত প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর শেখার দিকে এগিয়ে দেয়।

Formal Teaching

বিদ্যালয়, কলেজ বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, সময়সূচি ও পরীক্ষার মাধ্যমে যে শিক্ষণ হয় তাকে Formal Teaching বলে। এখানে শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে পাঠদান করেন, পাঠ্যবই অনুসরণ করা হয়, উপস্থিতি ও মূল্যায়ন থাকে এবং শিক্ষার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারিত থাকে।

Informal Teaching

পরিবার, সমাজ, বন্ধু, মিডিয়া বা দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে যে শিক্ষণ ঘটে তাকে Informal Teaching বলা হয়। এখানে কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম নেই। গল্প শোনা, বড়দের আচরণ দেখে শেখা, খেলতে খেলতে শেখা—এসবই অপ্রথাগত শিক্ষণের উদাহরণ।

What is Learning?

শিখন হল অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে আচরণ, জ্ঞান বা দক্ষতায় তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন। শিশুটি যখন নতুন শব্দ শেখে, অঙ্ক সমাধান করতে পারে, বা ভালো অভ্যাস গড়ে তোলে—তখন শিখন ঘটে। শিখন কেবল তথ্য মুখস্থ করা নয়; বোঝা, প্রয়োগ করা, বিশ্লেষণ করা এবং নতুন ধারণা তৈরি করাও এর অংশ।

শিখন ব্যক্তিগত হলেও সামাজিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। নিরাপদ, আনন্দময় ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে শিখন দ্রুত ও অর্থবহ হয়। তাই শিক্ষককে শুধু পড়ানো নয়, শেখার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। প্রকৃত শিখন শিক্ষার্থীর চিন্তা ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

The Criteria of Learning

1. More or less permanent change

শিখনের ফলে আচরণ বা জ্ঞানে কিছুটা স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে। যেমন, সাইকেল চালানো বা পড়া শেখা দীর্ঘদিন মনে থাকে। সাময়িক ক্লান্তি, অসুস্থতা বা আবেগের কারণে পরিবর্তন হলে তা শিখন নয়। তাই শিখন মানে এমন পরিবর্তন যা সময়ের সাথে টিকে থাকে এবং অভ্যাস ও দক্ষতায় প্রকাশ পায়।

2. Positive or negative

শিখন সব সময় ইতিবাচক হয় না; খারাপ অভ্যাসও শেখা যায়। ভালো বই পড়ে সততা শেখা ইতিবাচক শিখন, আর খারাপ সঙ্গ থেকে অসভ্য আচরণ শেখা নেতিবাচক শিখন। তাই শিক্ষককে মূল্যবোধভিত্তিক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সঠিক আচরণ শেখে।

3. Brought about by experience

শিখন অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে হয়। শিক্ষক ব্যাখ্যা দেন, শিক্ষার্থী কাজ করে, ভুল করে আবার চেষ্টা করে—এভাবেই শেখা দৃঢ় হয়। হাতে-কলমে কাজ, পর্যবেক্ষণ, আলোচনা ও প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা শিখনকে অর্থবহ করে তোলে।

Effective Teaching

William H. Burton (1958) কার্যকর শিক্ষণের ধাপ উল্লেখ করেন-

  • শিক্ষার্থীর প্রয়োজন নির্ধারণ
  • পাঠের লক্ষ্য স্থির করা
  • উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন
  • শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার
  • সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
  • মূল্যায়ন করা
  • প্রতিক্রিয়া দিয়ে উন্নতি ঘটানো

Principles of Effective Teaching

  • শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিকতা
  • স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ
  • সক্রিয় অংশগ্রহণ
  • ব্যক্তিগত পার্থক্যের সম্মান
  • পূর্বজ্ঞান ব্যবহার
  • নিয়মিত মূল্যায়ন
  • বাস্তব জীবনের উদাহরণ
  • নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ
  • সহানুভূতিশীল আচরণধারাবাহিক অনুশীলন

Relationship Between Teaching & Learning

পরস্পর নির্ভরশীল: শিক্ষণ ও শিখন একই প্রক্রিয়ার দুই দিক। শিক্ষক যতই পড়ান, শিক্ষার্থী না শিখলে শিক্ষণ সফল নয়। আবার নির্দেশনা ছাড়া শিক্ষার্থী সঠিক পথে শিখতে পারে না।

লক্ষ্য এক, ভূমিকা ভিন্ন: উভয়ের লক্ষ্য জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি। শিক্ষক পথ দেখান, শিক্ষার্থী সেই পথে চলতে শেখে। একজন ভালো শিক্ষক শিক্ষার্থীর কৌতূহল জাগিয়ে শেখাকে সহজ করেন।

যোগাযোগের মাধ্যমে সংযোগ: প্রশ্ন-উত্তর, আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শিক্ষণ ও শিখনের সেতু তৈরি করে। শ্রেণিকক্ষে উন্মুক্ত আলোচনা না হলে শেখা দুর্বল হয়।

পরিবেশের গুরুত্ব: নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ শিখনকে ত্বরান্বিত করে। শিশু যদি ভয় পায় বা উপেক্ষিত বোধ করে, সে মন খুলে শিখতে পারে না। তাই safeguarding খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মূল্যায়নের ভূমিকা: পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীর অগ্রগতি বোঝায় এবং শিক্ষণ উন্নত করে। শিক্ষক ভুল ধরিয়ে দেন, শিক্ষার্থী সংশোধন করে।

ধারাবাহিক প্রক্রিয়া: শিক্ষণ ও শিখন একবারে শেষ হয় না। এটি সারাজীবনের চলমান প্রক্রিয়া। শিক্ষকও শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন কিছু শেখেন।

Differences Between Teaching and Learning

Goal – শিক্ষণের লক্ষ্য শেখানো; শিখনের লক্ষ্য জ্ঞান অর্জন
Authority – শিক্ষণে শিক্ষক কর্তৃত্বশীল; শিখনে শিক্ষার্থী সক্রিয়
Dependence – শিক্ষণ শিক্ষক-নির্ভর; শিখন ধীরে স্বনির্ভর
Expertise – শিক্ষণে বিষয়দক্ষতা দরকার; শিখনে অনুশীলন দরকার
Curiosity – শিক্ষক আগ্রহ জাগান; শিক্ষার্থী কৌতূহল থেকে শেখে
Feedback – শিক্ষক প্রতিক্রিয়া দেন; শিক্ষার্থী সংশোধন করে
Extent – শিক্ষণ নির্দিষ্ট সময়ে; শিখন সারাজীবন
Directive – শিক্ষণ নির্দেশমূলক; শিখন অনুসন্ধানমূলক
Population – এক শিক্ষক বহু শিক্ষার্থী; প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখা আলাদা
Autonomy – শিক্ষণে নিয়ন্ত্রণ বেশি; শিখনে স্বাধীনতা বাড়ে
Performer – শিক্ষণে শিক্ষক প্রধান; শিখনে শিক্ষার্থী প্রধান
Consciousness – শিক্ষণ সচেতন প্রচেষ্টা; শিখন সচেতন ও অবচেতন দুইভাবেই ঘটে

উপসংহার: শিক্ষণ ও শিখন একে অপরের পরিপূরক। একজন সংবেদনশীল শিক্ষক যদি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি করেন, তবে শিক্ষার্থীর শিখন গভীর ও অর্থবহ হয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—শুধু পড়ানো নয়, সত্যিকারের শেখার আনন্দ তৈরি করা।

শিক্ষক কেন্দ্রিক শিক্ষণ-শিখনের চারটি সীমাবদ্ধতা লিখুন। [Write four limitations of teacher-centred teaching-learning]

Answer:

১. শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ কমে যায়: শিক্ষক-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষকই বেশি কথা বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু শোনে। ফলে প্রশ্ন করা, আলোচনা করা বা নিজে চিন্তা করার সুযোগ কমে যায়। এতে শেখা মুখস্থভিত্তিক হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও কৌতূহল বাধাগ্রস্ত হয়।

২. ব্যক্তিগত পার্থক্য উপেক্ষিত হয়: প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার গতি, আগ্রহ ও ক্ষমতা আলাদা। কিন্তু শিক্ষক-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে একসাথে একইভাবে পড়ানো হয়। এতে দুর্বল শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাও পুরোপুরি বিকশিত হয় না।

৩. বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জীবনমুখী শিক্ষা কম হয়: এই পদ্ধতিতে বইভিত্তিক জ্ঞান বেশি গুরুত্ব পায়, হাতে-কলমে কাজ বা প্রকল্পভিত্তিক শেখা কম হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে না এবং শেখা অর্থবহ হয় না।

৪. নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে ওঠে না: শিক্ষক-কেন্দ্রিক ক্লাসে কখনো কখনো ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা ভুল করলে বকুনি পেতে পারে, এই ভয়ে তারা প্রশ্ন করতে সাহস পায় না। এতে safeguarding ও মানসিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেখার আগ্রহ কমে যায়।

শিখন শৈলী(Learning Style) -র বৈশিষ্ট্য লিখুন।

উত্তর:

শিখন শৈলী Learning Style বলতে বোঝায় এমন একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি বা ধরণ, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সবচেয়ে সহজে ও কার্যকরভাবে শেখে। কেউ দেখে শেখে, কেউ শুনে শেখে, আবার কেউ হাতে কলমে কাজ করে শেখে। এটি শিক্ষার্থীর আগ্রহ, অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে। শিখন শৈলী জানা থাকলে শিক্ষক উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন, ফলে শেখা আনন্দময়, অর্থবহ ও স্থায়ী হয়।

শিখন শৈলী Learning Style র বৈশিষ্ট্য

১. ব্যক্তিভেদে ভিন্নতা থাকে: প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার ধরণ আলাদা হয়। কেউ ছবি দেখে দ্রুত বোঝে, কেউ শুনে বা আলোচনা করে ভালো শেখে, আবার কেউ হাতে কলমে কাজ করে শেখে। এই ভিন্নতা শিক্ষার্থীর বুদ্ধি, আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। তাই একই পাঠ সবার জন্য একভাবে উপস্থাপন করলে সব শিক্ষার্থী সমানভাবে শিখতে পারে না। শিক্ষককে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়।

২. তুলনামূলক স্থায়িত্ব থাকে: শিখন শৈলী সাধারণত দীর্ঘ সময় একই থাকে। একজন শিক্ষার্থী যে পদ্ধতিতে সহজে শেখে, সে সেই পদ্ধতিই বারবার ব্যবহার করতে চায়। যেমন কেউ নোট লিখে পড়তে ভালোবাসে, কেউ ভিডিও দেখে শেখে। তবে অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও বয়সের সঙ্গে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তাই শিক্ষককে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীর শেখার ধরণ বুঝতে হবে।

৩. পরিবেশের প্রভাব থাকে: পরিবার, বিদ্যালয়, বন্ধু ও সামাজিক পরিবেশ শিখন শৈলীকে প্রভাবিত করে। উৎসাহব্যঞ্জক ও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার্থী নিজের মত প্রকাশ করতে পারে এবং নতুনভাবে শেখার চেষ্টা করে। কিন্তু ভয়ভিত্তিক পরিবেশে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে সাহস পায় না। তাই safeguarding ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রেণিকক্ষ শিখন শৈলী বিকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে: শিশু থেকে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিখন শৈলীতে পরিবর্তন আসে। ছোটরা খেলতে খেলতে শেখে, বড়রা আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেখে। অভিজ্ঞতা বাড়লে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করার ক্ষমতা তৈরি হয়। তাই শিক্ষককে শিক্ষার্থীর বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা অনুযায়ী শিক্ষণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।

৫. শিক্ষার্থীর আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত: যে বিষয় বা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর আগ্রহ বেশি, সে সেইভাবে সহজে শেখে। গল্প, ছবি, গান বা খেলাধুলা ব্যবহার করলে অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত শেখে। আগ্রহ না থাকলে শেখা কঠিন হয়। তাই শিক্ষককে আকর্ষণীয় ও জীবনমুখী উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীর আগ্রহ জাগাতে হবে।

৬. শিক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচনে সাহায্য করে: শিক্ষার্থীর শিখন শৈলী জানা থাকলে শিক্ষক উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন করতে পারেন। এতে শেখা সহজ ও আনন্দময় হয়। যেমন ভিজ্যুয়াল শিক্ষার্থীর জন্য চার্ট, অডিও শিক্ষার্থীর জন্য আলোচনা, আর কাইনেস্টেটিক শিক্ষার্থীর জন্য কার্যক্রম ব্যবহার করা যায়। এতে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়।

৭. ইন্দ্রিয়নির্ভর হতে পারে: অনেক শিখন শৈলী ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করে। কেউ চোখ দিয়ে দেখে শেখে, কেউ কানে শুনে শেখে, কেউ হাতে কাজ করে শেখে। এই ইন্দ্রিয়ভিত্তিক পার্থক্য শিক্ষার্থীর শেখার গতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে। তাই পাঠদানে ছবি, শব্দ, মডেল ও কার্যক্রম ব্যবহার করলে শেখা আরও কার্যকর হয়।

৮. সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত: শিখন শৈলী শিক্ষার্থীর চিন্তা করার ধরণ ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি গড়ে তোলে। কেউ বিশ্লেষণ করে শেখে, কেউ কল্পনা করে নতুন ধারণা তৈরি করে। উপযুক্ত শিখন শৈলী ব্যবহার করলে সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তাই শিক্ষককে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা নতুনভাবে ভাবতে পারে।

৯. ব্যক্তিগত পার্থক্য প্রকাশ করে: শিখন শৈলী শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, ক্ষমতা ও আগ্রহ বোঝাতে সাহায্য করে। এতে শিক্ষক জানতে পারেন কে কোনভাবে ভালো শেখে। এই তথ্য অনুযায়ী শিক্ষক আলাদা সহায়তা দিতে পারেন। ফলে দুর্বল শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে না এবং মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাও বিকশিত হয়।

১০. শিখনকে আনন্দময় ও অর্থবহ করে: যখন শিক্ষার্থীর উপযোগী শিখন শৈলী ব্যবহার করা হয়, তখন শেখা সহজ, আনন্দময় ও স্থায়ী হয়। শিক্ষার্থী ভয় পায় না, বরং উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং জ্ঞান বাস্তব জীবনে ব্যবহার করতে পারে। তাই শিক্ষককে সবসময় শিক্ষার্থীর শিখন শৈলী বিবেচনা করতে হবে।

Definition

নির্মিতিমূলক শিখন Constructive Learning হল এমন একটি শিক্ষণ ধারণা যেখানে শিক্ষার্থী নিজস্ব অভিজ্ঞতা, পূর্বজ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে জ্ঞান গঠন করে। এখানে জ্ঞান শিক্ষক থেকে সরাসরি স্থানান্তরিত হয় না, বরং শিক্ষার্থী সমস্যার সমাধান, আলোচনা, অনুসন্ধান ও কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন ধারণা তৈরি করে। শিক্ষক পথপ্রদর্শক ও সহায়কের ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, কৌতূহল, সমবায় শেখা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বেশি থাকে। ফলে শেখা অর্থবহ, স্থায়ী ও জীবনমুখী হয় এবং শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

একই ক্লাসে শিক্ষক একইভাবে পাঠদান করলেও সব শিক্ষার্থী একইভাবে জ্ঞান অর্জন করে না। কারণ প্রত্যেকে নিজের অভিজ্ঞতা ও চিন্তার মাধ্যমে জ্ঞান গঠন করে। তাই শিক্ষার্থী সক্রিয় না হলে প্রকৃত জ্ঞান নির্মাণ সম্ভব নয়।

নির্মিতিবাদের দুটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি

১. প্রজ্ঞামূলক নির্মিতিবাদ Cognitive Constructivism: 

প্রজ্ঞামূলক নির্মিতিবাদ হল নির্মিতিবাদের এমন একটি ধারা যেখানে ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ মানসিক প্রক্রিয়া, চিন্তা, ধারণা ও পূর্বজ্ঞানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই মতবাদ অনুযায়ী শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতা ও চিন্তার মাধ্যমে জ্ঞান গঠন করে, শিক্ষক কেবল সহায়ক বা পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন। এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা হলেন জ্যাঁ পিয়াজে। তাঁর মতে, শিশু assimilation ও accommodation প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান তৈরি করে এবং cognitive equilibrium অর্জন করে।

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষার্থীর কৌতূহল, সমস্যা সমাধান, অনুসন্ধানমূলক শেখা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর চিন্তা ও অভিজ্ঞতা ভিন্ন হওয়ায় তাদের জ্ঞান নির্মাণও ভিন্ন হয়। তাই শিক্ষককে শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান, আগ্রহ ও ব্যক্তিগত পার্থক্য বিবেচনা করে শিক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন করতে হয়, যাতে শেখা অর্থবহ ও স্থায়ী হয়।

সামাজিক নির্মিতিবাদ Social Constructivism

সামাজিক নির্মিতিবাদ হল নির্মিতিবাদের এমন একটি ধারা যেখানে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, সংস্কৃতি ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞান গঠনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা লেভ ভাইগটস্কি। তাঁর মতে, মানুষ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান অর্জন করে। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ শেখার গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ হিসেবে কাজ করে।

ভাইগটস্কি Zone of Proximal Development ZPD এবং Scaffolding ধারণা উপস্থাপন করেন। ZPD হল এমন একটি স্তর যেখানে শিক্ষার্থী শিক্ষক বা সহপাঠীর সাহায্যে নতুন কিছু শিখতে পারে। Scaffolding হল ধাপে ধাপে সহায়তা প্রদান, যাতে শিক্ষার্থী পরে নিজে কাজ করতে পারে। সামাজিক নির্মিতিবাদে দলগত কাজ, আলোচনা, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা ও সহপাঠ শেখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও অর্থবহ শেখা বৃদ্ধি পায়।

তাছাড়া সর্ব আধুনিক মতবাদ টি নিচে আলোচনা করা হলো:

Constructivist Learning Environment CLEs ধারণাটি Jonassen 1999 সালে উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, জ্ঞান শিক্ষক থেকে সরাসরি স্থানান্তরিত হয় না; বরং বাস্তব বিশ্বের অভিজ্ঞতা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজেই জ্ঞান নির্মাণ করে। নির্মিতিমূলক শিক্ষণ পরিবেশ এবং Objectivist শিক্ষণ পরিবেশের মূল পার্থক্য হল, নির্মিতিমূলক পরিবেশে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানের জন্য বিষয়বস্তু শেখে, আর Objectivist পরিবেশে শেখা বিষয় প্রয়োগ করার জন্য পরে সমস্যা সমাধান করা হয়।

বর্তমানে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে Constructivist Learning Environment ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীদের সাফল্য বৃদ্ধি পায়। Farzana 2009 সালে একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক নির্মিতিমূলক পরিবেশে স্নায়ুতন্ত্র ও অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের সমন্বয় শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ফল ভালো হয়েছে। Vickneasvari 2007 সালে রাসায়নিক সূত্র ও সমীকরণ শেখানোর ক্ষেত্রে নির্মিতিমূলক মাল্টিমিডিয়া পরিবেশ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখান। এই দুই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, Constructivist Learning Environment ব্যবহার করা শিক্ষার্থীরা Objectivist পদ্ধতির শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি সাফল্য ও অনুপ্রেরণা অর্জন করেছে।

Components in Constructivist Learning Environments (CLEs)

Jonassen (1999) অনুযায়ী Constructivist Learning Environment CLEs এর উপাদান

 

১. Problem Context: বাস্তব জীবনের সমস্যা বা পরিস্থিতি থেকে শেখা শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যার সাথে যুক্ত হয়ে বিষয় বুঝতে শেখে।
২. Problem Representation: সমস্যাটিকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয় যেমন ছবি, চার্ট, ডায়াগ্রাম, গল্প বা তথ্য। এতে শিক্ষার্থীরা সমস্যাটি ভালোভাবে বুঝতে পারে।
৩. Problem Manipulation Space: শিক্ষার্থীরা সমস্যা নিয়ে পরীক্ষা, পরিবর্তন ও অনুসন্ধান করতে পারে। অর্থাৎ নিজের মতো করে সমাধান খুঁজতে সুযোগ পায়।
৪. Related Cases: একই ধরনের পূর্বের উদাহরণ বা কেস স্টাডি দেখানো হয় যাতে শিক্ষার্থীরা তুলনা করে নতুন জ্ঞান গঠন করতে পারে।
৫. Information Resources: বই, ইন্টারনেট, ভিডিও, চার্ট, মডেল ইত্যাদি তথ্যসূত্র ব্যবহার করা হয়।
৬. Cognitive Tools: মাইন্ড ম্যাপ, গ্রাফ, সফটওয়্যার, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি চিন্তাকে সংগঠিত করার উপকরণ।
৭. Collaboration Tools: দলগত কাজ, আলোচনা, অনলাইন ফোরাম বা মতবিনিময়ের মাধ্যমে শেখা।

শিক্ষকের সহায়তামূলক ভূমিকা

৮. Modelling: শিক্ষক উদাহরণ দেখিয়ে শেখার পথ নির্দেশ করেন।
৯. Coaching: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সাহায্য করেন এবং ভুল সংশোধন করেন।
১০. Scaffolding: শিক্ষক ধাপে ধাপে সহায়তা দেন যাতে শিক্ষার্থী নিজে সমস্যা সমাধান করতে শেখে।

Jonassen এর CLEs-এ শিক্ষার্থী বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করে, বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে, দলগতভাবে আলোচনা করে এবং শিক্ষক সহায়ক হিসেবে পথ দেখান। এতে শেখা অর্থবহ, স্থায়ী ও জীবনমুখী হয়।

রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top